Advertisement
Advertisement

হিমালয় দর্শন: বেগম রোকেয়ার একটি বিশদ আলোচনা

লেখিকা পরিচিতি: বেগম রোকেয়া

১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের রংপুর জেলার পায়রা বন্ধ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলি সাবের। পূর্ববঙ্গের এক সম্ভ্রান্ত বংশে তাঁর জন্ম। তাঁর ছেলেবেলা থেকেই মনে দেশাত্মবোধ ও সমাজ কল্যাণের ভাবনা জন্ম নিয়েছিল। সেই সময়ে মুসলিম সমাজের অনুশাসন মেনে রোকেয়া ও তার বোনেদের বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়নি। বাড়িতেই তাদের আরবি ও উর্দু শেখানো হতো। রোকেয়ার দাদা ইব্রাহিম খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি রোকেয়াকে বাড়িতে গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখাতেন। রোকেয়ার চাওয়া পাওয়া ছিল অসীম।

১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৮ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে রোকেয়ার বিয়ে হয়। রোকেয়ার স্বামী ছিলেন উদার মনের মানুষ। রোকেয়াকে তিনি লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতেন। স্বামীর আগ্রহে রোকেয়া একদিন সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে রোকেয়ার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর তিনি ভাগলপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল নামে একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল নামে পরিচিত। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে রোকেয়া 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' নামে একটি মুসলিম নারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে 'পিপাসা' নামক একটি বাংলা গল্পের মাধ্যমে রোকেয়ার সাহিত্য জগতে প্রবেশ। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল- মতিচুর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী প্রভৃতি। রোকেয়ার স্মরণে বাংলাদেশ সরকার তার পৈতৃক ভিটের উপরেই বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র নামক একটি গণ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। এছাড়াও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ৯ ডিসেম্বর ভোরবেলা এই বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক সাহিত্যিকের জীবনাবসান হয়।

উৎস

বেগম রোকেয়া রচিত 'হিমালয় দর্শন' নামক রচনাটি তাঁর 'কূপমন্ডুকের হিমালয় দর্শন' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

পূর্ব কথা

সমতলবাসী লেখিকা বেগম রোকেয়া হিমালয় দর্শন করতে গিয়ে হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সেখানকার অধিবাসীদের জীবন যাপনের পরিচয় দিয়েছেন। যাত্রা পথের মনমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী স্মরণ করে লেখিকা ভক্তি ভরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

বিষয় সংক্ষেপ

শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে আঁকাবাঁকা পর্বতময় পথ অতিক্রম করে যখন উপরে উঠেছিলেন লেখিকা বেগম রোকেয়া, তখন পথের দুই ধারের দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। তার মনে হচ্ছিল সে যেন মেঘের মধ্যে দিয়ে চলেছেন। চারপাশের সবুজ চা বাগান প্রাকৃতিক শোভাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। যাত্রা পথে অনেকগুলি জলপ্রপাত এবং ঝরনা চোখে পড়েছিল। তার মনে হচ্ছিল হিমাদ্রির পাষাণ হৃদয় বিদীর্ণ করে তারা যে, কোথা থেকে কোথায় চলেছে তা যেন কেউ জানে না—এইসব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে লেখিকা বিস্মিত হয়েছিলেন।

৪০০০ ফিট উপরেও এতটুকু ঠান্ডা ছিল না। অবশেষে তাঁরা কার্শিয়াং স্টেশনে পৌঁছালেন। সেখান থেকে তার বাড়ি খুব কাছে, বাড়ি পৌঁছাতে তার বেশি সময় লাগবে না। কার্শিয়াং অঞ্চলে তখনও শীত পড়েনি, খানিকটা বসন্তকালের মতো আবহাওয়া। লেখিকারা ঝরনার জল ফিলটারে ছেঁকে ব্যবহার করেছিলেন। ঝরনার জল দেখতে খুব স্বচ্ছ কাঁচের মতো। সেখানকার আবহাওয়া স্বাস্থ্যকর। সূর্য ডোবার মুখের আলো আর বায়ু যেন এক অসাধারণ সৌন্দর্যের জগত সৃষ্টি করেছিল। সেই সৌন্দর্য দেখতে দেখতে তিনি আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন।

