ভৌত পরিবেশ (মাটি, জল, জীববৈচিত্র্য)
অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)
'ভৌত পরিবেশ' অধ্যায়ে আমাদের চারপাশের তিনটি প্রধান উপাদান—মাটি, জল এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মাটির বিভিন্ন প্রকার (এঁটেল, বেলে, দোআঁশ), তাদের গঠন, জলধারণ ক্ষমতা এবং উর্বরতা নিয়ে সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা দেওয়া হয়েছে। মাটির উপকারী ও ক্ষতিকর উপাদান এবং ভূমিক্ষয়ের কারণ ও তার প্রতিকার সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে। এরপর, বিভিন্ন ধরনের জলাশয় (পুকুর, বিল, বাঁওড়), তাদের গুরুত্ব, জল সংরক্ষণ এবং জলদূষণ রোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অধ্যায়ের শেষ অংশে জীববৈচিত্র্য, অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, বন্য ও পালিত পশুর পার্থক্য এবং পরিবেশের পরিবর্তনে স্থানীয় প্রাণীদের হারিয়ে যাওয়ার সংকট তুলে ধরা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)
এঁটেল মাটি (Clay Soil)
যে মাটিতে কাদার কণার ভাগ খুব বেশি থাকে, কণাগুলি খুব সূক্ষ্ম হয় এবং জলধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, তাকে এঁটেল মাটি বলে। এই মাটি ধান চাষের জন্য খুব উপযোগী।
বেলে মাটি (Sandy Soil)
যে মাটিতে বালির কণার ভাগ বেশি থাকে, কণাগুলি আকারে বড় হয় এবং জলধারণ ক্ষমতা খুব কম, তাকে বেলে মাটি বলে।
দোআঁশ মাটি (Loam Soil)
যে মাটিতে বালি ও কাদার কণা প্রায় সমান সমান পরিমাণে থাকে এবং জৈব পদার্থও মেশানো থাকে, তাকে দোআঁশ মাটি বলে। এই মাটি চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।
জৈব পদার্থ (Organic Matter)
মাটিতে থাকা জীবদেহ থেকে প্রাপ্ত উপাদান, যেমন—পচা পাতা, গোবর, মৃত পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি, যা মাটিকে উর্বর করে তোলে।
ভূমিক্ষয় (Soil Erosion)
প্রবল বৃষ্টি, ঝড় বা নদীর স্রোতের কারণে জমির উপরের উর্বর মাটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে।
জলাশয় (Water Body)
যেখানে জল জমে থাকে, যেমন—পুকুর, বিল, হ্রদ, নদী, বাঁওড় ইত্যাদি।
বাঁওড় (Oxbow Lake)
নদী যখন তার বাঁক পরিবর্তন করে সোজা পথে প্রবাহিত হয়, তখন নদীর পরিত্যক্ত বাঁকা অংশটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়, একে বাঁওড় বলে।
রাসায়নিক বিক্রিয়া (Chemical Reaction)
এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে এক বা একাধিক পদার্থ পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত হয়। যেমন—লোহায় মরচে পড়া।
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের উপস্থিতি এবং তাদের মধ্যেকার বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।
মেরুদণ্ডী প্রাণী (Vertebrate)
যেসব প্রাণীর শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড আছে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন—মাছ, ব্যাঙ, সাপ, পাখি, মানুষ।
অমেরুদণ্ডী প্রাণী (Invertebrate)
যেসব প্রাণীর শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড নেই, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন—কেঁচো, শামুক, চিংড়ি, প্রজাপতি।
আকর্ষ (Tendril)
লতানো গাছের পাতা বা কাণ্ড থেকে বের হওয়া সুতোর মতো পেঁচানো অংশ যা অন্য কিছুকে আঁকড়ে ধরে গাছকে উপরে উঠতে সাহায্য করে।
প্রশ্নোত্তর (MCQ)
১. শুকনো মাটির ঢেলা জলে ফেললে বুজবুজ করে বাতাস বের হয় কেন?
সঠিক উত্তর: B. মাটির কণার ফাঁকে বাতাস আটকে থাকে
বিশ্লেষণ: মাটির কণার মধ্যে থাকা ফাঁকা জায়গায় বাতাস আবদ্ধ থাকে। জলে ডোবালে সেই বাতাস বুদবুদ আকারে বেরিয়ে আসে।
২. আতসকাচ-এর বাংলা কী?
সঠিক উত্তর: A. লেন্স
বিশ্লেষণ: যদিও লেন্স ইংরেজি কথা, পাঠ্যে স্যার আতসকাচকেই লেন্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাধারণত উত্তল লেন্সকেই আতসকাচ বলা হয়।
৩. কোন মাটির কণা সবচেয়ে সূক্ষ্ম?
সঠিক উত্তর: C. এঁটেল মাটি
বিশ্লেষণ: এঁটেল মাটিতে কাদার কণার ভাগ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা আকারে খুব সূক্ষ্ম হয়।
৪. কোন মাটি জল দিলে আঠার মতো হয়ে যায়?
সঠিক উত্তর: B. এঁটেল মাটি
বিশ্লেষণ: এঁটেল মাটির সূক্ষ্ম কণাগুলো ভিজে গেলে একে অপরের গায়ে লেগে গিয়ে আঠালো হয়ে যায়।
৫. সিমেন্ট এদেশে বেশি ব্যবহার হচ্ছে কত বছর ধরে?
সঠিক উত্তর: C. প্রায় ৭০-৮০ বছর
বিশ্লেষণ: পাঠ্য অনুযায়ী, এদেশে সিমেন্টের বেশি ব্যবহার শুরু হয়েছে প্রায় সত্তর-আশি বছর ধরে।
৬. কোন মাটির জলধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে কম?
সঠিক উত্তর: C. বেলে মাটি
বিশ্লেষণ: বেলে মাটির কণাগুলো বড় হওয়ায় তাদের মধ্যে ফাঁক বেশি থাকে, তাই জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়।
৭. মাটির একটি সজীব জৈব উপাদান হলো—
সঠিক উত্তর: B. কেঁচো
বিশ্লেষণ: কেঁচো এবং অন্যান্য জীবাণুরা জীবন্ত, তাই এরা মাটির সজীব জৈব উপাদান।
৮. কোনটি মাটির শত্রু বা ক্ষতিকর উপাদান?
সঠিক উত্তর: C. পলিথিন ও প্লাস্টিক
বিশ্লেষণ: পলিথিন ও প্লাস্টিক মাটিতে ভাঙে না বা মেশে না, বরং মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে এবং গাছের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
৯. ধান চাষের জন্য কোন মাটি সবচেয়ে ভালো?
সঠিক উত্তর: A. যে মাটি জল ধরে রাখতে পারে (এঁটেল/দোআঁש)
বিশ্লেষণ: আমন ধান রোয়ার জন্য জমিতে জল দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাই এঁটেল বা দোআঁש মাটিই ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
১০. পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো জমি তৈরি করে কী চাষ হয়?
সঠিক উত্তর: B. ধান
বিশ্লেষণ: পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে জমি তৈরি করে তাতে জল আটকে ধান চাষ করা হয়।
১১. মাটি তৈরি হতে কত সময় লাগে?
সঠিক উত্তর: D. হাজার হাজার বছর
বিশ্লেষণ: পাথর ফেটে গুঁড়ো হয়ে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থের সঙ্গে মিশে মাটি তৈরি হওয়া একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া।
১২. ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণ কী?
সঠিক উত্তর: B. প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়
বিশ্লেষণ: প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের ফলে জমির উপরের আলগা মাটি ধুয়ে বা উড়ে যায়, যা ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণ।
১৩. ভূমিক্ষয় রোধ করতে কী করা উচিত?
সঠিক উত্তর: C. বেশি করে গাছ ও ঘাস লাগানো
বিশ্লেষণ: গাছ ও ঘাসের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে ভূমিক্ষয় কমে যায়।
১৪. নদীর বাঁকে তৈরি হওয়া বদ্ধ জলাশয়কে কী বলে?
সঠিক উত্তর: D. বাঁওড়
বিশ্লেষণ: নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করলে পরিত্যক্ত বাঁকা অংশটি অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ বা বাঁওড়ে পরিণত হয়।
১৫. পাহাড়ি অঞ্চলের ছোট ছোট ঝরনাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: C. ঝোরা
বিশ্লেষণ: আকাশ নামের ছাত্রটি বলেছিল যে পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক ছোট ঝরনা আছে, যাদের ঝোরা বলে।
১৬. দুধে লেবুর রস দিলে ছানা হয়ে যায়, এটি কী ধরনের পরিবর্তন?
সঠিক উত্তর: B. রাসায়নিক বিক্রিয়া
বিশ্লেষণ: এখানে দুধ পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থ (ছানা ও জল) তৈরি হচ্ছে, যা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না।
১৭. জলে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মেশালে কী হয়?
সঠিক উত্তর: D. জল শোধন হয়
বিশ্লেষণ: পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট একটি জীবাণুনাশক, যা জলে মিশিয়ে জলকে শোধন করা হয়।
১৮. মাটির নীচের জলস্তর নেমে যাচ্ছে কেন?
সঠিক উত্তর: B. সব কাজে মাটির নীচের জলের অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে
বিশ্লেষণ: পানীয় জল, চাষাবাদ এবং অন্যান্য কাজে অতিরিক্ত পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়ার ফলে জলের স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে।
১৯. বৃষ্টির জল ধরে রাখলে কী সুবিধা হয়?
সঠিক উত্তর: D. উপরের সবগুলি
বিশ্লেষণ: বৃষ্টির জল ধরে রাখলে তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে জলের সাশ্রয় করা যায় এবং ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা কমে।
২০. কুবিরদহ কী?
সঠিক উত্তর: C. একটি জলাভূমি
বিশ্লেষণ: দীপুদের বাড়ির কাছে অবস্থিত জলাভূমিটির নাম কুবিরদহ, যেখানে নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়।
২১. পূর্ব কলকাতার জলাভূমি কীসের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: C. নোংরা জলে মাছ চাষ
বিশ্লেষণ: এটি পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থা যেখানে কলকাতার নোংরা জল ব্যবহার করে মাছ চাষ করা হয়।
২২. জীবজগৎ কী নিয়ে গঠিত?
সঠিক উত্তর: C. উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ই
বিশ্লেষণ: পরিবেশের সমস্ত সজীব উপাদান অর্থাৎ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের নিয়েই জীবজগৎ গঠিত।
২৩. কোন পাখি শীতকালে অন্য দেশ থেকে আমাদের দেশে আসে?
সঠিক উত্তর: C. বুনো হাঁস
বিশ্লেষণ: সাঁতরাগাছির ঝিলে শীতকালে আসা পাখিরা হলো পরিযায়ী বুনো হাঁস।
২৪. প্রথম কোন পশুকে পোষ মানানো হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: C. কুকুর
বিশ্লেষণ: দিদিমণি বলেছেন, "কুকুর নাকি প্রথম পোষ মেনেছিল।"
২৫. টিয়া পাখি পোষা না পালিত?
সঠিক উত্তর: B. পোষা, কারণ খাঁচা থেকে ছেড়ে দিলে আর ফেরে না
বিশ্লেষণ: যে প্রাণী নিজের ইচ্ছায় মানুষের কাছে থাকে না, তাকে পালিত বলা যায় না। টিয়া পাখি সুযোগ পেলেই উড়ে যায়, তাই সে বন্য এবং মানুষ তাকে খাঁচায় আটকে পোষে।
২৬. ঢেঁকি শাক আসলে কী?
সঠিক উত্তর: B. এক ধরনের ফার্ন
বিশ্লেষণ: সত্য পুকুরপাড়ে যে গাছটিকে ঢেঁকি শাক হিসেবে চিনেছিল, সেটি আসলে ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ।
২৭. গন্ধগোকুলকে আর কী নামে ডাকা হয়?
সঠিক উত্তর: C. ভাম-বেড়াল
বিশ্লেষণ: দিদিমণি রুমার দেখা প্রাণীটিকে গন্ধগোকুল বা ভাম-বেড়াল হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন।
২৮. কোন প্রাণীর লেজ কেটে গেলে আবার গজায়?
সঠিক উত্তর: C. টিকটিকি
বিশ্লেষণ: প্রতীক দেখেছিল, লেজ ছিঁড়ে যাওয়ার কিছুদিন পর ছোটো টিকটিকিটার আবার নতুন লেজ গজিয়েছে।
২৯. শুঁয়োপোকা বড় হয়ে কীসে পরিণত হয়?
সঠিক উত্তর: C. প্রজাপতি
বিশ্লেষণ: এটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ, যেখানে শুঁয়োপোকা তার জীবনচক্রের পরবর্তী ধাপে প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয়।
৩০. শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড আছে এমন প্রাণীকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. মেরুদণ্ডী
বিশ্লেষণ: যেসব প্রাণীর পিঠের দিকে কশেরুকা দিয়ে তৈরি শিরদাঁড়া থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়।
৩১. চিংড়ি মাছ কি মেরুদণ্ডী প্রাণী?
সঠিক উত্তর: B. না, এটি মাছ নয় এবং অমেরুদণ্ডী
বিশ্লেষণ: চিংড়ির কোনো কাঁটা বা মেরুদণ্ড নেই, তাই এটি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং মাছের শ্রেণিভুক্ত নয়।
৩২. লতানো গাছের সুতোর মতো অংশকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: C. আকর্ষ
বিশ্লেষণ: করলা, লাউ, কুমড়ো গাছের মতো লতানো উদ্ভিদ আকর্ষের সাহায্যে মাচা বা অন্য কিছু আঁকড়ে ধরে উপরে ওঠে।
৩৩. বটগাছ ঝুরি নামায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. মোটা ডালগুলোকে ভার দেওয়ার জন্য
বিশ্লেষণ: বটগাছের ডালপালা চারিদিকে অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভারি ডালগুলিকে सहारा দেওয়ার জন্য ঝুরি নেমে এসে মাটিতে প্রবেশ করে স্তম্ভের মতো কাজ করে।
৩৪. পিঁপড়েরা ডিম মুখে করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যায় কখন?
সঠিক উত্তর: C. বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে
বিশ্লেষণ: ফতেমার নানা বলেছিলেন, পিঁপড়েরা বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলে তাদের ডিমগুলিকে জল থেকে বাঁচানোর জন্য উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
৩৫. শাল, শোল, ল্যাটা কী ধরনের মাছ?
সঠিক উত্তর: B. শিকারি মাছ
বিশ্লেষণ: এই মাছগুলো অন্য ছোটো মাছ বা পোকা শিকার করে খায়, তাই এদের শিকারি মাছ বলা হয়।
৩৬. শকুন কমে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ কী?
সঠিক উত্তর: C. গোরুর ব্যথার ওষুধের বিষক্রিয়া
বিশ্লেষণ: গোরুকে দেওয়া ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথানাশক ঔষধ তাদের মাংসে থেকে যায়। সেই মরা গোরুর মাংস খেয়ে শকুনের কিডনি নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা মারা যায়।
৩৭. সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরি কী ধরনের গাছ?
সঠিক উত্তর: C. ঔষধি গাছ
বিশ্লেষণ: এই গাছগুলি বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বর্তমানে চাষাবাদের প্রসারের ফলে এগুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
৩৮. 'জীববৈচিত্র্য' বলতে কী বোঝায়?
সঠিক উত্তর: C. চারপাশে নানা রকম উদ্ভিদ আর প্রাণী
বিশ্লেষণ: দিদিমণি বলেছেন, "এই যে আমরা চারপাশে নানা রকম উদ্ভিদ আর প্রাণী দেখি সেটাকে বলে জীববৈচিত্র্য।"
৩৯. কোন মাটি চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে ভালো?
সঠিক উত্তর: D. দোআঁש মাটি
বিশ্লেষণ: দোআঁশ মাটিতে বালি, কাদা ও জৈব পদার্থ সঠিক পরিমাণে থাকায় এর জল ও বায়ু চলাচল ক্ষমতা এবং উর্বরতা সবচেয়ে ভালো হয়।
৪০. ভারতীয় বাইসন-এর অন্য নাম কী?
সঠিক উত্তর: B. গৌর
বিশ্লেষণ: জলদাপাড়ার জঙ্গলে পাওয়া যাওয়া বড় কালো গোরুর মতো জন্তুটিকে গৌর বা ভারতীয় বাইসন বলা হয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: মাটির তিনটি প্রধান প্রকার কী কী?
উত্তর: মাটির তিনটি প্রধান প্রকার হলো—এঁটেল মাটি, বেলে মাটি এবং দোআঁশ মাটি।
প্রশ্ন ২: মাটির স্বাভাবিক উপাদান বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মাটির স্বাভাবিক উপাদান বলতে বালি, কাদা, নুড়ি, কাঁকর এবং বিভিন্ন জৈব পদার্থ (যেমন—কেঁচো, পচা পাতা, গোবর) ইত্যাদি বোঝায়।
প্রশ্ন ৩: মাটির অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর উপাদান কী কী?
উত্তর: মাটির অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর উপাদান হলো পলিথিনের কুচি, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়ামের টুকরো, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করে।
প্রশ্ন ৪: ভূমিক্ষয় কাকে বলে? এটি কীভাবে রোধ করা যায়?
উত্তর: জলস্রোত বা বাতাসের কারণে জমির উপরের উর্বর মাটি সরে যাওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে। প্রচুর পরিমাণে গাছ ও ঘাস লাগিয়ে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়, কারণ গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে।
প্রশ্ন ৫: জলাশয়ের জল প্রাকৃতিকভাবে কীভাবে শোধিত হয়?
উত্তর: বাতাসের অক্সিজেন জলে গুলে গিয়ে এবং জলের মধ্যে থাকা ছোট-বড় জীব ও মাছেরা নোংরা আবর্জনা খেয়ে বা ভেঙে দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে জল শোধন করে।
প্রশ্ন ৬: মাটির নীচের জলস্তর কমে যাওয়ার দুটি কারণ লেখো।
উত্তর: মাটির নীচের জলস্তর কমে যাওয়ার দুটি কারণ হলো—(ক) চাষাবাদ ও অন্যান্য কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল তুলে নেওয়া এবং (খ) রাস্তার খোলা কল বা ভাঙা পাইপ দিয়ে জলের অপচয়।
প্রশ্ন ৭: জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?
উত্তর: আমাদের চারপাশে থাকা বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ (গাছপালা) ও প্রাণীর (পশুপাখি, পোকামাকড়) সমাবেশকে একত্রে জীববৈচিত্র্য বলে।
প্রশ্ন ৮: দুটি পালিত পশু ও দুটি বন্য পশুর নাম লেখো।
উত্তর: দুটি পালিত পশু হলো গোরু ও ছাগল। দুটি বন্য পশু হলো বাঘ ও সাপ।
প্রশ্ন ৯: 'মেরুদণ্ডী' ও 'অমেরুদণ্ডী' প্রাণীর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: যেসব প্রাণীর শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড থাকে, তারা মেরুদণ্ডী (যেমন—মানুষ, মাছ)। আর যাদের শিরদাঁড়া থাকে না, তারা অমেরুদণ্ডী (যেমন—কেঁচো, চিংড়ি)।
প্রশ্ন ১০: লতানো গাছের 'আকর্ষ' কী কাজ করে?
উত্তর: লতানো গাছের গা থেকে বের হওয়া সুতোর মতো পেঁচানো অংশ হলো আকর্ষ। এটি কোনো অবলম্বনকে (যেমন—মাচা, কঞ্চি) আঁকড়ে ধরে দুর্বল কাণ্ডের গাছটিকে উপরে উঠতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ১১: বটগাছ কেন ঝুরি নামায়?
উত্তর: বটগাছের ডালপালা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, যা খুব ভারী হয়ে যায়। এই ভারী ডালগুলিকে सहारा দেওয়ার জন্য এবং ভেঙে পড়া থেকে আটকানোর জন্য বটগাছ ঝুরি নামায়। ঝুরিগুলি মাটিতে প্রবেশ করে স্তম্ভের মতো কাজ করে।
প্রশ্ন ১২: দুটি শিকারি মাছের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি শিকারি মাছ হলো শোল এবং বোয়াল।
প্রশ্ন ১৩: শকুন হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
উত্তর: গবাদি পশুকে যে ব্যথানাশক ঔষধ (ডাইক্লোফেনাক) দেওয়া হয়, সেই ঔষধ মেশানো মরা পশুর মাংস খেয়ে শকুনের কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলেই শকুনরা মারা যাচ্ছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ১৪: বৃষ্টির জল কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়?
উত্তর: বাড়ির ছাদ বা টিনের চাল থেকে পড়া বৃষ্টির জল পাইপের মাধ্যমে বড় ট্যাঙ্ক বা পাত্রে ধরে রেখে সংরক্ষণ করা যায়। এই জল পরে নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।প্রশ্ন ১৫: পুকুরের জলে এবং কলের জলে করা উচিত এমন দুটি কাজের নাম লেখো।
উত্তর: পুকুরের জলে স্নান করা ও কাপড় কাচা যায়। কলের জল পান করা ও রান্না করার কাজে ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্ন ১৬: পিঁপড়েরা বৃষ্টির আগে ডিম উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায় কেন?
উত্তর: পিঁপড়েরা আবহাওয়ার পরিবর্তন বুঝতে পারে। বৃষ্টির জলে তাদের মাটির গর্ত ডুবে যেতে পারে এবং ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই তারা আগে থেকেই ডিমগুলিকে নিরাপদ উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৭: টিকটিকির একটি বিশেষ ক্ষমতা কী?
উত্তর: টিকটিকির একটি বিশেষ ক্ষমতা হলো, বিপদে পড়লে বা আক্রান্ত হলে এরা নিজের লেজ খসিয়ে ফেলতে পারে এবং পরে সেই খসে যাওয়া লেজ আবার গজায়।
প্রশ্ন ১৮: চিংড়িকে মাছ বলা হয় না কেন?
উত্তর: কারণ মাছেরা মেরুদণ্ডী প্রাণী, তাদের শিরদাঁড়া থাকে। কিন্তু চিংড়ির কোনো শিরদাঁড়া নেই, তাই এটি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, মাছ নয়।
প্রশ্ন ১৯: দুটি ঔষধি গাছের নাম লেখো যারা হারিয়ে যেতে বসেছে।
উত্তর: দুটি হারিয়ে যেতে বসা ঔষধি গাছ হলো সর্পগন্ধা এবং মুক্তোঝুরি।
প্রশ্ন ২০: পূর্ব কলকাতার জলাভূমিটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: কলকাতার নোংরা জল পূর্বে পাঠানোর ফলে বিদ্যাধরী নদীর স্রোত কমে যায়। এর ফলে নদীটি ক্রমে একটি বদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয় এবং সেখানে মাছ চাষ শুরু হয়।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: এঁটেল, বেলে ও দোআঁশ মাটির মধ্যে পার্থক্য লেখো। কোন মাটি কীসের জন্য উপযোগী?
উত্তর: এঁটেল, বেলে ও দোআঁש মাটির মধ্যে পার্থক্যগুলি হলো:
| বিষয় | এঁটেল মাটি | বেলে মাটি | দোআঁশ মাটি |
|---|---|---|---|
| কণার আকার | কণা খুব সূক্ষ্ম ও ছোটো। | কণা বেশ বড় বড়। | বালি ও কাদার কণা মেশানো থাকে। |
| জলধারণ ক্ষমতা | সবচেয়ে বেশি। | সবচেয়ে কম, জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। | মাঝারি, জল ও বায়ু চলাচলের জন্য আদর্শ। |
| স্পর্শ | ভিজে অবস্থায় খুব আঠালো হয়। | হাতে নিলে দানা দানা লাগে, আঠালো নয়। | হাতে নিলে নরম ও কিছুটা দানা দানা লাগে। |
উপযোগিতা:
- এঁটেল মাটি: জলধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় এই মাটি ধান ও পাট চাষের জন্য খুব উপযোগী। এছাড়া, পাত্র, মূর্তি ও ইট তৈরির কাজেও এই মাটি ব্যবহৃত হয়।
- বেলে মাটি: এই মাটিতে তরমুজ, ফুটি, শশা, আলুর মতো ফসল ভালো হয়।
- দোআঁশ মাটি: এই মাটি প্রায় সব ধরনের ফসল, বিশেষ করে গম, ডাল, শাকসবজি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই দোআঁশ মাটিকে 'আদর্শ মাটি' বলা হয়।
প্রশ্ন ২: ভূমিক্ষয় কেন হয়? ভূমিক্ষয় প্রতিরোধের তিনটি উপায় আলোচনা করো।
উত্তর: ভূমিক্ষয় হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
- প্রাকৃতিক কারণ: প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে জলের স্রোতে এবং ঝড়ের ফলে বাতাসের বেগে জমির উপরের আলগা মাটি ধুয়ে বা উড়ে যায়।
- মনুষ্যসৃষ্ট কারণ:
- বনভূমি ধ্বংস: নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার ফলে মাটি আলগা হয়ে যায় এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- অবৈজ্ঞানিক চাষাবাদ: পাহাড়ের ঢালে ভুল পদ্ধতিতে চাষ করলে ভূমিক্ষয় বাড়ে।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন: রাস্তাঘাট, বাড়িঘর তৈরির জন্য মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়।
- প্লাস্টিক দূষণ: মাটিতে প্লাস্টিক বা পলিথিন থাকলে তা মাটির কণাগুলিকে একসঙ্গে থাকতে বাধা দেয়, ফলে উপরের মাটি সহজে সরে যায়।
ভূমিক্ষয় প্রতিরোধের তিনটি উপায়:
- বৃক্ষরোপণ: খালি জমিতে, নদীর পাড়ে এবং পাহাড়ের ঢালে প্রচুর পরিমাণে গাছ ও ঘাস লাগাতে হবে। গাছের শিকড় মাটিকে জালের মতো আঁকড়ে ধরে রেখে ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচায়।
- ধাপ চাষ: পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে জলের গতি কমে যায় এবং ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: বনভূমি ধ্বংস বন্ধ করতে হবে এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
প্রশ্ন ৩: 'জীববৈচিত্র্য' রক্ষা করা কেন প্রয়োজন? জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার দুটি প্রধান কারণ লেখো।
উত্তর: জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন কারণ পরিবেশের ভারসাম্য এবং মানুষের অস্তিত্ব এর উপর নির্ভরশীল।
প্রয়োজনীয়তা:
- খাদ্য শৃঙ্খল বজায় রাখা: প্রতিটি জীব খাদ্যের জন্য একে অপরের উপর নির্ভরশীল। কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে তার উপর নির্ভরশীল অন্য প্রাণীরাও সংকটে পড়ে, ফলে পুরো খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়তে পারে।
- পরিবেশের ভারসাম্য: উদ্ভিদরা কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে। শকুন বা অন্যান্য падальщики মরা জীবজন্তু খেয়ে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে। এইভাবে প্রতিটি জীবেরই পরিবেশে নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে।
- মানুষের প্রয়োজন মেটানো: আমরা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধপত্রের জন্য সরাসরি উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের উপর নির্ভরশীল। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হলে আমাদের জীবনধারণই কঠিন হয়ে পড়বে।
জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার দুটি প্রধান কারণ:
- বনভূমি ধ্বংস: মানুষের বাসস্থান, চাষজমি ও কলকারখানা তৈরির জন্য প্রতিনিয়ত জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বহু বন্যপ্রাণী তাদের স্বাভাবিক আশ্রয় হারিয়ে ফেলছে এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
- দূষণ ও কীটনাশকের ব্যবহার: কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ জলে মিশে জলজ প্রাণীদের ক্ষতি করছে। চাষজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুর বা নদীতে মিশছে, যার ফলে মাছ এবং অন্যান্য উপকারী পোকামাকড় মারা যাচ্ছে।
প্রশ্ন ৪: বন্যপ্রাণী ও পালিত প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য কী? টিয়া পাখিকে কি পালিত পাখি বলা যায়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: বন্যপ্রাণী ও পালিত প্রাণীর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
| বিষয় | বন্যপ্রাণী | পালিত প্রাণী |
|---|---|---|
| বাসস্থান | এরা জঙ্গলে বা প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে বাস করে। | এরা মানুষের আশ্রয়ে বা খামারে বাস করে। |
| খাদ্য | এরা নিজেরাই নিজেদের খাবার জোগাড় করে। | এরা খাদ্যের জন্য মানুষের উপর নির্ভরশীল। |
| প্রজনন | এরা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশে বংশবৃদ্ধি করে। | এদের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি মূলত মানুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। |
| আচরণ | এরা সাধারণত মানুষকে ভয় পায় এবং এড়িয়ে চলে। | এরা মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে অভ্যস্ত এবং পোষ মানে। |
না, টিয়া পাখিকে ঠিক পালিত পাখি বলা যায় না। এটি একটি পোষা বন্য পাখি।
যুক্তি:
- স্বাধীনতার ইচ্ছা: একটি পালিত প্রাণী (যেমন—হাঁস, মুরগি) দিনের শেষে নিজে থেকেই ঘরে ফিরে আসে। কিন্তু একটি টিয়া পাখিকে খাঁচা থেকে ছেড়ে দিলে সে আর ফিরে আসে না, কারণ তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো মুক্ত আকাশে স্বাধীনভাবে থাকা।
- জোরপূর্বক রাখা: টিয়া পাখি নিজের ইচ্ছায় মানুষের কাছে থাকে না। মানুষ তাকে তার সৌন্দর্য বা কথা বলার ক্ষমতার জন্য ভালোবেসে খাঁচায় বন্দি করে রাখে। তাই এটি পালিত নয়, বরং পোষা।
প্রশ্ন ৫: মাটির নীচের জল আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলসম্পদ রক্ষা করার জন্য আমাদের কী কী করণীয়?
উত্তর: মাটির নীচের জল বা ভূগর্ভস্থ জল আমাদের পানীয় জল ও চাষাবাদের প্রধান উৎস। এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করার জন্য আমাদের নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:
- জলের অপচয় রোধ: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জলের অপচয় বন্ধ করতে হবে। দাঁত মাজা বা মুখ ধোয়ার সময় অকারণে জলের কল খোলা রাখা উচিত নয়। রাস্তার ভাঙা কল বা পাইপলাইন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তা সারানোর জন্য পৌরসভা বা পঞ্চায়েতকে খবর দিতে হবে।
- ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার কমানো: চাষাবাদ বা অন্যান্য কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল তোলা বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে পুকুর, নদী বা খালের জল ব্যবহার করা উচিত।
- বৃষ্টির জল সংরক্ষণ: বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এই জল শোধন করে বা সরাসরি নানা কাজে (যেমন—বাগান করা, ঘর মোছা, কাপড় কাচা) ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ভূগর্ভস্থ জলের উপর চাপ কমবে।
- জলাশয় ভরাট বন্ধ করা: পুকুর, বিল, জলাভূমি ইত্যাদি ভরাট করা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ এই জলাশয়গুলি ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: জল সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।