পৃথিবীর আবর্তন
"পৃথিবীর আবর্তন" অধ্যায়ে পৃথিবীর আহ্নিক গতি বা আবর্তন গতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরাম ঘুরছে, যার ফলে দিন ও রাত হয় এবং সূর্যের দৈনিক আপাত গতি দেখা যায়। এই অধ্যায়ে আবর্তনের সময়, গতিবেগের তারতম্য, ছায়াবৃত্ত, ঊষা ও গোধূলির মতো বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও, আবর্তন গতির সঙ্গে সম্পর্কিত সময় ও তারিখের ধারণা, যেমন স্থানীয় সময়, প্রমাণ সময় এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি
আবর্তন গতি (Rotation)
পৃথিবী তার নিজের কাল্পনিক অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরামভাবে যে গতিতে পাক খাচ্ছে, তাকে আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি বলে।
সূর্যের দৈনিক আপাত-গতি (Apparent Daily Motion of the Sun)
পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য আমাদের চোখে সূর্যকে প্রতিদিন পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলাচল করতে দেখা যায়। সূর্যের এই ظاهری চলাচলকে দৈনিক আপাত-গতি বলে।
দিন ও রাত (Day and Night)
আবর্তন গতির ফলে পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে সেখানে দিন এবং তার বিপরীত অংশে রাত হয়।
ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination)
পৃথিবীর আলোকিত অর্ধাংশ ও অন্ধকার অর্ধাংশের সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে। এই বৃত্তাকার রেখাটিই দিন ও রাতের সীমানা নির্ধারণ করে।
ঊষা ও গোধূলি (Dawn and Dusk)
সূর্যোদয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে আকাশে যে হালকা আলোর আভা দেখা যায়, তাকে ঊষা বলে। অন্যদিকে, সূর্যাস্তের পরেও কিছুক্ষণ যে ক্ষীণ আলো থাকে, তাকে গোধূলি বলে।
স্থানীয় সময় (Local Time)
কোনো স্থানে মধ্যাহ্নে সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থানের সময়কে দুপুর ১২টা ধরে যে সময় গণনা করা হয়, তা হলো ওই স্থানের স্থানীয় সময়।
প্রমাণ সময় (Standard Time)
কোনো দেশের মাঝ বরাবর অবস্থিত কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে যখন সারা দেশের জন্য প্রমাণ সময় হিসেবে ধরা হয়, তখন তাকে প্রমাণ সময় বলে।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line)
প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে কল্পিত যে রেখা অতিক্রম করলে দিন বা তারিখ পরিবর্তিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১. পৃথিবী তার অক্ষের চারিদিকে যে গতিতে ঘোরে তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. আবর্তন গতি
বিশ্লেষণ: পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে পাক খাচ্ছে, যা আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
২. পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করে?
সঠিক উত্তর: C. পশ্চিম থেকে পূর্বে
বিশ্লেষণ: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলেই সূর্যকে পূর্ব দিকে উঠতে দেখা যায়।
৩. পৃথিবীর একবার আবর্তন করতে কত সময় লাগে?
সঠিক উত্তর: B. ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
বিশ্লেষণ: এটি হলো পৃথিবীর প্রকৃত আবর্তনকাল, যা প্রায় ২৪ ঘণ্টার সমান।
৪. পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে কী হয়?
সঠিক উত্তর: A. দিন ও রাত হয়
বিশ্লেষণ: আবর্তন গতির কারণেই পৃথিবীর এক অংশে দিন ও তার বিপরীত অংশে রাত হয়।
৫. পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
সঠিক উত্তর: C. নিরক্ষরেখায়
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখার পরিধি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় একই সময়ে বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়, তাই এখানে বেগ সর্বাধিক (প্রায় ১৬৫০ কিমি/ঘণ্টা)।
৬. পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে কম কোথায়?
সঠিক উত্তর: B. মেরু বিন্দুতে
বিশ্লেষণ: মেরু দুটি বিন্দু হওয়ায় সেখানে আবর্তনের কোনো রৈখিক বেগ নেই (বেগ শূন্য)।
৭. আলোকিত ও অন্ধকার অংশের সীমারেখাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. ছায়াবৃত্ত
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর দিন ও রাতের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার সীমারেখাটি হলো ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination)।
৮. সূর্যোদয়ের আগের সময়কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: C. ঊষা
বিশ্লেষণ: সূর্য দিগন্তের নিচে থাকলেও তার আলো বায়ুমণ্ডলে বিচ্ছুরিত হয়ে যে হালকা আভা তৈরি করে, তাকে ঊষা বলে।
৯. সূর্যাস্তের পরের সময়কে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: D. গোধূলি
বিশ্লেষণ: সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ আকাশে যে ক্ষীণ আলো থাকে, তাকে গোধূলি বলে।
১০. আমরা পৃথিবী থেকে ছিটকে যাই না কেন?
