অধ্যায় ৮: মাটি দূষণ (Class VII Geography Solutions)
WBBSE-র সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের অষ্টম অধ্যায় 'মাটি দূষণ'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে আলোচনা করা হলো। সমস্ত প্রশ্ন প্রদত্ত PDF পাঠ্যপুস্তক থেকে তৈরি করা হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
মাটির উর্বরতা বা গুণমান নষ্ট হলে তাকে কী বলে?
পৃথিবীর স্থলভাগের কত অংশে মাটি রয়েছে?
মাটি দূষণের একটি প্রধান কারণ হলো-
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কীসের চাহিদা বাড়ে?
অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে কী হয়?
কীটনাশকের অংশ ফসলে থেকে গেলে কী রোগ হতে পারে?
একই শস্যের বহুবার চাষ করলে কী হয়?
কলকারখানা থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে কী হয়?
অ্যাসিড বৃষ্টি কী ঘটায়?
পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটিতে মিশলে কী হয়?
গৃহস্থালীর আবর্জনার স্তূপে কী জন্মায়?
যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া কীসের কারণ?
ইটভাটার ছাই মাটিতে মিশলে কী হয়?
পারমাণবিক কেন্দ্রের বর্জ্য কীরূপ দূষণ ঘটায়?
১৯৮৪ সালে ভারতের ভূপালে কোন কারখানায় গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটেছিল?
চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রটি কোন দেশে অবস্থিত?
২০১১ সালে জাপানের কোন পরমাণু কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটে?
মাটিতে অবস্থিত কোন প্রাণী মাটির উর্বরতা বাড়ায়?
মাটি দূষণ প্রতিরোধের একটি উপায় হলো-
পলিথিনের বদলে কী ব্যবহার করা উচিত?
পৃথিবীর মোট স্থলভাগের কত শতাংশে ৯০ শতাংশ মানুষ বাস করে?
নগরায়ণের ফলে কী হয়?
অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে কী মারা যায়?
শৌচাগারের মলমূত্র মাটিতে মিশলে কী ছড়ায়?
ইট তৈরির জন্য কী করা হয়?
কোন কাজটি মাটি দূষণ ঘটায় না?
মাটির গুণমান নষ্টের জন্য দায়ী কোনটি?
মাটির দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কী করা উচিত?
জীবনের ধারক বলা হয় কাকে?
কোন কাজটি মাটি দূষণ প্রতিরোধে সাহায্য করে?
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
মাটি দূষণ কাকে বলে?
উত্তর: কারখানার দূষিত বর্জ্য পদার্থ, আবর্জনা, প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বা গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেলে, তাকে মাটি দূষণ বলে।
মাটিকে জীবনের ধারক বলা হয় কেন?
উত্তর: মানুষসহ সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংস্থান এবং জীবন ধারণ মাটির উপরেই নির্ভরশীল, তাই মাটিকে জীবনের ধারক বলা হয়।
মাটি দূষণের দুটি প্রধান কারণ লেখো।
উত্তর: মাটি দূষণের দুটি প্রধান কারণ হলো কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য পদার্থ মাটিতে মেশা।
নগরায়ণের ফলে কীভাবে মাটি দূষিত হয়?
উত্তর: নগরায়ণ বা শহর তৈরির জন্য প্রচুর গাছপালা কাটা হয়, যার ফলে মাটির ক্ষয় হয় এবং নির্মাণকাজের বর্জ্য ও শহরের আবর্জনা মাটিতে মিশে দূষণ ঘটায়।
কৃষিকাজ কীভাবে মাটি দূষণের কারণ হতে পারে?
উত্তর: কৃষিক্ষেত্রে অধিক ফলনের জন্য ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে এবং উপকারী জীবাণুদের মেরে ফেলে মাটি দূষিত করে।
অ্যাসিড বৃষ্টি কী?
উত্তর: কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস (যেমন সালফার ডাই অক্সাইড) বাতাসে মিশে বৃষ্টির জলের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে। একে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
অ্যাসিড বৃষ্টি কীভাবে মাটি দূষণ করে?
উত্তর: অ্যাসিড বৃষ্টি মাটির অম্লত্ব বাড়িয়ে দেয়, ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং মাটির উপকারী অণুজীব মারা যায়, যা মাটি দূষণের কারণ।
প্লাস্টিক ও পলিথিন কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
উত্তর: প্লাস্টিক ও পলিথিন মাটিতে মিশে যায় না বা পচে না। এগুলি মাটিতে জমা হয়ে জল ও বায়ু চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে মাটি দূষণ ঘটায়।
গৃহস্থালীর আবর্জনা থেকে কীভাবে মাটি দূষিত হয়?
