অধ্যায় ৫: বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (Class 10 History Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় 'বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ (উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত): বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
হালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' বইটি ছাপা হয়েছিল Madhyamik 2025 (Sample) & 2018
-
মাসিক 'সন্দেশ' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় Madhyamik 2025 (Sample)
-
'বিরূপবজ্র' গ্রন্থটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন Madhyamik 2025 (Sample)
-
প্রথম বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রটি হল Madhyamik 2025 (Sample)
-
বসুবিজ্ঞান মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা জগদীশচন্দ্র বসু, অধ্যাপক ছিলেন Madhyamik 2024 & 2022
-
বাংলা ভাষায় প্রথম সচিত্র পুস্তক প্রকাশ করেন Madhyamik 2024
-
বাংলাপুস্তক ব্যবসায়ের পথিকৃৎ ছিলেন Madhyamik 2023
-
বাংলা লাইনোটাইপ প্রবর্তিত হয় Madhyamik 2023
-
'বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল Madhyamik 2022
-
'জাতীয় শিক্ষা পরিষদ' (১৯০৬)-এর প্রথম সভাপতি ছিলেন Madhyamik 2022
-
'দিগ্দর্শন'-এর সম্পাদক ছিলেন Madhyamik 2022
-
বাংলা ভাষায় প্রথম বই ছাপা হয় Madhyamik 2020
-
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন Madhyamik 2020 & 2023
-
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন Madhyamik 2019
-
'বর্ণপরিচয়' প্রকাশিত হয়েছিল Madhyamik 2019
-
বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় Madhyamik 2019
-
'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স'-এর যে বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন Madhyamik 2018
-
ভারতে 'হাফ টোন' প্রিন্টিং পদ্ধতি প্রবর্তন করেন Madhyamik 2017
-
বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন Madhyamik 2017
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী। Madhyamik 2023
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
-
বই বিক্রির জন্য ফেরিওয়ালাদের উপর নির্ভর করতেন উনিশ শতকে বাংলার প্রকাশকগণ। ব্যাখ্যা ৩: এটি ছিল সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছবার সুলভতম ও সহজতম উপায়। Madhyamik 2022
উত্তর: শু
-
বাংলায় লাইনো টাইপ প্রবর্তন করেন বিদ্যাসাগর। Madhyamik 2018
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: সুরেশচন্দ্র মজুমদার)।
শূন্যস্থান পূরণ / স্তম্ভ মেলাও
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৪) তারকনাথ পালিত Madhyamik 2024
উত্তর: (১) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৪) তারকনাথ পালিত Madhyamik 2022
উত্তর: (৩) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.২) তারকনাথ পালিত Madhyamik 2017
উত্তর: (৩) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট
-
'বর্ণপরিচয়' কে রচনা করেন? Madhyamik 2020 & 2017 (বহিরাগত) & 2023 (বহিরাগত)
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
-
বিশ্বভারতী কে প্রতিষ্ঠা করেন? Madhyamik 2024
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-
'বসুবিজ্ঞান মন্দির' কে প্রতিষ্ঠা করেন? Madhyamik 2024 (বহিরাগত) & 2022 (বহিরাগত)
উত্তর: জগদীশচন্দ্র বসু।
-
কত খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠিত হয়? Madhyamik 2024 (বহিরাগত)
উত্তর: ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে (ব্রহ্মচর্যাশ্রম)।
-
'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' কাদের বলা হয়? Madhyamik 2023 (বহিরাগত) & 2017 (বহিরাগত)
উত্তর: উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ডকে।
-
একজন ব্যঙ্গচিত্র শিল্পীর নাম করো। Madhyamik 2023 (বহিরাগত) & 2017 (বহিরাগত)
উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-
কী উদ্দেশ্যে 'শ্রীনিকেতন' গড়ে ওঠে? Madhyamik 2024 (বহিরাগত) & 2022 (বহিরাগত) & 2025 (Sample) (বহিরাগত)
উত্তর: গ্রামীণ সমাজের উন্নতির জন্য এবং কৃষির উন্নতির সঙ্গে গ্রামবাসীদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'শ্রীনিকেতন' (১৯২২) প্রতিষ্ঠা করেন।
-
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম চিত্রিত গ্রন্থের নাম লেখো। Madhyamik 2019
উত্তর: 'অন্নদামঙ্গল' (প্রকাশক: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য)।
-
কোন্ বছর শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়? Madhyamik 2019
উত্তর: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে।
-
কত খ্রিস্টাব্দে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়? Madhyamik 2019 (বহিরাগত)
উত্তর: ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে।
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
কোন্ বছর কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়? Madhyamik 2025 (Sample) & 2017 (বহিরাগত)
উত্তর: ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে (প্রতিষ্ঠাতা: আশুতোষ মুখোপাধ্যায়)।
-
বাংলা ছাপাখানার বিকাশে সুরেশচন্দ্র মজুমদার-এর অবদান কী ছিল? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: সুরেশচন্দ্র মজুমদার বাংলায় 'লাইনোটাইপ' (Linotype) প্রবর্তন করেন, যা মুদ্রণ শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এবং আধুনিক ছাপাখানার ভিত্তি স্থাপন করে।
-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী উদ্দেশ্যে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? Madhyamik 2025 (Sample) & 2017
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিকল্পে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ভাবধারার সমন্বয়ে 'পূর্ণাঙ্গ মানুষ' গড়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বভারতী (১৯২১) প্রতিষ্ঠা করেন।
-
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মরণীয় কেন? Madhyamik 2024
উত্তর: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন আধুনিক ভারতের 'ব্যঙ্গচিত্র' বা কার্টুন শিল্পের পথিকৃৎ। তিনি তাঁর ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক সমাজের ও বাবু সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন ('বিরূপবজ্র', 'অদ্ভুত লোক')।
-
'বিদ্যাসাগর সাট' বলতে কী বোঝায়? Madhyamik 2024 & 2022
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে সহজবোধ্য করতে 'বর্ণপরিচয়' গ্রন্থে স্বরবর্ণ (১২টি) ও ব্যঞ্জনবর্ণ (৪০টি)-এর যে নির্দিষ্ট রূপ বা বিন্যাস তৈরি করেন, তাকেই 'বিদ্যাসাগর সাট' বলা হয়।
-
বাংলা ছাপাখানার ইতিহাসে বটতলা প্রকাশনার গুরুত্ব কী? Madhyamik 2024 & 2018
উত্তর: উনিশ শতকে কলকাতার 'বটতলা' অঞ্চলের ছাপাখানাগুলি সস্তায় এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক (যেমন - 'সতীদাহ') ও ব্যঙ্গাত্মক ('হুতোম প্যাঁচার নকশা') বই ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলেছিল।
-
বেঙ্গাল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট-এর প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন? Madhyamik 2023
উত্তর: প্রমথনাথ বসু।
-
ড. মহেন্দ্রলাল সরকার স্মরণীয় কেন? Madhyamik 2023 & 2019
উত্তর: ডঃ মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন ভারতে বিজ্ঞান চর্চার পথিকৃৎ। তিনি ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রথম বিজ্ঞান গবেষণাগার 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন।
-
বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে ছাপাখানার বিকাশের প্রভাব কতটা? Madhyamik 2023 & 2020
উত্তর: ছাপাখানার বিকাশের ফলে বই ও পত্রপত্রিকা সহজলভ্য হয়, যা শিক্ষাবিস্তার, জ্ঞানচর্চা, জনমত গঠন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অভাবনীয় উন্নতি ঘটায়। এর ফলেই বাংলায় নবজাগরণের পথ প্রশস্ত হয়।
