অধ্যায় ৭: পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ (Environmental Crisis, Plants and Environmental Conservation)
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
এই অধ্যায়ে আমরা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পরিবেশ সংকট এবং তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা যেমন—বিশ্ব উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস প্রভাব, অ্যাসিড বৃষ্টি, ওজোন স্তরের ক্ষয় এবং অরণ্য ধ্বংসের কারণ ও ফলাফল এখানে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অরণ্য ধ্বংসের ফলে মাটি ক্ষয়, বন্যা, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ইত্যাদি ঘটে। এই সংকট মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিহার্য। অধ্যায়টিতে উদ্ভিদ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায়, যেমন—অরণ্য সৃজন, সামাজিক বনসৃজন, যৌথ বন পরিচালনা (JFM) ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও, বিপন্ন ও লুপ্তপ্রায় প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি (ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণ) যেমন—জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
নিচের কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস?
উত্তর: (গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: (খ) গ্রিনহাউস গ্যাসের বৃদ্ধি
অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাসটি হলো—
উত্তর: (খ) সালফার ডাইঅক্সাইড
ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী কোন গ্যাস?
উত্তর: (খ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)
পশ্চিমবঙ্গের একটি জাতীয় উদ্যান হলো—
উত্তর: (গ) সুন্দরবন
JFM-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: (ক) জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট
নিচের কোনটি লুপ্তপ্রায় প্রাণী?
উত্তর: (খ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার
এক্স-সিটু সংরক্ষণের একটি উদাহরণ হলো—
উত্তর: (ঘ) চিড়িয়াখানা
ইন-সিটু সংরক্ষণের একটি উদাহরণ হলো—
উত্তর: (ঘ) অভয়ারণ্য
ताजমহলের ক্ষয়ের জন্য দায়ী কোনটি?
উত্তর: (খ) অ্যাসিড বৃষ্টি
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের আবরণ দেখা যায়?
উত্তর: (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
চিপকো আন্দোলন কিসের সঙ্গে যুক্ত?
উত্তর: (খ) অরণ্য সংরক্ষণ
একটি বিলুপ্ত প্রাণী হলো—
উত্তর: (গ) ডোডো পাখি
পশ্চিমবঙ্গের একটি পক্ষী অভয়ারণ্য হলো—
উত্তর: (খ) সজনেখালি
DDT ব্যবহারের ফলে কোন পাখির ডিমের খোলা পাতলা হয়ে যায়?
উত্তর: (খ) শকুন
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
গ্রিনহাউস প্রভাব কী?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। এই ঘটনাকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে।
* বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে পরিবেশে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
দুটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি গ্রিনহাউস গ্যাস হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) এবং মিথেন (CH₄)।
অ্যাসিড বৃষ্টি বা অম্লবৃষ্টি কী?
উত্তর: কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সঙ্গে পৃথিবীতে নেমে আসে। এই ঘটনাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
ওজোন স্তর আমাদের কীভাবে রক্ষা করে?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোন স্তর সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে তার মারাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
অরণ্য ধ্বংসের দুটি প্রধান কারণ লেখো।
উত্তর: অরণ্য ধ্বংসের দুটি প্রধান কারণ হলো: (১) জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বসতি, চাষজমি ও রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য গাছ কাটা। (২) শিল্পকারখানা ও আসবাবপত্র তৈরির জন্য কাঠের চাহিদা বৃদ্ধি।
অরণ্য ধ্বংসের দুটি কুফল উল্লেখ করো।
উত্তর: অরণ্য ধ্বংসের দুটি কুফল হলো: (১) মাটি ক্ষয় ও বন্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। (২) জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে?
উত্তর: সমাজের কল্যাণের জন্য, সমাজের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পতিত বা অব্যবহৃত জমিতে গাছ লাগিয়ে বনভূমি তৈরি করাকে সামাজিক বনসৃজন বলে।
JFM কী?
