অধ্যায় ১০: আফ্রিকা মহাদেশ (Class VII Geography Solutions)
WBBSE-র সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের দশম অধ্যায় 'আফ্রিকা মহাদেশ'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে আলোচনা করা হলো। সমস্ত প্রশ্ন প্রদত্ত PDF পাঠ্যপুস্তক থেকে তৈরি করা হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
আয়তনে ও জনসংখ্যায় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি?
কোন মহাদেশকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হত?
ইউরোপ ও আফ্রিকাকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমে কোন পর্বতমালা অবস্থিত?
আটলাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি কোনটি?
সাহারা মরুভূমির মধ্যভাগে অবস্থিত একটি মালভূমি হলো-
পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্থ উপত্যকায় অবস্থিত একটি হ্রদ হলো-
আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমির নাম কী?
আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বে কোন পর্বতমালা দেখা যায়?
আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ব্লু নীল ও হোয়াইট নীলের মিলনস্থল কোথায়?
ব্লু নীলের উৎস কোনটি?
আফ্রিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
পৃথিবী বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত কোন নদীতে অবস্থিত?
নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে কোন অরণ্য দেখা যায়?
আফ্রিকার লম্বা ঘাসের প্রান্তর কী নামে পরিচিত?
কোন জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়?
সাহারা মরুভূমিতে খেজুর গাছ কোথায় জন্মায়?
মিশরকে কীসের দান বলা হয়?
নীলনদের ব-দ্বীপ অঞ্চলে কোন তুলো বিখ্যাত?
আসোয়ান বাঁধ কোন নদীর ওপর অবস্থিত?
সাহারার বালির স্তূপকে কী বলে?
সাহারার পাথুরে মরুভূমি কী নামে পরিচিত?
সাহারার শুকনো নদীখাতকে কী বলে?
সাহারা মরুভূমির যাযাবরদের প্রধান জীবিকা কী?
সাহারা মরুভূমির গরম ও শুকনো বাতাসকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে?
সাহারার বালির ঝড় কী নামে পরিচিত?
মরুভূমিতে দল বেঁধে উট চললে তাকে কী বলে?
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
কোন মহাদেশকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হত এবং কেন?
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হত। প্রাকৃতিক দুর্গমতা, অস্বাস্থ্যকর জলবায়ু এবং হিংস্র জন্তুর কারণে বহুদিন পর্যন্ত এই মহাদেশের ভেতরের অংশ অনাবিষ্কৃত ছিল, তাই এই নামকরণ।
কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ রেখা আফ্রিকার ওপর দিয়ে গেছে?
উত্তর: নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তিরেখা, মকরক্রান্তিরেখা এবং মূলমধ্যরেখা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেখাই আফ্রিকার ওপর দিয়ে গেছে।
প্রণালী কাকে বলে?
উত্তর: দুটি বড় জলভাগকে (সাগর বা মহাসাগর) যে সংকীর্ণ জলভাগ যুক্ত করে, তাকে প্রণালী বলে। যেমন - জিব্রাল্টার প্রণালী।
আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
উত্তর: মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (৫,৮৯৫ মি.) হলো আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
গ্রস্থ উপত্যকা (Rift Valley) কী?
উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠের দুটি সমান্তরাল ফাটলের মাঝের অংশ নীচে বসে গিয়ে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ উপত্যকা তৈরি করে, তাকে গ্রস্থ উপত্যকা বলে।
আফ্রিকার দুটি মরুভূমির নাম লেখো।
উত্তর: সাহারা এবং কালাহারি।
ভেল্ড কী?
উত্তর: দক্ষিণ আফ্রিকার উঁচু মালভূমিতে অবস্থিত নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমিকে ভেল্ড বলা হয়।
নীলনদের দুটি প্রধান ধারার নাম কী?
উত্তর: হোয়াইট নীল এবং ব্লু নীল।
আফ্রিকার কোন নদী নিরক্ষরেখাকে দুবার অতিক্রম করেছে?
উত্তর: কঙ্গো নদী নিরক্ষরেখাকে দুবার অতিক্রম করেছে।
পৃথিবী বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত কোন নদীর গতিপথে অবস্থিত?
উত্তর: জাম্বেসি নদীর গতিপথে পৃথিবী বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত অবস্থিত।
সাভানা তৃণভূমি কাকে বলে?
উত্তর: আফ্রিকার নিরক্ষীয় অঞ্চলের উত্তরে ও দক্ষিণে ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত লম্বা ঘাসের প্রান্তরকে সাভানা তৃণভূমি বলে।
আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের দুটি গাছের নাম লেখো।
উত্তর: জলপাই এবং ওক।
মরূদ্যান কী?
উত্তর: মরুভূমি অঞ্চলে যেখানে ভূগর্ভের জল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসায় কিছু গাছপালা, বিশেষ করে খেজুর গাছ জন্মায়, সেই অঞ্চলকে মরূদ্যান বলে।
মিশরকে 'নীলনদের দান' বলা হয় কেন?
উত্তর: নীলনদ না থাকলে মিশর সাহারা মরুভূমির অংশে পরিণত হত। নীলনদের জল ও পলি মিশরের কৃষি, সভ্যতা ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে, তাই মিশরকে 'নীলনদের দান' বলা হয়।
বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কী?
উত্তর: যখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জল পরিবহন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি একাধিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়, তখন তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে।
সাহারা মরুভূমির তিনটি ভূমিরূপের নাম লেখো।
উত্তর: আর্গ (বালিময় মরুভূমি), হামাদা (পাথুরে মরুভূমি) এবং রেগ (বালি ও পাথরের মিশ্রণ)।
ওয়াদি কাকে বলে?
উত্তর: সাহারা মরুভূমির শুকনো নদীখাতগুলিকে ওয়াদি বলা হয়।
সাইমুম কী?
উত্তর: সাহারা মরুভূমিতে গ্রীষ্মকালে দিনের বেলায় যে প্রবল বালির ঝড় হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় সাইমুম বলে।
ক্যারাভান কী?
উত্তর: সাহারা মরুভূমিতে যাতায়াতের জন্য যখন উটের দল একসঙ্গে দল বেঁধে চলে, তখন তাকে ক্যারাভান বলে।
সাহারার যাযাবরদের দুটি গোষ্ঠীর নাম লেখো।
উত্তর: তুয়ারেগ এবং বেদুইন।
রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
আফ্রিকা মহাদেশের ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে আলোচনা করো।
আফ্রিকা মহাদেশ মূলত একটি বিশাল মালভূমি, যার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ।
- পর্বতমালা: মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে নবীন ভঙ্গিল পর্বত আটলাস এবং দক্ষিণ-পূর্বে প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত ড্রাকেন্সবার্গ অবস্থিত। পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্থ উপত্যকা অঞ্চলে আগ্নেয়গিরি কিলিমাঞ্জারো (মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ) ও রুয়েনজোরি পর্বত দেখা যায়।
- মরুভূমি: উত্তরে পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারা অবস্থিত। এর মধ্যভাগে আহাগ্গার ও টিবেস্টি মালভূমি রয়েছে। দক্ষিণে কালাহারি ও নামিব মরুভূমি দেখা যায়।
- উচ্চভূমি ও মালভূমি: পূর্ব আফ্রিকার ইথিওপিয়া একটি উচ্চভূমি অঞ্চল। সমগ্র মহাদেশটিই প্রাচীন গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ হওয়ায় এখানে বহু মালভূমি দেখা যায়।
- গ্রস্থ উপত্যকা: পূর্ব আফ্রিকায় ভূ-আলোড়নের ফলে পৃথিবীর দীর্ঘতম গ্রস্থ উপত্যকা (Great Rift Valley) সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে টাঙ্গানিকা, মালাউই, রুডলফের মতো বহু গভীর হ্রদ রয়েছে।
- নদী অববাহিকা ও উপকূলীয় সমভূমি: নিরক্ষীয় অঞ্চলে কঙ্গো নদীর ঘন অরণ্যময় অববাহিকা এবং সাহারার পূর্বে নীলনদের উর্বর অববাহিকা অবস্থিত। মহাদেশের উপকূল বরাবর সংকীর্ণ সমভূমি দেখা যায়।
আফ্রিকার প্রধান নদনদীগুলির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
আফ্রিকা মহাদেশের নদনদীগুলি এখানকার উচ্চভূমি ও হ্রদ অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। প্রধান পাঁচটি নদী হলো:
- নীলনদ: এটি আফ্রিকার তথা পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী। হোয়াইট নীল ও ব্লু নীল ধারার মিলনে সৃষ্ট এই নদীটি উত্তরে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্যসাগরে পড়েছে এবং মিশরের মরু অঞ্চলকে শস্য-শ্যামল করেছে।
- কঙ্গো নদী: এটি আফ্রিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম এবং জলপ্রবাহের দিক থেকে বৃহত্তম নদী। নিরক্ষীয় অঞ্চলের বিপুল বৃষ্টিপাতের জল বহন করে এটি আটলান্টিক মহাসাগরে পড়েছে।
- নাইজার নদী: এটি পশ্চিম আফ্রিকার প্রধান নদী। গিনি উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি সাহারার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে আটলান্টিক মহাসাগরে মিশেছে।
- জাম্বেসি নদী: কঙ্গোর উৎসস্থলের কাছ থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরে পড়েছে। এর গতিপথেই বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত অবস্থিত।
- অরেঞ্জ নদী: ড্রাকেন্সবার্গ পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরে পড়েছে। জলসেচ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আফ্রিকা মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করো।
আফ্রিকা মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্য সরাসরি এর স্বাভাবিক উদ্ভিদকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু ও চিরসবুজ অরণ্য: নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে সারাবছর অধিক উষ্ণতা (২৭° সে.) ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের (২০০-২৫০ সেমি) কারণে ঘন, শক্ত কাঠের চিরসবুজ অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে (যেমন- মেহগনি, রবার)।
- ক্রান্তীয় জলবায়ু ও সাভানা তৃণভূমি: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উত্তরে ও দক্ষিণে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় (২৫-১৫০ সেমি) বড় গাছের পরিবর্তে লম্বা ঘাসের সাভানা তৃণভূমি দেখা যায়, যার মধ্যে অ্যাকাসিয়া, বাওবাব গাছ বিচ্ছিন্নভাবে জন্মায়।
- উষ্ণ মরু জলবায়ু ও মরু উদ্ভিদ: সাহারা ও কালাহারি মরুভূমিতে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাতের কারণে কাঁটা জাতীয় গাছ (ফণীমনসা, বাবলা) এবং গুল্ম জন্মায়। মরূদ্যান অঞ্চলে খেজুর গাছ দেখা যায়।
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু ও উদ্ভিদ: উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে শীতকালীন বৃষ্টিপাতযুক্ত জলবায়ুতে জলপাই, ওক, কর্ক এবং বিভিন্ন ফলের গাছ জন্মায়।
- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ও ভেল্ড তৃণভূমি: দক্ষিণ আফ্রিকার মৃদু জলবায়ু অঞ্চলে ছোট ঘাসের ভেল্ড তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
মিশরকে 'নীলনদের দান' বলা হয় কেন? নীলনদ অববাহিকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে 'নীলনদের দান' বলে অভিহিত করেছিলেন। এর কারণগুলি হলো:
- মরুভূমির মাঝে প্রাণসঞ্চার: নীলনদ না থাকলে মিশর সাহারা মরুভূমিরই একটি অংশ হয়ে থাকত। নীলনদের জলই এই শুষ্ক দেশকে বাসযোগ্য ও শস্য-শ্যামল করে তুলেছে।
- কৃষির উন্নতি: প্রতি বছর নীলনদের বন্যায় দুই তীরে পলি জমে উর্বর প্লাবনভূমি তৈরি হয়, যা কৃষিকাজের জন্য আদর্শ। এখানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানের লম্বা আঁশের তুলা (ইজিপ্সিয়ান কটন) এবং গম, ধান, আখ ইত্যাদি চাষ হয়।
- সভ্যতার বিকাশ: নীলনদকে কেন্দ্র করেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। পানীয় জল, সেচ এবং পরিবহনের উৎস হিসেবে নীলনদ ছিল অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
নীলনদ অববাহিকা মিশরের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কৃষিকাজ ছাড়াও, নীলনদের ওপর আসোয়ানের মতো বড় বাঁধ নির্মাণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ এবং প্রচুর পরিমাণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এই জলবিদ্যুৎ শিল্পে সহায়তা করে। নীলনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং পর্যটনেরও অন্যতম আকর্ষণ।
সাহারা মরুভূমির ভূপ্রকৃতি ও অধিবাসীদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আলোচনা করো।
ভূপ্রকৃতি: সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি এবং এটি মূলত একটি মালভূমি অঞ্চল। এর ভূপ্রকৃতি সর্বত্র সমান নয়।
- হামাদা: শক্ত পাথরে ভরা প্রায় বালিহীন অঞ্চল।
- রেগ: বালি ও পাথরের টুকরোয় মিশ্রিত অঞ্চল।
- আর্গ: বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সৃষ্ট বালির স্তূপ বা বালিয়াড়ি দিয়ে গঠিত অঞ্চল।
- ওয়াদি: মরুভূমির শুষ্ক নদীখাত।
- মরূদ্যান: যেখানে ভূগর্ভস্থ জল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকায় গাছপালা জন্মায়।
অধিবাসীদের জীবনযাত্রা:
সাহারার জলবায়ু অত্যন্ত চরমভাবাপন্ন। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম (৫৮° সে. পর্যন্ত) এবং রাতের বেলা বেশ ঠান্ডা (৪° সে. পর্যন্ত)। এখানকার জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর।
- যাযাবর জীবন: তুয়ারেগ ও বেদুইনের মতো যাযাবর উপজাতিরা জল ও খাদ্যের সন্ধানে উট, ছাগল নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়। পশুর দুধ ও মাংস এদের প্রধান খাদ্য।
- কৃষিকাজ: মরূদ্যানগুলিকে কেন্দ্র করে স্থায়ী জনবসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে জলের যোগানে ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
- আধুনিক জীবন: বর্তমানে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার আবিষ্কৃত হওয়ায় খনি কেন্দ্রিক শহর গড়ে উঠেছে। যাযাবরদের অনেকেই এখন খনি শ্রমিক বা পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। উটের বদলে ট্রাক এবং পাকা রাস্তা যাতায়াত ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে।