অধ্যায় ৩: প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ (Class 10 History Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় 'প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
কোল বিদ্রোহ (১৮৩১-১৮৩২) দমনে কোম্পানির সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেন Madhyamik 2025 (Sample)
-
'বাংলার নানাসাহেব' নামে পরিচিত ছিলেন Madhyamik 2025 (Sample)
-
ঔপনিবেশিক অরণ্য আইনের (১৮৭৮ খ্রিঃ) বিরুদ্ধে সংঘটিত আদিবাসী বিদ্রোহটি হল Madhyamik 2024
-
নীলবিদ্রোহের দু'জন উল্লেখযোগ্য নেতা দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস চৌগাছা গ্রামে বাস করতেন, এটি ছিল Madhyamik 2024
-
'জঙ্গলমহল' নামে একটি পৃথক জেলা গঠন করা হয়েছিল Madhyamik 2023
-
ভারতের রাজকীয় বনবিভাগের প্রথম ইন্সপেক্টর জেনারেল ছিলেন Madhyamik 2023
-
ঔপনিবেশিক অরণ্যআইনের বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি আদিবাসী বিদ্রোহ হল Madhyamik 2022
-
'সন্ন্যাসী বিদ্রোহ' কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন Madhyamik 2022
-
সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কৃষক বিদ্রোহটি হল Madhyamik 2022
-
মির নিশার আলি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন Madhyamik 2022
-
দ্বিতীয় অরণ্য আইনে (১৮৭৮) লাভবান হয়েছিল Madhyamik 2020
-
'হুল' কথাটির অর্থ হল Madhyamik 2020 & 2024 (বহিরাগত)
-
তিতুমিরের প্রকৃত নাম ছিল Madhyamik 2019
-
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন Madhyamik 2019
-
কোল বিদ্রোহ (১৮৩১-৩২) অনুষ্ঠিত হয়েছিল Madhyamik 2018
-
ভারতে প্রথম অরণ্য আইন পাশ হয় Madhyamik 2018
-
সুই মুন্ডা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন Madhyamik 2017
-
১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে অরণ্য আইনে অরণ্যকে ভাগ করা হয় Madhyamik 2017
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
নীলবিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন বিশ্বনাথ সর্দার। Madhyamik 2024
উত্তর: শু
-
ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন দুদুমিঞা। Madhyamik 2024
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: হাজী শরিয়ৎ উল্লাহ)।
-
ঔপনিবেশিক সরকার উপজাতিদের জন্য 'দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সী' নামে একটি পৃথক অঞ্চল গঠন করেছিলেন। ব্যাখ্যা ২: এটি গঠিত হয়েছিল কোল বিদ্রোহের পর। Madhyamik 2022
উত্তর: শু
-
ফরাজী একটি প্রাচীন উপজাতির নাম। Madhyamik 2018
উত্তর: অ (ফরাজী একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়)।
শূন্যস্থান পূরণ / স্তম্ভ মেলাও
-
সুই মুন্ডা ছিলেন ________ বিদ্রোহের অন্যতম নেতা। Madhyamik 2019 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: কোল
-
'হুল' কথাটির অর্থ হল ________। Madhyamik 2022 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: বিদ্রোহ (সাঁওতাল বিদ্রোহ)।
-
'নীল দর্পণ' নাটকটি রচনা করেন ________। Madhyamik 2022 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: দীনবন্ধু মিত্র
-
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের একজন নেতা ছিলেন ________। Madhyamik 2020 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: ভবানী পাঠক (বা দেবী চৌধুরানী)
-
সিধু ও কানু ছিলেন ________ বিদ্রোহের নেতা। Madhyamik 2025 (Sample) (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: সাঁওতাল
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
কোন্ বিদ্রোহে সুইমুণ্ডা নেতৃত্ব দেন? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: কোল বিদ্রোহে।
-
বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হ'ল কেন? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহ (ওয়াহাবি আন্দোলন) ব্যর্থ হয়েছিল কারণ এটি ছিল একটি স্থানীয় বিদ্রোহ, এর উন্নত রণকৌশল ও আধুনিক অস্ত্রের অভাব ছিল এবং ব্রিটিশ সেনাপতি লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উন্নত কামান ও সৈন্যবাহিনী দিয়ে সহজেই এই বিদ্রোহ দমন করেন।