উত্তর: JFM বা যৌথ বন পরিচালনা হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে স্থানীয় মানুষ ও বনদপ্তর যৌথভাবে বনভূমি রক্ষা ও পরিচর্যা করে এবং বনজ সম্পদ উভয়ের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়।
জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি কাকে বলে?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রকার জীব (উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব) এবং তাদের মধ্যে থাকা জিনগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বিভিন্নতাকে একত্রে জীববৈচিত্র্য বলে।
বিলুপ্ত প্রজাতি কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সকল প্রজাতির জীব পৃথিবী থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, তাদের বিলুপ্ত প্রজাতি বলে। উদাহরণ: ডোডো পাখি।
বিপন্ন প্রজাতি কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সকল প্রজাতির জীব অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার চরম বিপদের সম্মুখীন, তাদের বিপন্ন প্রজাতি বলে। উদাহরণ: রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
* ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে (যেমন: জাতীয় উদ্যান)। আর জীবকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে একটি কৃত্রিম পরিবেশে এনে সংরক্ষণ করাকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে (যেমন: চিড়িয়াখানা)।
জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উভয়েরই সংরক্ষণ করা হয় এবং সেখানে মানুষের প্রবেশ সাধারণত নিয়ন্ত্রিত থাকে। অন্যদিকে, অভয়ারণ্য মূলত কোনো বিশেষ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট এবং সেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে পর্যটন বা গবেষণার কাজ চলতে পারে।
বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কাকে বলে?
উত্তর: বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ হলো এমন একটি বৃহৎ সুরক্ষিত অঞ্চল যেখানে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সেখানকার স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রাকে অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
* বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায়? এর কারণ ও দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর:
বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming):
মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ, বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এই গ্যাসগুলি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে না দিয়ে বায়ুমণ্ডলে আটকে রাখে, যার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সামগ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
কারণ:
১. জীবাশ্ম জ্বালানির দহন: বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন চালানো এবং কলকারখানায় কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়।
২. অরণ্য ধ্বংস: গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে। ব্যাপক হারে গাছ কেটে ফেলার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্ষতিকারক প্রভাব:
১. জলবায়ুর পরিবর্তন ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়ার ধরন বদলে যাচ্ছে, ফলে কোথাও খরা আবার কোথাও বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। এছাড়াও, মেরু অঞ্চলের বরফ এবং হিমবাহ গলে গিয়ে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
২. জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব: তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারায় তাদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ছে। প্রবাল প্রাচীর (Coral reefs) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।অ্যাসিড বৃষ্টি কেন হয়? এর দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।
উত্তর:
অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ:
কলকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাইঅক্সাইড (\(SO_2\)) এবং নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড (\(NO_x\)) থাকে। এই গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে জলীয় বাষ্প, অক্সিজেন এবং অন্যান্য রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড (\(H_2SO_4\)) এবং নাইট্রিক অ্যাসিড (\(HNO_3\)) তৈরি করে। এই অ্যাসিডগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে পৃথিবীতে নেমে আসে, একেই অ্যাসিড বৃষ্টি বা অম্লবৃষ্টি বলে।
ক্ষতিকারক প্রভাব:
১. সৌধ ও ভাস্কর্যের ক্ষতি: অ্যাসিড বৃষ্টি মার্বেল পাথর বা চুনাপাথর দিয়ে তৈরি ঐতিহাসিক সৌধ ও ভাস্কর্যের (যেমন: তাজমহল) সঙ্গে বিক্রিয়া করে সেগুলিকে ক্ষয় করে দেয়। এই ঘটনাকে 'স্টোন ক্যানসার' (Stone Cancer) বলা হয়।
২. উদ্ভিদ ও জলাশয়ের ক্ষতি: অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটি আম্লিক হয়ে যায়, যা গাছের বৃদ্ধির পক্ষে ক্ষতিকর এবং অরণ্যের ক্ষতি করে। এছাড়াও, এই অ্যাসিড জলাশয়ে মিশে জলকে আম্লিক করে তোলে, যার ফলে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।অরণ্য ধ্বংসের কারণগুলি কী কী? বনভূমি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং দুটি প্রধান উপায় আলোচনা করো।
উত্তর:
অরণ্য ধ্বংসের কারণ:
১. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য বাসস্থান, রাস্তাঘাট, এবং চাষের জমি তৈরি করতে ব্যাপক হারে গাছ কাটা হচ্ছে।
২. শিল্পায়ন ও নগরায়ন: নতুন শিল্প স্থাপন এবং শহর সম্প্রসারণের জন্য বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে।
৩. কাঁচামালের চাহিদা: কাগজ, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য শিল্পে কাঠের চাহিদা মেটাতে প্রচুর গাছ কাটা হয়।
৪. অন্যান্য কারণ: ঝুম চাষ, দাবানল, এবং খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ফলেও অরণ্য ধ্বংস হয়।
বনভূমি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:
বনভূমি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এটি মাটি ক্ষয় রোধ করে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান হিসেবে কাজ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। তাই সুস্থ পরিবেশের জন্য বনভূমি সংরক্ষণ অপরিহার্য।
সংরক্ষণের উপায়:
১. অরণ্য সৃজন (Afforestation): যে সমস্ত জায়গায় আগে বনভূমি ছিল কিন্তু এখন নেই, সেই সব পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে নতুন করে গাছ লাগিয়ে বনভূমি তৈরি করাকে অরণ্য সৃজন বলে।
২. যৌথ বন পরিচালনা (Joint Forest Management - JFM): এই ব্যবস্থায় বনদপ্তর এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা একসাথে মিলে বনভূমি রক্ষা ও পরিচালনা করে। এর বিনিময়ে গ্রামবাসীরা বন থেকে শুকনো ডালপালা, ফল, মধু ইত্যাদি সংগ্রহ করার অধিকার পায়। এটি বন সংরক্ষণে একটি অত্যন্ত সফল মডেল।* জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর:
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দুটি প্রধান পদ্ধতি হলো ইন-সিটু এবং এক্স-সিটু সংরক্ষণ।
১. ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ Conservation):
এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানেই রেখে সুরক্ষিত ও সংরক্ষণ করা হয়। এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি কারণ এখানে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রটিই সুরক্ষিত থাকে।
উদাহরণ:
- জাতীয় উদ্যান (National Park): এটি একটি বৃহৎ সংরক্ষিত অঞ্চল যেখানে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার জন্য কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলা হয়। যেমন: পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান।
- অভয়ারণ্য (Sanctuary): এটি মূলত কোনো বিশেষ বিপন্ন প্রজাতিকে সংরক্ষণের জন্য ঘোষিত অঞ্চল, যেখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে কিছু মানবিক কার্যকলাপের অনুমতি থাকে। যেমন: পশ্চিমবঙ্গের বেথুয়াডহরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।
- বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve): এটি একটি বিশাল এলাকা যেখানে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সেখানকার আদিবাসী মানুষের ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২. এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ Conservation):
এই পদ্ধতিতে বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থান থেকে সরিয়ে এনে একটি কৃত্রিম ও সুরক্ষিত পরিবেশে রেখে সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করা হয়।
উদাহরণ:
- চিড়িয়াখানা (Zoological Garden): এখানে বিভিন্ন বিপন্ন প্রাণীদের এনে তাদের বংশবৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়। যেমন: কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা।
- বোটানিক্যাল গার্ডেন (Botanical Garden): এখানে বিভিন্ন বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদকে এনে সংরক্ষণ ও তাদের উপর গবেষণা করা হয়। যেমন: শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন।
- ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation): অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় (-196°C) তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে বিপন্ন প্রজাতির শুক্রাণু, ডিম্বাণু বা বীজ সংরক্ষণ করা হয়।