উত্তর: বাড়ি, বাজার, হাসপাতালের আবর্জনার স্তূপে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জন্মায় এবং শৌচাগারের মলমূত্র মাটিতে মিশে রোগের জীবাণু ছড়ায়, যা মাটি দূষণের কারণ।
তেজস্ক্রিয় দূষণ কী?
উত্তর: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পরীক্ষাগার থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ মাটিতে মিশলে যে ভয়াবহ দূষণ হয়, তাকে তেজস্ক্রিয় দূষণ বলে।
ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা কবে হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৮৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভূপালে ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানা থেকে গ্যাস দুর্ঘটনা হয়েছিল।
মাটি দূষণ প্রতিরোধের দুটি উপায় লেখো।
উত্তর: মাটি দূষণ প্রতিরোধের দুটি উপায় হলো: (১) কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো এবং (২) পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে কাগজ বা পাটের থলে ব্যবহার করা।
জৈব সার কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: গাছের পাতা, পচা ফল, সবজির খোসা ইত্যাদি জৈব বস্তু এবং কেঁচোর সাহায্যে জৈব সার তৈরি হয়।
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এমন একটি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: কেঁচো মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
বৃক্ষরোপণ কীভাবে মাটি দূষণ প্রতিরোধ করে?
উত্তর: গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে মাটির ক্ষয় রোধ হয়। তাই বৃক্ষরোপণ মাটি দূষণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
মাটি দূষণের ফলে কৃষিক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়ে?
উত্তর: মাটি দূষণের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়, যার ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায় এবং উৎপাদিত ফসলের খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি কীভাবে মাটি দূষণের একটি পরোক্ষ কারণ?
উত্তর: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসস্থান ও খাদ্যের চাহিদা বাড়ে, যার জন্য বনভূমি ধ্বংস হয় এবং কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিকের ব্যবহার বাড়ে। এই দুটি কারণেই মাটি দূষিত হয়।
শিল্পজাত দ্রব্যের বর্জ্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: শিল্পকারখানায় কোনো জিনিস উৎপাদনের সময় যে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়, সেগুলিকে শিল্পজাত দ্রব্যের বর্জ্য বলে।
একটি তেজস্ক্রিয় দূষণের উদাহরণ দাও।
উত্তর: ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রের দুর্ঘটনা একটি ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দূষণের উদাহরণ।
মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণে একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে তোমার দুটি করণীয় উল্লেখ করো।
উত্তর: একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে আমার দুটি করণীয় হলো: (১) পলিথিনের ব্যবহার না করা এবং (২) বাড়ির আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।
রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
মাটি দূষণের প্রধান কারণগুলি কী কী? একটি সচিত্র তালিকার মাধ্যমে দেখাও।
মাটি দূষণের প্রধান কারণগুলিকে বিভিন্ন উৎসের ভিত্তিতে ভাগ করা যায়:
- নগরায়ন: জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শহর ও বসতি স্থাপনের জন্য বনভূমি ও কৃষিজমি ধ্বংস করা হয়। নির্মাণকাজের ফলে এবং শহরের আবর্জনা ফেলার ফলে মাটি দূষিত হয়।
- কৃষিকাজ: অতিরিক্ত ফসল ফলানোর জন্য জমিতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিকগুলি মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে এবং উপকারী জীবাণুদের মেরে ফেলে মাটি দূষণ ঘটায়।
- শিল্প উৎপাদন: কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য, ছাই ইত্যাদি সরাসরি মাটিতে মিশে মাটির গুণমান নষ্ট করে। এছাড়া, কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ, যা মাটিকে অম্লযুক্ত করে তোলে।
- গৃহস্থালী: বাড়ি, বাজার, হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিক এবং শৌচাগারের বর্জ্য মাটিতে মিশে মারাত্মক দূষণ ঘটায় ও রোগজীবাণু ছড়ায়।
- তেজস্ক্রিয় দূষণ: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পরীক্ষাগার থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ মাটিতে মিশলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয় এবং মাটিকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তোলে।
-
মাটি দূষণের ফলাফল বা প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
মাটি দূষণের প্রভাব মানব সমাজ ও পরিবেশের উপর অত্যন্ত ক্ষতিকর:
- কৃষির ওপর প্রভাব: মাটি দূষণের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়, ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। দূষিত মাটিতে উৎপন্ন ফসলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশে থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের মতো রোগের কারণ হতে পারে।
- স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: দূষিত মাটির সংস্পর্শে এলে বা সেই মাটিতে উৎপন্ন ফসল খেলে নানা ধরনের রোগ হতে পারে। শৌচাগারের বর্জ্য থেকে জীবাণু ছড়িয়ে বিভিন্ন সংক্রামক অসুখ হয়।
- জল দূষণ: মাটির দূষক পদার্থগুলি (যেমন রাসায়নিক সার, কীটনাশক) বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে নদী বা জলাশয়ে পড়ে জলকেও দূষিত করে।
- বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি: মাটি দূষণের ফলে কেঁচো, পোকামাকড়-এর মতো মাটির উপকারী জীবগুলি মারা যায়, যা মাটির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট করে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত করে।
- মাটির গুণমান নষ্ট: প্লাস্টিক, পলিথিনের মতো অপচনশীল পদার্থ মাটিতে জমে জল ও বায়ুর স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করে দেয়, ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে।
-
মাটি দূষণ প্রতিরোধের উপায়গুলি কী কী?
মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:
- রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো: কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার (যেমন গোবর সার, কম্পোস্ট সার) ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
- বর্জ্য পদার্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা: গৃহস্থালী ও কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। কঠিন বর্জ্য পদার্থগুলিকে পুনর্ব্যবহার (Recycle) করার ব্যবস্থা করতে হবে।
- প্লাস্টিক বর্জন: পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং তার পরিবর্তে কাগজ, পাট বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
- বৃক্ষরোপণ: বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছের শিকড় মাটিকে ধরে রেখে মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি: মাটি দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে কৃষক ও স্কুল-ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে হবে।
- আইন প্রয়োগ: মাটি দূষণ সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অ্যাসিড বৃষ্টি কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়? এর উৎস কী?
অ্যাসিড বৃষ্টি ও মাটি দূষণ:
কলকারখানা, যানবাহন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড ($SO_2$) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড ($NO_x$) গ্যাস বাতাসে জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড ($H_2SO_4$) এবং নাইট্রিক অ্যাসিড ($HNO_3$) তৈরি করে। এই অ্যাসিডগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে পৃথিবীতে নেমে আসে, একেই অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
এই অম্ল বা অ্যাসিডযুক্ত বৃষ্টি যখন মাটির উপর পড়ে, তখন এটি মাটির স্বাভাবিক ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ অবস্থাকে নষ্ট করে দিয়ে মাটিকে আম্লিক বা অ্যাসিডিক করে তোলে। এর ফলে:
- মাটির উর্বরতা শক্তি ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
- মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব ও ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
- গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলি মাটি থেকে ধুয়ে যায়।
এইভাবে অ্যাসিড বৃষ্টি মাটির গুণমান নষ্ট করে মাটি দূষণ ঘটায়।
উৎস: অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান উৎস হলো জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল) দহন, যা কলকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং যানবাহন থেকে নির্গত হয়।
একজন ছাত্র হিসেবে তোমার এলাকায় মাটি দূষণ রোধে তুমি কী কী পদক্ষেপ নিতে পারো?
একজন ছাত্র হিসেবে আমার এলাকায় মাটি দূষণ রোধে আমি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নিতে পারি:
- সচেতনতা তৈরি: আমি আমার বন্ধু, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মাটি দূষণের কারণ ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করব। পোস্টার তৈরি করে বা ছোট ছোট সভা করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করব।
- প্লাস্টিক বর্জন: আমি নিজে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করব না এবং অন্যদেরও ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করব। দোকানে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যাব।
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: স্কুল বা পাড়ার ফাঁকা জায়গায় বন্ধুদের সাথে মিলে গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেব। গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং পরিবেশ ভালো রাখে।
- আবর্জনা পরিষ্কার: নির্দিষ্ট দিনে বন্ধুদের নিয়ে এলাকার যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল আবর্জনা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করব।
- জৈব সারের ব্যবহার: বাড়ির বাগান বা টবের গাছের জন্য রাসায়নিক সারের পরিবর্তে সবজির খোসা, ডিমের খোলা, চা পাতা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দেব।