-
সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫-১৮৫৬) গুরুত্ব কী? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব হলো, এই বিদ্রোহের ফলেই ব্রিটিশ সরকার সাঁওতালদের জন্য 'সাঁওতাল পরগনা' নামে একটি পৃথক জেলা গঠন করতে এবং তাদের কিছু প্রথাগত আইন ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
-
সাঁওতাল বিদ্রোহের দু'জন নেতার নাম লেখ। Madhyamik 2025 (Sample) (বহিরাগত)
উত্তর: সিধু ও কানু।
-
'পাইক' কাদের বলা হত? Madhyamik 2024
উত্তর: মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া অঞ্চলের (জঙ্গলমহল) জমিদারদের অধীনে যেসব সৈন্য সামন্ত বেতনের পরিবর্তে নিষ্কর জমি ভোগ করত, তাদের পাইক বলা হত। চুয়াড় বিদ্রোহে এরা যুক্ত ছিল।
-
'হেদায়তী' নামে কারা পরিচিত ছিল? Madhyamik 2024
উত্তর: হাজী শরিয়ৎ উল্লাহর ফরাজী আন্দোলন বা মতবাদ যারা মেনে চলত, তাদের 'হেদায়তী' বলা হত।
-
'বিপ্লব' বলতে কী বোঝায়? Madhyamik 2024 (বহিরাগত) & 2022 (বহিরাগত) & 2019 (বহিরাগত)
উত্তর: 'বিপ্লব' কথার অর্থ হলো একটি প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল, দ্রুত ও হিংসাত্মক পরিবর্তন। এর মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক কাঠামোর সম্পূর্ণ বদল ঘটে।
-
দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সী কেন গড়ে তোলা হয়েছিল? Madhyamik 2023
উত্তর: কোল বিদ্রোহের (১৮৩১-৩২) পর ব্রিটিশ সরকার আদিবাসী অধ্যুষিত ছোটনাগপুর অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে এবং ওই অঞ্চলে ব্রিটিশ আইন সরাসরি প্রয়োগ না করে পৃথকভাবে শাসনের জন্য 'দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সী' গঠন করে।
-
ফরাজি অন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ কী? Madhyamik 2023
উত্তর: দুদু মিঞার মৃত্যুর (১৮৬২) পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, আন্দোলনের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির ফলে ফরাজি আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
-
বারাসাত বিদ্রোহের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। Madhyamik 2023
উত্তর: তিতুমিরের বারাসাত বিদ্রোহ প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন (ওয়াহাবি) হিসাবে শুরু হলেও, পরবর্তীকালে এটি স্থানীয় জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক গণবিদ্রোহের রূপ ধারণ করেছিল।
-
ফরাজি আন্দোলন ব্যর্থ হ'ল কেন? Madhyamik 2022
উত্তর: ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে নেতা দুদু মিঞার মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, আন্দোলনের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা এবং ব্রিটিশ বাহিনীর দমননীতির কারণে ফরাজি আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
-
তিতুমীর স্মরণীয় কেন? Madhyamik 2022 & 2024 (বহিরাগত)
উত্তর: তিতুমীর (মির নিসার আলি) বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতা হিসাবে স্থানীয় জমিদার, মহাজন ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দরিদ্র কৃষক ও তাঁতিদের সংগঠিত করে বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন এবং বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
-
নীল কমিশন কবে গঠিত হয়? Madhyamik 2022 (বহিরাগত)
উত্তর: ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে।
-
ভাগনাডিহিতে কোন্ বিদ্রোহের সূচনা হয়? Madhyamik 2022 (বহিরাগত)
উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহ ('হুল')।
-
চুয়াড় বিদ্রোহের (১৭৯৮-১৭৯৯) গুরুত্ব কী ছিল? Madhyamik 2020
উত্তর: চুয়াড় বিদ্রোহের গুরুত্ব হলো, এই বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে চুয়ার অধ্যুষিত জঙ্গলমহল অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে 'জঙ্গলমহল' নামে একটি পৃথক জেলা গঠন করে।
-
ফরাজি আন্দোলন কী নিছক ধর্মীয় আন্দোলন ছিল? Madhyamik 2020 & 2017