-
'বিদ্যাহারাবলী' গ্রন্থটি কে রচনা করেন? Madhyamik 2022
উত্তর: ফেলিক্স কেরি (শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বিজ্ঞান গ্রন্থ)।
-
জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়? Madhyamik 2022
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের (১৯০৫) সময় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে স্বদেশি উদ্যোগে, জাতীয় ভাবধারায় সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে 'জাতীয় শিক্ষা পরিষদ' (১৯০৬) প্রতিষ্ঠিত হয়।
-
বাংলা ছাপাখানার বিকাশে লাইনোটাইপ প্রবর্তনের গুরুত্ব কী? Madhyamik 2022 & 2019
উত্তর: সুরেশচন্দ্র মজুমদার প্রবর্তিত লাইনোটাইপ (যান্ত্রিকভাবে অক্ষর সাজানো) পদ্ধতির ফলে ছাপাখানার কাজে গতি আসে, ছাপার মান উন্নত হয় এবং কম খরচে দ্রুত বই ছাপানো সম্ভব হয়, যা মুদ্রণ শিল্পে বিপ্লব আনে।
-
গ্রামীণ শিল্প ও বৃত্তি শিক্ষার প্রসারে রবীন্দ্রনাথ-এর অবদান কীরূপ ছিল? Madhyamik 2022
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রামীণ সমাজের উন্নতির জন্য 'শ্রীনিকেতন' (১৯২২) প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে তিনি কৃষিকাজ, পশুপালন, তাঁতশিল্প ইত্যাদি বিষয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রবর্তন করে গ্রামবাসীদের স্বনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করেন।
-
ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন? Madhyamik 2020
উত্তর: কারণ এই শিক্ষাব্যবস্থার (যেমন - মেকলে মিনিট) প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারতীয়দের কেরানি তৈরি করা, পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করা নয়। এটি ছিল ব্যয়সাপেক্ষ, শহরকেন্দ্রিক এবং এতে মাতৃভাষার পরিবর্তে ইংরেজিকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ মানুষ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।
-
চার্লস উইলকিনস্ কে ছিলেন? Madhyamik 2019
উত্তর: চার্লস উইলকিনস্ ছিলেন একজন ব্রিটিশ মুদ্রণ বিশারদ। তিনি প্রথম বাংলা অক্ষরের 'ছাঁচ' বা 'হরফ' (Type) তৈরি করেন। তাঁর তৈরি হরফেই ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হালহেডের 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ছাপা হয়।
-
পঞ্চানন কর্মকার কে ছিলেন? Madhyamik 2022 (বহিরাগত) & 2020 (বহিরাগত) & 2018
উত্তর: পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন একজন বাঙালি মুদ্রণ শিল্পী। তিনি চার্লস উইলকিন্সের সহযোগী হিসাবে বাংলা হরফ নির্মাণে দক্ষতা অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের মুদ্রণের কাজে অসামান্য অবদান রাখেন।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
বাংলা ছাপাখানার বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বহুবিধ কর্মপ্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। Madhyamik 2025 (Sample)
বাংলা মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান ছিল বহুমুখী:
- ১. বাংলা হরফের সংস্কার (বিদ্যাসাগর সাট): বিদ্যাসাগরের পূর্বে বাংলা বর্ণমালা ছিল অগোছালো ও যুক্তাক্ষরগুলি ছিল জটিল। তিনিই প্রথম 'বর্ণপরিচয়' (১৮৫৫) গ্রন্থে বাংলা স্বরবর্ণ (১২টি) ও ব্যঞ্জনবর্ণ (৪০টি)-এর নির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট রূপ দেন, যা 'বিদ্যাসাগর সাট' নামে পরিচিত। এই সংস্কারের ফলে বাংলা ছাপা ও পড়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
- ২. পাঠ্যপুস্তক রচনা: ছাপাখানাকে ভিত্তি করে তিনি 'বর্ণপরিচয়', 'বোধোদয়', 'কথামালা', 'আখ্যানমঞ্জরী'-এর মতো যুগান্তকারী পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন, যা শিক্ষাবিস্তারের মূল হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
- ৩. মুদ্রণ যন্ত্র ও প্রকাশনা: তিনি নিজে 'সংস্কৃত প্রেস' (১৮৪৭) ও 'সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি' নামে পুস্তক বিপণি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছাপাখানার মানোন্নয়ন ঘটান এবং নিজের ও অন্যান্যদের গ্রন্থ প্রকাশ করে বাংলায় বইয়ের ব্যবসাকে এক সম্মানজনক পেশায় পরিণত করেন।
