মানবদেহ
অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)
'মানবদেহ' অধ্যায়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও তাদের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। শুরুতেই ত্বককে 'শরীরের বর্ম' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা আমাদের বাইরের আঘাত ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। ত্বকের বিভিন্ন স্তর, চামড়ার পুরুত্ব, মেলানিনের কার্যকারিতা, এবং চুল ও নখের গঠন ও যত্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর শরীরের কাঠামো অর্থাৎ হাড় বা অস্থি, অস্থিসন্ধি এবং পেশির গঠন ও কাজ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, হৃৎপিণ্ডকে শরীরের পাম্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং স্টেথোস্কোপের মাধ্যমে তার শব্দ শোনার প্রক্রিয়া ও এর আবিষ্কারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও, বায়ু ও জলবাহিত কিছু রোগ যেমন যক্ষ্মা ও কলেরা এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)
ত্বক (Skin)
আমাদের শরীরের বাইরের আবরণ, যা ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বাইরের আঘাত, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি এবং জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। একে শরীরের বর্ম বলা হয়।
মেলানিন (Melanin)
ত্বকে অবস্থিত এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ যা চামড়ার রঙ নির্ধারণ করে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
শিরা ও ধমনি (Vein & Artery)
শরীরের ভিতর দিয়ে রক্ত চলাচলের জন্য নলের মতো অঙ্গ। ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে বিশুদ্ধ রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয় এবং শিরা দূষিত রক্ত শরীর থেকে হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে।
অস্থি (Bone)
শরীরের ভিতরের শক্ত কাঠামো যা শরীরকে নির্দিষ্ট আকার দেয় এবং ভিতরের নরম অঙ্গগুলিকে রক্ষা করে। একে চলতি কথায় হাড় বলে।
অস্থিসন্ধি (Joint)
শরীরের যেখানে দুই বা তার বেশি হাড় মিলিত হয়, তাকে অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড় বলে। এর জন্যই আমরা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভাঁজ করতে বা নাড়াচাড়া করতে পারি।
লিগামেন্ট (Ligament)
দড়ির মতো এক ধরনের স্থিতিস্থাপক তন্তু যা অস্থিসন্ধিতে হাড়গুলিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত রাখে।
পেশি (Muscle)
হাড়ের সঙ্গে যুক্ত নরম ও স্থিতিস্থাপক অংশ যা সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে হাড়কে নাড়াচাড়া করতে এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
হৃৎপিণ্ড (Heart)
বুকের ভিতরে অবস্থিত একটি পেশিবহুল অঙ্গ যা পাম্পের মতো সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে।
স্টেথোস্কোপ (Stethoscope)
ডাক্তারদের ব্যবহৃত একটি যন্ত্র যার সাহায্যে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ শোনা যায়।
যক্ষ্মা (Tuberculosis/TB)
একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা মূলত ফুসফুসকে আক্রমণ করে। এটি বায়ুবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়।
ORS (Oral Rehydration Solution)
ডায়েরিয়া বা কলেরার ফলে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও নুনের ঘাটতি পূরণ করার জন্য নুন ও চিনির মিশ্রণে তৈরি এক বিশেষ পানীয়।
প্রশ্নোত্তর (MCQ)
১. আমাদের শরীরের বর্ম কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. চামড়া বা ত্বক
বিশ্লেষণ: ত্বক বাইরের আঘাত এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে রক্ষা করে, তাই একে বর্ম বলা হয়।
২. গন্ডারের চামড়া দিয়ে আগে কী বানানো হতো?
সঠিক উত্তর: B. পোশাক ও ঢাল
বিশ্লেষণ: গন্ডারের চামড়া খুব পুরু ও শক্ত হওয়ায় যুদ্ধের জন্য পোশাক (বর্ম) এবং ঢাল বানানো হতো।
৩. চামড়ার নীচে নীল রঙের নলের মতো কী দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B. শিরা
বিশ্লেষণ: শরীরের অনেক জায়গায় চামড়ার নীচেই শিরাগুলিকে দেখা যায়, কিন্তু ধমনিগুলো সাধারণত আরও ভেতরের দিকে থাকে।
৪. শরীরের কোন অংশের চামড়া সবচেয়ে পুরু?
সঠিক উত্তর: C. পায়ের গোড়ালি
বিশ্লেষণ: হাঁটার সময় গোড়ালির উপর পুরো শরীরের ভার পড়ে, তাই সুরক্ষার জন্য সেখানকার চামড়া সবচেয়ে পুরু হয়।
৫. ত্বকের উপরের স্তরে কী থাকে না?
সঠিক উত্তর: B. রক্ত
বিশ্লেষণ: দিদিমণি বলেছেন, "ত্বকের উপরের স্তরে রক্ত থাকে না।" তাই অল্প ছড়ে গেলে রক্ত বের হয় না।
৬. চামড়া পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কী করা উচিত?
সঠিক উত্তর: C. খানিকক্ষণ ঠান্ডা জলে ডুবিয়ে রাখা
বিশ্লেষণ: সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জল দিলে জ্বালা কমে এবং চামড়ার ভিতরের স্তরের ক্ষতি কম হয়।
৭. চামড়ার রং কালো হয় কোনটির জন্য?
সঠিক উত্তর: B. মেলানিন
বিশ্লেষণ: মেলানিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থের পরিমাণের উপর চামড়ার রঙ নির্ভর করে।
৮. মেলানিন কোন রশ্মি শোষণ করে ক্যানসার আটকায়?
সঠিক উত্তর: D. অতিবেগুনি রশ্মি
বিশ্লেষণ: মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করে।
৯. ত্বকে রোদ লাগালে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?
সঠিক উত্তর: C. ভিটামিন-ডি
বিশ্লেষণ: সূর্যের আলোতে আমাদের ত্বকে ভিটামিন-ডি সংশ্লেষিত হয়, যা হাড়ের জন্য জরুরি।
১০. ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে কী বেরিয়ে যায়?
সঠিক উত্তর: C. নুন ও কিছু বর্জ্য পদার্থ
বিশ্লেষণ: ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল, নুন এবং কিছু বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়।
১১. চুল, পালক, লোম ইত্যাদির গোড়া চামড়ার কোন স্তরে থাকে?
সঠিক উত্তর: C. ভিতরের স্তরে
বিশ্লেষণ: দিদিমণি বলেছেন, "লোম, চুল, পালক সবেরই গোড়া চামড়ার ভিতরের পর্দায়।"
১২. বয়স বাড়লে চুল সাদা হয়ে যায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. মেলানিন তৈরি কমে যায়
বিশ্লেষণ: বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুলের গোড়ায় মেলানিন উৎপাদন কমে যায়, ফলে চুল রঙ হারিয়ে সাদা হয়ে যায়।
১৩. গন্ডারের খড়্গ আসলে কী?
সঠিক উত্তর: C. জমাট বাঁধা চুল
বিশ্লেষণ: গন্ডারের খড়্গ দেখতে শক্ত হলেও এটি আসলে খুব শক্তভাবে জমাট বাঁধা চুল বা কেরাটিন তন্তু।
১৪. কোন প্রাণীর গায়ের লোম কাঁটার মতো শক্ত হয়?
সঠিক উত্তর: B. শজারু
বিশ্লেষণ: শজারু আত্মরক্ষার জন্য তার গায়ের শক্ত, কাঁটার মতো লোম ব্যবহার করে।
১৫. নখ কাটলে ব্যথা লাগে না কেন?
সঠিক উত্তর: B. নখ আসলে মরা কোষ দিয়ে তৈরি
বিশ্লেষণ: নখের যে অংশটি আমরা কাটি, তা মরা কেরাটিন কোষ দিয়ে তৈরি, তাই এতে কোনো স্নায়ু বা অনুভূতি থাকে না।
১৬. রক্তাল্পতার কারণে নখের আকৃতি কেমন হতে পারে?
সঠিক উত্তর: C. চামচের মতো
বিশ্লেষণ: রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে নখের মাঝখানটা অবতল বা চামচের মতো হয়ে যেতে পারে।
১৭. কোন পাখির নখ হুকের মতো বাঁকানো ও সূঁচালো হয়?
সঠিক উত্তর: C. পেঁচা ও ঈগল
বিশ্লেষণ: শিকারি পাখিদের শিকার ধরা ও ধরে রাখার জন্য নখগুলো হুকের মতো ধারালো ও বাঁকানো হয়।
১৮. গোরু, ছাগলের নখ কী নামে পরিচিত?
সঠিক উত্তর: B. খুর
বিশ্লেষণ: তৃণভোজী প্রাণী যেমন গোরু, ছাগল, ঘোড়ার পরিবর্তিত নখকেই খুর বলা হয়।
১৯. আঙুলে ক-টা জায়গায় ভাঁজ হয়?
সঠিক উত্তর: A. বুড়ো আঙুলে দুটো, অন্য আঙুলে তিনটে
বিশ্লেষণ: বুড়ো আঙুলে দুটি হাড়ের খণ্ড এবং অন্য আঙুলগুলিতে তিনটি করে হাড়ের খণ্ড থাকায় এইরকম ভাঁজ হয়।
২০. হাড়ের জোড়কে কী বলে?
সঠিক উত্তর: D. অস্থিসন্ধি
বিশ্লেষণ: হাড় বা অস্থি যেখানে জোড়া লাগে, সেই স্থানকে অস্থিসন্ধি বলে।
২১. কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত হাড়টির নাম কী?
সঠিক উত্তর: B. হিউমেরাস
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে শরীরের বিভিন্ন বড় হাড়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি।
২২. কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাড়টির নাম কী?
সঠিক উত্তর: A. ফিমার
বিশ্লেষণ: ফিমার মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ ও শক্তিশালী হাড়।
২৩. অস্থিসন্ধিতে হাড়গুলো কী দিয়ে লাগানো থাকে?
সঠিক উত্তর: C. লিগামেন্ট
বিশ্লেষণ: লিগামেন্ট নামক দড়ির মতো জিনিস দিয়ে হাড়গুলো অস্থিসন্ধিতে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
২৪. হাড় মজবুত করার জন্য কোন খনিজ পদার্থ প্রয়োজন?