শুধু যে মেঘ রাজ্যের সৌন্দর্য দেখেছেন তা নয়, তাঁর পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের গাছ, বনভূমির সৌন্দর্য লেখিকাকে মুগ্ধ করেছিল। এখানেই লেখিকা প্রথম ঢেঁকি গাছ দেখেছিলেন। জঙ্গল বড়ো ভয়ংকর কিন্তু সেই জঙ্গলে বাঘ বা সাপ নেই শুধু আছে জোঁক। এখানকার স্ত্রীলোকেরা জোঁকে ভয় পায় না। এখানে সাধারণত ভুটিয়াদের বাস। মহিলা ভুটিয়ারা সাত গজ লম্বা কাপড় খাগড়ার মতো করে পড়ে, আর তাদের গায়ে থাকে জ্যাকেট। আর মাথায় বিলিতি শাল। পিঠে দু-এক মন বোঝা নিয়ে তারা অনায়াসে পর্বতের উপর-নিচ করতে পারে। ভুটিয়ানিরা নিজেদের পাহাড়নি বলে, অন্যদিকে সমতলের মানুষদের 'নীচেকা আদমি' বলে পরিচয় দেয়। এরা কাজ করে, সাহসী ও সত্যবাদী।

হিমালয়ের সৌন্দর্য রোকেয়াকে মুগ্ধ করেছে। পার্বত্য উপত্যকার অনাবিল শোভা দেখতে দেখতে তার মনে হয়েছে মানুষের কাছে এই হিমালয় কত বৃহৎ কত বিস্তৃত ও মহান। কিন্তু যিনি এই হিমালয় সৃষ্টি করেছেন সেই স্রষ্টার কাছে এই হিমালয় কত তুচ্ছ। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় দেহ মনে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বাড়ে।

নামকরণ

হিমালয় দর্শন একটি ভ্রমণ মূলক বৃত্তান্ত। তাই নামকরণের ক্ষেত্রে বিষয় গত ব্যঞ্জনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সমতলবাসী এক মহিলার প্রথম হিমালয় দেখার বিস্ময় ও আনন্দই রচনাটির মূল উপজীব্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পার্বত্য ঝর্ণা, গাছপালা, মানুষ ও প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি। শিলিগুড়ি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে কার্শিয়াং এবং কার্শিয়াং-এর নিকটবর্তী গন্তব্য স্থলে পৌঁছানো হলো এই ভ্রমণ বৃত্তান্তের বিষয়। হিমালয়কে প্রথম দেখার যে অনুভূতি রচনাটিতে প্রকাশ পেয়েছে তা 'হিমালয় দর্শন' নামে যথাযথভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই রচনায় লেখিকা শুধু হিমালয়ের শোভাকে দুচোখ ভরে দেখেছেন তা নয়। সেই সঙ্গে হিমালয়ের অন্তরের বিরাজমান শিল্পী স্বয়ং ঈশ্বরকেও অনুভব করেছেন।

হিমালয় দর্শন গল্পের ছবি

হিমালয় দর্শন: বেগম রোকেয়া

১. হিমালয় দর্শন (গল্প) বেগম রোকেয়া – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:

MCQ

  1. ১.১ বেগম রোকেয়া কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

    উত্তর: ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে।

  2. ১.২ 'হিমালয় দর্শন' রচনাটি বেগম রোকেয়ার কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

    উত্তর: 'কূপমন্ডুকের হিমালয় দর্শন'।

  3. ১.৩ লেখিকা শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে কোন রেলগাড়িতে উঠেছিলেন?

    উত্তর: হিমালয়ান রেলগাড়িতে।

  4. ১.৪ লেখিকার মনে হচ্ছিল তিনি যেন কিসের মধ্যে দিয়ে চলেছেন?

    উত্তর: মেঘের মধ্যে দিয়ে।

  5. ১.৫ যাত্রাপথে লেখিকার চোখে কী পড়েছিল?

    উত্তর: জলপ্রপাত এবং ঝরনা।

  6. ১.৬ লেখিকারা কত ফিট উপরে উঠেছিলেন?

    উত্তর: ৪০০০ ফিট।

  7. ১.৭ লেখিকারা কোন স্টেশনে পৌঁছালেন?

    উত্তর: কার্শিয়াং স্টেশনে।

  8. ১.৮ কার্শিয়াং অঞ্চলের আবহাওয়া কেমন ছিল?

    উত্তর: বসন্তকালের মতো।

  9. ১.৯ ঝরনার জল দেখতে কেমন ছিল?

    উত্তর: স্বচ্ছ কাঁচের মতো।

  10. ১.১০ লেখিকা প্রথম কোন গাছ দেখেছিলেন?

    উত্তর: ঢেঁকি গাছ।

  11. ১.১১ হিমালয়ের জঙ্গলে কী নেই?

    উত্তর: বাঘ বা সাপ।

  12. ১.১২ হিমালয়ের জঙ্গলে কী আছে?

    উত্তর: জোঁক।

  13. ১.১৩ এখানকার স্ত্রীলোকেরা কীসে ভয় পায় না?

    উত্তর: জোঁকে।

  14. ১.১৪ এখানে সাধারণত কাদের বাস?

    উত্তর: ভুটিয়াদের।

  15. ১.১৫ ভুটিয়ানিরা নিজেদের কী বলে পরিচয় দেয়?

    উত্তর: পাহাড়নি।

  16. ১.১৬ ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষদের কী বলে?

    উত্তর: 'নীচেকা আদমি'।

  17. ১.১৭ ভুটিয়ানিরা কেমন প্রকৃতির মানুষ?

    উত্তর: সাহসী ও সত্যবাদী।

Advertisement

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

  1. ২.১ বেগম রোকেয়ার বাবার নাম কী ছিল?

    উত্তর: বেগম রোকেয়ার বাবার নাম ছিল জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলি সাবের।

  2. ২.২ বেগম রোকেয়াকে কে বাংলা ও ইংরেজি শেখাতেন?

    উত্তর: বেগম রোকেয়ার দাদা ইব্রাহিম তাকে গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখাতেন।

  3. ২.৩ বেগম রোকেয়ার স্বামীর নাম কী ছিল?

    উত্তর: বেগম রোকেয়ার স্বামীর নাম ছিল সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন।

  4. ২.৪ বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের স্কুলের বর্তমান নাম কী?

    উত্তর: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল।

  5. ২.৫ বেগম রোকেয়ার সাহিত্য জগতে প্রবেশ কোন গল্পের মাধ্যমে?

    উত্তর: 'পিপাসা' নামক বাংলা গল্পের মাধ্যমে।

  6. ২.৬ বেগম রোকেয়ার দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম লেখো।

    উত্তর: মতিচুর, পদ্মরাগ।

  7. ২.৭ 'হিমালয় দর্শন' রচনায় লেখিকা কোথায় ভ্রমণ করছিলেন?

    উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত হিমালয়ান রেলগাড়িতে।

  8. ২.৮ লেখিকার মনে হচ্ছিল তিনি যেন কিসের মধ্যে দিয়ে চলেছেন?

    উত্তর: মেঘের মধ্যে দিয়ে।

  9. ২.৯ যাত্রাপথে লেখিকার চোখে কীসের সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছিল?

    উত্তর: সবুজ চা বাগান, জলপ্রপাত এবং ঝরনার সৌন্দর্য।

  10. ২.১০ কার্শিয়াং অঞ্চলের আবহাওয়া কেমন ছিল?

    উত্তর: বসন্তকালের মতো স্বাস্থ্যকর।

  11. ২.১১ এখানকার ঝরনার জল কেমন ছিল?

    উত্তর: স্বচ্ছ কাঁচের মতো।

  12. ২.১২ হিমালয়ের জঙ্গলে কোন প্রাণী নেই?

    উত্তর: বাঘ বা সাপ।

  13. ২.১৩ হিমালয়ের জঙ্গলে কী আছে যা লেখিকার নজরে পড়েছিল?

    উত্তর: জোঁক।

  14. ২.১৪ ভুটিয়া মহিলাদের পোশাক কেমন ছিল?

    উত্তর: সাত গজ লম্বা কাপড় খাগড়ার মতো করে পরা এবং গায়ে জ্যাকেট ও মাথায় বিলিতি শাল।

  15. ২.১৫ ভুটিয়ানিরা পিঠে কত বোঝা নিয়ে অনায়াসে চলতে পারে?

    উত্তর: দু-এক মন বোঝা।

  16. ২.১৬ ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষদের কী বলে উল্লেখ করে?

    উত্তর: 'নীচেকা আদমি'।

  17. ২.১৭ হিমালয়ের সৌন্দর্য দেখে লেখিকার মনে ঈশ্বরের প্রতি কী ধরনের ভক্তি বেড়েছিল?

    উত্তর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় দেহ মনে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বাড়ে।

Advertisement

সংক্ষিপ্ত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

  1. ৩.১ লেখিকা হিমালয় দর্শনে গিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন কেন?

    উত্তর: সমতলবাসী লেখিকা বেগম রোকেয়া যখন প্রথম হিমালয় দর্শন করেন, তখন যাত্রাপথের মনমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী দেখে তিনি মুগ্ধ ও বিস্মিত হন। হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জলপ্রপাত, ঝরনা এবং বনভূমির অপরূপ শোভা দেখে তিনি এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে ভক্তি ভরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এই অপূর্ব সৃষ্টির জন্য।

  2. ৩.২ কার্শিয়াং অঞ্চলের আবহাওয়ার বর্ণনা দাও।

    উত্তর: লেখিকা যখন কার্শিয়াং স্টেশনে পৌঁছালেন, তখন সেখানে তখনও শীত পড়েনি। আবহাওয়া ছিল খানিকটা বসন্তকালের মতো। সেখানকার ঝরনার জল ছিল স্বচ্ছ কাঁচের মতো, যা ফিলটার করে পান করা হতো। সেখানকার আবহাওয়া স্বাস্থ্যকর ছিল এবং সূর্য ডোবার সময়কার আলো ও বাতাস মিলে এক অসাধারণ সৌন্দর্যের জগত সৃষ্টি করত, যা লেখিকাকে আত্মহারা করে তুলেছিল।

  3. ৩.৩ হিমালয়ের জঙ্গলের বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

    উত্তর: লেখিকা হিমালয়ের জঙ্গলকে 'ভয়ংকর' বললেও উল্লেখ করেছেন যে সেখানে বাঘ বা সাপ নেই, শুধু জোঁক আছে। এখানকার স্থানীয় স্ত্রীলোকেরা জোঁকে ভয় পায় না। এই জঙ্গলের মধ্যে বিভিন্ন রকমের গাছপালা ও বনভূমির সৌন্দর্য লেখিকাকে মুগ্ধ করেছিল, এবং এখানেই তিনি প্রথম ঢেঁকি গাছ দেখেছিলেন।

  4. ৩.৪ ভুটিয়াদের জীবনযাপন সম্পর্কে লেখিকা কী পর্যবেক্ষণ করেছেন?

    উত্তর: লেখিকা দেখেছেন যে কার্শিয়াং অঞ্চলে সাধারণত ভুটিয়াদের বাস। ভুটিয়া মহিলারা সাত গজ লম্বা কাপড় খাগড়ার মতো করে পরে, গায়ে জ্যাকেট এবং মাথায় বিলিতি শাল ব্যবহার করে। তারা পিঠে দু-এক মন বোঝা নিয়ে অনায়াসে পর্বতের উপর-নিচ করতে পারে। ভুটিয়ানিরা নিজেদের 'পাহাড়নি' এবং সমতলের মানুষদের 'নীচেকা আদমি' বলে পরিচয় দেয়। তারা কাজ করে, সাহসী ও সত্যবাদী।

  5. ৩.৫ 'হিমালয় দর্শন' রচনায় লেখিকা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সময় ঈশ্বরের প্রতি কিভাবে ভক্তি অনুভব করেছেন?

    উত্তর: হিমালয়ের বিশালতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে লেখিকা মুগ্ধ হয়েছিলেন। পার্বত্য উপত্যকার অনাবিল শোভা দেখতে দেখতে তাঁর মনে হয়েছিল যে মানুষের কাছে হিমালয় যতই বৃহৎ, বিস্তৃত ও মহান হোক না কেন, যিনি এই হিমালয় সৃষ্টি করেছেন, সেই স্রষ্টার কাছে এটি কত তুচ্ছ। এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর দেহ মনে ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভক্তি জন্ম নিয়েছিল।

বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

  1. ৪.১ 'হিমালয় দর্শন' রচনায় বেগম রোকেয়া হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।

    উত্তর: বেগম রোকেয়া তাঁর 'হিমালয় দর্শন' রচনায় হিমালয়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেছেন। শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত হিমালয়ান রেলগাড়িতে যাত্রাপথে তিনি যে দৃশ্যগুলি দেখেছেন, তা তাঁর মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। লেখিকার মনে হয়েছে তিনি যেন মেঘের রাজ্য দিয়ে চলেছেন, যেখানে চারপাশের সবুজ চা বাগান শোভাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পথে অসংখ্য জলপ্রপাত ও ঝরনা দেখেছেন, যা হিমাদ্রির পাষাণ হৃদয় বিদীর্ণ করে অজানা গন্তব্যে ছুটে চলেছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। এই দৃশ্যগুলি তাকে বিস্মিত ও মুগ্ধ করেছে।

    কার্শিয়াং-এর আবহাওয়া ছিল বসন্তকালের মতো স্বাস্থ্যকর। সেখানকার স্বচ্ছ কাঁচের মতো ঝরনার জল এবং সূর্য ডোবার সময়কার আলো ও বাতাসের খেলা এক অসাধারণ সৌন্দর্যের জগত সৃষ্টি করেছিল, যা লেখিকাকে আত্মহারা করে তুলেছিল। মেঘ রাজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের গাছপালা ও বনভূমির সৌন্দর্যও তাকে মুগ্ধ করেছে। এমনকি তিনি প্রথম ঢেঁকি গাছও এখানেই দেখেছিলেন। যদিও জঙ্গলকে তিনি 'ভয়ংকর' বলেছেন, কিন্তু সেখানে বাঘ বা সাপের অনুপস্থিতি এবং শুধুমাত্র জোঁকের উপস্থিতি তাকে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, হিমালয়ের এই অনাবিল প্রাকৃতিক শোভা লেখিকার মনকে এতটাই মোহিত করেছিল যে তিনি এই সৃষ্টির জন্য ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভক্তি অনুভব করেন।

  2. ৪.২ 'হিমালয় দর্শন' রচনাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

    উত্তর: বেগম রোকেয়া রচিত 'হিমালয় দর্শন' একটি ভ্রমণমূলক রচনা, এবং এর নামকরণ বিষয়বস্তু অনুযায়ী অত্যন্ত সার্থক ও যথাযথ হয়েছে। রচনাটির মূল উপজীব্য হলো একজন সমতলবাসী মহিলার প্রথমবার হিমালয় দেখার বিস্ময়কর ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা। লেখিকা শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথের বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে তিনি হিমালয়ের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান যেমন - আঁকাবাঁকা পর্বত পথ, মেঘ, সবুজ চা বাগান, জলপ্রপাত, ঝরনা, বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও বনভূমির সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছেন।

    শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, লেখিকা সেখানকার স্থানীয় অধিবাসী ভুটিয়াদের জীবনযাপন, তাদের পোশাক, সাহস ও সত্যবাদিতাও পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই 'দর্শন' কেবল চোখের দেখা নয়, এটি একটি গভীর উপলব্ধি। হিমালয়ের বিশালতা ও মহানতা দেখে লেখিকার মনে হয়েছে যে মানুষের কাছে এটি যতই বৃহৎ হোক না কেন, এর স্রষ্টা ঈশ্বরের কাছে তা তুচ্ছ। এই উপলব্ধি তাকে ঈশ্বরের প্রতি আরও ভক্তিমান করে তুলেছে। সুতরাং, 'হিমালয় দর্শন' নামটি কেবল একটি ভৌগোলিক স্থানের ভ্রমণকে নির্দেশ করে না, বরং এর মধ্যে দিয়ে লেখিকার আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। তাই নামকরণটি সবদিক থেকেই সার্থক।

  3. ৪.৩ 'হিমালয় দর্শন' গল্পে লেখিকার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

    উত্তর: বেগম রোকেয়ার 'হিমালয় দর্শন' গল্পটি তাঁর প্রথম হিমালয় ভ্রমণের এক মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা। শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে চড়ে তিনি কার্শিয়াং-এর দিকে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, মনে হচ্ছিল যেন মেঘের মধ্যে দিয়ে চলেছেন। পথের দু'ধারে সবুজ চা বাগান প্রাকৃতিক শোভা বাড়িয়ে তুলেছিল। তিনি অসংখ্য জলপ্রপাত ও ঝরনা দেখেছেন, যা হিমাদ্রির পাষাণ হৃদয় বিদীর্ণ করে ছুটে চলেছে বলে তার মনে হয়েছে। এই দৃশ্যগুলি তাকে বিস্মিত ও অভিভূত করে।

    ৪০০০ ফিট উপরেও ঠান্ডা না থাকায় তিনি অবাক হয়েছিলেন। কার্শিয়াং-এ পৌঁছে তিনি সেখানকার বসন্তকালের মতো স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া উপভোগ করেন। ঝরনার স্বচ্ছ জলের ব্যবহার এবং সূর্য ডোবার সময়কার আলো ও বাতাসের অসাধারণ সৌন্দর্য তাকে আত্মহারা করে তোলে। তিনি শুধু মেঘের সৌন্দর্যই নয়, বিভিন্ন গাছপালা ও বনভূমির শোভাও দেখেছেন, এমনকি প্রথম ঢেঁকি গাছও এখানেই দেখেছিলেন। জঙ্গলে বাঘ-সাপ না থাকলেও জোঁকের উপস্থিতি এবং ভুটিয়াদের জীবনযাপন, তাদের পরিশ্রম ও সততা তাকে মুগ্ধ করে। এই ভ্রমণের মাধ্যমে লেখিকা হিমালয়ের বিশালতা ও স্রষ্টার মহিমা উপলব্ধি করেন, যা তার দেহ মনে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বাড়িয়ে তোলে।

সমস্ত সমাধান আমাদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা WBBSE নির্দেশিকা অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে। সমাধানগুলিতে পাঠ্যবইয়ের প্রশ্নের উত্তর, ব্যাকরণ অনুশীলন এবং লেখার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Advertisement

Complete Bengali Solutions কিনুন

অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান

Advertisement