Advertisement
Advertisement

আবহমান: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর একটি বিশদ আলোচনা

লেখক পরিচিতি: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। নীরেন্দ্রনাথের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তার সহজবোধ্যতা। সমাজসচেতন এই কবির কাব্যে মিশে আছে গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ আর প্রাণের প্রাচুর্য।

জন্ম ও শৈশব: ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৯ অক্টোবর, বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার চান্দ্রা গ্রামে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ছিলেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের কৃতি অধ্যাপক। কবির মায়ের নাম প্রফুল্লনন্দিনী দেবী।

ছাত্রজীবন: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ছাত্রজীবন শুরু হয়েছিল গ্রামের পাঠশালায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গ্রামের পাঠশালার পাঠ শেষ করে তিনি কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউশন এবং বঙ্গবাসী কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর তিনি কলকাতার সেন্ট পলস্ কলেজ থেকে বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে এমএ পাশ করেন।

কর্মজীবন: তিনি সাংবাদিকতাকে তাঁর পেশা হিসেবে বেছে নেন। ‘দৈনিক প্রত্যহ, মাতৃভূমি, স্বরাজ, ভারত, ইউনাইটেড প্রেস অব ইন্ডিয়া, সত্যযুগ,ইত্যাদি পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা'য় যোগদান করেন। এই পত্রিকার সংবাদবিভাগে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি ‘রবিবাসরীয়' বিভাগে চলে আসেন। এরপর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই পত্রিকা গোষ্ঠীরই শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘আনন্দমেলা' সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সাহিত্যজীবন: খুব অল্প বয়স থেকেই নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'নীল-নির্জন' প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে। এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পরই নীরেন্দ্রনাথ পাঠকমহলে সমাদর লাভ করে। রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ গুলি হল- 'অন্ধকার বারান্দা' (১৯৬১), 'নীরক্ত করবী' (১৯৬৫), 'নক্ষত্র জয়ের জন্য' (১৯৬১), 'কলকাতার যীশু' (১৯৬৯), 'উলঙ্গ রাজা' (১৯৭১), 'খোলামুঠি' (১৯৭৪), 'আজ সকালে' (১৯৭৮), 'পাগলা ঘণ্টি' (১৯৮১), প্রভৃতি। ছোটোদের জন্য তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—‘সাদা বাঘ’, ‘বিবির ছড়া’, ‘বারো মাসের ছড়া’, ‘ও কলকাতা’ প্রভৃতি। তিনি গদ্য রচনাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তাঁর রচিত উপন্যাস ‘পিতৃপুরুষ’, আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘নীরবিন্দু', কাব্যনাট্য 'প্রথম নায়ক' পাঠকমহলের জনপ্রিয়তা আদায় করে নিয়েছে। তাঁর কবিতা বিষয়ক আলোচনা গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-'কবিতার ক্লাস’, ‘কবিতা কী ও কেন’ ইত্যাদি। ‘গঙ্গা-যমুনা' তাঁর লেখা একটি অনবদ্য ভ্রমণ-কাহিনি।

সম্মান ও স্বীকৃতি: তিনি ১৯৫৮-তে ‘উল্টোরথ পুরস্কার’, ১৯৭০-এ ‘তারাশঙ্কর পুরস্কার', ১৯৭৪-এ সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার' (‘উলঙ্গ রাজা' কাব্যগ্রন্থের জন্য) এবং ১৯৭৬-এ আনন্দ পুরস্কার'-এ তিনি ভূষিত হন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

মৃত্যু: ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে ২৫ শে ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রচিত 'আবহমান' কবিতাটি 'অন্ধকার বারান্দা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

বিষয়সংক্ষেপ

উঠোনের লাউমাচাটির পাশে সান্ধ্য বাতাসে একটা ফুল দোলে। এই উঠোন ফেলে আসা শৈশবের উঠোন। এই ফুল জীবনের এক-একটা অতীত মুহূর্ত। এই অতীতের মুহূর্তের কথাই কবি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন। এখানেই একদিন অনেক বছর আগে নিবিড় অনুরাগে ঘর বাঁধা হয়েছিল। হয়তো পরিস্থিতির কারণে একদিন হারিয়ে গিয়েছিলাম আমরা, হয়তো অনেক দূরে কোথাও চলে গিয়েছিলাম। এই মাটি, এই হাওয়াকে ভালোবেসেই আবার ত ফিরে এসেছি। আসলে শৈশবের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আকর্ষণ যে কোনোদিনই ফুরোয় না। তাই অতীতকে মনে রেখে আমরা আবার ফিরে আসি এবং আপন মনে সারাটা দিন ঘাসের গন্ধ মাখি; সারাটা রাত স্বপ্নের জাল বুনি। সেই দুঃখকে আমরা লালন করি বুকের ভিতর। কারণ সে-দুঃখ কখনও বাসি হয় না। আসলে মানুষ বড়ো হয়, বৃদ্ধ হয়, তার বয়স বাড়ে; কিন্তু মনের বয়স বাড়ে না। নটে গাছটি বুড়িয়ে গেলেও, মুড়িয়ে যায় না। উঠোন-লাউমাচা- সান্ধ্য হাওয়ায় ফুল দোলা অর্থাৎ ফেলে আসা জীবন ও প্রকৃতির রূপচ্ছবি থেকে যায়। আসলে মাতৃভূমির সঙ্গে, শৈশবস্মৃতির সম্পর্ক এক আবহমান চিরন্তন সাক্ষ্য বহন করে চলে। জীবনের সমস্ত দুঃখযন্ত্রণার পাশাপাশি ছোটো ছোটো সুখানুভূতিগুলি এভাবেই জীবন এগিয়ে চলে তাঁর।

নামকরণ

‘আবহমান' শব্দটির আভিধানিক অর্থ চিরকালীন। অর্থাৎ যা চিরকাল চলে আসছে তাই হল 'আবহমান'। আলোচ্য কবিতাটিতে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তেমনই এক চিরকালীন সত্যকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষেরই এক গভীর মমতা আর ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে। তার আজন্ম চেনা ঘরবাড়ি, খোলা উঠোন, উঠোনের চারপাশের জল, হাওয়া, মাটি, সবুজ গাছগাছালি, ঘাসের গন্ধ, বাগান থেকে ভেসে আসা ফুলের সুঘ্রাণ, নদীর সান্ধ্য জলীয় হাওয়া অর্থাৎ তার বড়ো হয়ে ওঠার সঙ্গে যে-প্রাকৃতিক জগতের শিকড়ের যোগ, ক্রমে সে সেখান থেকেই বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। শৈশবের চেনা জীবন থেকে দূরে কর্মময় জগতে তার নির্বাসন ঘটে। তবু সেই ফেলে আসা অতীত, ছেলেবেলার শৈশব-গন্ধ মাখা নানান আনন্দঘন মুহূর্ত; তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে তার শৈশবের বাসভূমিতে। সেখানকার মাটি, বাতাস, মানুষ, লাউমাচায় ঘেরা উঠোনের হাওয়ায় আন্দোলিত ছোট্ট ফুলটির আদুরে আহ্বান; যেন জন্মভূমির এক সন্তানের প্রতি আবেগ-আকুলতা হয়ে তার স্মৃতিভূমিকে আন্দোলিত করে। সেই সুখস্বর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণায় সে বেদনার্ত হয়। দিনভর ঘাসের গন্ধমাখা ছেলেবেলার স্মৃতি অনুভূতি বুকে নিয়ে সে সারারাত স্বপ্নসন্ধান করে ফেরে। এভাবেই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণায় ভোগে, আবার প্রত্যেকের হৃদয়েই শৈশবের প্রতি এক আকর্ষণ ও ভালোবাসা চিরজাগরুক অবস্থায় থাকে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়া নটে গাছটি ক্রমশ বুড়োয়, ‘কিন্তু মুড়োয় না’। যার অর্থ-শিকড়ের খোঁজে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি; তাকে চিরন্তন মুক্তির আকুলতায় জাগিয়ে রাখে। এ এক শাশ্বত অনুভূতি। আর এই অনুভূতি সর্বজনীন।

আবহমান কবিতার ছবি

আবহমান: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

১. আবহমান (কবিতা) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:

MCQ

  1. ১.১ ‘আবহমান’ কবিতাটির কবি –

    উত্তর: (A) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

  2. ১.২ নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু –

    উত্তর: (C) মুড়য় না

  3. ১.৩ “কে এইখানে এসেছিল ______ বছর আগে”,

    উত্তর: (D) অনেক

  4. ১.৪ কার দুরন্ত পিপাসা ফুরোয় না?

    উত্তর: একগুঁয়ে ছেলেটার।

  5. ১.৫ সারাটা দিন আপন মনে কিসের গন্ধ মাখে?

    উত্তর: ঘাসের।

  6. ১.৬ “এখনও সেই ফুল দুলছে, ফুল দুলছে, ফুল” —

    উত্তর: (B) সন্ধ্যার বাতাসে।

  7. ১.৭ “নেভেনা তার যন্ত্রণা যে, ___ হয় না বাসি।” (শূন্যস্থান পূরণ করো)

    উত্তর: দুঃখ।

  8. ১.৮ বাগান থেকে কোন ফুলের হাসি হারায় না?

    উত্তর: কুন্দ।

  9. ১.৯ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি কার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন?

    উত্তর: (A) লাউমাচার পাশে।

  10. ১.১০ ছোট ফুল কোন সময়ের বাতাসে দোলে?

    উত্তর: সন্ধ্যাবেলা।

  11. ১.১১ “কে এইখানে এসেছিল ______ বছর আগে” (শূন্যস্থান পূরণ করো)

    উত্তর: অনেক।

  12. ১.১২ “কে এখানে ঘর বেঁধেছে ____ অনুরাগে।” (শূন্যস্থান পূরণ করো)

    উত্তর: নিবিড়।

  13. ১.১৩ “নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু _____ ।” (শূন্যস্থান পূরণ করো)

    উত্তর: মুড়য় না।

  14. ১.১৪ কবি ‘আবহমান’ কবিতায় পাঠককে দাঁড়াতে বলেছেন –

    উত্তর: (A) লাউমাচার পাশে।

  15. ১.১৫ ‘কে এইখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড়’ –

    উত্তর: (B) অনুরাগে।

  16. ১.১৬ নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না –

    উত্তর: (D) বাসি।

  17. ১.১৭ এখনও সেই ফুল দুলছে, ফুল দুলছে, ফুল –

    উত্তর: (B) সন্ধ্যার বাতাসে।

  18. ১.১৮ ‘আবহমান’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ –

    উত্তর: (C) অন্ধকার বারান্দা।

  19. ১.১৯ “কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে…” – তারা ফিরে আসে –

    উত্তর: (B) মাটিকে আর হাওয়াকে ভালোবেসে।

  20. ১.২০ “নেভে না তার” – কী নেভে না?

    উত্তর: (C) যন্ত্রণা।

  21. ১.২১ ‘আবহমান’ কবিতাটির কবি হলেন —

    উত্তর: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

  22. ১.২২ ‘আবহমান’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ —

    উত্তর: অন্ধকার বারান্দা।

Advertisement

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

  1. ২.১ “কে এখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে।” — হারিয়ে যাওয়ার কারন কি?

    উত্তর: শৈশব পেরিয়ে যৌবনে পৌঁছালে মানুষ বৃহত্তর কর্মজীবনে জড়িয়ে পড়ে। তাই সে তার অতীত জীবন থেকে হারিয়ে যায় না।

  2. ২.২ “নেবে না তার যন্ত্রণা” — কিসের যন্ত্রণা?

    উত্তর: শৈশব থেকে বিচ্যুত হবার যন্ত্রণাকে এখানে বলা হয়েছে।

  3. ২.৩ “ফুরায় না তার কিছুই ফুরায় না” — কি ফুরায় না?

    উত্তর: শৈশব জীবন এর প্রতি আসক্তি, ভালোবাসা, এই মাটির প্রতি টান-এই সবকিছুই ফুরায় না।

  4. ২.৪ “নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে” — নটে গাছ বলতে কার বা কিসের কথা বলা হয়েছে?

    উত্তর: নটে গাছ বলতে মানুষের জীবনের কথা বলা হয়েছে।

  5. ২.৫ “তেমনি করে সূর্য ওঠে” বলতে কি বুঝিয়েছেন কবি?

    উত্তর: “তেমনি করে সূর্য ওঠে” বলতে কবি তার শৈশবে দেখা সূর্যোদয়ের কথা বুঝিয়েছন।

  6. ২.৬ ‘আবহমান’ কবিতাটির রচয়িতা কে ?

    উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতাটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা।

  7. ২.৭ কবি কোথায় দাঁড়াতে বলেছে?

    উত্তর: কবি উঠোনে লাউমাচাটির পাশে দাঁড়াতে বলেছেন।

  8. ২.৮ “ছোট একটা ফুল দুলছে” — কিসের ফুল দুলছে?

    উত্তর: বর্তমানে দাঁড়িয়ে কবির মনে শৈশব জীবনের নানা ঘটনা মনে পড়ছে। এই স্মৃতির ফুল দুলছে।

  9. ২.৯ কবির মতে কোন্ গাছ বুড়িয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত মুড়ােয় না?

    উত্তর: কবির মতে নটেগাছ বুড়িয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত মুড়ােয় না।

  10. ২.১০ “নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না।”—“মুড়য় না’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

    উত্তর: ‘মুড়য় না’ বলতে বােঝানাে হয়েছে যে, কখনােই শেষ হয়ে যায় না।

  11. ২.১১ ‘আবহমান কবিতায় মানুষের কোথায় হারিয়ে গিয়েও আবার কোথায় ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে?

    উত্তর: গ্রামবাংলার নতুন প্রজন্মের মানুষরা নাগরিক যন্ত্রসভ্যতায় হারিয়ে গিয়েও আবার বাঁচার জন্য গ্রামবাংলার বুকেই ফিরে আসে।

  12. ২.১২ ‘আবহমান’ কবিতায় কাকে একগুঁয়ে বলা হয়েছে?

    উত্তর: যে মানুষ তার নাগরিক জীবনকে পিছনে ফেলে গ্রাম এবং মাটির কাছাকাছি ফিরে আসে, তাকেই একগুঁয়ে বলা হয়েছে।

  13. ২.১৩ ‘আবহমান’ কবিতায় কার যন্ত্রণা নেভে না?

    উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় গ্রাম এবং প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষের যন্ত্রণা নেভে না।

  14. ২.১৪ “নেভে না তার যন্ত্রণা”—কীসের যন্ত্রণা?

    উত্তর: এখানে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে।

  15. ২.১৫ “যা গিয়ে ওই উঠানে তাের দাড়া,/লাউমাচাটার পাশে”—কবিতায় এই অংশটি কতবার ব্যবহার করা হয়েছে?

    উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় “যা গিয়ে ওই উঠানে তাের দাড়া,/লাউমাচাটার পাশে”—এই পঙক্তিটি চারবার ব্যবহার করা হয়েছে।

  16. ২.১৬ “ফুল দুলছে, ফুল, সন্ধ্যার বাতাসে” — সন্ধ্যার বাতাসে বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

    উত্তর: জীবনের পড়ন্ত বেলায় পৌঁছে কবিতার শৈশব জীবনের কথা ভাবছেন বলে সন্ধ্যার বাতাস কথাটি ব্যবহার করেছেন।

  17. ২.১৭ “কে এখানে এসেছিল অনেক বছর আগে?” — কোনখানে আসার কথা বলা হয়েছে?

    উত্তর: একদিন যেখানে শৈশবের দিনগুলি কেটেছে সেখানকার কথা বলা হয়েছে।

  18. ২.১৮ ‘আবহমান’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

    উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতাটি কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা অন্ধকার বারান্দা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি ওই কাব্যগ্রন্থের তিরিশ সংখ্যক কবিতা।

  19. ২.১৯ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন?

    উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী গ্রামবাংলার গরিবের উঠোনে লাউমাচার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।

  20. ২.২০ কবি লাউমাচার পাশে কেন দাঁড়াতে বলেছেন?

    উত্তর: কবি লাউমাচার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন কারণ পল্লিবাংলার প্রকৃতিলালিত সহজসরল জীবনকে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়।

  21. ২.২১ কোন্ ফুল দুলছে?

    উত্তর: পল্লিবাংলায় উঠোনের লাউমাচায় ছােট্ট লাউফুল দুলছে।

  22. ২.২২ কোথায় ছােট্ট ফুল দুলছে?

    উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় গ্রামবাংলায় গরিবের উঠোনের লাউমাচায় ছােট্ট লাউফুল দোলার কথা বলা হয়েছে।

  23. ২.২৩ লাউফুল কখন দোলে?

    উত্তর: সন্ধ্যার মৃদুমন্দ বাতাসে লাউফুল দোলে।

  24. ২.২৪ ‘আবহমান’ কবিতায় অনেক বছর আগে কার আসার কথাবলা হয়েছে?

    উত্তর: অনেক বছর আগে বাংলায় আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের আসার কথা বলা হয়েছে, যারা এদেশেরই বাসিন্দা হয়ে গেছে।

  25. ২.২৫ ‘আবহমান’ কবিতায় বাংলার ভূখণ্ডে এসে মানুষ কী করেছিল বলা হয়েছে?

    উত্তর: বাংলার ভূখন্ডে এসে মানুষ এই দেশকে নিবিড়ভাবে ভালােবেসে এখানেই ঘর বেঁধে বাস করতে শুরু করেছে।

Advertisement

সংক্ষিপ্ত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

  1. ৩.১ ‘এই মাটিকে এই হাওয়াকে আবার ভালোবাসে।’ – এই মাটি হাওয়াকে আবার ভালোবাসার কারণ কী?

    উত্তর: জীবন সৃষ্টির শুরু থেকে মাটি ও হাওয়ার উপরেই নির্ভর করেই জীবন গড়ে উঠেছে। মাটি তার বাসস্থান, বাতাস তার শ্বাসবায়ু। বহু বহু বছর আগে মানুষ যখন প্রথম ঘর বাঁধতে শিখেছিল তখন সে কোনো এক ভূখণ্ডেরর উপরে তৈরি করেছিল তার থাকার আশ্রয়। কোনো কিছু দিয়ে বাসস্থান তৈরী করেছিল সে, খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থাও করেছিল। তার পর কতযুগ চলে গেছে কিন্তু মানুষের ঘর বাধার আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট আছে। যে জন্মভূমির মাটিতে সে বড় হয়ে উঠেছে, সেই মাটিতে ফিরে আসার তাঁর ইচ্ছা চিরন্তন। মানুষের এই চিরকালীন ঘর বাঁধার ইচ্ছা,ফেলে আসা ঘরের প্রতি তাঁর মমতা, জন্মভূমির প্রতি অদম্য আকর্ষণ তাঁর চিরন্তন। বারংবার এই মাটির টানে মানুষ ফিরে আসে, ভালোবেসে ঘর বাঁধে। বারংবার এই ঘর বাঁধার তাগিদ, জন্মভিটের টান, এইগুলো বোঝাতে কবি ‘আবার’ কথাটা ব্যবহার করেছেন।

  2. ৩.২ ‘ফুরয় না সেই একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা।’ – কোন্‌ পিপাসাকে, কেন দুরন্ত বলা হয়েছে?

    উত্তর: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আবহমান’ কবিতা থেকে এই উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। পিপাসা কথার অর্থ হল তৃষ্ণা। তৃষ্ণার্ন্ত মানুষ তার পিপাসা নিবারণের জন্য জল পান করে। এই কবিতা অনুযায়ী পিপাসা বলতে বলা হয়েছে জন্মভূমির প্রতি টান যা মানুষের কাছে অমোঘ, যা মানুষ কখনো অস্বীকার করতে পারে না। জন্মভূমি প্রত্যেকেই তীব্র ভাবে আকর্ষিত করে। গাছের শিকড় যেমন মাটির তলায় থাকে, কোনো ব্যাক্তি যেখানে বড় হয়ে ওঠে সেখানে তার শিকড় প্রোথিত হয়ে যায়। যদি কোনো কারণে জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে, তবুও সে বারবার তাঁর জন্মভিটেতে ফিরে আসতে চায়। কারণ সেই জন্মস্থানের মাটির সঙ্গে তার আত্মিক যোগাযোগ। তাই তাঁর এই পিপাসা দুরন্ত।

  3. ৩.৩ “কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে” — পঙক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।

    উত্তর: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতা থেকে এই উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। কবিতায় যে মানুষ একদিন গভীর অনুরাগ দিয়ে গ্রামসভ্যতা গড়ে তুলেছিল সেই মানুষই নগরসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য আর সমৃদ্ধির টানে গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়ে বাসা বেঁধেছিল। কিন্তু শহরজীবন ঐশ্বর্য আর সমৃদ্ধি দিলেও মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। তাই গ্রাম থেকে হারিয়ে যাওয়া মানুষ আবার শান্তির খোঁজে গ্রামেই ফিরে আসে।

  4. ৩.৪ ‘যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া’, – উঠানে গিয়ে দাঁড়ালে কী চোখে পড়বে?

    উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত আবহমান কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। বাড়ির সামনে যে ফাঁকা জায়গা থাকে তাকেই উঠান বলে। গ্রামবাংলায় যে কুঠির নির্মাণ করা হয়, সেই বাড়ির সামনে অনেকটাই ফাঁকা জায়গা থাকে, তাকে উঠোন বলে। উঠোনে সামনেও বেশ খানিকটা জায়গা থাকলে, ছোটো ছোটো কিছু গাছ সেখানে লাগানো হয় অনেক সময় মাচা করেও সেখানে গাছ লাগাতে দেখা যায়। দাওয়ার পর এই উঠোন পরিষ্কার করে রাখা হয়। কবি বলছেন ঘর থেকে বেরিয়ে এলে লাউ মাচা দেখতে পাওয়া যাবে। লাউ মাচায় ফুল হয়েছে। সন্ধ্যাবেলা নদীর উপর থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া ভেসে আসে। সেই হাওয়া নাড়া দিয়ে যায় এই লাউ ফুলগুলিকে এবং হাওয়ায় ফুলগুলি দুলতে থাকে। কবির বক্তব্য অনুযায়ী উঠোনে গিয়ে দাঁড়ালে লাউমাচা ও সান্ধ্যকালীন হাওয়াতে দোদল্যমান লাউফুলটিকে দেখতে পাওয়া যায়।

  5. ৩.৫ ‘কে এইখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে’, – ‘আবার ফিরে আসা’র প্রসঙ্গ উচ্চারিত হয়েছে কেন?

    উত্তর: মানুষের ঘর বাঁধার স্বপ্ন চিরন্তন। বহু বছর আগে মানুষ যখন গোষ্ঠী বদ্ধভাবে বাঁচা শুরু করে তখন থেকেই সে ঘর বাঁধে অতন্ত্য ভালোবাসার সঙ্গে। মানুষ প্রথম সমাজবদ্ধভাবে গ্রামবাংলার বুকে বসবাস শুরু করে। এই গ্রামবাংলার বুকে মানুষ কতবার ঘর বেঁধেছে ভালোবাসার সঙ্গে। সেখানে তার জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে পরম মমতায়। অনেক সময় অনেক কারণে তাকে সেই ভালোবাসার ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে বহুদূরে। কিন্তু তার জায়গায় আবার অন্য কেউ এসে ঘর বেঁধেছে, জীবন শুরু করেছে। আবার কোনো কারণে কেউ যদি এই ভালোবাসার ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে সে এই ভিটের টানে আবারো ফিরে এসেছে। এই যাওয়া আসা বারংবার হতেই থাকে। তাই এখানে ‘আবার ফিরে আসার’ কথাটা ব্যবহার করা হয়েছে।

  6. ৩.৬ ‘সারাটা দিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে’, – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত আবহমান কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। জন্মভিটে জন্মভূমি আকর্ষণর চিরন্তন। যদি কোনো ব্যাক্তি তার দেশকে ছেড়ে যায় তবুও সে বারবার সেই স্থানেি ফিরে আসতে চায়। কারণ সেই জায়গার সঙ্গে তার আত্মার যোগ। সেই স্থানের প্রতিটি ধুলিকণা, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ঘাস তার একান্ত প্রিয়। সব কিছুর মধ্যে মিশে আছে তার ভালোবাসা ভরা জন্মভূমির স্মৃতি। যা কখনো কোনোদিন ভোলা যায় না। মনে সবসময় তার প্রবল ইচ্ছা থাকে মাতৃভূমির বুকে ফিরে আসার জন্য। যখন সে এসে পৌঁছাতে পারে তার মাতৃভূমির কাছে তখন সে প্রকৃতির মধ্যে খুঁজে নিতে চায় তার পুরোনো সময়ের সৌগন্ধ। আপন মনে স্মৃতিচারনায় সে থাকে নিমগ্ন। ঘাস জন্মায় মাটির বুক থেকে। সেই মাটির সঙ্গে মানুষের নিবিড় যোগাযোগ। সেই মাটির মধ্যে সে নিজেকে খুঁজে পায়। তাই এখানে কবি বলেছেন সারাটাদিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে।

বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

  1. ৪.১ তেমনই করেই সূর্য ওঠে, তেমনি করেই ছায়া/ নামলে আবার ছুটে সান্ধ্য নদীর হাওয়া।’ – বক্তব্যটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলোচ্য অংশে একাধিকবার ‘তেমনি’ ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করো।

    উত্তর: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অন্ধকার বারন্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আবহমান’ কবিতা থেকে এই আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। বহু বহু বছর আগে মানুষ তার জীবন শুরু করেছিল প্রকৃতির মাঝে। ভালোবাসা দিয়ে সে গড়ে তুলেছিল তার বসতি। সময় চলে গেছে দিন বদলেছে, কিন্তু মানুষের তার জন্মভিটের প্রতি আকর্ষণ আজও অমলিন। তাই বারবার সে জন্মভূমিতে ফিরে আসে। সময় বদলায়, হয়তো তার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষগুলোও বদলে যায়। কিন্তু মানুষের এই ঘর বাঁধার ইচ্ছে, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার ইচ্ছে, জন্মভিটের প্রতি টান- এগুলো বদলায় না। এগুলো অপরিবর্তনীয় থেকে যায়। কারণ এই টান চিরন্তন। একই ভাবে যুগ যুগ ধরে প্রকৃতিও কোনো পরিবর্তন ঘটে নি। এই প্রসঙ্গে কবি এই কথা বলেছেন। ‘তেমনি’ ব্যবহারের প্রাসঙ্গিকতা- নিজের জন্মভূমির প্রতি অদম্য আকর্ষণের কথা বলার সময় কবি আরেক একটি কথাও বলেছেন- সময় বদলে গেলেও প্রকৃতি তার রূপ বদলায় নি। প্রত্যেকদিন আজও সকাল বেলা সূর্য ওঠে, আবার সন্ধ্যেবেলা অস্ত যায়। সূর্যের তাপ অস্তমিত হবার পরে তেমনি ভাবে নদীর হাওয়া বয়ে যায়। এই ঘটনা বারবার ঘটে, প্রতিদিন ঘটে, প্রতিনিয়ত ঘটে। সময় চলে যায়, বছর বাড়তে থাকে। নটে গাছটির বয়স বাড়ে, কিন্তু সেই ঘটনা হারিয়ে যায় না, বারেবারে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। এটিই জীবনের বৈশিষ্ট্য, এটাই জীবনের মহিমা। এই চিরন্তন কথাটিকে বোঝানোর জন্যই কবি এই ‘তেমনি’ কথাটি ব্যবহার করেছেন। এইজন্য কবি বলেছেন তেমনই করেই সূর্য ওঠে অর্থাৎ যখন পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল, প্রাণ সৃষ্টি হয়েছিল তখন যেমন ভাবে পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠত ঠিক তেমন ভাবে আজও সূর্য ওঠে। এই ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে ততদিন এই ঘটনা একইরকম ভাবে ঘটে চলবে। এই ঘটনা চিরন্তন। একই ভাবে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যের অস্ত যাওয়া অথবা সন্ধ্যাবেলা নদীর ওপার থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে আসার মতো ঘটনা গুলি বারংবার ঘটতে থাকবে। সেই কথা বোঝানোর জন্য কবি ‘তেমনি’ কথাটি ব্যবহার করেছেন।

  2. ৪.২ ‘নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না।’ – উদ্ধৃতাংশে নটেগাছের প্রসঙ্গ উত্থাপনে ‘আবহমান’ কবিতায় ‘রূপকথা’র আবেশ কীভাবে রচিত হয়েছে, বিশ্লেষণ করো।

    উত্তর: রূপকথার গল্পে আমরা কোনো সুয়োরাণী ও দুয়োরাণী বা কোনো দৈত্যের দানবের কথা শুনতাম। সেই গল্পে দুষ্টু রাণী তার সৎ মেয়েকে কষ্ট দিত, দানব বা দৈত্য রাজ্যের প্রজাদের কষ্ট দিত। গল্পের শেষে দুষ্টু বুদ্ধির পরাজয় ঘটত, শুভ বুদ্ধির জয়লাভ ঘটত। যা কিছু ভালো তা চিরস্থায়ী হয়। যা কিছু অন্যায় তার বিনাশ ঘটে এবং গল্পের শেষে লেখা থাকত নটে গাছটি মুড়ালো আমার কথাটি ফুড়লো। গল্পের শেষে এর দ্বারা একটা সুখী পরিসমাপ্তি বোঝানো হত। নটে একবর্ষজীবি গাছ, এক বছর পরে নটে গাছটি শুকিয়ে যায়। কিন্তু এখানে কবিতায় কবি নটে গাছটিকে সময়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মানুষের ঘর গড়ে তোলার ইচ্ছা,এই ভিটের প্রতি অমোঘ আকর্ষণ-এর কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সময় চলে যায়, যুগ পরিবর্তন হয়। কিন্তু দূরদুরান্তরে চলে গেলেও মানুষ চেষ্টা করে আবার তার ভিটেতে ফিরে আসতে। এই যে জন্মভূমির প্রতি অদম্য আকর্ষণ তা মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। আবার অন্যদিকে বহুবছর বহুযুগ অতিক্রান্ত হলেও প্রকৃতির রূপ থাকে অমলিন। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের উদয়, আবার পশ্চিম দিগন্তে সূর্যের অস্ত যাওয়া, নদীর উপর থেকে শীতল হাওয়া বয়ে আসা, গ্রাম বাংলার বুকে কুটিরে অনতিদূরে লাউমাচা – সবই যেন অপরিবর্তনীয় থাকে। গ্রাম বাংলার এই শান্ত সমাহিত চিত্র বহু বছর পার করেও একই থেকে যায়। তাই বহু সময় অতিবাহিত হলেও কবি ভাষায় নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে, নটে গাছটা বুড়িয়ে উঠলেও কখনো ফুরয় না।

  3. ৪.৩ “এই মাটিকে এই হাওয়াকে আবার ভালােবাসে।” — এই মাটি হাওয়াকে আবার ভালােবাসার কারণ কী?

    উত্তর: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতাটি নিজের শিকড়ের খোঁজে মানুষের অনিঃশেষ পথ চলার কাহিনি। সভ্যতার শুরুতে অরণ্যবাসী মানুষ বল কেটে বসতি গড়েছিল, তৈরি করেছিল তার গ্রামসভ্যতা! ঘর বেঁধেছিল নিবিড় অনুরাগে। সেই মানুষই ধীরে ধীরে নাগরিক হয়েছে। প্রকৃতি এবং গ্রামজীবনের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটেছে। কিন্তু শহরজীবনের ব্যস্ততা এবং কৃত্রিমতায় ক্লান্ত মানুষ নিজের মনের মধ্যে ধরে রাখতে চেয়েছে ঘাসের গন্ধ, তারায় ভরা আকাশে সে নিজের স্বপ্ন এঁকে রেখেছে। বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসিকে মানুষ কখনও হারিয়ে যেতে দেয়নি। প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়েছে সেই দুরন্ত জীবনপিপাসা চাকচিক্য, আড়ম্বরের কৃত্রিমতায় নয়, মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য জীবনকে তার সহজভাবে রূপরস-গন্ধ-স্পর্শ-সহ উপলব্ধি করতে চেয়েছে। তাই প্রকৃতির কাছে, তার ফেলে আসা গ্রামজীবনের কাছে ফিরে যাওয়ার তাগিদ উপলব্দি করেছে সে। সেখানে লাউমাচায় সন্ধ্যার বাতাসে ছােট্ট একটা ফুল আজও দোল খায়। সেই মাটিকে আর হাওয়াকে ভালােবেসে ফিরে যাওয়াটা যেন জীবনকে সুন্দরভাবে উপলব্ধি করার ও বেঁচে থাকার জন্য অবশ্য প্রয়ােজনীয় হয়ে ওঠে।

  4. ৪.৪ ‘আবহমান’ শব্দের অর্থ কী? কবিতায় ব্যক্ত ভাবের সঙ্গে এই নামকরণ কতদূর সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তুমি মনে করো?

    উত্তর: আবহমান কথাটার আক্ষরিক অর্থ হল যা অনন্ত কাল ধরে বহমান। এখানে চিরকালীন বা চিরন্তন অর্থ বোঝাতে আবহমান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। বহু বছর আগে মানুষের ঘর বাঁধা শুরু হয়েছে। মানুষ তাঁর কুটির নির্মিত করছে সযত্নে। বেঁচে থাকার জন্য সবজি ফলিয়েছে। বহমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু ‘নিবিড় অনুরাগে’ এই ঘর বাঁধার ইচ্ছা, জন্মভূমির মাটিকে, হাওয়াকে ভালোবাসার অদম্য ইচ্ছার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রিয় ভিটে, ভিটের সংলগ্ন ছোটো একটি লাউমাচা, যা কবি এখানে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তাঁর টান সার্বজনীন। যদি কখনো কাউকে কোনো প্রয়োজনে নিজের জায়গা ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যেতে হয়, তবুও চেনা ভিটের জন্য সবসময় তার মন অস্থির হয়ে থাকে। পরিচিত ‘ঘাসের গন্ধ’ মাখার জন্য মন ভরে থাকে ‘দূরন্ত পিপাসায়’। সময় এগিয়ে চলে প্রতিদিন সূর্য উঠে, প্রতিদিন অস্ত যায়, সন্ধ্যা নামে, সন্ধ্যার বাতাস নদীর উপর থেকে গ্রামের বুকে ছুটে আসে। অফুরণ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তা চিরকালীন। বারবার, প্রতিদিন, অবিরাম একই ঘটনা ঘটে চলেছে। তবু এর কোনো শেষ নেই। ঠিক তেমনি মানুষের মনে ঘর বাঁধার আখাঙ্খাও চিরকালীন। এই ঘটনাগুলি আবহমান কাল ধরে লক্ষ্য করা যায়। তাই কবিতায় ব্যক্ত ভাবের সঙ্গে এই নামকরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করি।

সমস্ত সমাধান আমাদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা WBBSE নির্দেশিকা অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে। সমাধানগুলিতে পাঠ্যবইয়ের প্রশ্নের উত্তর, ব্যাকরণ অনুশীলন এবং লেখার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Advertisement

Complete Bengali Solutions কিনুন

অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান

Advertisement