সঠিক উত্তর: D. ক্যালসিয়াম
বিশ্লেষণ: ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান। দুধ, ডিম ইত্যাদি খাবারে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
২৫. কাজ করার সময় হাড়কে কে সাহায্য করে?
সঠিক উত্তর: C. পেশি
বিশ্লেষণ: পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে হাড়কে নাড়াচাড়া করতে সাহায্য করে, যার ফলে আমরা কাজ করতে পারি।
২৬. কোন প্রাণীর দেহের বেশিরভাগটাই পেশি?
সঠিক উত্তর: C. কেঁচো
বিশ্লেষণ: কেঁচোর কোনো হাড় নেই, তাই তার চলাচল সম্পূর্ণভাবে পেশির উপর নির্ভরশীল।
২৭. জিভ কী?
সঠিক উত্তর: B. একটি পেশি
বিশ্লেষণ: জিভ একটি শক্তিশালী পেশি যা কথা বলা, খাওয়া এবং গিলতে সাহায্য করে।
২৮. ডাক্তারবাবুরা বুকে স্টেথোস্কোপ দিয়ে কী শোনেন?
সঠিক উত্তর: B. হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক শব্দ
বিশ্লেষণ: স্টেথোস্কোপের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক শব্দ শুনে ডাক্তাররা রোগের অবস্থা বুঝতে পারেন।
২৯. হৃৎপিণ্ডকে শরীরের কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: C. রক্ত ছড়িয়ে দেওয়ার পাম্প
বিশ্লেষণ: হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে।
৩০. রক্ত সারা শরীরে কী পৌঁছে দেয়?
সঠিক উত্তর: C. অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি
বিশ্লেষণ: রক্ত শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন এবং খাদ্য থেকে পাওয়া পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
৩১. যক্ষ্মা বা টিবি রোগ মূলত শরীরের কোন অঙ্গকে আক্রমণ করে?
সঠিক উত্তর: C. ফুসফুস
বিশ্লেষণ: যক্ষ্মার জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং প্রধানত ফুসফুসেই বাসা বাঁধে।
৩২. যক্ষ্মা রোগের একটি প্রধান লক্ষণ কী?
সঠিক উত্তর: B. কাশির সঙ্গে কাঁচা রক্ত ওঠা
বিশ্লেষণ: রোগ বাড়লে ফুসফুসের কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে কাশির সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে।
৩৩. যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা পদ্ধতির নাম কী?
সঠিক উত্তর: C. DOTS (ডটস)
বিশ্লেষণ: DOTS (Directly Observed Treatment, Short-course) হলো যক্ষ্মা রোগের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত চিকিৎসা পদ্ধতি।
৩৪. যক্ষ্মা প্রতিরোধে কোন টিকা দেওয়া হয়?
সঠিক উত্তর: B. বিসিজি
বিশ্লেষণ: জন্মের পরই শিশুদের বিসিজি টিকা দেওয়া হয়, যা যক্ষ্মা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
৩৫. বাড়িতে ORS কীভাবে তৈরি করা হয়?
সঠিক উত্তর: A. এক গ্লাস জলে এক চামচ চিনি ও এক চিমটে নুন
বিশ্লেষণ: ফোটানো ঠান্ডা জলে নির্দিষ্ট পরিমাণে নুন ও চিনি মিশিয়ে বাড়িতেই ORS তৈরি করা যায়।
৩৬. কলেরায় পায়খানার রঙ কেমন হয়?
সঠিক উত্তর: C. চাল ধোয়া জলের মতো
বিশ্লেষণ: তৃপ্তিমাসি বলেছেন, কলেরায় পায়খানা হয় চাল ধোয়া জলের মতো সাদা এবং তাতে আঁশটে গন্ধ থাকে।
৩৭. স্টেথোস্কোপ কে আবিষ্কার করেন?
সঠিক উত্তর: C. রেনে লিনেক
বিশ্লেষণ: ডাক্তারকাকু গল্পে বলেছেন, রেনে লিনেক নামে একজন ডাক্তার প্রথম স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন।
৩৮. রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপ কী দিয়ে বানিয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর: C. গোল করে পেঁচানো কাগজ
বিশ্লেষণ: দুটি ছেলের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে লিনেক প্রথম একটি মোটা কাগজকে গোল করে পেঁচিয়ে নল বানিয়ে স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন।
৩৯. শরীরের কোন পেশি কোনো কাজই করতে পারে না?
সঠিক উত্তর: C. কানের লতির পেশি
বিশ্লেষণ: স্যার বলেছেন, "কানের লতিতেও পেশি। তবে সে কোনো কাজই করতে পারে না।" এটি একটি ভেস্টিজিয়াল অঙ্গ।
৪০. চামড়ার রং দেখে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করার বিরুদ্ধে কারা লড়েছেন?
সঠিক উত্তর: C. নেলসন ম্যান্ডেলা, মহাত্মা গান্ধি
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা মহান নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলা ও মহাত্মা গান্ধি অন্যতম।
৪১. চামড়া কারখানার বর্জ্য কী দূষণ ঘটায়?
সঠিক উত্তর: C. জল ও বায়ু উভয়ই
বিশ্লেষণ: চামড়া কারখানার নোংরা জল নষ্ট করে এবং কারখানা থেকে হাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৪২. নখকুনি কেন হয়?
সঠিক উত্তর: B. নখে জীবাণু ঢুকে গেলে
বিশ্লেষণ: নখের কোণে ময়লা জমে জীবাণুর সংক্রমণ হলে নখকুনি হয়, যাতে ব্যথা ও পুঁজ হতে পারে।
৪৩. মেরুদণ্ডের হাড়কে কী বলে?
সঠিক উত্তর: C. ভার্টিব্রা বা কশেরুকা
বিশ্লেষণ: মেরুদণ্ড অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় বা কশেরুকা নিয়ে গঠিত।
৪৪. বয়স বাড়লে চামড়া কুঁচকে যায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. শরীর ছোটো হয় কিন্তু চামড়া কমে না
বিশ্লেষণ: বৃদ্ধ বয়সে শরীর সংকুচিত হতে শুরু করে, কিন্তু চামড়া সেই অনুপাতে কমে না, তাই তা কুঁচকে যায়।
৪৫. ফোসকা পড়লে কী হয়?
সঠিক উত্তর: A. চামড়ার দুটি স্তরের মাঝে জলীয় তরল জমা হয়
বিশ্লেষণ: গরমে বা ঘর্ষণে চামড়ার উপরের স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নীচের স্তর থেকে জলীয় রস বেরিয়ে এসে দুই স্তরের মাঝে জমা হয়ে ফোসকা তৈরি করে।
৪৬. পেশি শক্তিশালী করতে কোন ধরনের খাবার প্রয়োজন?
সঠিক উত্তর: C. প্রোটিন জাতীয় (মাছ, মাংস, ডিম, ডাল)
বিশ্লেষণ: প্রোটিন ದೇಹ গঠনকারী খাদ্য, যা পেশি তৈরি ও তাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
৪৭. ছোটার পর হৃৎপিণ্ডের শব্দ বেড়ে যায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. শরীরের বেশি অক্সিজেন ও শক্তির প্রয়োজন হয় বলে
বিশ্লেষণ: দৌড়ানোর সময় পেশিগুলোকে বেশি কাজ করতে হয়, তাই তাদের জন্য বেশি অক্সিজেন ও পুষ্টি দরকার হয়। হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করে সেই চাহিদা মেটায়।
৪৮. শরীরের কোন অঙ্গ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে?
সঠিক উত্তর: B. রক্ত
বিশ্লেষণ: রক্তে থাকা শ্বেত রক্তকণিকা এবং অন্যান্য উপাদান জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
৪৯. পাখির গায়ে কী থাকে?
সঠিক উত্তর: C. পালক
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে বিভিন্ন প্রাণীর গায়ের আবরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে পাখির গায়ে পালক থাকার কথা বলা হয়েছে।
৫০. ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জীবাণু কীভাবে ছড়ায়?
সঠিক উত্তর: C. বাতাসের মাধ্যমে (হাঁচি-কাশি)
বিশ্লেষণ: অনন্তকাকুর গল্পে দেখা যায়, তিনি হাঁচির সময় মুখে রুমাল চাপা দিচ্ছেন যাতে তাঁর মুখ থেকে বাতাসে রোগের জীবাণু না ছড়ায়।
৫১. নখ দেখে কোন রোগ বোঝা যেতে পারে?
সঠিক উত্তর: C. রক্তাল্পতা
বিশ্লেষণ: দিদিমণি বলেছেন, রক্তাল্পতার কারণে নখ ফ্যাকাশে বা চামচের মতো হয়ে যেতে পারে, তাই ডাক্তাররা রোগীর নখ পরীক্ষা করেন।
৫২. কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত কয়টি হাড় থাকে?
সঠিক উত্তর: B. দুটি
বিশ্লেষণ: স্যার বলেছেন, কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত দুটি হাড় থাকে, যাদের নাম আলনা ও রেডিয়াস।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: ত্বককে 'শরীরের বর্ম' বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ ত্বক বা চামড়া আমাদের শরীরের ভিতরের মাংসপেশি, শিরা-ধমনি ইত্যাদি অঙ্গকে বাইরের আঘাত, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি এবং রোগের জীবাণু থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন ২: চামড়ার দুটি প্রধান কাজ লেখো।
উত্তর: চামড়ার দুটি প্রধান কাজ হলো—(ক) শরীরকে বাইরের আঘাত থেকে বাঁচানো এবং (খ) শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি করা।
প্রশ্ন ৩: মেলানিন কী? এর কাজ কী?
উত্তর: মেলানিন হলো আমাদের ত্বকে থাকা এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। এর প্রধান কাজ হলো চামড়ার রঙ নির্ধারণ করা এবং সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করা।
প্রশ্ন ৪: ত্বকের দুটি স্তরের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ত্বকের উপরের স্তরে কোনো রক্তনালী থাকে না এবং এর উপরের অংশটি মরা কোষ দিয়ে তৈরি। কিন্তু ভিতরের স্তরটিতে রক্তনালী, স্নায়ু ইত্যাদি থাকে এবং এখানে আঘাত লাগলে জ্বালা করে ও রক্ত বের হয়।
প্রশ্ন ৫: বয়স বাড়লে চুল সাদা হয় এবং চামড়া কুঁচকে যায় কেন?
উত্তর: বয়স বাড়লে চুলের গোড়ায় মেলানিন তৈরি কমে যায়, তাই চুল সাদা হয়ে যায়। অন্যদিকে, শরীর ছোটো হতে শুরু করলেও চামড়া কমে না, তাই চামড়া কুঁচকে যায়।
প্রশ্ন ৬: গন্ডারের খড়্গ এবং শজারুর কাঁটা আসলে কী?
উত্তর: গন্ডারের খড়্গ আসলে অত্যন্ত শক্তভাবে জমাট বাঁধা চুল এবং শজারুর কাঁটা হলো রূপান্তরিত শক্ত ও সূঁচালো লোম।
প্রশ্ন ৭: নখ আমাদের কী কী কাজে সাহায্য করে?
উত্তর: নখ আঙুলকে আঘাত থেকে বাঁচায়। এছাড়া ছোট জিনিস ধরা, পায়ে কাঁটা ফুটলে তা তোলা বা মাটিতে পড়ে থাকা পিন তোলার মতো সূক্ষ্ম কাজেও নখ সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৮: শিকারি পশুপাখিদের নখ ধারালো ও বাঁকানো হয় কেন?
উত্তর: শিকারকে ভালোভাবে ধরতে, আঁকড়ে রাখতে এবং ছিঁড়তে শিকারি পশুপাখিদের (যেমন—বাঘ, ঈগল) নখ ধারালো ও বাঁকানো হয়।
প্রশ্ন ৯: অস্থিসন্ধি কাকে বলে? এর কাজ কী?
উত্তর: দুটি বা তার বেশি হাড়ের সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। এর প্রধান কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশকে নাড়াচাড়া করতে বা ভাঁজ করতে সাহায্য করা।
প্রশ্ন ১০: হাড় মজবুত রাখতে কী প্রয়োজন?
উত্তর: হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম নামক খনিজ পদার্থ প্রয়োজন, যা দুধ, ডিম ইত্যাদি খাবারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ১১: পেশি কী? এর একটি প্রধান কাজ লেখো।
উত্তর: পেশি হলো হাড়ের সাথে যুক্ত নরম ও স্থিতিস্থাপক অংশ। এর প্রধান কাজ হলো সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে হাড়কে নাড়াচাড়া করতে এবং শরীরে বল প্রয়োগ করতে সাহায্য করা।
প্রশ্ন ১২: হৃৎপিণ্ডের কাজ কী?
উত্তর: হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে। এটি সারা শরীরে শিরা ও ধমনির মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালিত করে প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
প্রশ্ন ১৩: স্টেথোস্কোপ কী কাজে লাগে?
উত্তর: স্টেথোস্কোপ একটি ডাক্তারি যন্ত্র যার সাহায্যে শরীরের ভিতরের শব্দ, বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
প্রশ্ন ১৪: যক্ষ্মা রোগের দুটি লক্ষণ লেখো।
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের দুটি লক্ষণ হলো—(ক) প্রথম প্রথম বিকেলে জ্বর আসা এবং রাতে ঘাম হওয়া, এবং (খ) অসুখ বাড়লে কাশির সঙ্গে কাঁচা রক্ত ওঠা।
প্রশ্ন ১৫: ORS কী? এটি কখন প্রয়োজন হয়?
উত্তর: ORS হলো ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন, যা নুন ও চিনির জলীয় দ্রবণ। ডায়েরিয়া বা কলেরার মতো রোগে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও নুন বেরিয়ে গেলে, সেই ঘাটতি পূরণ করার জন্য ORS প্রয়োজন হয়।
প্রশ্ন ১৬: চামড়া, চুল ও নখের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন কেন?
উত্তর: যত্ন না নিলে চামড়ায় দাদ-হাজা, চুলকানি; চুলে খুসকি-উকুন এবং নখের কোণে ময়লা জমে জীবাণুর সংক্রমণে নখকুনি হতে পারে।
প্রশ্ন ১৭: মেরুদণ্ডের হাড়কে কী বলে?
উত্তর: মেরুদণ্ডের হাড়কে ভার্টিব্রা বা কশেরুকা বলে।
প্রশ্ন ১৮: কলেরা রোগের জীবাণু কীভাবে ছড়ায়?
উত্তর: কলেরা রোগের জীবাণু মূলত দূষিত জল এবং আঢাকা খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
প্রশ্ন ১৯: রেনে লিনেক কীভাবে স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের ধারণা পেয়েছিলেন?
উত্তর: রেনে লিনেক দুটি ছোট ছেলেকে একটি ধাতব নলের এক প্রান্তে আঁচড় কেটে অন্য প্রান্তে কান লাগিয়ে শব্দ শোনার খেলা খেলতে দেখে স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের ধারণা পেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ২০: ফিমার এবং হিউমেরাস হাড় দুটি শরীরের কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ফিমার কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং হিউমেরাস কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত অবস্থিত।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: ত্বক বা চামড়া আমাদের শরীরকে কী কী ভাবে রক্ষা করে? আলোচনা করো।
উত্তর: ত্বক বা চামড়া আমাদের শরীরের বর্ম হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন উপায়ে আমাদের রক্ষা করে:
- বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা: ত্বক আমাদের শরীরের প্রথম প্রতিরোধ স্তর। এটি সরাসরি বাইরের আঘাত শোষণ করে নেয়, যার ফলে ভিতরের মাংসপেশি, শিরা, ধমনি এবং অন্যান্য নরম অঙ্গগুলি সুরক্ষিত থাকে। ত্বক না থাকলে সামান্য আঘাতেই রক্তপাত হতো।
- সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা: ত্বকে থাকা মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে নেয়। এই রশ্মি ত্বকের ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। মেলানিন এই বিপদ থেকে আমাদের বাঁচায়।
- জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা: আমাদের ত্বক একটি অভেদ্য প্রাচীরের মতো কাজ করে, যা পরিবেশে ভেসে বেড়ানো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে সহজে শরীরে প্রবেশ করতে দেয় না।
- জলরোধী আবরণ: ত্বক জলরোধী হওয়ায় এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়া আটকায় এবং বাইরের জলও শরীরে ঢুকতে দেয় না।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘামের মাধ্যমে শরীরকে ঠান্ডা রেখে এবং রক্তনালীকে সংকুচিত বা প্রসারিত করে ত্বক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২: হাড়, অস্থিসন্ধি এবং পেশি কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে আমাদের চলাফেরায় সাহায্য করে? উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: আমাদের চলাফেরা বা যেকোনো কাজ করার জন্য হাড়, অস্থিসন্ধি এবং পেশি একটি সম্মিলিত দল হিসেবে কাজ করে।
- হাড় (অস্থি): হাড় আমাদের শরীরের শক্ত কাঠামো তৈরি করে। এটি একটি লিভার বা দণ্ডের মতো কাজ করে যার উপর পেশি বল প্রয়োগ করে।
- অস্থিসন্ধি: দুটি হাড়ের সংযোগস্থল হলো অস্থিসন্ধি। এটি একটি কব্জার মতো কাজ করে, যা হাড় দুটিকে একটি নির্দিষ্ট দিকে ঘুরতে বা ভাঁজ হতে সাহায্য করে।
- পেশি: পেশি হলো স্থিতিস্থাপক অংশ যা হাড়ের সাথে যুক্ত থাকে। পেশি শুধুমাত্র সংকুচিত হতে পারে, অর্থাৎ আকারে ছোটো হতে পারে। এই সংকোচনই হাড়কে টেনে তোলে এবং নড়াচড়া করায়।
প্রথমে কাঁধ ও কনুইয়ের অস্থিসন্ধি নড়াচড়ার সুযোগ করে দেয়। মস্তিষ্কের নির্দেশে হাতের পেশিগুলি সংকুচিত হয়। এই সংকোচনের ফলে কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত হাড় (হিউমেরাস) এবং কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত হাড় (রেডিয়াস-আলনা) একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত হয়। আঙুলের ছোট ছোট হাড় ও অস্থিসন্ধি বলটিকে ধরতে এবং ছাড়তে সাহায্য করে। এইভাবে তিনটি অংশের সমন্বিত কাজেই বল ছোঁড়ার মতো জটিল কাজটি সম্ভব হয়।
প্রশ্ন ৩: হৃৎপিণ্ডের কাজ কী? রক্ত আমাদের শরীরে কী কী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: হৃৎপিণ্ড হলো আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় অঙ্গ। এর প্রধান কাজ হলো একটি শক্তিশালী পাম্পের মতো অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনির মাধ্যমে সারা শরীরে বিশুদ্ধ রক্ত ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিরার মাধ্যমে দূষিত রক্তকে ফিরিয়ে আনা। এই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমেই শরীরের প্রতিটি জীবন্ত কোষ তার প্রয়োজনীয় উপাদান পায় এবং সজীব থাকে।
রক্তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- অক্সিজেন পরিবহন: রক্ত ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয়।
- পুষ্টি সরবরাহ: হজম হওয়া খাবারের সারাংশ (পুষ্টি) রক্তে মিশে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, যা কোষের পুষ্টি জোগায়।
- বর্জ্য পদার্থ অপসারণ: রক্ত কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে যথাক্রমে ফুসফুস ও কিডনিতে পৌঁছে দেয়, যেখান থেকে সেগুলি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
- রোগ প্রতিরোধ: রক্তে থাকা শ্বেত রক্তকণিকা এবং অ্যান্টিবডি বাইরে থেকে প্রবেশ করা রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরকে সুস্থ রাখে।
- ঔষধ পরিবহন: আমরা যখন কোনো ঔষধ খাই, তা রক্তে মিশে গিয়ে নির্দিষ্ট রোগাক্রান্ত স্থানে পৌঁছায় এবং জীবাণু ধ্বংস করে।
প্রশ্ন ৪: যক্ষ্মা (TB) রোগ কীভাবে ছড়ায়? এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী এবং এর চিকিৎসা কী?
উত্তর: ছড়ানোর উপায়: যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। যক্ষ্মা রোগীর হাঁচি, কাশি বা থুথুর মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সেই দূষিত বাতাসে সুস্থ মানুষ শ্বাস নিলে জীবাণু তার ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং রোগের সংক্রমণ ঘটায়। আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কথা বললেও রোগ ছড়াতে পারে।
প্রধান লক্ষণগুলি:
- প্রথম অবস্থায় বিকেলে অল্প জ্বর আসা এবং রাতে ঘুমানোর সময় ঘাম হওয়া।
- টানা দুই সপ্তাহের বেশি কাশি এবং কফ ওঠা।
- খাবারে অরুচি এবং শরীরের ওজন ক্রমশ কমতে থাকা।
- বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া।
- রোগের মাত্রা বাড়লে কাশির সঙ্গে কাঁচা রক্ত বের হওয়া।
চিকিৎসা:
যক্ষ্মা এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে DOTS (ডটস) পদ্ধতির মাধ্যমে এর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসায় রোগীকে নির্দিষ্ট সময় ধরে (সাধারণত ৬ মাস থেকে এক বছর) স্বাস্থ্যকর্মীর পর্যবেক্ষণে নিয়মিত ঔষধ খেতে হয়। মাঝপথে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে রোগটি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
প্রশ্ন ৫: স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের গল্পটি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: প্রায় দুশো বছর আগে রেনে লিনেক নামে একজন ফরাসি ডাক্তার ছিলেন। তিনি রোগীদের ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের অবস্থা বোঝার জন্য প্রায়ই বুকে কান লাগিয়ে শব্দ শুনতেন, যা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না।
একদিন বিকেলে তিনি বাগানে হাঁটতে বেরিয়ে দেখলেন, দুটি ছোট ছেলে একটি লম্বা ধাতব নলের দুই প্রান্তে বসে একটি মজার খেলা খেলছে। একজন নলের এক প্রান্তে আঁচড় কাটছে, আর অন্যজন অপর প্রান্তে কান লাগিয়ে সেই সামান্য শব্দও স্পষ্টভাবে শুনছে।
এই দৃশ্য দেখে লিনেকের মাথায় একটি বুদ্ধি খেলে গেল। তিনি ভাবলেন, এই পদ্ধতিতে তো রোগীর বুকের শব্দও আরও ভালোভাবে শোনা যেতে পারে। তিনি দৌড়ে নিজের ঘরে গিয়ে একটুকরো মোটা কাগজকে গোল করে পেঁচিয়ে একটি সরু নল তৈরি করলেন। এটিই ছিল পৃথিবীর প্রথম স্টেথোস্কোপ।
পরে তিনি কাঠের নল দিয়ে আরও উন্নত স্টেথোস্কোপ তৈরি করেন। সেই একনলা যন্ত্রই ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে আজকের দিনের দুনলা স্টেথোস্কোপে পরিণত হয়েছে, যা ডাক্তারদের একটি অপরিহার্য যন্ত্র।
প্রশ্ন ৬: চুল এবং নখের যত্ন নেওয়া কেন প্রয়োজন? এদের যত্ন না নিলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: চুল এবং নখ আমাদের শরীরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চুল মাথাকে রোদ ও ঠান্ডা থেকে বাঁচায় এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। নখ আঙুলের ডগাকে রক্ষা করে এবং সূক্ষ্ম কাজ করতে সাহায্য করে। এদের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন কারণ অপরিষ্কার থাকলে এগুলি জীবাণুর আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে পারে।
যত্ন না নিলে যে সমস্যাগুলি হতে পারে:
চুলের ক্ষেত্রে:
- খুসকি: চুল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বকে ময়লা ও মৃত কোষ জমে খুসকি হতে পারে, যার ফলে চুলকানি হয়।
- উকুন: অপরিষ্কার চুলে সহজেই উকুন বাসা বাঁধতে পারে, যা খুবই অস্বস্তিকর এবং অন্যের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- চুল পড়া: অপরিচ্ছন্নতার কারণে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
- নখকুনি: নখের কোণে ময়লা জমে জীবাণুর সংক্রমণ হলে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং পুঁজ জমে। একে নখকুনি বলে।
- পেটের রোগ: নখের ময়লায় থাকা জীবাণু খাবারের সাথে পেটে গিয়ে ডায়েরিয়া, আমাশয় বা কৃমির মতো রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
- ছত্রাক সংক্রমণ: অপরিষ্কার ও ভেজা নখে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে, যার ফলে নখের রঙ ও আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৭: চামড়ার রঙের ভিন্নতা কেন হয়? চামড়ার রঙের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা কি ঠিক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: আমাদের ত্বকে মেলানিন নামক এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ থাকে। যার ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ যত বেশি, তার চামড়ার রঙ তত কালো বা শ্যামবর্ণ হয়। আর যার ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ কম, তার চামড়ার রঙ তত ফর্সা হয়। রোদের প্রভাবে শরীরে মেলানিন উৎপাদন বাড়ে। এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং ভৌগোলিক অবস্থান ও বংশগতির উপর নির্ভরশীল একটি বিষয়।
না, চামড়ার রঙের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করা একেবারেই ঠিক নয়। এটি একটি অত্যন্ত অন্যায় ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা।
যুক্তিসমূহ:
- বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীনতা: বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে চামড়ার রঙ কেবল মেলানিনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে, এর সাথে মানুষের সভ্যতা, বুদ্ধি বা চরিত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং কালো চামড়া সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বেশি সুরক্ষা দেয়।
- মানবিকতার পরিপন্থী: পৃথিবীর সকল মানুষ সমান। শুধুমাত্র গায়ের রঙের জন্য কাউকে 'অসভ্য' বা 'ছোট' এবং কাউকে 'সভ্য' বা 'বড়' ভাবা انسانیت-এর অবমাননা।
- ঐতিহাসিক ভুল: ইতিহাসে সাদা চামড়ার মানুষরা কালো চামড়ার মানুষদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। মহাত্মা গান্ধি, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং-এর মতো মহান নেতারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সারা জীবন লড়াই করেছেন। তাদের লড়াই প্রমাণ করে যে এই ভেদাভেদ একটি সামাজিক অপরাধ।
প্রশ্ন ৮: তোমার শরীরের পাঁচটি প্রধান হাড়ের নাম ও তাদের অবস্থান লেখো।
উত্তর: আমার শরীরের পাঁচটি প্রধান হাড়ের নাম ও তাদের অবস্থান নিচে দেওয়া হলো:
| হাড়ের নাম | অবস্থান |
|---|---|
| হিউমেরাস (Humerus) | কাঁধের অস্থিসন্ধি থেকে কনুই পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ঊর্ধ্ববাহুর একমাত্র হাড়। |
| রেডিয়াস ও আলনা (Radius & Ulna) | কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত পাশাপাশি অবস্থিত দুটি হাড়। |
| ফিমার (Femur) | কোমরের অস্থিসন্ধি থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়। |
| টিবিয়া ও ফিবুলা (Tibia & Fibula) | হাঁটুর নীচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পাশাপাশি অবস্থিত দুটি হাড়। |
| ভার্টিব্রা বা কশেরুকা (Vertebra) | অনেকগুলো ছোট ছোট চাকতির মতো হাড় যা পরপর সজ্জিত হয়ে ঘাড় থেকে কোমর পর্যন্ত মেরুদণ্ড গঠন করে। |
প্রশ্ন ৯: ডায়েরিয়া বা কলেরা হলে শরীরে কী সমস্যা হয়? বাড়িতে ORS তৈরির পদ্ধতি ও খাওয়ানোর নিয়ম লেখো।
উত্তর: ডায়েরিয়া বা কলেরা হলে বারবার পাতলা পায়খানা ও বমির মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল এবং প্রয়োজনীয় লবণ (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। সময়মতো এই জল ও লবণের ঘাটতি পূরণ না করলে রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তচাপ কমে যায় এবং এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
বাড়িতে ORS তৈরির পদ্ধতি:
- প্রথমে এক লিটার বা পাঁচ গ্লাস জল অন্তত ২০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
- ওই ঠান্ডা করা জলে এক চামচ চিনি এবং এক চিমটে নুন ভালোভাবে মেশাতে হবে। (সঠিক পরিমাপ হলো ১ লিটার জলে ৬ চামচ চিনি ও আধা চামচ নুন)।
- তৈরি হয়ে গেল বাড়িতে বানানো ORS।
খাওয়ানোর নিয়ম:
তৈরি করা ORS রোগীকে বারে বারে, অল্প পরিমাণে খাওয়াতে হবে। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর রোগীকে অন্তত এক গ্লাস ORS খাওয়ানো উচিত। যতক্ষণ না পায়খানা স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ এটি খাইয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন ১০: পশুর চামড়ার ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণ কী? এর বিকল্প হিসেবে এখন কী কী ব্যবহৃত হচ্ছে?
উত্তর: একসময় মানুষ পোশাক, জুতো, লেখার উপকরণ, জল রাখার পাত্র ইত্যাদি নানা কাজে পশুর চামড়া ব্যবহার করত। কিন্তু ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
- পশুহত্যা ও জীববৈচিত্র্য নাশ: চামড়ার লোভে ব্যাপক হারে পশুহত্যা করার ফলে অনেক প্রাণী বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়।
- পরিবেশ দূষণ: চামড়া প্রক্রিয়াকরণের কারখানা বা ট্যানারি থেকে নির্গত রাসায়নিক মেশানো নোংরা জল নিকটবর্তী জলাশয় ও নদীকে দূষিত করে।
- বায়ু দূষণ: ট্যানারি থেকে পচা চামড়ার তীব্র দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকার পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: পশুদের অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চামড়ার ব্যবহার কমাতে শুরু করেছে।
বিকল্প:
বর্তমানে পশুর চামড়ার বিকল্প হিসেবে রেক্সিন, কৃত্রিম চামড়া (Artificial/Synthetic Leather), ক্যানভাস, পাট, ডেনিম, নাইলন এবং বিভিন্ন ধরনের কাপড় জুতো, ব্যাগ ও বেল্ট তৈরির জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।