সঠিক উত্তর: C. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল সবকিছুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টেনে রাখে।
১১. দিনের কোন সময়ে ছায়া সবচেয়ে ছোটো হয়?
সঠিক উত্তর: C. দুপুরে
বিশ্লেষণ: দুপুরে সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকায় ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হয়।
১২. কোনো স্থানের স্থানীয় সময় কখন দুপুর ১২টা হয়?
সঠিক উত্তর: B. সূর্য মাথার উপর এলে
বিশ্লেষণ: কোনো দ্রাঘিমারেখায় সূর্য যখন সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকে, তখন সেখানে দুপুর ১২টা ধরে স্থানীয় সময় গণনা করা হয়।
১৩. ভারতের প্রমাণ সময় কোন দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়?
সঠিক উত্তর: B. 82°30' পূর্ব
বিশ্লেষণ: ৮২°৩০' পূর্ব দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে সমগ্র ভারতের প্রমাণ সময় হিসেবে ধরা হয়।
১৪. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোন দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে?
সঠিক উত্তর: C. 180°
বিশ্লেষণ: মূলমধ্যরেখার বিপরীতে অবস্থিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
১৫. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রম করে পশ্চিম গোলার্ধে গেলে কী করতে হয়?
সঠিক উত্তর: B. একদিন কমিয়ে নিতে হয়
বিশ্লেষণ: পূর্ব গোলার্ধ থেকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পেরিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে গেলে একদিন বিয়োগ করতে হয়।
১৬. 'a.m.' কথাটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: B. Ante Meridiem
বিশ্লেষণ: এটি একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ 'মধ্যাহ্নের আগে' (Before Midday)।
১৭. 'p.m.' বলতে কোন সময়কে বোঝায়?
সঠিক উত্তর: B. দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টার আগে
বিশ্লেষণ: Post Meridiem বা p.m. হলো মধ্যাহ্নের পরের সময়।
১৮. পৃথিবীর আবর্তন গতি থেমে গেলে কী হবে?
সঠিক উত্তর: B. পৃথিবীর অর্ধেক চিরদিন ও অর্ধেক চিররাত থাকবে
বিশ্লেষণ: আবর্তন না হলে পৃথিবীর একটি দিক সবসময় সূর্যের দিকে এবং অন্য দিকটি সবসময় অন্ধকারে থাকবে।
১৯. কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রথম প্রমাণ করেন যে পৃথিবী ঘুরছে?
সঠিক উত্তর: C. কোপারনিকাস
বিশ্লেষণ: পোল্যান্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপারনিকাস প্রথম প্রমাণ করেন যে সূর্য স্থির এবং পৃথিবী ঘুরছে।
২০. সূর্যের দৈনিক আপাত-গতির কারণ কী?
সঠিক উত্তর: B. পৃথিবীর আবর্তন গতি
বিশ্লেষণ: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরছে বলেই আমাদের চোখে সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে সরতে দেখা যায়।
২১. রেলস্টেশনের ঘড়িতে 17:00 hrs মানে সাধারণ ঘড়িতে ক'টা বাজে?
সঠিক উত্তর: B. বিকেল ৫টা
বিশ্লেষণ: ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে ১২টার পর থেকে সময় গণনা করতে ১২ বিয়োগ করতে হয় (১৭ - ১২ = ৫)।
২২. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা মূলত কোন মহাসাগরের ওপর দিয়ে গেছে?
সঠিক উত্তর: C. প্রশান্ত মহাসাগর
বিশ্লেষণ: স্থলভাগকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য রেখাটি মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে।
২৩. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বাঁকানো কেন?
সঠিক উত্তর: B. স্থলভাগকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য
বিশ্লেষণ: একই দেশের বা দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে রেখাটি গেলে সেখানে একই সাথে দুটি ভিন্ন তারিখ হতো, এই অসুবিধা দূর করার জন্য রেখাটিকে বাঁকানো হয়েছে।
২৪. পৃথিবীর পরিধি প্রায় কত?
সঠিক উত্তর: A. ৪০,০০০ কিমি
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার।
২৫. পৃথিবী ১ ঘণ্টায় কত পথ অতিক্রম করে?
সঠিক উত্তর: A. প্রায় ১৬৫০ কিমি
বিশ্লেষণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর পরিধি (প্রায় ৪০,০০০ কিমি) কে ২৪ ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করলে এই গতিবেগ পাওয়া যায়।
২৬. এক দিনে কত সেকেন্ড?
সঠিক উত্তর: B. 86400
বিশ্লেষণ: এক দিন = ২৪ ঘণ্টা, ১ ঘণ্টা = ৬০ মিনিট, ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড। অতএব, ২৪ x ৬০ x ৬০ = ৮৬,৪০০ সেকেন্ড।
২৭. পূর্ব দিকের জায়গায় সময় এগিয়ে থাকে কেন?
সঠিক উত্তর: C. পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে
বিশ্লেষণ: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলে পূর্ব দিকের স্থানগুলি আগে সূর্যের সামনে আসে, তাই সেখানকার সময় এগিয়ে থাকে।
২৮. 'Meridian' শব্দটির অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: C. মধ্যাহ্ন
বিশ্লেষণ: 'Meridian' একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ 'Midday' বা মধ্যাহ্ন।
২৯. দ্রাঘিমা বদলে গেলে কী বদলে যায়?
সঠিক উত্তর: C. স্থানীয় সময়
বিশ্লেষণ: ভিন্ন ভিন্ন দ্রাঘিমায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সূর্য মধ্যাহ্নে আসে, তাই স্থানীয় সময়ও বদলে যায়।
৩০. রাত ১২টাকে ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে কীভাবে দেখানো হয়?
সঠিক উত্তর: C. 00:00 hrs
বিশ্লেষণ: ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে একটি নতুন দিনের শুরু মাঝরাত ১২টায় হয়, যা 00:00 ঘণ্টা হিসেবে দেখানো হয়।
৩১. কোন দেশে প্রথম নতুন বছরের সূর্যোদয় দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: D. জাপান
বিশ্লেষণ: জাপানকে 'সূর্যোদয়ের দেশ' বলা হয় কারণ এটি পূর্ব দিকে অবস্থিত হওয়ায় অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দিনকে স্বাগত জানায়।
৩২. ফার্দিনান্দ ম্যাগেলানের সঙ্গীরা পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে এসে কী অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করেন?
সঠিক উত্তর: B. তাদের হিসাবে একদিন কম ছিল
বিশ্লেষণ: তারা পশ্চিম দিকে যাত্রা করায় পৃথিবীর আবর্তনের বিপরীতে যাচ্ছিলেন, ফলে তাদের একটি দিন লাভ হয় এবং দেশের ক্যালেন্ডারের থেকে একদিন পিছিয়ে পড়েন।
৩৩. পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে কত কোণে হেলে থাকে?
সঠিক উত্তর: B. ৬৬.৫°
বিশ্লেষণ: পৃথিবী তার কক্ষপথের সমতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থেকে আবর্তন ও পরিক্রমণ করে।
৩৪. এক ঘণ্টা সমান কত মিনিট?
সঠিক উত্তর: A. ৬০
বিশ্লেষণ: ১ ঘণ্টা সময়কে সমান ৬০ ভাগে ভাগ করলে ১ মিনিট পাওয়া যায়।
৩৫. নতুন তারিখ কোথা থেকে শুরু হয়?
সঠিক উত্তর: C. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
বিশ্লেষণ: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা থেকেই নতুন দিনের বা তারিখের সূচনা ধরা হয়।
৩৬. এক মিনিট সমান কত সেকেন্ড?
সঠিক উত্তর: B. ৬০
বিশ্লেষণ: ১ মিনিট সময়কে সমান ৬০ ভাগে ভাগ করলে ১ সেকেন্ড পাওয়া যায়।
৩৭. দিনরাত্রির সীমানা কি স্থির?
সঠিক উত্তর: B. না
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে ছায়াবৃত্ত বা দিনরাত্রির সীমানাও ক্রমাগত পশ্চিম থেকে পূর্বে সরে যেতে থাকে।
৩৮. ভারতে যখন সকাল, তখন আমেরিকায় রাত কেন?
সঠিক উত্তর: B. আমেরিকা পৃথিবীর বিপরীত দিকে অবস্থিত
বিশ্লেষণ: গোলাকার পৃথিবীর যেদিকে ভারত অবস্থিত, আমেরিকা তার প্রায় উল্টো দিকে অবস্থিত। তাই ভারতে যখন সূর্যের আলো পড়ে, তখন আমেরিকা অন্ধকারে থাকে।
৩৯. পৃথিবীর আবর্তন গতি না থাকলে কি প্রাণের অস্তিত্ব থাকত?
সঠিক উত্তর: B. না
বিশ্লেষণ: আবর্তন গতি না থাকলে একদিকে প্রচণ্ড গরম ও অন্যদিকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠত।
৪০. পশ্চিম দিকে গেলে সময় পিছিয়ে যায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. পৃথিবীর আবর্তনের বিপরীতে যাওয়া হয়
বিশ্লেষণ: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে। তাই পশ্চিম দিকে যাত্রা করলে পৃথিবীর আবর্তনের গতির বিরুদ্ধে যাওয়া হয় এবং ক্রমশ কম সময়ের স্থানে পৌঁছানো যায়।
৪১. কোন গতিকে আহ্নিক গতিও বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B. আবর্তন গতি
বিশ্লেষণ: 'অহ্ন' কথার অর্থ দিন। আবর্তন গতির ফলে দিন হয় বলে একে আহ্নিক গতিও বলা হয়।
৪২. পৃথিবীর আবর্তনের ধারণা পেতে কোন বস্তুর ঘূর্ণন দেখা যেতে পারে?
সঠিক উত্তর: A. লাট্টু
বিশ্লেষণ: লাট্টু যেমন একটি অদৃশ্য অক্ষের উপর ভর করে ঘোরে, পৃথিবীও তেমনি তার কাল্পনিক অক্ষের উপর ঘোরে।
৪৩. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পার হলে কী পরিবর্তন হয় না?
সঠিক উত্তর: C. সময়
বিশ্লেষণ: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পার হলে শুধু তারিখ ও বার পাল্টে যায়, কিন্তু ঘড়ির সময় একই থাকে।
৪৪. পৃথিবীর পূর্ব দিকের দেশগুলি আগে নববর্ষ পালন করে কেন?
সঠিক উত্তর: B. তাদের সময় এগিয়ে থাকে
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর আবর্তনের কারণে পূর্ব দিকের দেশগুলিতে আগে সূর্য ওঠে এবং তাদের সময় এগিয়ে থাকে, তাই তারা আগে নতুন দিন বা বছরকে স্বাগত জানায়।
৪৫. একটি দেশের মধ্যে একটাই সময় রাখা হয় কেন?
সঠিক উত্তর: C. রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার জন্য
বিশ্লেষণ: একটি দেশে বিভিন্ন স্থানীয় সময় থাকলে ট্রেন চলাচল, অফিস-আদালত ও অন্যান্য যোগাযোগে প্রচণ্ড অসুবিধা হবে। তাই একটি প্রমাণ সময় ধরা হয়।
৪৬. ছায়া দেখে সময় নির্ধারণের পদ্ধতি কে ব্যবহার করত?
সঠিক উত্তর: B. প্রাচীনকালের মানুষ
বিশ্লেষণ: প্রাচীনকালে ঘড়ি ছিল না, তখন মানুষ সূর্যের অবস্থান ও বস্তুর ছায়ার দৈর্ঘ্য দেখে সময় আন্দাজ করত।
৪৭. নিরক্ষরেখায় আবর্তনের বেগ প্রায় কত?
সঠিক উত্তর: C. ১৬৫০ কিমি/ঘণ্টা
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর নিরক্ষীয় পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিমি, যা ২৪ ঘণ্টায় ঘুরতে হলে গতিবেগ হয় প্রায় ১৬৫০ কিমি/ঘণ্টা।
৪৮. চলন্ত ট্রেনে বসে থাকলে বাইরের গাছপালাকে উল্টোদিকে চলতে দেখা যায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. এটি দৃষ্টিভ্রম
বিশ্লেষণ: আসলে ট্রেনটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তাই আপেক্ষিক গতির কারণে বাইরের স্থির বস্তুগুলিকে বিপরীত দিকে চলতে দেখা যায়।
৪৯. আবর্তন গতির অন্য নাম কী?
সঠিক উত্তর: D. B এবং C উভয়ই
বিশ্লেষণ: আবর্তন গতির ফলে দিন-রাত হয়, তাই একে দৈনিক গতি বা আহ্নিক গতি বলা হয়।
৫০. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কথা প্রথম কোন বিজ্ঞানী বলেন?
সঠিক উত্তর: B. নিউটন
বিশ্লেষণ: বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন প্রথম মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা দেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
প্রশ্ন ১: আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী তার নিজের কাল্পনিক অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অবিরামভাবে যে গতিতে পাক খাচ্ছে, তাকে আবর্তন গতি বা আহ্নিক গতি বলে।
প্রশ্ন ২: পৃথিবীর একবার আবর্তন করতে প্রকৃত কত সময় লাগে?
উত্তর: পৃথিবীর একবার সম্পূর্ণ আবর্তন করতে সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।
প্রশ্ন ৩: দিন ও রাত কেন হয়?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য এর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং বিপরীত অংশে রাত হয়।
প্রশ্ন ৪: সূর্যের দৈনিক আপাত-গতি কী?
উত্তর: পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তনের জন্য সূর্যকে প্রতিদিন পূর্ব আকাশে উঠে পশ্চিম আকাশে অস্ত যেতে দেখা যায়। সূর্যের এই ظاهری চলাচলকে দৈনিক আপাত-গতি বলে।
প্রশ্ন ৫: ছায়াবৃত্ত কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর আলোকিত অর্ধাংশ ও অন্ধকার অর্ধাংশের মিলনকারী বৃত্তাকার সীমারেখাটিকে ছায়াবৃত্ত বলে।
প্রশ্ন ৬: ঊষা ও গোধূলি কী?
উত্তর: সূর্যোদয়ের আগে আকাশে যে হালকা আলো দেখা যায় তা হলো ঊষা এবং সূর্যাস্তের পরেও কিছুক্ষণ যে ক্ষীণ আলো থাকে তা হলো গোধূলি।
প্রশ্ন ৭: পৃথিবীর আবর্তনের বেগ কোথায় সবচেয়ে বেশি ও কোথায় সবচেয়ে কম?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের বেগ নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১৬৫০ কিমি/ঘণ্টা) এবং দুই মেরুতে সবচেয়ে কম (শূন্য)।
প্রশ্ন ৮: আমরা পৃথিবীর আবর্তন গতি অনুভব করি না কেন?
উত্তর: আমরা পৃথিবীর পৃষ্ঠে গাছপালা, ঘরবাড়ি সহ সমস্ত কিছুর সাথেই একই গতিতে ঘুরছি বলে আবর্তন গতি অনুভব করি না।
প্রশ্ন ৯: স্থানীয় সময় কাকে বলে?
উত্তর: কোনো স্থানে মধ্যাহ্নে সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থানকে দুপুর ১২টা ধরে যে সময় গণনা করা হয়, তাকে ওই স্থানের স্থানীয় সময় বলে।
প্রশ্ন ১০: প্রমাণ সময় কী?
উত্তর: কোনো দেশের মাঝ বরাবর অবস্থিত কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে যখন সারা দেশের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কাজের সুবিধার জন্য অনুসরণ করা হয়, তখন তাকে প্রমাণ সময় বলে।
প্রশ্ন ১১: ভারতের প্রমাণ সময় কোন দ্রাঘিমারেখার ভিত্তিতে গণনা করা হয়?
উত্তর: ভারতের প্রমাণ সময় ৮২°৩০' পূর্ব দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময় অনুযায়ী গণনা করা হয়।
প্রশ্ন ১২: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কাকে বলে?
উত্তর: ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে কল্পিত যে রেখা অতিক্রম করলে দিন বা তারিখ পরিবর্তিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
প্রশ্ন ১৩: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি আঁকাবাঁকা কেন?
উত্তর: স্থলভাগের উপর দিয়ে গেলে একই দেশের মধ্যে দুটি ভিন্ন তারিখ হয়ে যেত। এই অসুবিধা এড়ানোর জন্য রেখাটিকে স্থলভাগ এড়িয়ে শুধু জলের ওপর দিয়ে আঁকা হয়েছে, তাই এটি আঁকাবাঁকা।
প্রশ্ন ১৪: a.m. ও p.m. এর পুরো কথা কী?