উত্তর: না, হাজী শরিয়ৎ উল্লাহর নেতৃত্বে ফরাজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কার (ইসলামের শুদ্ধিকরণ) হিসাবে শুরু হলেও, দুদু মিঞার নেতৃত্বে এটি জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বিরোধী কৃষক বিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল।
-
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ব্যর্থ হল কেন? Madhyamik 2019
উত্তর: এই বিদ্রোহের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও যোগ্য নেতার অভাব ছিল, এটি ছিল অসংগঠিত ও স্থানীয় প্রকৃতির। সর্বোপরি, লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের কঠোর দমননীতির ফলে এটি ব্যর্থ হয়।
-
নীল বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা কিরূপ ছিল? Madhyamik 2019
উত্তর: রেভারেন্ড জেমস লঙ-এর মতো খ্রিস্টান মিশনারিরা নীল চাষিদের উপর নীলকরদের অত্যাচারকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। জেমস লঙ 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ প্রকাশ করার অপরাধে কারাবরণও করেন।
-
দুদু মিঞা স্মরণীয় কেন? Madhyamik 2018
উত্তর: দুদু মিঞা ছিলেন ফরাজি আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি তাঁর বাবা হাজী শরিয়ৎ উল্লাহর ধর্মীয় আন্দোলনকে জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বিরোধী এক শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন।
-
নীল বিদ্রোহে হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কীরূপ ছিল? Madhyamik 2018
উত্তর: 'হিন্দু পেট্রিয়ট' পত্রিকার সম্পাদক হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে নীলকরদের অত্যাচারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং নীল চাষিদের পক্ষ নিয়ে জনমত গঠন করেন।
-
'উলগুলান' বলতে কী বোঝায়? Madhyamik 2017
উত্তর: 'উলগুলান' একটি মুন্ডারি শব্দ, যার অর্থ 'ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা' বা 'মহান বিদ্রোহ'। বীরসা মুন্ডার নেতৃত্বে পরিচালিত মুন্ডা বিদ্রোহ (১৮৯৯-১৯০০) 'উলগুলান' নামে পরিচিত।
-
নীলকররা নীলচাষীদের উপর কীভাবে অত্যাচার করত তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। Madhyamik 2017
উত্তর: নীলকররা কৃষকদের উৎকৃষ্ট জমিতে ধান বা পাটের বদলে নীল চাষে বাধ্য করত, 'দাদন' বা অগ্রিম টাকা নিতে বাধ্য করত এবং অত্যন্ত কম মূল্যে নীল বিক্রি করতে বাধ্য করত। রাজি না হলে কৃষকদের অপহরণ, গৃহবন্দী, প্রহার ও তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হতো।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
মুণ্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯-১৯০০) গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো। Madhyamik 2025 (Sample)
বীরসা মুন্ডার নেতৃত্বে পরিচালিত মুন্ডা বিদ্রোহ বা 'উলগুলান'-এর গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী:
- ১. ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন পাশ (১৯০৮): এই বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ সালে 'ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন' (Chotanagpur Tenancy Act) পাশ করতে বাধ্য হয়।
- ২. 'খুঁৎকাঠি' প্রথার স্বীকৃতি: এই আইনের মাধ্যমে মুন্ডাদের জমির উপর চিরাচরিত 'খুঁৎকাঠি' বা যৌথ মালিকানার প্রথাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ৩. বেট-বেগারি প্রথার অবসান: আদিবাসীদের উপর বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া 'বেট-বেগারি' বা বেগার শ্রম প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়।
- ৪. রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি: এই বিদ্রোহ পরবর্তীকালে ভারতের অন্যান্য আদিবাসী ও কৃষক আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল।
-
নীলবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙ্গালী সমাজের ভূমিকা কীরূপ ছিল? Madhyamik 2025 (Sample)
নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬০) ছিল প্রথম বিদ্রোহগুলির মধ্যে অন্যতম যেখানে শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণি কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল।
- ১. সংবাদপত্রের ভূমিকা: হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের 'হিন্দু পেট্রিয়ট' পত্রিকা সাহসিকতার সঙ্গে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী প্রকাশ করে এবং চাষিদের পক্ষ নিয়ে জনমত গঠন করে।
- ২. সাহিত্যিকদের ভূমিকা: দীনবন্ধু মিত্র তাঁর 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের মাধ্যমে নীল চাষিদের উপর অত্যাচারের এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেন, যা সারা বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন (প্রকাশক: রেভারেন্ড জেমস লঙ)।
- ৩. আইনি সহায়তা ও সভা: শিশিরকুমার ঘোষের মতো সাংবাদিকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। অনেক আইনজীবী কৃষকদের পক্ষে আইনি লড়াই চালান এবং কলকাতায় বিভিন্ন সভা-সমিতির মাধ্যমে এই বিদ্রোহকে সমর্থন জানানো হয়।
এইভাবে, শিক্ষিত সমাজের সমর্থন নীল বিদ্রোহকে একটি নিছক কৃষক বিদ্রোহের স্তর থেকে জাতীয় স্তরের আন্দোলনে উন্নীত করতে সাহায্য করেছিল।
-
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের (১৭৬৩-১৮০০) সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। এই বিদ্রোহের ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ছিল? Madhyamik 2025 (Sample) & 2022
বিবরণ: ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের (১৭৭০) পরবর্তী সময়ে বাংলার আর্ত-পীড়িত কৃষক, কারিগর এবং ইংরেজ শাসনে জমি হারানো জমিদারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সন্ন্যাসী (যেমন - ভবানী পাঠক) ও ফকিররা (যেমন - মজনু শাহ) ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ শুরু করে, তা সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ নামে খ্যাত। তারা কোম্পানির কুঠি, রাজস্ব কেন্দ্র এবং ইংরেজ সমর্থক জমিদারদের উপর আক্রমণ চালায়। ওয়ারেন হেস্টিংসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী কঠোর দমননীতির মাধ্যমে এই বিদ্রোহ দমন করে।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য:
- ১. প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ: এটিই ছিল ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক প্রতিরোধ আন্দোলন।
- ২. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য: এই বিদ্রোহে হিন্দু সন্ন্যাসী ও মুসলিম ফকিররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল, যা ধর্মীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
- ৩. পরবর্তী বিদ্রোহে অনুপ্রেরণা: এই বিদ্রোহ পরবর্তীকালের কৃষক ও উপজাতি বিদ্রোহগুলিকে প্রত্যক্ষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- ৪. সাহিত্যের অনুপ্রেরণা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' (১৮৮২) এবং 'দেবী চৌধুরানী' উপন্যাস দুটি এই বিদ্রোহের পটভূমিতেই রচিত হয়েছিল।
-
'বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব' এর ধারণাটি ব্যাখ্যা করো। Madhyamik 2023
বিদ্রোহ (Revolt): যখন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ, কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা শ্রেণির মানুষ, কোনো নির্দিষ্ট শোষক (যেমন - জমিদার, নীলকর, সরকার) বা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং প্রচলিত আইন অমান্য করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন তাকে বিদ্রোহ বলে। এটি সাধারণত স্থানীয় ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়।
উদাহরণ: সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫)।অভ্যুত্থান (Uprising): যখন কোনো বিদ্রোহ বা আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং দেশের আপামর জনসাধারণ তাতে সামিল হয়ে শাসক শ্রেণিকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করে, তখন তাকে অভ্যুত্থান বলে। এটি একটি গণ-আন্দোলন।
উদাহরণ: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ বা ১৯৪৬ সালের নৌ-বিদ্রোহ।বিপ্লব (Revolution): 'বিপ্লব' কথার অর্থ হলো একটি প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল, দ্রুত ও হিংসাত্মক পরিবর্তন। এর মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক কাঠামোর সম্পূর্ণ বদল ঘটে এবং নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদাহরণ: ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯)। -
ঔপনিবেশিক সরকার কী উদ্দেশ্যে অরণ্য আইন প্রণয়ন করেছিল? Madhyamik 2022 & 2018
ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার অরণ্য আইন (১৮৬৫, ১৮৭৮) প্রণয়ন করেছিল মূলত নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে:
- ১. রেলপথ নির্মাণ: ভারতে রেলপথের বিস্তার ঘটানোর জন্য স্লিপার তৈরির কাজে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান কাঠের (শাল, সেগুন) প্রয়োজন হয়। এই কাঠ অরণ্য থেকে সংগ্রহ করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
- ২. জাহাজ নির্মাণ: ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জন্য জাহাজ তৈরি ও মেরামতির কাজে উন্নতমানের কাঠের জোগান নিশ্চিত করা।
- ৩. রাজস্ব বৃদ্ধি: অরণ্য ও বনজ সম্পদের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তা থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা।
- ৪. আদিবাসী নিয়ন্ত্রণ: অরণ্যবাসী উপজাতি (কোল, মুন্ডা, সাঁওতাল) যারা অরণ্যকে নিজেদের ঐতিহ্যগত সম্পত্তি মনে করত, তাদের অরণ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ব্রিটিশ শাসনকে সুদৃঢ় করা।
-
নীল বিদ্রোহে সংবাদপত্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2022
নীল বিদ্রোহে (১৮৫৯-৬০) বাংলার সংবাদপত্রগুলি, বিশেষত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত চালিত পত্রিকাগুলি, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল:
- ১. হিন্দু পেট্রিয়ট: হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় 'হিন্দু পেট্রিয়ট' পত্রিকা নির্ভীকভাবে নীলকরদের শোষণ, অত্যাচার ও বেআইনি কাজের বিবরণ প্রকাশ করে। এই পত্রিকা চাষিদের আইনি পরামর্শ দিত এবং শিক্ষিত সমাজকে বিদ্রোহের সমর্থনে জনমত গঠনে সাহায্য করেছিল।
- ২. সোমপ্রকাশ: দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের 'সোমপ্রকাশ' পত্রিকাও নীল চাষিদের পক্ষে এবং নীলকরদের বিপক্ষে জোরালো সওয়াল করে।
- ৩. অন্যান্য পত্রিকা: এছাড়া 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা', 'সংবাদ প্রভাকর' এবং বিদেশি পত্রিকা 'বেঙ্গল হরকরা' ও 'ইন্ডিয়ান ফিল্ড' নীল বিদ্রোহের খবর পরিবেশন করে এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
এইভাবেই সংবাদপত্রগুলি নীল বিদ্রোহকে স্থানীয় স্তর থেকে জাতীয় স্তরের আলোচনায় পরিণত করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে 'নীল কমিশন' (১৮৬০) গঠনে বাধ্য করেছিল।
-
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল কেন? Madhyamik 2017
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে সাঁওতালদের ('হুল') বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি হলো:
- ১. ভূমি রাজস্ব ও শোষণ: ব্রিটিশ সরকার সাঁওতালদের নিজস্ব ভূমি 'দামিন-ই-কোহ' (পাহাড়ের প্রান্তদেশ) অঞ্চলের উপর উচ্চহারে রাজস্ব চাপায়। পাশাপাশি বাঙালি ও বহিরাগত জমিদার, মহাজন (দিকু) ও ব্যবসায়ীরা সাঁওতালদের ঋণের জালে জড়িয়ে তাদের জমিজমা কেড়ে নিত।
- ২. ঠিকাদারদের অত্যাচার: রেলপথ নির্মাণের কাজে নিযুক্ত ঠিকাদাররা সাঁওতালদের জোর করে বেগার শ্রমে (বেট-বেগারি) বাধ্য করত এবং তাদের নারীদের উপর অত্যাচার করত।
- ৩. ব্রিটিশ আইন ও বিচারব্যবস্থা: ব্রিটিশ পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে জমিদার ও মহাজনদের পক্ষে ছিল। সাঁওতালরা কোনো ন্যায়বিচার পেত না।
- ৪. সংস্কৃতির উপর হস্তক্ষেপ: সাঁওতালদের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে ব্রিটিশ ও বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ তাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।