অধ্যায় ৬: নদী (Class VII Geography Solutions)
WBBSE-র সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায় 'নদী'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে আলোচনা করা হলো। সমস্ত প্রশ্ন প্রদত্ত PDF পাঠ্যপুস্তক থেকে তৈরি করা হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
নদী যেখানে সৃষ্টি হয়, সেই জায়গাকে কী বলে?
নদী যেখানে সাগর বা অন্য কোনো জলাশয়ে মেশে, তাকে বলে-
গঙ্গা নদীর উৎস কোনটি?
পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
কোনো উঁচু স্থান বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দিলে তাকে বলে-
মূল নদীতে এসে যে নদী মেশে, তাকে বলে-
যমুনা কোন নদীর উপনদী?
মূল নদী থেকে যে নদী বেরিয়ে যায়, তাকে বলে-
ভাগীরথী-হুগলী কোন নদীর প্রধান শাখানদী?
পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা কোনটি?
দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে কী বলে?
ভারতের লুনি একটি-
যে নদীতে সারাবছর জল থাকে, তাকে বলে-
নদীর প্রধান কাজ কয়টি?
নদীর উচ্চপ্রবাহে প্রধান কাজ কী?
নদীর নিম্নপ্রবাহে প্রধান কাজ কী?
পার্বত্য প্রবাহকে নদীর কোন অবস্থা বলা হয়?
সমভূমিতে নদীর প্রবাহকে কী বলে?
নদীর উচ্চগতিতে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপ হলো-
শুষ্ক অঞ্চলের সুগভীর গিরিখাতকে কী বলে?
নদীর গতিপথে শক্ত ও নরম শিলাস্তর থাকলে কী তৈরি হয়?
গঙ্গা নদীর মধ্যপ্রবাহ কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত?
নদীর মধ্যপ্রবাহে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপ হলো-
নদীর আঁকাবাঁকা পথকে কী বলে?
ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে হ্রদকে বলে-
নদীর নিম্নপ্রবাহে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপ হলো-
বন্যার ফলে নদীর দুই তীরে পলি জমে কী তৈরি হয়?
ব-দ্বীপের আকৃতি কিসের মতো?
কোন নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ নেই?
নদীর মোহনায় ফানেলের মতো চওড়া অংশকে কী বলে?
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
নদী কাকে বলে?
উত্তর: স্বাভাবিক প্রবহমান জলধারা যা অভিকর্ষের টানে ভূমির ঢাল অনুসারে উৎস থেকে মোহনার দিকে বয়ে চলে, তাকে নদী বলে।
নদীর উৎস কী?
উত্তর: নদী যেখানে সৃষ্টি হয়, সেই জায়গাকে নদীর উৎস বলে। যেমন - গঙ্গার উৎস গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ।
নদীর মোহনা কাকে বলে?
উত্তর: নদী যেখানে সাগর, হ্রদ বা অন্য কোনো নদীতে গিয়ে মেশে, সেই স্থানকে নদীর মোহনা বলে।
ধারণ অববাহিকা কী?
উত্তর: পর্বতের উপর থেকে পাদদেশ পর্যন্ত যে বিরাট অঞ্চলের বৃষ্টির বা বরফগলা জল ছোট ছোট জলধারার মাধ্যমে মূল নদীতে এসে পড়ে, সেই অঞ্চলটিকে ওই নদীর ধারণ অববাহিকা বলে।
জলবিভাজিকা কাকে বলে?
উত্তর: কোনো উঁচু পার্বত্য অঞ্চল যখন বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে বা বিভাজন করে দেয়, তখন তাকে জলবিভাজিকা বলে।
উপনদী কাকে বলে?
উত্তর: উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে কোনো নদী যখন অন্য কোনো মূল নদীতে এসে মেশে, তখন তাকে ওই মূল নদীটির উপনদী বলে। যেমন- যমুনা গঙ্গার উপনদী।
শাখানদী কাকে বলে?
উত্তর: মূল নদী থেকে যে সমস্ত নদী শাখার মতো বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও মেশে, তাদের শাখানদী বলে। যেমন- ভাগীরথী-হুগলী গঙ্গার শাখানদী।
নদী অববাহিকা কী?
উত্তর: একটি নদী তার উপনদী ও শাখানদী সহ উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা বলে।
দোয়াব কথার অর্থ কী?
উত্তর: 'দো' কথার অর্থ দুই এবং 'আব' কথার অর্থ জল বা নদী। অর্থাৎ, পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব বলে।
অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে?
উত্তর: যে নদী কোনো দেশের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশের মধ্যেই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে গিয়ে মেশে, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে। যেমন- ভারতের লুনি।
আন্তর্জাতিক নদী কী?
উত্তর: যে নদী একাধিক দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক নদী বলে। যেমন- সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র।
নিত্যবহ নদী কাকে বলে?
উত্তর: যে সব নদীর জলের উৎস বরফগলা জল এবং যেগুলিতে সারাবছর জল থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলে। যেমন- গঙ্গা।
অনিত্যবহ নদী কাকে বলে?
উত্তর: যে সব নদীর জলের উৎস বৃষ্টির জল এবং যেগুলিতে শুধুমাত্র বর্ষাকালে জল থাকে, তাদের অনিত্যবহ নদী বলে।
নদীর তিনটি কাজ কী কী?
উত্তর: নদীর তিনটি প্রধান কাজ হলো- (১) ক্ষয়কাজ, (২) বহনকাজ এবং (৩) সঞ্চয়কাজ।
নদীর কোন প্রবাহে ক্ষয়কাজ সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: নদীর উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহে ক্ষয়কাজ সবচেয়ে বেশি হয়।
নদীর শক্তি কিসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: নদীর শক্তি মূলত নদীতে জলের পরিমাণ, জলের গতিবেগ এবং ভূমির ঢালের ওপর নির্ভর করে।
গিরিখাত (Gorge) কাকে বলে?
উত্তর: নদীর উচ্চপ্রবাহে প্রবল ক্ষয়ের ফলে যে গভীর ও সংকীর্ণ 'I' বা 'V' আকৃতির উপত্যকা তৈরি হয়, তাকে গিরিখাত বলে।
ক্যানিয়ন (Canyon) কী?
উত্তর: বৃষ্টিহীন শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে বা মরুপ্রায় অঞ্চলে সৃষ্ট অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলে।
জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে কঠিন ও নরম শিলাস্তর থাকলে, নরম শিলাস্তর বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর ফলে নদীর জল উঁচু কঠিন শিলাস্তরের ওপর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার কী?
উত্তর: মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদী সামান্য বাধাপ্রাপ্ত হলেই এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। এই আঁকাবাঁকা পথকেই নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার বলে।
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: মধ্যপ্রবাহে নদীবাঁক খুব বেশি বেড়ে গেলে একসময় বাঁকের দুটি মুখ জুড়ে গিয়ে নদী সোজা পথে প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং পরিত্যক্ত বাঁকটি হ্রদের আকারে অবস্থান করে। এটি দেখতে ঘোড়ার খুরের মতো হওয়ায় একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
প্লাবনভূমি কাকে বলে?
উত্তর: নদীর নিম্নপ্রবাহে বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল নদীর দু'কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। বন্যার জল সরে গেলে নদীর দুধারে পলি সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি তৈরি হয়, তাকে প্লাবনভূমি বলে।
ব-দ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: নদীর মোহনার কাছে স্রোতের বেগ কমে যাওয়ায় নুড়ি, বালি, পলি ইত্যাদি জমা হয়ে মাত্রাহীন বাংলা 'ব' বা গ্রিক অক্ষর 'ডেল্টা'-র মতো যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে ব-দ্বীপ বলে।
খাঁড়ি কী?
উত্তর: কিছু নদীর মোহনায় জোয়ারের সময় নোনা জল নদীতে ঢুকে ফানেলের মতো আকৃতির যে চওড়া মোহনা তৈরি করে, তাকে খাঁড়ি বলে।
রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
নদীর তিনটি প্রবাহপথের (উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন) বৈশিষ্ট্য ও কাজ আলোচনা করো।
উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিপথকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহ:
- বৈশিষ্ট্য: এই পর্যায়ে ভূমির ঢাল খুব বেশি হওয়ায় নদীর স্রোত প্রবল ও শক্তি অনেক বেশি থাকে। নদী উপত্যকা সংকীর্ণ ও গভীর হয়।
- প্রধান কাজ: এই প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হলো প্রবলবেগে ক্ষয় করা। বড় বড় পাথরখণ্ড বহন করাও এই অংশের অন্যতম কাজ।
২. মধ্যপ্রবাহ বা সমভূমি প্রবাহ:
- বৈশিষ্ট্য: সমভূমিতে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদীর শক্তি ও গতিবেগ দুই-ই কমে যায়। নদীতে জলের পরিমাণ বাড়ে এবং উপত্যকা চওড়া হয়।
- প্রধান কাজ: এই প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ বহন। ক্ষয়কাজ কমে যায় এবং অল্প পরিমাণে সঞ্চয় কাজ শুরু হয়।
৩. নিম্নপ্রবাহ বা ব-দ্বীপ প্রবাহ:
- বৈশিষ্ট্য: মোহনার কাছে ভূমির ঢাল প্রায় থাকে না বললেই চলে, তাই নদীর স্রোত খুব ধীর হয়ে যায়। নদী খুব চওড়া হয় এবং একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- প্রধান কাজ: এই প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হলো সঞ্চয়। নদী তার বয়ে আনা পলি, বালি, কাঁকর ইত্যাদি মোহনায় সঞ্চয় করে।
নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো।
নদীর উচ্চপ্রবাহে ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:
১. 'I' বা 'V' আকৃতির উপত্যকা (গিরিখাত): পার্বত্য অঞ্চলে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে বাহিত প্রস্তরখণ্ডের আঘাতে নদীর তলদেশ দ্রুত ক্ষয় পায়। এর ফলে নদী উপত্যকা খুব গভীর ও সংকীর্ণ হয়, যা দেখতে ইংরেজি 'I' বা 'V' অক্ষরের মতো হয়। একে গিরিখাত বলে। শুষ্ক অঞ্চলে এই গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলা হয়।
২. জলপ্রপাত: নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে কঠিন ও নরম শিলাস্তর অবস্থান করলে, নদীর স্রোতে নরম শিলাস্তর বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর ফলে কঠিন ও নরম শিলাস্তরের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য সৃষ্টি হয় এবং নদীর জল খাড়া ঢাল বরাবর সজোরে নীচে পড়ে জলপ্রপাত তৈরি করে।
৩. মন্থকূপ: নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে বাহিত বড় বড় পাথরের টুকরো নদীর তলদেশে আটকে গিয়ে ঘুরতে থাকলে সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়। এই গর্তগুলিকে মন্থকূপ বলে।
নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো।
নদীর মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে সঞ্চয়কাজের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। এদের মধ্যে তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:
১. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: মধ্যপ্রবাহে নদী যখন খুব বেশি এঁকেবেঁকে চলে, তখন কখনও কখনও দুটি বাঁক খুব কাছাকাছি চলে আসে। বন্যার সময় নদী তখন বাঁকা পথ ছেড়ে সরাসরি সোজা পথে প্রবাহিত হয় এবং পরিত্যক্ত বাঁকা অংশটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হ্রদের আকারে অবস্থান করে। এটি দেখতে ঘোড়ার খুরের মতো হওয়ায় একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
২. প্লাবনভূমি: নিম্নপ্রবাহে নদীর বহনক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল ও পলি নদীর দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী নিচু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বন্যা ঘটায়। বন্যার পর জল নেমে গেলে নদীর দুই তীরে পলি জমে যে উর্বর সমভূমি তৈরি হয়, তাকে প্লাবনভূমি বলে।
৩. ব-দ্বীপ: নদীর মোহনার কাছে স্রোতের বেগ একেবারে কমে যাওয়ায় নদী বাহিত পলি, বালি, কাঁকর ইত্যাদি জমা হয়ে মাত্রাহীন বাংলা 'ব' বা গ্রিক অক্ষর 'ডেল্টা' (Δ) এর মতো যে ত্রিকোণাকার ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে ব-দ্বীপ বলে।
মানব জীবনে নদীর প্রভাব আলোচনা করো।
মানব জীবনে নদীর প্রভাব অপরিসীম। নদীকে কেন্দ্র করেই মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে এবং বিকশিত হয়েছে।
- কৃষিকাজ: নদীর পলি দ্বারা গঠিত উর্বর প্লাবনভূমি ও ব-দ্বীপ অঞ্চল কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নদীর জল সেচের কাজে ব্যবহার করে প্রচুর ফসল উৎপাদন করা হয়।
- পানীয় জল: নদী মিষ্টি বা পানীয় জলের অন্যতম প্রধান উৎস।
- পরিবহন: প্রাচীনকাল থেকেই নদীপথ পরিবহনের একটি সহজ ও সুলভ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- জলবিদ্যুৎ: নদীর পার্বত্য প্রবাহে স্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- মৎস্য শিকার: বহু মানুষ নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।
- সভ্যতার বিকাশ: প্রাচীন সভ্যতাগুলি (যেমন- সিন্ধু, মিশরীয়) নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল। বর্তমানেও বড় বড় শহর ও জনপদ নদীর ধারেই অবস্থিত।
- পরিবেশের ভারসাম্য: নদী জলচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।
তবে, মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ যেমন- দূষণ, বাঁধ নির্মাণ, নদী ভরাট ইত্যাদি নদীর স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করছে, যা বন্যা ও জল সংকটের মতো সমস্যার সৃষ্টি করছে।
সব নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন?
নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ গড়ে ওঠার জন্য কিছু অনুকূল শর্তের প্রয়োজন হয়। এই শর্তগুলি পূরণ না হলে ব-দ্বীপ গঠিত হতে পারে না। কারণগুলি হলো:
- পলির পরিমাণ: নদীতে যদি পলির পরিমাণ খুব কম থাকে, তবে ব-দ্বীপ গঠনের জন্য পর্যাপ্ত পলি জমা হতে পারে না।
- নদীর গতিবেগ: মোহনার কাছে নদীর স্রোত যদি খুব বেশি থাকে, তবে পলি সঞ্চিত না হয়ে সমুদ্রের গভীরে চলে যায়।
- সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা: মোহনায় যদি প্রবল সমুদ্রস্রোত বা শক্তিশালী জোয়ার-ভাটার প্রভাব থাকে, তবে তা নদীর সঞ্চিত পলিকে ধুয়ে নিয়ে যায়, ফলে ব-দ্বীপ গড়ে উঠতে পারে না।
- সমুদ্রের গভীরতা: মোহনার কাছে সমুদ্রের গভীরতা খুব বেশি হলে সঞ্চিত পলি তলিয়ে যায় এবং ব-দ্বীপ গঠন বাধা পায়।
এই কারণগুলির জন্যই পৃথিবীর বৃহত্তম নদী হওয়া সত্ত্বেও আমাজনের মোহনায় কোনো ব-দ্বীপ গড়ে ওঠেনি।