উত্তর: a.m. এর পুরো কথা হলো Ante Meridiem (মধ্যাহ্নের আগে) এবং p.m. এর পুরো কথা হলো Post Meridiem (মধ্যাহ্নের পরে)।
প্রশ্ন ১৫: পৃথিবীর আবর্তন থেমে গেলে কী ঘটবে?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন থেমে গেলে এর এক অর্ধাংশে চিরদিন এবং অপর অর্ধাংশে চিররাত বিরাজ করবে, ফলে পৃথিবী প্রাণের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
প্রশ্ন ১৬: পূর্বদিকের স্থানগুলিতে আগে সূর্যোদয় হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে বলে পূর্বদিকের স্থানগুলি আগে সূর্যের সামনে আসে এবং সেখানে আগে সূর্যোদয় হয়।
প্রশ্ন ১৭: ছায়া কখন সবচেয়ে লম্বা হয়?
উত্তর: সকালে সূর্যোদয়ের ঠিক পরে এবং বিকেলে সূর্যাস্তের ঠিক আগে ছায়া সবচেয়ে লম্বা হয়।
প্রশ্ন ১৮: একটি সৌরদিন কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখা সূর্যের সামনে পুনরায় ফিরে আসতে যে সময় লাগে (প্রায় ২৪ ঘণ্টা), তাকে এক সৌরদিন বলে।
প্রশ্ন ১৯: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পেরিয়ে পূর্ব গোলার্ধে গেলে কী করতে হয়?
উত্তর: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পেরিয়ে পশ্চিম গোলার্ধ থেকে পূর্ব গোলার্ধে গেলে ক্যালেন্ডারে একদিন যোগ করতে হয়।
প্রশ্ন ২০: কে প্রথম বলেন যে পৃথিবী স্থির নয়, সূর্যই স্থির?
উত্তর: পোল্যান্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপারনিকাস প্রথম বলেন যে সূর্য স্থির এবং পৃথিবী তার চারপাশে ঘুরছে।
প্রশ্ন ২১: ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে দুপুর ২টোকে কীভাবে লেখা হয়?
উত্তর: ২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে দুপুর ২টোকে 14:00 hrs. লেখা হয়।
প্রশ্ন ২২: পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কী?
উত্তর: পৃথিবী যে শক্তি দ্বারা তার পৃষ্ঠের ওপর থাকা সমস্ত বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, তাকেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বলে।
প্রশ্ন ২৩: পৃথিবীর আবর্তনের দুটি ফলাফল উল্লেখ করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের দুটি ফলাফল হলো: (১) দিন-রাত্রির সংগঠন এবং (২) সূর্য ও অন্যান্য জ্যোতিষ্কের দৈনিক আপাত-গতি।
প্রশ্ন ২৪: কোন গতিকে বার্ষিক গতি বলে?
উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার গতিকে বার্ষিক গতি বলে।
প্রশ্ন ২৫: ট্রেন বা বাসে চললে বাইরের স্থির জিনিসকে গতিশীল মনে হয় কেন?
উত্তর: আপেক্ষিক গতির কারণে এটি হয়। আমরা নিজেরা গতিশীল থাকায় বাইরের স্থির বস্তুগুলিকে আমাদের গতির বিপরীত দিকে গতিশীল বলে মনে হয়।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রধান তিনটি ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রধান তিনটি ফলাফল হলো:
(ক) দিন-রাত্রি সংগঠন: পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় আবর্তনের সময় এর যে অংশ সূর্যের দিকে থাকে, সেখানে দিন হয় এবং বিপরীত অংশে রাত হয়। ছায়াবৃত্ত নামক একটি রেখা এই আলোকিত ও অন্ধকার অংশকে পৃথক করে।
(খ) সূর্যের দৈনিক আপাত-গতি: পৃথিবী নিজে পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরছে বলে আমাদের চোখে সূর্যকে প্রতিদিন পূর্ব আকাশে উদিত হয়ে পশ্চিম আকাশে অস্ত যেতে দেখা যায়। সূর্যের এই দৈনিক চলাচলকে আপাত-গতি বলে।
(গ) সময় গণনা: পৃথিবীর একবার আবর্তন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এই সময়কে ভিত্তি করেই ঘণ্টা, মিনিট ও সেকেন্ড গণনা করা হয় এবং স্থানীয় ও প্রমাণ সময় নির্ধারণ করা হয়।
প্রশ্ন ২: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কী? এর প্রয়োজনীয়তা লেখো।
উত্তর: আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা: মূলমধ্যরেখার ঠিক বিপরীতে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে প্রায় অনুসরণ করে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত একটি কাল্পনিক রেখা কল্পনা করা হয়েছে, যা অতিক্রম করলে দিন বা তারিখ পরিবর্তিত হয়। একেই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
প্রয়োজনীয়তা: পৃথিবী গোল হওয়ায় পূর্ব বা পশ্চিমে ক্রমাগত ভ্রমণ করলে সময়ের যে সমস্যা হয় (যেমন ম্যাগেলানের একদিন হারিয়ে যাওয়া), তা দূর করার জন্য একটি নির্দিষ্ট রেখার প্রয়োজন ছিল যেখান থেকে নতুন তারিখ শুরু হবে। এই রেখাটি পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের মধ্যে তারিখের সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং বিশ্বজুড়ে দিন গণনার বিভ্রান্তি দূর করে।
প্রশ্ন ৩: পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আবর্তনের বেগ ভিন্ন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবী একটি গোলক হওয়ায় এর বিভিন্ন অক্ষরেখার পরিধি বা দৈর্ঘ্য ভিন্ন। নিরক্ষরেখার পরিধি সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০,০০০ কিমি) এবং মেরুর দিকে এই পরিধি ক্রমশ কমতে কমতে মেরুবিন্দুতে এসে শূন্য হয়ে যায়।
পৃথিবীর সব স্থানই প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার முழு আবর্তন করে। যেহেতু একই সময়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের স্থানগুলিকে সবচেয়ে বেশি পথ এবং মেরু অঞ্চলের স্থানগুলিকে সবচেয়ে কম পথ অতিক্রম করতে হয়, তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে আবর্তনের রৈখিক বেগ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১৬৫০ কিমি/ঘণ্টা) হয় এবং মেরুর দিকে এই বেগ ক্রমশ কমতে থাকে। মেরুবিন্দুতে এই বেগ শূন্য।
প্রশ্ন ৪: স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়ের মধ্যে পার্থক্য কী? ভারতে প্রমাণ সময়ের গুরুত্ব কী?
উত্তর: পার্থক্য:
(ক) স্থানীয় সময়: কোনো স্থানের দ্রাঘিমা অনুযায়ী, আকাশে সূর্যের অবস্থান দেখে যে সময় নির্ধারণ করা হয়, তাকে স্থানীয় সময় বলে। প্রতিটি দ্রাঘিমার স্থানীয় সময় আলাদা হয়।
(খ) প্রমাণ সময়: একটি দেশের মধ্যে প্রশাসনিক কাজ, রেল চলাচল ইত্যাদির সুবিধার জন্য দেশের মাঝ বরাবর কোনো একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে যখন সারা দেশের জন্য মেনে চলা হয়, তখন তাকে প্রমাণ সময় বলে।
ভারতে গুরুত্ব: ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট। যদি সারা দেশে আলাদা আলাদা স্থানীয় সময় ব্যবহার করা হতো, তবে ট্রেন চলাচল, বিমান পরিষেবা, অফিস-আদালতের কাজে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। এই সমস্যা দূর করার জন্য ভারতের প্রায় মাঝখান দিয়ে যাওয়া ৮২°৩০' পূর্ব দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সারা দেশের প্রমাণ সময় হিসেবে ধরা হয়েছে, যা এই সমস্ত কাজে সমন্বয় বজায় রাখে।
প্রশ্ন ৫: ঊষা ও গোধূলি সৃষ্টির কারণ কী? ছায়াবৃত্ত কাকে বলে?
উত্তর: ঊষা ও গোধূলি সৃষ্টির কারণ: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের জন্য ঊষা ও গোধূলি হয়। সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের পরে সূর্য যখন দিগন্তের কিছুটা নিচে থাকে, তখন সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরের ধূলিকণায় প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়। সূর্যকে সরাসরি দেখা না গেলেও এই ক্ষীণ আলোর উপস্থিতির কারণেই যথাক্রমে ঊষা ও গোধূলি হয়।
ছায়াবৃত্ত: আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অর্ধেক অংশ সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকে এবং বাকি অর্ধেক অন্ধকারে থাকে, সেই আলোকিত ও অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার সীমারেখাটিকে ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination) বলে। এই রেখাটিই দিন ও রাতের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে।