অধ্যায় ১: পৃথিবীর গতি (Class VII Geography Solutions)
WBBSE-র সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের প্রথম অধ্যায় 'পৃথিবীর গতি'-র সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে আলোচনা করা হলো।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
মহাকাশের সমস্ত বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে, একে কী বলে?
-
পৃথিবীর তুলনায় সূর্য কত গুণ বড়ো?
পৃথিবীর আবর্তন গতি কোন্ দিক থেকে কোন্ দিকে?
নিজ অক্ষের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে প্রায়-
সূর্যের চারিদিকে একবার পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে প্রায়-
পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির বেগ সেকেন্ডে প্রায় কত?
কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে কত বেগে ওপর দিকে ছুঁড়লে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না?
মুক্তিবেগ (Escape Velocity) এর মান হলো-
পৃথিবী যে পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তাকে বলে-
গ্রহদের গতি সংক্রান্ত সূত্র প্রথম প্রণয়ন করেন বিজ্ঞানী-
পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি কীরূপ?
উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একটি ফোকাসে অবস্থান করে-
সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় কোন্ তারিখে?
পৃথিবীর অপসূর অবস্থান ঘটে-
অপসূর অবস্থানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব থাকে প্রায়-
সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় কোন্ তারিখে?
পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান ঘটে-
অনুসূর অবস্থানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব থাকে প্রায়-
চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে প্রায়-
এক সৌর বছর হয়-
যে বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনের হয়, তাকে বলে-
অধিবর্ষে মোট দিনের সংখ্যা কত?
কত বছর অন্তর অধিবর্ষ হয়?
নীচের কোন্ সালটি অধিবর্ষ?
নীচের কোন্ সালটি অধিবর্ষ নয়?
পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে কত কোণে হেলে থাকে?
সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে উত্তাপ হয়-
সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়লে উত্তাপ হয়-
উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন-
সূর্যের বার্ষিক আপাতগতিকে কী বলে?
২২ ডিসেম্বর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সূর্যের উত্তরমুখী আপাতগতিকে বলে-
২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্যের দক্ষিণমুখী আপাতগতিকে বলে-
সারা পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সমান হয় কোন্ কোন্ তারিখে?
বিষুব কথার অর্থ কী?
মহাবিষুব বলা হয় কোন্ তারিখকে?
উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল হয় কোন্ সময়ে?
জলবিষুব বলা হয় কোন্ তারিখকে?
উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হয় কোন্ সময়ে?
কর্কটসংক্রান্তি হয় কোন্ তারিখে?
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন কোনটি?
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোটো দিন কোনটি?
মকরসংক্রান্তি হয় কোন্ তারিখে?
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোটো দিন কোনটি?
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড়ো দিন কোনটি?
কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে-
মকরক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে-
নিরক্ষরেখার ওপর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে-
মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ বলা হয়-
সুমেরুবৃত্তে একটানা ২৪ ঘণ্টা দিন থাকে-
কুমেরুবৃত্তে একটানা ২৪ ঘণ্টা রাত থাকে-
সুমেরু অঞ্চলে দৃশ্যমান রঙিন আলোকে বলে-
সুমেরু প্রভা অন্য কী নামে পরিচিত?
কুমেরু অঞ্চলে দৃশ্যমান রঙিন আলোকে বলে-
কুমেরু প্রভা অন্য কী নামে পরিচিত?
সুমেরুতে একটানা ৬ মাস দিন থাকে কখন?
কুমেরুতে একটানা ৬ মাস রাত থাকে কখন?
২৫শে ডিসেম্বর তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় কোন্ ঋতু থাকে?
উত্তর গোলার্ধে যখন শরৎকাল, তখন দক্ষিণ গোলার্ধে কোন ঋতু?
সূর্যের দৈনিক আপাতগতি কোন্ গতির ফল?
ঋতু পরিবর্তন হয় পৃথিবীর কোন্ গতির ফলে?
পৃথিবীর থেকে ছিটকে না যাওয়ার কারণ হলো-
পৃথিবীর অক্ষটি তার কক্ষপথের সাথে লম্বভাবে কত ডিগ্রী কোণে অবস্থিত?
জানুয়ারি মাসে উত্তর গোলার্ধে শীতকাল অনুভূত হওয়ার কারণ কী?
পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য কেমন থাকে?
কোন তারিখে সুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘন্টাই অন্ধকার থাকে?
কোন তারিখে কুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘন্টাই সূর্য দেখা যায়?
প্রথম অধিবর্ষের ধারণা দেন কারা?
দিন ও রাতের কারণ হল পৃথিবীর-
মেরু অঞ্চলে বরফ জমে থাকার কারণ কী?
পৃথিবীর আবর্তন না থাকলে কী হত?
ঋতু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয় কোনটি?
বছরের কোন সময়ে দিন সবচেয়ে ছোট ও রাত সবচেয়ে বড় হয় (উত্তর গোলার্ধে)?
পৃথিবী তার কক্ষতলের উপর লম্বের সাপেক্ষে কত ডিগ্রী কোণে হেলে আছে?
পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে গড় দূরত্ব কত?
যদি পৃথিবীর অক্ষ হেলানো না থাকতো, তবে কী হতো?
হোলি উৎসব সাধারণত কোন ঋতুতে হয়?
দুর্গাপূজা সাধারণত কোন ঋতুতে হয়?
বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর) উৎসবের সময় ভারতে কোন ঋতু থাকে?
কোন গ্রহের অক্ষ তার কক্ষপথের সমতলে প্রায় শুয়ে আছে?
কোন গ্রহের অক্ষ তার কক্ষের ওপর প্রায় লম্ব?
সূর্যঘড়িতে সবচেয়ে ছোট ছায়া কখন দেখা যায়?
সূর্যঘড়িতে সবচেয়ে লম্বা ছায়া কখন দেখা যায়?
পৃথিবীর দৈনিক গতির অপর নাম কি?
পৃথিবীর বার্ষিক গতির অপর নাম কি?
আকাশগঙ্গা হল একটি-
সৌরজগতের কেন্দ্রে কে অবস্থিত?
চান্দ্রমাস কত দিনে হয়?
পৃথিবীর পরিক্রমণ পথটি যে কাল্পনিক সমতলে অবস্থিত, তাকে বলে-
অপসূর অবস্থানে পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয় কেন?
আর্জেন্টিনায় বড়দিন উৎসব কোন ঋতুতে পালিত হয়?
আবর্তন গতির ফলে সৃষ্টি হয় না কোনটি?
উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালীন বিষুব হয়-
দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকালীন বিষুব হয়-
পৃথিবীর যে দুটি প্রান্তে কল্পিত অক্ষদণ্ডটি বেরিয়ে থাকার কথা, সেই প্রান্তদুটিকে কী বলে?
লাট্টুর মতো পাক খেতে খেতে ঘোরার গতিকে কী বলে?
কোন তারিখে কর্কটক্রান্তি রেখায় দুপুরবেলায় ছায়ার দৈর্ঘ্য শূন্য হয়?
কোন তারিখে মকরক্রান্তি রেখায় দুপুরবেলায় ছায়ার দৈর্ঘ্য শূন্য হয়?
কোন তারিখে নিরক্ষরেখায় দুপুরবেলায় ছায়ার দৈর্ঘ্য শূন্য হয়?
পৃথিবী যদি স্থির থাকত, তাহলে কী হত?
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
মহাকর্ষ কাকে বলে?
উত্তর: মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা পরস্পরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে।
পৃথিবীর গতি কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: পৃথিবীর গতি প্রধানত দুই প্রকার - (১) আবর্তন বা দৈনিক গতি এবং (২) পরিক্রমণ বা বার্ষিক গতি।
আবর্তন গতি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী তার নিজের অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে ক্রমাগত ঘুরে চলেছে, একে আবর্তন গতি বলে।
পরিক্রমণ গতি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর আবর্তন করতে করতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, একে পরিক্রমণ গতি বলে।
পৃথিবীর অক্ষ কাকে বলে?
উত্তর: যে কাল্পনিক রেখার চারিদিকে পৃথিবী আবর্তন করে, তাকে পৃথিবীর অক্ষ বলে।
কক্ষপথ কাকে বলে?
উত্তর: যে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তাকে পৃথিবীর কক্ষপথ বলে।
কক্ষতল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর কক্ষপথটি মহাশূন্যে যে কাল্পনিক সমতলে অবস্থিত, তাকে কক্ষতল বলে।
অপসূর অবস্থান কী?
উত্তর: পরিক্রমণকালে ৪ঠা জুলাই তারিখে পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) অবস্থান করে, একে অপসূর অবস্থান বলে।
অনুসূর অবস্থান কী?
উত্তর: পরিক্রমণকালে ৩রা জানুয়ারি তারিখে পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে কম দূরত্বে (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) অবস্থান করে, একে অনুসূর অবস্থান বলে।
সৌর বছর কী?
উত্তর: সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর যে সময় লাগে (৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড), তাকে এক সৌর বছর বলে।
অধিবর্ষ বা Leap Year কাকে বলে?
উত্তর: প্রতি ৪ বছর অন্তর ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত দিন (২৯শে ফেব্রুয়ারি) যোগ করে বছরের দিন সংখ্যা ৩৬৬ করা হয়, এই বছরটিকে অধিবর্ষ বা Leap Year বলে।
ঋতু পরিবর্তন কেন হয়?
উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি এবং পৃথিবীর অক্ষের ৬৬.৫° কৌণিক নতির কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়।
রবিমার্গ কী?
উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির জন্য আপাতভাবে মনে হয় সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তি রেখা পর্যন্ত চলাচল করে। সূর্যের এই বার্ষিক আপাতগতিকে রবিমার্গ বলে।
উত্তরায়ণ কাকে বলে?
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বরের পর থেকে ২১শে জুন পর্যন্ত সূর্যের উত্তরমুখী বার্ষিক আপাতগতিকে উত্তরায়ণ বলে।
দক্ষিণায়ন কাকে বলে?
উত্তর: ২১শে জুনের পর থেকে ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্যের দক্ষিণমুখী বার্ষিক আপাতগতিকে দক্ষিণায়ন বলে।
বিষুব কথার অর্থ কী?
উত্তর: 'বিষুব' কথার অর্থ হলো 'সমান দিন ও রাত্রি'।
মহাবিষুব কবে হয়?
উত্তর: ২১শে মার্চ তারিখে মহাবিষুব হয়।
জলবিষুব কবে হয়?
উত্তর: ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে জলবিষুব হয়।
কর্কটসংক্রান্তি কবে হয়?
উত্তর: ২১শে জুন তারিখে কর্কটসংক্রান্তি হয়।
মকরসংক্রান্তি কবে হয়?
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর তারিখে মকরসংক্রান্তি হয়।
উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২১শে জুন উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন।
উত্তর গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন।
দক্ষিণ গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন।
দক্ষিণ গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২১শে জুন দক্ষিণ গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন।
নিশীথ সূর্যের দেশ কাকে বলা হয়?
উত্তর: নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে নিশীথ সূর্যের দেশ বা মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ বলা হয়।
সুমেরু প্রভা বা অরোরা বোরিয়ালিস কী?
উত্তর: সুমেরু অঞ্চলে একটানা রাত চলার সময় আকাশে যে রামধনুর মতো রঙিন আলোর জ্যোতি দেখা যায়, তাকে সুমেরু প্রভা বলে।
কুমেরু প্রভা বা অরোরা অস্ট্রালিস কী?
উত্তর: কুমেরু অঞ্চলে একটানা রাত চলার সময় আকাশে যে রামধনুর মতো রঙিন আলোর জ্যোতি দেখা যায়, তাকে কুমেরু প্রভা বলে।
মুক্তিবেগ (Escape Velocity) কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিমি গতিবেগে ওপরের দিকে ছুঁড়তে পারলে তা আর পৃথিবীর আকর্ষণে ফিরে আসে না, মহাশূন্যে ঘুরতে থাকে। এই গতিবেগকে মুক্তিবেগ বলে।
পৃথিবীর গড় পরিক্রমণ বেগ কত?
উত্তর: পৃথিবীর গড় পরিক্রমণ বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি।
কখন উত্তর গোলার্ধে দিন বড়ো ও রাত ছোটো হয়?
উত্তর: সূর্যের উত্তরায়ণের সময়, বিশেষত গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে দিন বড়ো ও রাত ছোটো হয়।
দিন ও রাত্রি কেন হয়?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য দিন ও রাত্রি হয়।
কোন তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়?
উত্তর: ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
মেরুজ্যোতি সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন আয়নিত গ্যাসের সঙ্গে সূর্যরশ্মির সংঘর্ষের ফলে মেরু অঞ্চলে মেরুজ্যোতি সৃষ্টি হয়।
কোনো শতাব্দী বর্ষ অধিবর্ষ হবে কিনা তা কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: শতাব্দী বর্ষটিকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করলে যদি ভাগশেষ না থাকে, তবেই সেই বছরটি অধিবর্ষ হবে।
সূর্যের দৈনিক আপাতগতি কী?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য প্রতিদিন সূর্যকে পূর্ব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে চলাচল করতে দেখা যায়, একেই সূর্যের দৈনিক আপাতগতি বলে।
পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
উত্তর: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে আছে।
কোন অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর লম্বভাবে পড়ে?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে।
কোন অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর তির্যকভাবে পড়ে?
উত্তর: মেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর তির্যকভাবে পড়ে।
দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল কখন হয়?
উত্তর: উত্তর গোলার্ধে যখন শরৎকাল (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর), তখন দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল হয়।
দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল কখন হয়?
উত্তর: উত্তর গোলার্ধে যখন বসন্তকাল (মার্চ-এপ্রিল), তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল হয়।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফল কী?
উত্তর: পৃথিবীর বার্ষিক গতির প্রধান ফল হলো ঋতু পরিবর্তন এবং দিনরাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি।
পৃথিবীর দৈনিক গতির ফল কী?
উত্তর: পৃথিবীর দৈনিক গতির প্রধান ফল হলো দিন-রাত্রির পর্যায়ক্রমিক সংঘটন।
কেন ৪ জুলাই সূর্য থেকে দূরে থেকেও উত্তর গোলার্ধে গরম বেশি হয়?
উত্তর: কারণ ওই সময় পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে।
কেন ৩ জানুয়ারি সূর্যের কাছে থেকেও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে?
উত্তর: কারণ ওই সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে।
সুমেরুতে কখন একটানা ৬ মাস দিন থাকে?
উত্তর: ২১শে মার্চ থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুমেরুতে একটানা ৬ মাস দিন থাকে।
কুমেরুতে কখন একটানা ৬ মাস দিন থাকে?
উত্তর: ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ২১শে মার্চ পর্যন্ত কুমেরুতে একটানা ৬ মাস দিন থাকে।
'Solstice' কথার অর্থ কী?
উত্তর: Solstice বা সংক্রান্তি কথার অর্থ সূর্যের আপাত স্থির অবস্থা, যা বছরের দীর্ঘতম বা ক্ষুদ্রতম দিনে ঘটে।
'Equinox' কথার অর্থ কী?
উত্তর: Equinox বা বিষুব কথার অর্থ সমান রাত্রি, অর্থাৎ যেদিন দিন ও রাত্রি সমান হয়।
পৃথিবীর জীবনধারণের শক্তির মূল উৎস কী?
উত্তর: পৃথিবীর জীবনধারণের শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য।
চাঁদের বাড়া-কমা দেখে কোন সময় গণনা করা হত?
উত্তর: চাঁদের বাড়া-কমা দেখে চান্দ্রমাস গণনা করা হত।
রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
চিত্রসহ ঋতু পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলি হলো:
- পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি: পৃথিবী স্থির না থেকে সূর্যের চারিদিকে একটি নির্দিষ্ট পথে ঘুরে চলেছে, যার ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের কাছে বা দূরে আসে।
- পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে আছে। এই হেলানো অবস্থানের জন্যই পৃথিবী যখন সূর্যকে পরিক্রমণ করে, তখন কোনো গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, আবার কোনো গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে থাকে।
- দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি: যে গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, সেখানে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে, দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হয় এবং গ্রীষ্মকাল হয়। বিপরীত গোলার্ধে রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে, দিনের দৈর্ঘ্য কম হয় এবং শীতকাল হয়।
- পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: এর ফলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব পরিবর্তিত হয়, যা ঋতু পরিবর্তনের ওপর সামান্য প্রভাব ফেলে।
এই কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবে পৃথিবীতে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—এই চারটি প্রধান ঋতু পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
-
অধিবর্ষ বা Leap Year কী এবং কেন এর প্রয়োজন হয়? উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
অধিবর্ষ (Leap Year): যে বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনের হয় এবং মোট দিনের সংখ্যা ৩৬৫-এর বদলে ৩৬৬ হয়, সেই বছরটিকে অধিবর্ষ বা Leap Year বলে।
প্রয়োজনীয়তা: সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কিন্তু আমরা হিসাবের সুবিধার জন্য ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরি। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা (৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড) সময় অতিরিক্ত থেকে যায়।
এই অতিরিক্ত সময়ের হিসাব মেলানোর জন্য প্রতি চার বছর অন্তর (৬ ঘণ্টা × ৪ = ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন) ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়। এই দিনটি ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাসটি ২৯ দিনের হয় এবং বছরটি ৩৬৬ দিনের হয়।
শনাক্ত করার নিয়ম:
- যে সালকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে মিলে যায়, সেটি অধিবর্ষ। যেমন - ২০১২, ২০১৬, ২০২৪ সাল।
- কিন্তু শতাব্দী বর্ষের (যেমন ১৯০০, ২০০০) ক্ষেত্রে, সালটিকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করলে যদি মিলে যায়, তবেই সেটি অধিবর্ষ হবে। যেমন - ২০০০ সাল অধিবর্ষ, কিন্তু ১৯০০ বা ২১০০ সাল অধিবর্ষ নয়।
চিত্রসহ পৃথিবীর অপসূর ও অনুসূর অবস্থান ব্যাখ্যা করো। এই অবস্থানের সাথে ঋতু পরিবর্তনের সম্পর্ক কী?
অনুসূর অবস্থান (Perihelion): পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরার সময় ৩রা জানুয়ারি তারিখে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে কমে যায় (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অনুসূর অবস্থান বলে।
অপসূর অবস্থান (Aphelion): পরিক্রমণকালে ৪ঠা জুলাই তারিখে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে বেড়ে যায় (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অপসূর অবস্থান বলে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক: সাধারণভাবে মনে হতে পারে, অনুসূর অবস্থানে (কাছে) গ্রীষ্মকাল এবং অপসূর অবস্থানে (দূরে) শীতকাল হওয়া উচিত। কিন্তু ঋতু পরিবর্তন মূলত পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল, দূরত্বের ওপর নয়।
- ৩রা জানুয়ারি (অনুসূর): এই সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে ঝুঁকে থাকায় সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। তাই সূর্যের কাছে থাকা সত্ত্বেও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হয়।
- ৪ঠা জুলাই (অপসূর): এই সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকায় সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে। তাই সূর্য থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হয়।
সুতরাং, ঋতু পরিবর্তনে অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের প্রভাব খুবই সামান্য।
কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তি বলতে কী বোঝো? এই দিনগুলির বৈশিষ্ট্য লেখো।
কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice): ২১শে জুন তারিখে পৃথিবী তার কক্ষপথের এমন এক অবস্থানে আসে যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর) ওপর লম্বভাবে পড়ে। এই দিনটিকে কর্কটসংক্রান্তি বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো এবং রাত সবচেয়ে ছোটো হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোটো এবং রাত সবচেয়ে বড়ো হয়।
- এই দিন থেকে সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হয়।
মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice): ২২শে ডিসেম্বর তারিখে পৃথিবী এমন অবস্থানে আসে যখন দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) ওপর লম্বভাবে পড়ে। এই দিনটিকে মকরসংক্রান্তি বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোটো এবং রাত সবচেয়ে বড়ো হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো এবং রাত সবচেয়ে ছোটো হয়।
- এই দিন থেকে সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়।
বিষুব কাকে বলে? মহাবিষুব ও জলবিষুবের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিষুব (Equinox): 'বিষুব' শব্দের অর্থ 'সমান রাত্রি'। বছরের যে দুটি দিনে পৃথিবীর অক্ষ সূর্যের দিকে বা সূর্যের বিপরীত দিকে ঝুঁকে থাকে না এবং সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে, সেই দিন দুটিতে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান (১২ ঘণ্টা করে) হয়। এই ঘটনাকে বিষুব বলে।
মহাবিষুব ও জলবিষুবের পার্থক্য:
বিষয় মহাবিষুব জলবিষুব তারিখ ২১শে মার্চ ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধের ঋতু বসন্তকাল শরৎকাল দক্ষিণ গোলার্ধের ঋতু শরৎকাল বসন্তকাল সূর্যের আপাত অবস্থান এই দিনের পর থেকে সূর্যরশ্মি ক্রমশ উত্তর গোলার্ধের দিকে লম্বভাবে পড়তে থাকে। এই দিনের পর থেকে সূর্যরশ্মি ক্রমশ দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে লম্বভাবে পড়তে থাকে। মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত্রি থাকার কারণ কী?
মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত্রি থাকার প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর ৬৬.৫° হেলানো অক্ষ।
৬ মাস দিন: ২১শে মার্চ থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সূর্যের উত্তরায়ণের সময় পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। এই ৬ মাস উত্তর মেরু বা সুমেরু অঞ্চল একটানা সূর্যের আলো পায়। পৃথিবী আবর্তন করলেও সুমেরু অঞ্চল সূর্য থেকে আড়াল হয় না। তাই এই সময় সুমেরুতে একটানা ৬ মাস দিন এবং কুমেরুতে ৬ মাস রাত থাকে।
৬ মাস রাত: আবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ২১শে মার্চ পর্যন্ত সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। ফলে এই ৬ মাস সুমেরু অঞ্চল একটানা সূর্যের আড়ালে থাকে। তাই এই সময় সুমেরুতে একটানা ৬ মাস রাত এবং কুমেরুতে ৬ মাস দিন বিরাজ করে।
নিশীথ সূর্য এবং মেরুজ্যোতির ঘটনা ব্যাখ্যা করো।
নিশীথ সূর্য (Midnight Sun): ২১শে মার্চের পর থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যখন সুমেরু অঞ্চলে একটানা ৬ মাস দিন চলে, তখন সুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় অঞ্চলে (যেমন - নরওয়ের হ্যামারফেস্ট) স্থানীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতেও দিগন্তরেখায় সূর্যকে দেখা যায়। এই ঘটনাকে নিশীথ সূর্য বা মধ্যরাত্রির সূর্য বলে।
মেরুজ্যোতি (Aurora): সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে যখন একটানা ৬ মাস রাত্রি চলে, তখন মাঝে মাঝে রাতের আকাশে রামধনুর মতো সবুজ, লাল, নীল আলোর ছটা দেখা যায়। একে মেরুজ্যোতি বলে। বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে সূর্য থেকে আসা আয়নিত কণার সঙ্গে বায়বীয় কণার সংঘর্ষের ফলে এই আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। সুমেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতিকে 'সুমেরু প্রভা' বা 'অরোরা বোরিয়ালিস' এবং কুমেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতিকে 'কুমেরু প্রভা' বা 'অরোরা অস্ট্রালিস' বলে।
পৃথিবীর আবর্তন গতি এবং পরিক্রমণ গতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিষয় আবর্তন গতি পরিক্রমণ গতি সংজ্ঞা পৃথিবীর নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘোরার গতি। পৃথিবীর সূর্যের চারিদিকে ঘোরার গতি। সময়কাল প্রায় ২৪ ঘণ্টা (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)। প্রায় ৩৬৫ দিন (৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড)। অন্য নাম দৈনিক গতি। বার্ষিক গতি। গতিবেগ নিরক্ষরেখায় ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিমি। সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিমি। ফল দিন-রাত্রি সংঘটন, জোয়ার-ভাটা, বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ। ঋতু পরিবর্তন, দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি, সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি। যদি পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে হেলে না থেকে সোজা বা লম্বভাবে থাকত, তাহলে কী কী ঘটনা ঘটত?
যদি পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে লম্বভাবে থাকত, তাহলে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি ঘটত:
- ঋতু পরিবর্তন হতো না: সারাবছর একই জায়গায় একই রকম আবহাওয়া থাকত। কারণ সূর্যরশ্মি সারাবছর নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে এবং অন্যত্র একই কোণে তির্যকভাবে পড়ত।
- দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি হতো না: পৃথিবীর সর্বত্র সারাবছর দিন ও রাত্রি ১২ ঘণ্টা করে অর্থাৎ সমান হতো।
- মেরু অঞ্চলে বরফ: মেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ায় সেখানে সারাবছর চরম শীতল আবহাওয়া বিরাজ করত এবং চিরস্থায়ী বরফে ঢাকা থাকত।
- জীবজগতের বৈচিত্র্য কম হতো: ঋতু বৈচিত্র্য না থাকায় পৃথিবীর জীবজগৎ আজকের মতো এত বৈচিত্র্যময় হতো না।
আমাদের জীবনে ঋতুবৈচিত্র্যের প্রভাব আলোচনা করো।
আমাদের জীবনে ঋতুবৈচিত্র্যের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কৃষিকাজ: বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়, যা আমাদের খাদ্যের জোগান দেয়। যেমন - গ্রীষ্ম ও বর্ষায় ধান, পাট এবং শীতে গম, ডাল, তৈলবীজ চাষ হয়।
- জীবনযাত্রা ও পোশাক: ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ধরণ পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মে আমরা হালকা পোশাক পরি, শীতে গরম পোশাক।
- সংস্কৃতি ও উৎসব: বিভিন্ন ঋতুকে কেন্দ্র করে নানা উৎসব ও অনুষ্ঠান পালিত হয়, যা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। যেমন - বসন্তে হোলি, শরৎকালে দুর্গাপূজা, শীতে পৌষ পার্বণ।
- অর্থনীতি: ঋতু পরিবর্তনের ওপর পর্যটন, বস্ত্র শিল্প, মৎস্যচাষ ইত্যাদি নানা অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নির্ভর করে।
- বাস্তুতন্ত্র: ঋতুচক্র উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের জীবনচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সুতরাং, ঋতুবৈচিত্র্য না থাকলে আমাদের জীবন একঘেয়ে হয়ে যেত এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতো।