পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি
অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)
'পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি' অধ্যায়ে আমাদের রাজ্যের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল—উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল, রাঢ় অঞ্চল, গাঙ্গেয় সমভূমি এবং সুন্দরবন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, মাটি, নদনদী, স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের ভূমির ঢাল, উচ্চতা, এবং সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও, রাজ্যের প্রধান প্রধান শহর ও তাদের গুরুত্ব সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)
ভূমির ঢাল
কোনো অঞ্চলের ভূমি কোন দিক থেকে কোন দিকে ক্রমশ নীচু হয়ে গেছে, তাকে সেই অঞ্চলের ভূমির ঢাল বলে। নদীর প্রবাহ দেখে ভূমির ঢাল বোঝা যায়।
পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও বর্ধমানের পশ্চিম দিকের কাঁকর ও পাথর মেশানো, লালচে মাটির ঢেউ খেলানো উঁচু-নীচু ভূখণ্ডকে পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল বলে।
রাঢ় অঞ্চল
পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের পূর্বে এবং গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলের পশ্চিমে অবস্থিত উর্বর, মেটে রঙের মাটির সমভূমি অঞ্চলকে রাঢ় অঞ্চল বলা হয়।
নিত্যবহ নদী
যেসব নদীতে পর্বতের বরফগলা জলের কারণে সারাবছর জল থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলে। যেমন—গঙ্গা, তিস্তা।
গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ
গঙ্গা (ভাগীরথী-পদ্মা) ও তার শাখানদীগুলির পলি জমে তৈরি হওয়া পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল। এর পশ্চিমাংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
সুন্দরবন
গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী, নোনা মাটিযুক্ত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাসস্থান।
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ
সুন্দরবনের মতো নোনা ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মানো বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ, যাদের শ্বাসমূল ও ঠেসমূল দেখা যায়। যেমন—সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া।
তরাই অঞ্চল
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত, নদী বাহিত নুড়ি, বালি ও পলি দ্বারা গঠিত স্যাঁতস্যাঁতে, বনভূমি পূর্ণ অঞ্চল। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশ এর অন্তর্গত।
প্রশ্নোত্তর (MCQ)
১. পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলির প্রবাহ মূলত কোন দিক থেকে কোন দিকে?
সঠিক উত্তর: C. উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে
বিশ্লেষণ: পশ্চিমবঙ্গের ভূমির ঢাল উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে হওয়ায় অধিকাংশ নদী এই দিকেই প্রবাহিত হয়।
২. পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের মাটি কী রঙের হয়?
সঠিক উত্তর: B. লালচে
বিশ্লেষণ: এই অঞ্চলের মাটিতে কাঁকর ও পাথর মেশানো থাকে এবং আয়রনের উপস্থিতির কারণে মাটি লালচে রঙের হয়।
৩. শালপাতা দিয়ে প্লেট, বাটি বানানো হয় কোন জেলায়?
সঠিক উত্তর: C. বাঁকুড়া
বিশ্লেষণ: বাঁকুড়া জেলায় প্রচুর শালগাছের জঙ্গল থাকায়, এখানকার মানুষ শালপাতা দিয়ে প্লেট, বাটি ইত্যাদি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
৪. রূপনারায়ণ নদ কোন দুটি নদীর মিলিত প্রবাহ?
সঠিক উত্তর: B. দ্বারকেশ্বর ও শিলাবতী
বিশ্লেষণ: দ্বারকেশ্বর নদ ও শিলাবতী নদী পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের কাছে মিলিত হয়ে রূপনারায়ণ নাম নিয়েছে।
৫. হলদি নদী কোন দুটি নদীর মিলিত রূপ?
সঠিক উত্তর: C. কেলেঘাই ও কংসাবতী
বিশ্লেষণ: কেলেঘাই এবং কংসাবতী নদী মিলিত হয়ে হলদি নদীর সৃষ্টি করেছে, যা হলদিয়াতে হুগলি নদীতে মিশেছে।
৬. পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের মাটি মূলত কী ধরনের?
সঠিক উত্তর: C. দোআঁশ ও এঁটেল
বিশ্লেষণ: রাঢ় অঞ্চলের মাটি বেশ উর্বর এবং এর বেশিরভাগটাই দোআঁশ ও কিছুটা এঁটেল প্রকৃতির।
৭. গঙ্গা নদীতে সারাবছর জল থাকে কেন?
সঠিক উত্তর: B. পর্বতের বরফগলা জলে পুষ্ট বলে
বিশ্লেষণ: গঙ্গা একটি নিত্যবহ নদী, যার জলের প্রধান উৎস হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের বরফগলা জল।
৮. গঙ্গা নদী পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় প্রথম প্রবেশ করেছে?
সঠিক উত্তর: C. মুর্শিদাবাদ
বিশ্লেষণ: গঙ্গা নদী উত্তরপ্রদেশ ও বিহার হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা দিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে।
৯. বাংলাদেশে গঙ্গার প্রধান শাখাটির নাম কী?
সঠিক উত্তর: C. পদ্মা
বিশ্লেষণ: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে গঙ্গা দুটি ভাগে ভাগ হয়। মূল এবং চওড়া শাখাটি পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
১০. 'আমার সোনার বাংলা' গানটি কে রচনা করেন?
সঠিক উত্তর: B. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশ্লেষণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে এই বিখ্যাত গানটি রচনা করেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
১১. চন্দ্রকেতুগড় পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: B. উত্তর ২৪ পরগনা
বিশ্লেষণ: বিদ্যাধরী নদীর কাছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মাটি খুঁড়ে প্রাচীন চন্দ্রকেতু রাজার দুর্গের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
১২. সুন্দরবনের সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাণী ও উদ্ভিদ কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও সুন্দরী গাছ
বিশ্লেষণ: সুন্দরবন বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত তার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং সুন্দরী গাছের জন্য, যা এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যের প্রতীক।
১৩. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল—
সঠিক উত্তর: C. শ্বাসমূল ও ঠেসমূল থাকে
বিশ্লেষণ: নোনা ও কর্দমাক্ত মাটিতে টিকে থাকার জন্য ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য শ্বাসমূল এবং গাছকে সোজা রাখতে ঠেসমূল গজায়।
১৪. সমুদ্রের জলের স্তর থেকে কোন অঞ্চলের উচ্চতা মাপা হয়?
সঠিক উত্তর: A. যেকোনো অঞ্চলের
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর সমস্ত স্থানের উচ্চতা একটি নির্দিষ্ট 기준 থেকে মাপা হয়, যা হলো গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ (Mean Sea Level)।
১৫. পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
সঠিক উত্তর: B. সান্দাকফু
বিশ্লেষণ: দার্জিলিং-এর সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত সান্দাকফু (৩৬৩০ মিটার) পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
১৬. মহানন্দা নদীর জন্মস্থান কোথায়?
সঠিক উত্তর: B. ডাওহিল
বিশ্লেষণ: দার্জিলিং জেলার ডাওহিল অঞ্চলে অনেক ঝরনার জল মিলিত হয়ে মহানন্দা নদীর সৃষ্টি হয়েছে।
১৭. বক্সা অরণ্য কোন জেলায় অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. আলিপুরদুয়ার
বিশ্লেষণ: বিখ্যাত বক্সা व्याघ्र प्रकल्प বা বাঘবন আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত।
১৮. একশৃঙ্গ গন্ডার পশ্চিমবঙ্গের কোন অরণ্যে দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B. জলদাপাড়া ও গোরুমারা
বিশ্লেষণ: উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া এবং গোরুমারা জাতীয় উদ্যান একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
১৯. মালদা জেলা কোন ফলের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: B. আম
বিশ্লেষণ: মালদা জেলা তার বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু আমের জন্য, বিশেষ করে ফজলি আমের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
২০. কুলিক পাখিরালয় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: D. কুলিক
বিশ্লেষণ: উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে কুলিক নদীর পাড়ে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পাখিরালয়, কুলিক পাখিরালয় অবস্থিত।
২১. কৃষ্ণনগর কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: C. মাটির পুতুল
বিশ্লেষণ: নদিয়া জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগর তার অপূর্ব মাটির পুতুল এবং সরপুরিয়া ও সরভাজা মিষ্টির জন্য বিখ্যাত।
২২. বর্ধমান শহরের কোন মিষ্টি দুটি বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: B. সীতাভোগ ও মিহিদানা
বিশ্লেষণ: বর্ধমান শহর তার বিখ্যাত মিষ্টি সীতাভোগ এবং মিহিদানার জন্য পরিচিত, যা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (GI) ট্যাগ পেয়েছে।
২৩. ছৌনাচ কোন জেলার লোকনৃত্য?
সঠিক উত্তর: C. পুরুলিয়া
বিশ্লেষণ: পুরুলিয়া জেলার ছৌনাচ একটি বিখ্যাত লোকনৃত্য, যা পৌরাণিক কাহিনীর উপর ভিত্তি করে মুখোশ পরে পরিবেশন করা হয়।
২৪. তমলুকের আদি নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B. তাম্রলিপ্ত
বিশ্লেষণ: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সদর শহর তমলুকের প্রাচীন নাম ছিল তাম্রলিপ্ত, যা একসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল।
২৫. বোটানিক্যাল গার্ডেন কোন শহরে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. হাওড়া
বিশ্লেষণ: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান বোটানিক গার্ডেন হাওড়া জেলার শিবপুরে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত।
২৬. পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. হুগলি
বিশ্লেষণ: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর কলকাতা হুগলি নদীর (ভাগীরথীর নিম্নপ্রবাহ) পূর্ব তীরে অবস্থিত।
২৭. শিলিগুড়ি শহরটি কোন জেলায় অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: B. দার্জিলিং
বিশ্লেষণ: শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং বাণিজ্যকেন্দ্র, যা দার্জিলিং জেলার সমভূমি অংশে অবস্থিত।
২৮. ভারতের প্রথম আইআইটি (IIT) কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: D. খড়গপুর
বিশ্লেষণ: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) স্থাপিত হয়। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের জন্যও পরিচিত।
২৯. 'পোড়ামাটির কাজ' বা টেরাকোটা শিল্পের জন্য কোন শহর বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: B. বিষ্ণুপুর
বিশ্লেষণ: বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর তার টেরাকোটার মন্দির, বালুচরী শাড়ি এবং ঘরানার সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত।
৩০. বারুইপুর কিসের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: B. পেয়ারা
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর এবং তার সংলগ্ন অঞ্চল উন্নত মানের পেয়ারা চাষের জন্য খুব বিখ্যাত।
৩১. শান্তিনিকেতন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
সঠিক উত্তর: C. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশ্লেষণ: বীরভূম জেলার বোলপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশ্রম-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
৩২. রেলের ইঞ্জিন তৈরির কারখানা কোথায় আছে?
সঠিক উত্তর: C. চিত্তরঞ্জন
বিশ্লেষণ: বর্ধমান জেলার (বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান) চিত্তরঞ্জনে ভারতের অন্যতম বৃহৎ রেল ইঞ্জিন তৈরির কারখানা অবস্থিত।
৩৩. চৈতন্যদেবের জন্মস্থান কোথায়?
সঠিক উত্তর: B. নবদ্বীপ
বিশ্লেষণ: নদিয়া জেলার নবদ্বীপ শহরটি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান হিসেবে একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।
৩৪. পশ্চিমবঙ্গের কোন শহরকে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয়?
সঠিক উত্তর: D. দুর্গাপুর
বিশ্লেষণ: দুর্গাপুরে অবস্থিত বৃহৎ লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র এবং অন্যান্য শিল্পের কারণে এই শহরটিকে জার্মানির রূঢ় শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করে 'ভারতের রূঢ়' বলা হয়।
৩৫. হিমালয়ের পাদদেশের স্যাঁতস্যাঁতে বনভূমি অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: C. তরাই
বিশ্লেষণ: দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির দক্ষিণ অংশ, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরের উত্তর অংশের নুড়ি, বালি ও পলিযুক্ত স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চলটি তরাই নামে পরিচিত।
৩৬. সুন্দরবনের দ্বীপগুলি কীভাবে তৈরি হয়েছে?
সঠিক উত্তর: C. নদীর বয়ে আনা পলি জমে
বিশ্লেষণ: গঙ্গা, পদ্মা ও অন্যান্য নদী দ্বারা বাহিত বিপুল পরিমাণ পলি বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জমে সুন্দরবনের দ্বীপগুলি সৃষ্টি হয়েছে।
৩৭. কোন অঞ্চলের ভূমির ঢাল সবচেয়ে কম?
সঠিক উত্তর: D. সুন্দরবন অঞ্চল
বিশ্লেষণ: সুন্দরবন অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এর ভূমির ঢাল অত্যন্ত কম।
৩৮. 'মীন' কী?
সঠিক উত্তর: B. চিংড়ি মাছের চারা
বিশ্লেষণ: সুন্দরবন অঞ্চলে নদী থেকে সংগৃহীত বাগদা ও গলদা চিংড়ির চারাকে 'মীন' বলা হয়, যা ভেড়িতে চাষ করা হয়।
৩৯. 'টয়ট্রেন' কোন শহরে দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: C. দার্জিলিং
বিশ্লেষণ: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে, যা 'টয়ট্রেন' নামে পরিচিত, একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং দার্জিলিং-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
৪০. কালিম্পং শহরটি কীসের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: C. ফুল, ক্যাকটাস ও অর্কিড
বিশ্লেষণ: কালিম্পং তার মনোরম জলবায়ুর জন্য ফুল, বিশেষ করে অর্কিড এবং বিভিন্ন প্রকার ক্যাকটাস চাষের জন্য বিখ্যাত।
৪১. মুর্শিদাবাদ জেলা কীসের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: B. রেশম ও পিতলের বাসন
বিশ্লেষণ: মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহর রেশম শিল্প এবং খাগড়া পিতলের বাসন তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ।
৪২. সিউড়ির কোন জিনিসটি বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: A. মোরব্বা
বিশ্লেষণ: বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি তার সুস্বাদু মোরব্বার জন্য পরিচিত।
৪৩. একটি পরিকল্পিত শহর হল—
সঠিক উত্তর: C. কল্যাণী
বিশ্লেষণ: নদিয়া জেলার কল্যাণী একটি পরিকল্পিত শহর, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।
৪৪. ডুয়ার্স অঞ্চল কোন দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: A. তিস্তা ও সঙ্কোশ
বিশ্লেষণ: হিমালয়ের পাদদেশে তিস্তা এবং সঙ্কোশ নদীর মধ্যবর্তী বনভূমি ও চা বাগান সমৃদ্ধ অঞ্চলটি ডুয়ার্স নামে পরিচিত।
৪৫. 'বঙ্গভঙ্গ' কত সালে হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: D. ১৯০৫
বিশ্লেষণ: ব্রিটিশ শাসকরা প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করতে ১৯০৫ সালে বাংলাকে বিভক্ত করে, যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
৪৬. পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড় কোন অঞ্চলের অন্তর্গত?
সঠিক উত্তর: B. পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল
বিশ্লেষণ: অযোধ্যা পাহাড় পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের একটি অংশ এবং পুরুলিয়া জেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
৪৭. কোন নদীর তীরে শান্তিনিকেতন অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. কোপাই
বিশ্লেষণ: বীরভূম জেলার বোলপুর-শান্তিনিকেতন কোপাই নদীর তীরে অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথের অনেক লেখায় এই নদীর উল্লেখ আছে।
৪৮. সুন্দরবনের মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
সঠিক উত্তর: C. মাটি নোনা এবং কাদার ভাগ বেশি
বিশ্লেষণ: সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় এবং জোয়ারের জল প্রবেশ করায় সুন্দরবনের মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি (নোনা) এবং পলি জমার কারণে কাদার ভাগও বেশি।
৪৯. স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কোথায় বন্দি করে রাখা হতো?
সঠিক উত্তর: A. বক্সা দুর্গ
বিশ্লেষণ: আলিপুরদুয়ারের বক্সা অরণ্যে অবস্থিত বক্সা দুর্গে ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি করে রাখত।
৫০. পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকেন্দ্র কোথায় গড়ে উঠেছে?
সঠিক উত্তর: B. হলদিয়া
বিশ্লেষণ: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর এবং এখানে একটি বৃহৎ পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকেন্দ্র রয়েছে।
৫১. কোন অঞ্চলকে পশ্চিমবঙ্গের 'শস্য ভান্ডার' বলা হয়?
সঠিক উত্তর: C. বর্ধমান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল
বিশ্লেষণ: বর্ধমান জেলা (অবিভক্ত) এবং তার পার্শ্ববর্তী গাঙ্গেয় সমভূমি ও রাঢ় অঞ্চলের উর্বর মাটিতে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদিত হওয়ায় এই অঞ্চলকে 'পশ্চিমবঙ্গের শস্য ভান্ডার' বলা হয়।
৫২. তিস্তা নদী কোন হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
সঠিক উত্তর: B. জেমু
বিশ্লেষণ: উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী তিস্তার উৎস সিকিম হিমালয়ের জেমু হিমবাহ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: ভূমির ঢাল কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: সাধারণত নদীর প্রবাহের দিক দেখে ভূমির ঢাল বোঝা যায়। নদী যেদিক থেকে যেদিকে প্রবাহিত হয়, ভূমির ঢালও সেদিক থেকে সেদিকেই হয়।
প্রশ্ন ২: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: (ক) এখানকার ভূমি ঢেউ খেলানো এবং মাঝে মাঝে টিলা দেখা যায়। (খ) মাটি কাঁকর ও পাথর মেশানো লালচে রঙের এবং কম উর্বর।
প্রশ্ন ৩: রাঢ় অঞ্চলের দুটি প্রধান নদীর নাম লেখো।
উত্তর: রাঢ় অঞ্চলের দুটি প্রধান নদী হল দামোদর এবং অজয়।
প্রশ্ন ৪: নিত্যবহ নদী কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে নদীতে পর্বতের বরফগলা জলের জন্য সারাবছর জল থাকে, তাকে নিত্যবহ নদী বলে। উদাহরণ: গঙ্গা।
প্রশ্ন ৫: গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের কোথায় দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে? শাখা দুটির নাম কী?
উত্তর: গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি শাখা পদ্মা নামে বাংলাদেশে এবং অন্য শাখাটি ভাগীরথী-হুগলি নামে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৬: নদীমাতৃক সভ্যতা কাকে বলে?
উত্তর: প্রাচীনকালে মানুষ নদীর ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করত এবং নদীর ধারেই তাদের জনবসতি ও কাজকর্ম গড়ে উঠত। এই সভ্যতাগুলিকে নদীমাতৃক সভ্যতা বলা হয়।
প্রশ্ন ৭: সুন্দরবনের মাটি নোনতা কেন?
উত্তর: সুন্দরবন সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত এবং জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল নদীতে ও মাটিতে প্রবেশ করে, তাই এখানকার মাটি নোনতা।
প্রশ্ন ৮: শ্বাসমূল ও ঠেসমূল কী?
উত্তর: শ্বাসমূল: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের যে মূল মাটি থেকে উপরে উঠে আসে এবং বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে, তাকে শ্বাসমূল বলে। ঠেসমূল: নরম কাদামাটিতে গাছকে সোজাভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে যে অতিরিক্ত মূল গাছের গোড়া থেকে বেরিয়ে মাটিতে প্রবেশ করে, তাকে ঠেসমূল বলে।
প্রশ্ন ৯: পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম কী এবং এর উচ্চতা কত?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম সান্দাকফু। এর উচ্চতা ৩৬৩০ মিটার।
প্রশ্ন ১০: তরাই অঞ্চলের মাটি স্যাঁতস্যাঁতে হয় কেন?
উত্তর: তরাই অঞ্চল হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং নদীগুলি প্রচুর বালি ও নুড়ি বয়ে আনে, যার ফলে মাটি জল ধরে রাখে এবং স্যাঁতস্যাঁতে হয়।
প্রশ্ন ১১: বক্সা অরণ্যের দুটি বিখ্যাত বন্যপ্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: বক্সা অরণ্যের দুটি বিখ্যাত বন্যপ্রাণী হল বাঘ এবং হাতি।
প্রশ্ন ১২: মালদহ জেলার ভূপ্রকৃতির দুটি ভাগ কী কী?
উত্তর: মহানন্দা নদী মালদহ জেলাকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে: পুবদিকের অনুর্বর, শক্ত ভূমি (বরেন্দ্রভূমি) এবং পশ্চিমদিকের উর্বর, নীচু ভূমি (দিয়ারা)।
প্রশ্ন ১৩: 'আমার সোনার বাংলা' গানটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯০৫ সালে ইংরেজ শাসকদের দ্বারা বাংলাকে বিভক্ত করার (বঙ্গভঙ্গ) প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আমার সোনার বাংলা' গানটি রচনা করেন।
প্রশ্ন ১৪: বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য কোন জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য নদিয়া জেলায় অবস্থিত। এখানে অনেক হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী দেখা যায়।
প্রশ্ন ১৫: সুন্দরবনের মানুষ জীবিকার জন্য কী কী কাজ করে?
উত্তর: সুন্দরবনের মানুষ জীবিকার জন্য মাছ ও কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহ, নৌকা তৈরি এবং মীন (চিংড়ির চারা) সংগ্রহ করে।
প্রশ্ন ১৬: দক্ষিণবঙ্গ বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে দক্ষিণের অংশটিকে সাধারণত দক্ষিণবঙ্গ বলা হয়।
প্রশ্ন ১৭: দার্জিলিং-এর 'টয়ট্রেন' কেন বিখ্যাত?
উত্তর: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বা 'টয়ট্রেন' তার ন্যারো গেজ লাইন এবং মনোরম পাহাড়ি পথের জন্য বিখ্যাত। এটি ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
প্রশ্ন ১৮: উত্তরবঙ্গের দুটি নিত্যবহ নদীর নাম লেখো।
উত্তর: উত্তরবঙ্গের দুটি নিত্যবহ নদী হল তিস্তা এবং তোর্সা।
প্রশ্ন ১৯: টেরাকোটা শিল্প কী?
উত্তর: 'টেরাকোটা' শব্দের অর্থ পোড়ামাটি। পোড়ামাটির ইট বা ফলক দিয়ে মন্দির বা বিভিন্ন শিল্পকর্ম তৈরি করার শিল্পকে টেরাকোটা শিল্প বলে। বিষ্ণুপুর এর জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ২০: গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলের মাটি উর্বর কেন?
উত্তর: গঙ্গা ও তার শাখানদীগুলি প্রতি বছর বন্যার সময় প্রচুর উর্বর পলি বয়ে এনে এই অঞ্চলে জমা করে, তাই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলের মাটি খুব উর্বর।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রাকৃতিক বিভাগগুলির নাম লেখো এবং যেকোনো দুটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতিকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়:
(ক) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল
(খ) পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল
(গ) রাঢ় অঞ্চল
(ঘ) গাঙ্গেয় সমভূমি বা ব-দ্বীপ অঞ্চল
(ঙ) সুন্দরবন অঞ্চল
পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও বর্ধমানের পশ্চিম অংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এখানকার ভূমি ঢেউ খেলানো এবং মাটি কাঁকর ও পাথর মেশানো লালচে রঙের। এটি ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ হওয়ায় বেশ উঁচু-নীচু। শাল, পলাশ, মেহগনি ইত্যাদি গাছ এখানে জন্মায়।
সুন্দরবন অঞ্চল: গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের দক্ষিণে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমুদ্র উপকূলবর্তী অংশে এই লবণাক্ত, কর্দমাক্ত ম্যানগ্রোভ অরণ্য অবস্থিত। এখানকার ভূমির ঢাল খুব কম এবং অসংখ্য নদীনালা ও দ্বীপ রয়েছে। সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এখানকার বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন ২: রাঢ় অঞ্চল এবং তরাই অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর: রাঢ় অঞ্চল এবং তরাই অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্যগুলি হল:
| বিষয় | রাঢ় অঞ্চল | তরাই অঞ্চল |
|---|---|---|
| অবস্থান | পশ্চিমের মালভূমি ও গাঙ্গেয় সমভূমির মাঝে অবস্থিত। | হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। |
| মাটি | মূলত উর্বর দোআঁশ ও এঁটেল মাটি। | নুড়ি, বালি ও পলি মিশ্রিত স্যাঁতস্যাঁতে মাটি। |
| নদনদী | দামোদর, অজয়, ময়ূরাক্ষী (এগুলি মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট)। | তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা (এগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট)। |
| স্বাভাবিক উদ্ভিদ | বন কেটে চাষাবাদ হয়েছে, কিছু নতুন বন তৈরি হয়েছে। | ঘন বনভূমি ও চা বাগান দেখা যায়। |
প্রশ্ন ৩: সুন্দরবনের জনজীবন ও অর্থনীতি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনের জনজীবন 매우 কঠিন এবং প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। এখানকার অর্থনীতি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল।
(ক) জীবিকা: এখানকার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল মাছ, কাঁকড়া ও মীন (চিংড়ির চারা) সংগ্রহ করা। অনেকে জঙ্গলে গিয়ে মধু ও মোম সংগ্রহ করে।
(খ) যাতায়াত: অসংখ্য নদীনালা থাকায় এখানকার প্রধান যানবাহন হল নৌকা।
(গ) সমস্যা: এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত বাঘ ও কুমিরের আক্রমণের ভয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড় (আয়লা, আমফান) এবং নদীর পাড় ভাঙনের মতো সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। পানীয় জলেরও সংকট রয়েছে কারণ ভূগর্ভস্থ জল নোনতা।
(ঘ) কৃষি: নোনা মাটিতে ধান ছাড়া অন্য ফসল ভালো হয় না। তাই কৃষিকাজ সীমিত।
প্রশ্ন ৪: উত্তরবঙ্গের নদনদীগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: উত্তরবঙ্গের নদনদীগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:
(ক) উৎস: অধিকাংশ নদীই হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট, তাই এগুলি নিত্যবহ।
(খ) স্রোত: পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই নদীগুলির স্রোত খুব প্রবল এবং এরা প্রচুর পরিমাণে নুড়ি, পাথর ও বালি বয়ে নিয়ে আসে।
(গ) গতিপথ: নদীগুলি খাড়া পার্বত্য ঢাল বেয়ে নেমে এসে তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
(ঘ) বন্যা: বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টি এবং বরফগলা জলের কারণে এই নদীগুলিতে প্রায়ই বন্যা হয়।
উদাহরণ: তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দা, রায়ডাক ইত্যাদি।
প্রশ্ন ৫: 'সভ্যতা নদীর ধারে গড়ে ওঠে' - উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রাচীনকালে মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদানই নদীর তীরে সহজে পাওয়া যেত।
(ক) জল: পানীয় জল, চাষাবাদের জন্য সেচের জল এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য জলের প্রধান উৎস ছিল নদী।
(খ) উর্বর ভূমি: নদীর দুই তীরে পলি জমে উর্বর সমভূমি তৈরি হতো, যা কৃষিকাজের জন্য আদর্শ ছিল।
(গ) যাতায়াত: তখন স্থলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় নদীপথই ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।
(ঘ) খাদ্য: নদী থেকে প্রচুর মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী পাওয়া যেত, যা খাদ্যের জোগান দিত।
এই সমস্ত কারণে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত প্রাচীন সভ্যতা, যেমন—সিন্ধু সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, মেসোপটেমীয় সভ্যতা নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন ৬: পশ্চিমবঙ্গের বনভূমি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বনভূমি ও বন্যপ্রাণী তার ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের মতোই বৈচিত্র্যময়।
(ক) উত্তরের পার্বত্য ও তরাই অঞ্চলের বন: এখানে শাল, সেগুন, শিশু, গামার ইত্যাদি মূল্যবান গাছের ঘন অরণ্য রয়েছে। এই অঞ্চলে হাতি, একশৃঙ্গ গন্ডার (জলদাপাড়া, গোরুমারা), বাঘ (বক্সা), চিতাবাঘ, রেড পান্ডা, ভালুক ইত্যাদি বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
(খ) পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের বন: এখানে মূলত শাল, পলাশ, মহুয়া, কেন্দু গাছের জঙ্গল দেখা যায়। এই বনগুলিতে হাতি, হরিণ, বুনো শুয়োর ইত্যাদি প্রাণী থাকে।
(গ) সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য: এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এখানে সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হেতাল, গোলপাতা ইত্যাদি উদ্ভিদ জন্মায়। সুন্দরবন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতল হরিণ, কুমির, কামট এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সাপের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
প্রশ্ন ৭: পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে রাঢ় অঞ্চল চিহ্নিত করে এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতির বর্ণনা দাও।
উত্তর: অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে বাঁকুড়া, বর্ধমান (পূর্ব), বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের পূর্বাংশ নিয়ে গঠিত অঞ্চলটি হল রাঢ় অঞ্চল। এটি পশ্চিমের মালভূমি এবং গাঙ্গেয় সমভূমির মাঝে অবস্থিত।
ভূপ্রকৃতি: এই অঞ্চলের ভূমি পশ্চিম থেকে পূর্বে ক্রমশ ঢালু হয়ে গাঙ্গেয় সমভূমিতে মিশেছে। এখানকার মাটি লালচে মেটে রঙের, দোআঁশ ও এঁটেল প্রকৃতির এবং বেশ উর্বর। দামোদর, অজয়, ময়ূরাক্ষী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী প্রভৃতি নদী এই অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
অর্থনীতি: রাঢ় অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। উর্বর মাটিতে ধান, গম, আলু, ডাল ও বিভিন্ন শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে চাষ হয়। দামোদর উপত্যকা অঞ্চলে কয়লা উত্তোলিত হয় এবং আসানসোল, দুর্গাপুরের মতো জায়গায় বৃহৎ শিল্প (লৌহ-ইস্পাত, ইঞ্জিনিয়ারিং) গড়ে ওঠায় এই অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৮: তোমার পরিচিত পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো পাঁচটি শহরের নাম ও তাদের বিখ্যাত হওয়ার কারণ লেখো।
উত্তর: আমার পরিচিত পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি শহর ও তাদের বিখ্যাত হওয়ার কারণ নিচে দেওয়া হল:
(ক) কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, 'আনন্দ নগরী' নামে পরিচিত। হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাওড়া ব্রিজ, পাতাল রেল, ইডেন গার্ডেন্সের মতো অনেক দর্শনীয় স্থান আছে।
(খ) দার্জিলিং: মনোরম শৈলশহর এবং পর্যটন কেন্দ্র। এটি চা-বাগান, টয়ট্রেন এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার সুন্দর দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
(গ) বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়া জেলার এই শহর টেরাকোটা বা পোড়ামাটির মন্দির এবং বালুচরী শাড়ির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
(ঘ) মালদা: এই শহরটি, বিশেষ করে ইংলিশ বাজার, ফজলি-সহ বিভিন্ন সুস্বাদু আমের জন্য 'আমের শহর' নামে খ্যাত।
(ঙ) শান্তিপুর: নদিয়া জেলার এই শহরটি তার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এবং রাস উৎসবের জন্য বিখ্যাত।
প্রশ্ন ৯: 'বঙ্গভঙ্গ' কী? এর বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ কীভাবে প্রতিবাদ করেছিল?
উত্তর: ১৯০৫ সালে ভারতের ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দেখিয়ে বাংলা প্রদেশকে দুটি ভাগে ভাগ করে দেন। এই ঘটনা 'বঙ্গভঙ্গ' নামে পরিচিত। এর আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা।
প্রতিবাদ: বাংলার মানুষ এই বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
(ক) স্বদেশী আন্দোলন: বিদেশি জিনিসপত্র, বিশেষ করে কাপড় ও লবণ বর্জন করা হয় এবং দেশীয় জিনিসপত্র ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়।
(খ) রাখিবন্ধন উৎসব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে একে অপরের হাতে রাখি বেঁধে দিয়ে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা দেয়।
(গ) জাতীয় শিক্ষা: সরকারি স্কুল-কলেজ বর্জন করে জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।
এই তীব্র প্রতিবাদের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
প্রশ্ন ১০: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদের ভিন্নতা কেন দেখা যায়?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদের ভিন্নতার প্রধান কারণ হল সেখানকার ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু এবং উৎপাদিত ফসল।
(ক) খাদ্যাভ্যাস: গাঙ্গেয় সমভূমি ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে নদী ও পুকুরে মাছ সহজলভ্য হওয়ায় 'মাছে-ভাতে বাঙালি' কথাটি প্রচলিত। রাঢ় ও মালভূমি অঞ্চলে ধান ছাড়াও গম, ডাল ইত্যাদি চাষ হওয়ায় খাদ্যাভ্যাসে রুটি ও ডালের প্রচলন আছে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় মানুষ ভুট্টা ও মাংস জাতীয় খাবার বেশি খায়।
(খ) পোশাক-পরিচ্ছদ: দক্ষিণবঙ্গের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য মানুষ সাধারণত হালকা সুতির পোশাক (ধুতি, শাড়ি, পাজামা-পাঞ্জাবি) পরে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলের ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য মানুষ সারা বছরই গরম পোশাক বা উলের পোশাক ব্যবহার করে।