-
বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS)-এর অবদান বিশ্লেষণ করো। Madhyamik 2025 (Sample) & 2019 & 2017
বাংলায় তথা ভারতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ও মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে ডঃ মহেন্দ্রলাল সরকার প্রতিষ্ঠিত 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS, ১৮৭৬) এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে:
- ১. প্রথম জাতীয় গবেষণাগার: এটিই ছিল ভারতীয়দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ভারতের প্রথম জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণাগার, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশদের সাহায্য ছাড়াই স্বদেশি উদ্যোগে বিজ্ঞান গবেষণা করা।
- ২. গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি: প্রতিষ্ঠার পর থেকে IACS পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো (গবেষণাগার, লাইব্রেরি) তৈরি করে। এখানে জগদীশচন্দ্র বসু, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতেন।
- ৩. আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন: এই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেই চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন (সি. ভি. রমন) তাঁর বিখ্যাত 'রমন এফেক্ট' (১৯২৮) আবিষ্কার করেন এবং ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান। এটিই ছিল বিজ্ঞানে এশিয়ার প্রথম নোবেল জয়, যা IACS-কে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।
-
বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে শ্রীরামপুর মিশনারীদের অবদান বিশ্লেষণ করো। Madhyamik 2025 (Sample) & 2018
বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের (প্রতিষ্ঠা ১৮০০ খ্রিঃ) অবদান অসামান্য। 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী' নামে পরিচিত উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড ছিলেন এর প্রাণপুরুষ।
- ১. আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন: তাঁরাই বাংলায় প্রথম আধুনিক ও উন্নতমানের মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। পঞ্চানন কর্মকারের মতো দক্ষ বাঙালির সহায়তায় তারা বাংলা হরফকে আরও সুন্দর ও সুগঠিত করেন।
- ২. বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশ: এই প্রেস থেকেই প্রথম বাংলা ভাষায় বাইবেল (মঙ্গল সমাচার) অনূদিত ও মুদ্রিত হয়। এছাড়াও রামায়ণ, মহাভারত, ইতিহাসমালা, 'বিদ্যাহারাবলী'-র মতো বিজ্ঞান গ্রন্থ এবং বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করা হয়।
- ৩. সাময়িকপত্র প্রকাশ: বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র 'দিগ্দর্শন' (মাসিক) এবং প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ' (সাপ্তাহিক) ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকেই প্রকাশিত হয়।
এভাবেই শ্রীরামপুর মিশন প্রেস বাংলা ভাষা ও শিক্ষাবিস্তারের পথ প্রশস্ত করেছিল।
-
বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভূমিকার মূল্যায়ন করো। Madhyamik 2023
বাংলা মুদ্রণ শিল্পকে যিনি আধুনিক শিল্পকলায় রূপান্তরিত করেছিলেন, তিনি হলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
- ১. আধুনিক মুদ্রণ পদ্ধতির প্রবর্তন: উপেন্দ্রকিশোরই প্রথম বাংলায় 'হাফ-টোন ব্লক' প্রিন্টিং পদ্ধতি, রঙিন ছবি ছাপার কৌশল এবং 'স্ক্রিন অ্যাডজাস্টমেন্ট'-এর মতো আধুনিক মুদ্রণ প্রক্রিয়া প্রবর্তন করেন। তিনি বিলেত থেকে উন্নত ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি আনিয়েছিলেন।
- ২. 'ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স': ১৮৮৫ সালে তিনি 'ইউ. রায়' নামে যে ছাপাখানা খোলেন, তা-ই ১৮৯৫ সালে 'ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স' নামে এক বিশ্বমানের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এখানকার ছাপার মান ছিল তৎকালীন বিলেতের সমান।
- ৩. 'সন্দেশ' পত্রিকা: ১৯১৩ সালে তিনি শিশুদের জন্য 'সন্দেশ' পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার অনবদ্য ছাপা, রঙিন ছবি ও অলঙ্করণ বাংলার প্রকাশনা জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করে। তাঁর লেখা 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত' ইত্যাদি গ্রন্থগুলিও এই প্রেস থেকে ছাপা হয়।
-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাভাবনার সমালোচনামূলক আলোচনা করো। Madhyamik 2023
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সমালোচক ছিলেন এবং তার বিকল্প হিসাবে এক নতুন শিক্ষাচিন্তার প্রবর্তন করেন, যা শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর মাধ্যমে রূপায়িত হয়।
শিক্ষাভাবনার মূল দিক (পক্ষে):
- ১. প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিক্ষা: রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন, চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ শিক্ষা ('কলের পুতুল' তৈরির কারখানা) শিশুর মনের বিকাশ ঘটায় না। তাই তিনি শান্তিনিকেতনে প্রকৃতির কোলে, মুক্ত পরিবেশে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন।
- ২. পূর্ণাঙ্গ মানুষ গঠন: তাঁর শিক্ষার লক্ষ্য শুধু কেরানি তৈরি ছিল না, বরং নাচ, গান, শিল্পকলা, সাহিত্য ও কলার চর্চার মাধ্যমে শিশুর ভেতরের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করে এক 'পূর্ণাঙ্গ মানুষ' তৈরি করা।
- ৩. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়: 'বিশ্বভারতী'-র মাধ্যমে তিনি প্রাচ্য (ভারত, চীন, জাপান) ও পাশ্চাত্যের (ইউরোপ, আমেরিকা) শ্রেষ্ঠ জ্ঞান ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছিলেন।
সমালোচনা (সীমাবদ্ধতা):
- ১. ব্যয়বহুল ও অভিজাত: শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতীর শিক্ষাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে সাধারণ দরিদ্র ঘরের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে এই শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব ছিল না। এটি মূলত উচ্চবিত্ত ও অভিজাত শ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।
- ২. বাস্তবতার অভাব: সমালোচকরা বলেন, এই শিক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত আদর্শবাদী ছিল। তৎকালীন ঔপনিবেশিক ভারতে জীবিকা অর্জনের জন্য যে বাস্তববাদী শিক্ষার প্রয়োজন ছিল, তা এখানে উপেক্ষিত হয়েছিল।
-
বাংলায় ছাপাখানার ব্যবসায়িক উদ্যোগ সমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। Madhyamik 2023
উনিশ শতকে ধর্মপ্রচার ও শিক্ষাবিস্তারের পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেও বাংলায় ছাপাখানার বিকাশ ঘটে:
- ১. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য: তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি যিনি মুদ্রণকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন। তিনি 'বেঙ্গল গেজেট প্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন এবং 'অন্নদামঙ্গল'-এর মতো সচিত্র গ্রন্থ ছেপে প্রকাশ ও বিক্রি করেন।
- ২. বটতলা প্রকাশনা: কলকাতার শোভাবাজার-চিৎপুর অঞ্চলের 'বটতলা'কে কেন্দ্র করে একাধিক ছোট ছাপাখানা গড়ে ওঠে। এগুলি সস্তায় ধর্মীয় গ্রন্থ, পঞ্জিকা, লোকসাহিত্য ও ব্যঙ্গাত্মক বই (যেমন - 'হুতোম প্যাঁচার নকশা') ছেপে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং একটি বড় বাজার তৈরি করে।
- ৩. বিদ্যাসাগরের উদ্যোগ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'সংস্কৃত প্রেস' (১৮৪৭) ও 'সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি' প্রতিষ্ঠা করে নিজের লেখা পাঠ্যপুস্তক (বর্ণপরিচয়, বোধোদয়) এবং অন্যান্য গ্রন্থ ছেপে প্রকাশ ও বিক্রির মাধ্যমে ছাপাখানাকে এক সম্মানজনক ও লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত করেন।
- ৪. ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স: উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 'ইউ. রায় অ্যান্ড সন্স' (১৮৯৫) প্রতিষ্ঠা করে মুদ্রণ শিল্পকে ব্যবসায়িক সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যান।
-
ছাপাখানা বাংলায় শিক্ষা বিস্তারে কীরূপ পরিবর্তন এনেছিল? Madhyamik 2022 & 2019 & 2017
বাংলায় ছাপাখানার বিকাশ শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল:
- ১. বইয়ের সহজলভ্যতা: ছাপাখানার আগে পুঁথির মাধ্যমে জ্ঞান সীমাবদ্ধ ছিল। ছাপাখানার ফলে কম সময়ে, কম খরচে প্রচুর পরিমাণে বই ছাপানো সম্ভব হয়। বইয়ের দাম কমে যাওয়ায় তা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসে।
- ২. পাঠ্যপুস্তকের প্রসার: বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়', 'বোধোদয়'-এর মতো আদর্শ পাঠ্যপুস্তকগুলি লক্ষ লক্ষ কপি ছেপে বাংলার প্রতিটি গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এর ফলেই প্রাথমিক শিক্ষার বুনিয়াদ তৈরি হয়।
- ৩. উচ্চশিক্ষার উন্নতি: স্কুল বুক সোসাইটি, ক্যালকাটা বুক সোসাইটি এবং শ্রীরামপুর মিশন প্রেস বিভিন্ন বিষয়ে (বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস) বই ছেপে উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করে।
- ৪. জনশিক্ষার প্রসার: শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, পত্রপত্রিকা, পঞ্জিকা ও বটতলার বইগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
-
বাংলায় ছাপাখানার বিকাশে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্যের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2022 & 2018
বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ছিলেন এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁকে প্রথম বাঙালি পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা বলা হয়।
- ১. প্রথম বাঙালি প্রকাশক: এর আগে মূলত ইংরেজ মিশনারিরাই ছাপাখানার উদ্যোক্তা ছিলেন। গঙ্গাকিশোরই প্রথম বাঙালি হিসাবে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মুদ্রণ ব্যবসায় আসেন।
- ২. 'বেঙ্গল গেজেট প্রেস': তিনি 'বেঙ্গল গেজেট প্রেস' নামে নিজের ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৩. সচিত্র গ্রন্থ প্রকাশ: তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতচন্দ্রের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের সচিত্র সংস্করণ প্রকাশ। এটিই ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সচিত্র বা ছবিসহ বই।
- ৪. সংবাদপত্র প্রকাশ: তিনি 'বাঙ্গাল গেজেটি' (১৮১৮) নামে এক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। এটিই ছিল কোনো বাঙালির দ্বারা প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
-
হ্যালহেডের 'এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? বাংলা ছাপাখানার বিকাশে চার্লস উইলকিন্স-এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2022
হ্যালহেডের গ্রন্থের গুরুত্ব: ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেডের লেখা 'এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮) গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটিই ছিল বাংলা হরফে ছাপা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ বই। এই বই ছাপার প্রয়োজনেই প্রথম বাংলা অক্ষরের 'ছাঁচ' বা 'হরফ' (Type) তৈরি করা হয়, যা বাংলা মুদ্রণ শিল্পের সূচনা করে।
চার্লস উইলকিন্সের ভূমিকা: চার্লস উইলকিন্সকে 'বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক' বলা হয়।
- ১. বাংলা হরফের স্রষ্টা: তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ কর্মচারী ও মুদ্রণ বিশারদ। হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ ছাপার জন্য তিনিই প্রথম বাংলা অক্ষরের 'ছাঁচ' বা 'হরফ' (Type) খোদাই করে তৈরি করেন।
- ২. ছাপাখানা স্থাপন: তিনি ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই হ্যালহেডের গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়।
- ৩. পঞ্চানন কর্মকারের গুরু: তিনি পঞ্চানন কর্মকারের মতো দক্ষ বাঙালি খোদাইকারকে তাঁর শিষ্য হিসাবে গ্রহণ করেন এবং হরফ তৈরির কাজ শেখান। পরবর্তীকালে পঞ্চাননই শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের হরফ তৈরি করে বাংলা মুদ্রণকে এগিয়ে নিয়ে যান।
-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা ও শান্তিনিকেতন ভাবনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। Madhyamik 2020 & 2018
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার এক কঠোর সমালোচক। তিনি এই শিক্ষাকে 'কলের পুতুল' তৈরির কারখানা বলতেন। এর বিকল্প হিসাবে তিনি তাঁর নিজস্ব শিক্ষাচিন্তা ও ভাবনার উপর ভিত্তি করে শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন।
শিক্ষাচিন্তা ও শান্তিনিকেতন ভাবনা:
- ১. প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিক্ষা: রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন, শিশুদের মনের বিকাশের জন্য প্রকৃতির সাহচর্য অপরিহার্য। তাই তিনি শান্তিনিকেতনে চার দেওয়ালের বাইরে, গাছের তলায়, মুক্ত আকাশের নীচে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন।
- ২. পূর্ণাঙ্গ মানুষ গঠন: তাঁর শিক্ষার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীর মনের পূর্ণ বিকাশ। তাই পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি তিনি শান্তিনিকেতনে শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা ইত্যাদি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেন, যাতে এক 'পূর্ণাঙ্গ মানুষ' তৈরি হয়।
- ৩. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয়: তিনি ১৯২১ সালে 'বিশ্বভারতী' প্রতিষ্ঠা করেন। এর লক্ষ্য ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদানপ্রদান। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা, "যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্" (যেখানে সমগ্র বিশ্ব এক নীড়ে পরিণত হয়)।
- ৪. গ্রামীণ উন্নয়ন (শ্রীনিকেতন): শিক্ষার পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ সমাজের উন্নতির জন্য 'শ্রীনিকেতন' (১৯২২) প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে কৃষি, পশুপালন ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের স্বনির্ভর করার শিক্ষা দেওয়া হতো।
-
বাংলায় কারিগরী শিক্ষার বিকাশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। Madhyamik 2019 & 2017
উনিশ শতকে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটলেও কারিগরি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
- ১. প্রাথমিক উদ্যোগ: ১৮৫৪ সালে 'উডের ডেসপ্যাচ'-এ প্রথম কারিগরি শিক্ষার কথা বলা হয়। এরপর ১৮৫৬ সালে 'কলকাতা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ' (বর্তমানে শিবপুর BE College) প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এগুলি ছিল মূলত সরকারি প্রয়োজন মেটানোর জন্য।
- ২. জাতীয় শিক্ষা পরিষদের উদ্যোগ: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের সময় (১৯০৫) কারিগরি শিক্ষায় স্বনির্ভরতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'জাতীয় শিক্ষা পরিষদ' (NCE) কারিগরি শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেয়।
- ৩. বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (BTI): জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীনে তারকনাথ পালিত, রাসবিহারী ঘোষ প্রমুখের উদ্যোগে 'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' (BTI) প্রতিষ্ঠিত হয় (১৯০৬)। এটিই ছিল স্বদেশি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ও প্রধান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
- ৪. পরিণতি: পরবর্তীকালে BTI-ই আজকের বিখ্যাত 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়'-এর রূপ নেয়, যা আজও ভারতের শ্রেষ্ঠ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম।