পৃথিবী কী গোল
"পৃথিবী কী গোল" অধ্যায়ে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে প্রাচীন ধারণা থেকে আধুনিক পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত আলোচনা করা হয়েছে। পৃথিবী যে চ্যাপ্টা নয়, বরং গোলাকার—তার সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ, যেমন—দূর থেকে জাহাজের দৃশ্যমানতা, চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া এবং ম্যাগেলানের বিশ্ব পরিক্রমার কথা বলা হয়েছে। তবে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়; এটি মেরু অঞ্চলে চাপা এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্ফীত। পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতিকে 'জিয়ড' বলা হয়। অধ্যায়টিতে পৃথিবীর ব্যাস, পরিধি এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থান সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি
দিগন্ত (Horizon)
কোনো খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূমি একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে। এই কাল্পনিক রেখাকে দিগন্ত বলে।
ভূ-প্রদক্ষিণ (Circumnavigation)
সমুদ্রপথে বা আকাশপথে সমগ্র পৃথিবীকে একবার ঘুরে আসাকে ভূ-প্রদক্ষিণ বলে।
জিয়ড (Geoid)
পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘোরে বলে এর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুদ্বয় কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত। পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতিকেই জিয়ড বলে, যার অর্থ 'পৃথিবীর মতো' (Earth-shaped)।
মেরুব্যাস (Polar Diameter)
পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কাল্পনিক সংযোজক সরলরেখাকে মেরুব্যাস বলে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২,৭১৪ কিমি।
নিরক্ষীয় ব্যাস (Equatorial Diameter)
পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত কল্পিত সরলরেখাকে নিরক্ষীয় ব্যাস বলে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২,৭৫৬ কিমি।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১. প্রাচীনকালে মানুষ পৃথিবীকে কেমন মনে করত?
সঠিক উত্তর: B. চ্যাপ্টা রুটির মতো
বিশ্লেষণ: প্রাচীনকালে মানুষ বিশ্বাস করত যে, পৃথিবীটা চ্যাপটা রুটির মতো এবং এর একটি শেষ প্রান্ত আছে।
২. কোন গ্রিক দার্শনিক প্রথম বলেছিলেন যে পৃথিবী গোলাকার?
সঠিক উত্তর: C. এরাটোস্থেনিস
বিশ্লেষণ: খ্রিস্ট জন্মের প্রায় দুশো বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এরাটোস্থেনিস জাহাজের দৃশ্যমানতা লক্ষ করে বলেছিলেন যে পৃথিবী আসলে গোলাকার।
৩. কে প্রথম সমুদ্রপথে পৃথিবী পরিক্রমা করেন?
সঠিক উত্তর: C. ম্যাগেলান
বিশ্লেষণ: ১৫১৯ সালে পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ম্যাগেলান পাঁচটি জাহাজ নিয়ে ক্রমাগত পশ্চিম দিকে যাত্রা করে আবার একই বন্দরে ফিরে আসেন।
৪. আমরা পৃথিবীকে চ্যাপ্টা দেখি কেন?
সঠিক উত্তর: C. পৃথিবী অনেক বিশাল
বিশ্লেষণ: পৃথিবী এতই বিশাল যে একনজরে এর খুব সামান্য অংশই আমাদের চোখে পড়ে। তাই ভূপৃষ্ঠকে চ্যাপ্টা সমতল বলে মনে হয়।
৫. চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর কার ছায়া পড়ে?
সঠিক উত্তর: C. পৃথিবীর
বিশ্লেষণ: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া পড়ে, যা প্রমাণ করে পৃথিবী গোল।
৬. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতিকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B. জিয়ড
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো, যাকে ইংরাজিতে জিয়ড (Geoid) বলা হয়।
৭. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
সঠিক উত্তর: A. ৬৪০০ কিমি
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৪০০ কিলোমিটার।
৮. পৃথিবীর মেরুব্যাস কত?
সঠিক উত্তর: B. ১২৭১৪ কিমি
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত ব্যাস হলো ১২,৭১৪ কিমি।
৯. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত?
সঠিক উত্তর: D. ১২৭৫৬ কিমি
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর মাঝ বরাবর নিরক্ষীয় অঞ্চলের ব্যাস হলো ১২,৭৫৬ কিমি।
১০. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস মেরুব্যাসের চেয়ে কত বেশি?
সঠিক উত্তর: A. ৪২ কিমি
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২৭৫৬ কিমি) মেরুব্যাসের (১২৭১৪ কিমি) চেয়ে ৪২ কিমি বেশি।
১১. পৃথিবীর পরিধি প্রায় কত?
সঠিক উত্তর: C. ৪০,০০০ কিমি
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার।
১২. পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. মাউন্ট এভারেস্ট
বিশ্লেষণ: হিমালয় পর্বতের মাউন্ট এভারেস্ট সমুদ্র সমতল থেকে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান।
১৩. পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান কোনটি?
সঠিক উত্তর: B. মারিয়ানা খাত
বিশ্লেষণ: প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত সমুদ্র সমতল থেকে ১০,৯১৫ মিটার নীচু, যা পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান।
১৪. পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থানের মধ্যে পার্থক্য কত?
সঠিক উত্তর: B. প্রায় ২০ কিমি
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেস্ট এবং সর্বনিম্ন স্থান মারিয়ানা খাতের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ২০,০০০ মিটার বা ২০ কিমি।
১৫. মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায়?
সঠিক উত্তর: B. মসৃণ গোলকের মতো
বিশ্লেষণ: পৃথিবী একটি বিশাল গোলক হওয়ায় এর গায়ে পাহাড়-পর্বত থাকা সত্ত্বেও মহাকাশ থেকে একে মসৃণ গোলকের মতোই দেখায়।
১৬. পৃথিবীর আকৃতি কোন ফলের সঙ্গে কিছুটা মেলে?
সঠিক উত্তর: D. কমলালেবু
বিশ্লেষণ: কমলালেবু বা ন্যাসপাতির মতো পৃথিবীও ওপর-নীচ কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর স্ফীত।
১৭. পৃথিবী মাঝ বরাবর স্ফীত কেন?
সঠিক উত্তর: A. নিজের অক্ষের চারিদিকে দ্রুত ঘোরে বলে
বিশ্লেষণ: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে অনেক দ্রুত ঘোরে বলে ওপর-নীচ কিছুটা চাপা আর মাঝ বরাবর কিছুটা স্ফীত হয়েছে।
১৮. কোন ভারতীয় বিজ্ঞানী পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কথা বলেছিলেন?
সঠিক উত্তর: B. আর্যভট্ট
বিশ্লেষণ: প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট গ্রিকদের মতো গোলাকার পৃথিবীর ধারণাকেই সমর্থন করেন।
১৯. দিগন্তরেখাকে গোলাকার মনে হয় কেন?
সঠিক উত্তর: B. পৃথিবী গোলাকার
বিশ্লেষণ: পৃথিবী গোলাকার বলেই কোনো ফাঁকা মাঠ বা সমুদ্র থেকে দিগন্তরেখাকে গোলাকার বলে মনে হয়।
২০. পৃথিবী চ্যাপ্টা হলে কী হতো?
সঠিক উত্তর: B. সবজায়গায় একই সময়ে সূর্যোদয় হতো
বিশ্লেষণ: পৃথিবী চ্যাপ্টা সমতল হলে এর সবজায়গাতেই একই সঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হতো।
২১. গোলাকার পৃথিবী থেকে আমরা পড়ে যাই না কেন?
সঠিক উত্তর: C. পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের জন্য
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বল সবকিছুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টেনে রাখে, তাই আমরা পড়ে যাই না।
২২. ম্যাগেলান কোন দেশের ভূপর্যটক ছিলেন?
সঠিক উত্তর: D. পর্তুগাল
বিশ্লেষণ: ফের্দিনান্দ ম্যাগেলান একজন পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ছিলেন।
২৩. দূর থেকে আসা জাহাজের প্রথমে কোন অংশ দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B. জাহাজের মাস্তুল
বিশ্লেষণ: পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় তীর থেকে দেখলে প্রথমে জাহাজের মাস্তুলের মাথা, তারপর পাল এবং শেষে পুরো জাহাজটি দেখা যায়।
২৪. পৃথিবী গোল - এই ধারণা প্রথম কাদের?
সঠিক উত্তর: C. গ্রিকদের
বিশ্লেষণ: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল এবং এরাটোস্থেনিস প্রথম পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি নিয়ে ধারণা দেন।
২৫. 'Geoid' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
সঠিক উত্তর: B. ইংরেজি
বিশ্লেষণ: 'Geoid' একটি ইংরেজি শব্দ, যার অর্থ 'Earth-shaped' বা পৃথিবীর মতো দেখতে।
২৬. বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে বেশি হয়?
সঠিক উত্তর: B. মেরু অঞ্চলে
বিশ্লেষণ: মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে হওয়ায় সেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি, তাই বস্তুর ওজনও বেশি হয়।
২৭. বস্তুর ওজন কোথায় সবচেয়ে কম হয়?
সঠিক উত্তর: A. নিরক্ষরেখায়
বিশ্লেষণ: নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব বেশি, তাই এখানে বস্তুর ওজন কিছুটা কম হয়।
২৮. বৃত্তচাপের ব্যাসার্ধ যত বড়ো হয়, তার বক্রতা তত—
সঠিক উত্তর: B. কম হয়
বিশ্লেষণ: বৃত্তচাপ যত বেশি দৈর্ঘ্যের ব্যাসার্ধ নিয়ে আঁকা হয়, তার বাঁকা ভাব বা বক্রতা তত কম হয়।
২৯. কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে পৃথিবীকে কেমন দেখায়?
সঠিক উত্তর: B. উজ্জ্বল নীল গোলক
বিশ্লেষণ: মহাকাশচারীরা মহাশূন্য থেকে এবং কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পৃথিবীকে উজ্জ্বল নীল গোলকের মতো দেখেছেন।
৩০. ম্যাগেলান কত সালে পৃথিবী পরিক্রমা শুরু করেন?
সঠিক উত্তর: C. ১৫১৯
বিশ্লেষণ: ১৫১৯ সালে পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ম্যাগেলান ৫টি জাহাজ নিয়ে তাঁর অভিযান শুরু করেন।
৩১. পৃথিবীর আকার কেমন হওয়া সত্ত্বেও একে গোল ধরা হয় কেন?
সঠিক উত্তর: B. হিসাবের সুবিধার জন্য
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর আকৃতি জিয়ড হলেও, মেরু অঞ্চলের চাপা ভাব ও নিরক্ষীয় অঞ্চলের স্ফীতি খুবই সামান্য। তাই বিভিন্ন হিসাবের সুবিধার জন্য পৃথিবীকে গোলাকার ধরা হয়।
৩২. মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
সঠিক উত্তর: A. ৮,৮৪৮ মি
বিশ্লেষণ: মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮ মিটার।
৩৩. মারিয়ানা খাতের গভীরতা কত?
সঠিক উত্তর: B. ১০,৯১৫ মি
বিশ্লেষণ: মারিয়ানা খাতের গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০,৯১৫ মিটার।
৩৪. পৃথিবীর ওপর-নীচ চাপা হওয়ার কারণ কী?
সঠিক উত্তর: B. আবর্তন গতি
বিশ্লেষণ: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে দ্রুত ঘোরার ফলেই এর দুই মেরুপ্রান্ত চাপা এবং মধ্যভাগ স্ফীত হয়েছে।
৩৫. 'পৃথিবী গোল'-এর একটি পরোক্ষ প্রমাণ কী?
সঠিক উত্তর: B. বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন সময়ে সূর্যোদয়
বিশ্লেষণ: পৃথিবী গোলাকার এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলেই পূর্ব দিকের স্থানগুলিতে আগে সূর্যোদয় হয়।
৩৬. বর্তমানে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোনটি?
সঠিক উত্তর: D. মহাকাশ থেকে তোলা ছবি
বিশ্লেষণ: কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশচারীদের তোলা ছবি সরাসরি প্রমাণ করে যে পৃথিবী গোলাকার।
৩৭. কোন মহাসাগরে মারিয়ানা খাত অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. প্রশান্ত
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা খাত প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
৩৮. গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল কীভাবে বুঝেছিলেন পৃথিবী গোল?
সঠিক উত্তর: A. চাঁদের উপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া দেখে
বিশ্লেষণ: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া দেখে বলেন যে পৃথিবী গোলাকার।
৩৯. দিগন্তকে সবসময় গোলাকার মনে হবে কোথা থেকে দেখলে?
সঠিক উত্তর: D. সবগুলিই সঠিক
বিশ্লেষণ: যেকোনো খোলা জায়গা, বিশেষ করে উঁচু স্থান বা সমুদ্র থেকে দেখলে দিগন্তকে গোলাকার মনে হয়।
৪০. পৃথিবীর মাঝ বরাবর স্ফীতির পরিমাণ কত?
সঠিক উত্তর: B. ৪২ কিমি
বিশ্লেষণ: নিরক্ষীয় ব্যাস মেরুব্যাসের থেকে ৪২ কিমি বেশি, অর্থাৎ পৃথিবী মাঝ বরাবর ৪২ কিমি স্ফীত।
৪১. শুধুমাত্র কোন আকারের বস্তুর ছায়া সর্বদা গোলাকার হয়?
সঠিক উত্তর: A. গোলাকার
বিশ্লেষণ: একমাত্র গোলাকার বস্তুর ছায়াই যেকোনো দিক থেকে গোলাকার হয়।
৪২. উঁচু জায়গা থেকে দেখলে কী হয়?
সঠিক উত্তর: C. দিগন্ত আরও বিস্তৃত ও গোলাকার মনে হয়
বিশ্লেষণ: যত উঁচু জায়গা থেকে দেখা যায়, ততই বেশি অংশ চোখে পড়ে এবং দিগন্তকে স্পষ্ট গোলাকার লাগে।
৪৩. পৃথিবী বিশাল হওয়া সত্ত্বেও মহাকাশ থেকে মসৃণ দেখায় কেন?
সঠিক উত্তর: C. বিশালতার তুলনায় বন্ধুরতা নগণ্য
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর বিশাল আকারের তুলনায় এর পৃষ্ঠের বন্ধুরতা (পাহাড়, খাত ইত্যাদি) খুবই কম, তাই দূর থেকে একে মসৃণ গোলক মনে হয়।
৪৪. পৃথিবী পরিক্রমার সময় ম্যাগেলান কোন দিকে যাত্রা করেছিলেন?
সঠিক উত্তর: D. পশ্চিমদিকে
বিশ্লেষণ: ম্যাগেলান তাঁর ৫টি জাহাজ নিয়ে ক্রমাগত পশ্চিমদিকে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আবার একই বন্দরে ফিরে এসেছিলেন।
৪৫. একটি বড় বৃত্তের সামান্য অংশকে কেমন দেখতে লাগে?
সঠিক উত্তর: C. প্রায় সোজা
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর ব্যাসার্ধ অনেক বড় হওয়ায় এর পৃষ্ঠের যে সামান্য অংশ আমরা দেখি, তা প্রায় সমতল বা সোজা মনে হয়।
৪৬. পৃথিবীর আকৃতির সঙ্গে কোন জ্যামিতিক আকারের মিল আছে?
সঠিক উত্তর: C. গোলক
বিশ্লেষণ: যদিও পৃথিবীর আকৃতি জিয়ড, তবে সাধারণ গণনার জন্য এটিকে গোলক হিসেবেই ধরা হয়।
৪৭. কোন গতি না থাকলে পৃথিবী পুরোপুরি গোল হতো?
সঠিক উত্তর: A. আবর্তন গতি
বিশ্লেষণ: যদি পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে না ঘুরত, তবে এর আকৃতি প্রায় সম্পূর্ণ গোলাকার হতো।
৪৮. মাউন্ট এভারেস্ট কোন পর্বতমালায় অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. হিমালয়
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত।
৪৯. দিগন্তরেখা কী?
সঠিক উত্তর: B. একটি কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা
বিশ্লেষণ: দিগন্তরেখা হলো একটি কাল্পনিক রেখা যেখানে আকাশ ও পৃথিবীকে মিশে যেতে দেখা যায়।
৫০. জাহাজ সমুদ্রের দিকে যাওয়ার সময় শেষে কোন অংশটি অদৃশ্য হয়?
সঠিক উত্তর: C. মাস্তুলের মাথা
বিশ্লেষণ: পৃথিবী গোলাকার হওয়ায়, দূরে যাওয়া জাহাজের প্রথমে নিচের অংশ, তারপর পাল এবং সবশেষে মাস্তুলের মাথা অদৃশ্য হয়ে যায়।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
প্রশ্ন ১: জিয়ড (Geoid) কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে ঘোরে বলে এর উত্তর-দক্ষিণ মেরুদ্বয় কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত। পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতিকেই জিয়ড বলে, যার অর্থ 'পৃথিবীর মতো' (Earth-shaped)।
প্রশ্ন ২: পৃথিবী যে গোল তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ কে দিয়েছিলেন?
উত্তর: পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ম্যাগেলান ১৫১৯ সালে সমুদ্রপথে পৃথিবী পরিক্রমা করে পৃথিবী যে গোল, তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৩: দিগন্তরেখা কী?
উত্তর: কোনো খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূমি একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে। এই কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাকেই দিগন্তরেখা বলে।
প্রশ্ন ৪: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর কেমন ছায়া পড়ে?
উত্তর: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া পড়ে।
প্রশ্ন ৫: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ও মেরুব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত?
উত্তর: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৬ কিমি) ও মেরুব্যাসের (১২,৭১৪ কিমি) মধ্যে পার্থক্য ৪২ কিমি।
প্রশ্ন ৬: আমরা পৃথিবীকে চ্যাপ্টা সমতল দেখি কেন?
উত্তর: পৃথিবী এত বিশাল যে এর বক্রতা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। আমরা একবারে ভূপৃষ্ঠের অতি সামান্য অংশই দেখতে পাই, তাই পৃথিবীকে চ্যাপ্টা সমতল মনে হয়।
প্রশ্ন ৭: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানের নাম কী ও এর উচ্চতা কত?
উত্তর: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান হলো মাউন্ট এভারেস্ট এবং এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮ মিটার।
প্রশ্ন ৮: পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থানের নাম কী ও এর গভীরতা কত?
উত্তর: পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত এবং এর গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,৯১৫ মিটার।
প্রশ্ন ৯: কোন কোন প্রাচীন মণীষী পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কথা বলেছিলেন?
উত্তর: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল, গ্রিক ভূগোলবিদ এরাটোস্থেনিস এবং ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কথা বলেছিলেন।
প্রশ্ন ১০: পৃথিবীর আকৃতি কমলালেবুর মতো বলা হয় কেন?
উত্তর: কমলালেবুর মতো পৃথিবীরও উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল সামান্য চাপা এবং মাঝ বরাবর নিরক্ষীয় অঞ্চল সামান্য স্ফীত, তাই এই তুলনা করা হয়।
প্রশ্ন ১১: পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
উত্তর: পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন ১২: উঁচু জায়গা থেকে দিগন্তরেখা কেমন দেখায়?
উত্তর: উঁচু জায়গা থেকে দিগন্তরেখা আরও বেশি বিস্তৃত এবং স্পষ্ট গোলাকার দেখায়।
প্রশ্ন ১৩: পৃথিবী সমতল হলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে কী পরিবর্তন হতো?
উত্তর: পৃথিবী সমতল হলে ভূপৃষ্ঠের সব জায়গায় একই সঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হতো।
প্রশ্ন ১৪: বর্তমানে পৃথিবী যে গোল তার সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ কী?
উত্তর: বর্তমানে মহাকাশ থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা পৃথিবীর আলোকচিত্রই হলো পৃথিবী যে গোল তার সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ।
প্রশ্ন ১৫: পৃথিবীর পরিধি প্রায় কত কিলোমিটার?
উত্তর: পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন ১৬: আমরা গোলাকার পৃথিবী থেকে ছিটকে পড়ে যাই না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল বা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য আমরা পৃথিবীর পৃষ্ঠে আটকে থাকি এবং ছিটকে পড়ে যাই না।
প্রশ্ন ১৭: মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি হয় কেন?
উত্তর: মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বেশি। তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি হয়।
প্রশ্ন ১৮: নিরক্ষীয় অঞ্চলে বস্তুর ওজন কম হয় কেন?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত হওয়ায় কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব বেশি। তাই সেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কিছুটা কম এবং বস্তুর ওজনও কম হয়।
প্রশ্ন ১৯: পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থানের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য কত?
উত্তর: পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থানের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ২০,০০০ মিটার বা ২০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন ২০: সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে একটি জাহাজকে চলে যেতে দেখলে কী মনে হয়?
উত্তর: জাহাজটি চলে যাওয়ার সময় মনে হয় যেন এটি একটি বাঁকানো ঢাল বেয়ে ধীরে ধীরে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ২১: এরাটোস্থেনিস কবে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কথা বলেন?
উত্তর: খ্রিস্ট জন্মের প্রায় দুশো বছর আগে এরাটোস্থেনিস পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির কথা বলেন।
প্রশ্ন ২২: পৃথিবীর আকৃতি এবড়ো-খেবড়ো নয় কেন?
উত্তর: পৃথিবীর বিশাল আকারের তুলনায় এর উপরিস্থিত পাহাড়, পর্বত, মালভূমি ইত্যাদির উচ্চতা বা গভীরতা খুবই নগণ্য। তাই পৃথিবীকে মহাকাশ থেকে মসৃণ দেখায়।
প্রশ্ন ২৩: পৃথিবীর মাঝ বরাবর স্ফীতির কারণ কী?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রবিমুখী বলের কারণে এর মাঝ বরাবর বা নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত হয়েছে।
প্রশ্ন ২৪: পৃথিবীর মেরুব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাস সমান নয় কেন?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য মেরু অঞ্চল চাপা এবং নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত হওয়ায় মেরুব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাস সমান নয়।
প্রশ্ন ২৫: "পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো"—কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এই কথাটির অর্থ হলো পৃথিবীর আকৃতি অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে হুবহু মেলে না; এর নিজস্ব একটি আকৃতি আছে, যাকে জিয়ড বলা হয়।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: পৃথিবী যে গোলাকার, তার সপক্ষে তিনটি প্রমাণ দাও।
উত্তর: পৃথিবী যে গোলাকার, তার সপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো:
(ক) জাহাজের দৃশ্যমানতা: সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে একটি জাহাজকে তীরের দিকে আসতে দেখলে প্রথমে জাহাজের মাস্তুল, তারপর পাল এবং শেষে পুরো জাহাজটিকে দেখা যায়। পৃথিবী সমতল হলে পুরো জাহাজটিকেই একসঙ্গে দেখা যেত। গোলাকার বলেই এমনটা হয়।
(খ) পৃথিবীর গোলাকার ছায়া: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, তা সর্বদা গোলাকার হয়। একমাত্র কোনো গোলাকার বস্তুর ছায়াই সবদিক থেকে গোলাকার হতে পারে।
(গ) ভূ-প্রদক্ষিণ: ১৫১৯ সালে নাবিক ম্যাগেলান একটি দিকে ক্রমাগত জাহাজ চালিয়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে আবার যাত্রার স্থানে ফিরে আসেন। পৃথিবী গোলাকার না হলে এটি সম্ভব হতো না।
প্রশ্ন ২: পৃথিবীর আকৃতিকে 'জিয়ড' বলা হয় কেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়। এটি নিজের অক্ষের উপর দ্রুত ঘোরার ফলে এর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল কিছুটা চাপা এবং মাঝ বরাবর নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত বা ফোলা। অর্থাৎ, পৃথিবীর আকৃতি অনেকটা কমলালেবু বা ন্যাসপাতির মতো। পৃথিবীর এই যে নিজস্ব বা স্বতন্ত্র আকৃতি, যা অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে হুবহু মেলে না, একেই 'জিয়ড' (Geoid) বলা হয়। 'জিয়ড' শব্দটির অর্থই হলো 'পৃথিবীর মতো' (Earth-shaped)। তাই বলা হয়, "পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি পৃথিবীরই মতো"।
প্রশ্ন ৩: পৃথিবীর বিশাল আকারের জন্য আমরা এর বক্রতা বুঝতে পারি না কেন? উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: পৃথিবী এত বিশাল যে এর পৃষ্ঠতলের বক্রতা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। আমরা একবারে ভূপৃষ্ঠের অতি সামান্য অংশই দেখতে পাই, যা আমাদের কাছে সমতল বলে মনে হয়।
উদাহরণ: একটি বড় ফুটবল বা ভূগোলকের উপর যদি একটি পিঁপড়ে হেঁটে যায়, তবে পিঁপড়ের কাছে ফুটবলের পৃষ্ঠটিকে চ্যাপ্টা বা সমতল মনে হবে, কারণ সে একবারে খুব সামান্য অংশই দেখতে পায়। ঠিক একই কারণে, পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৪০০ কিমি হওয়ায় এর বিশাল বক্র পৃষ্ঠের উপর দাঁড়িয়ে আমরা এর বক্রতা বুঝতে পারি না এবং আমাদের চারপাশকে চ্যাপ্টা সমতল বলে ভুল হয়।
প্রশ্ন ৪: পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থানের বিবরণ দাও। এর ফলে কি পৃথিবীর আকৃতির কোনো পরিবর্তন হয়?
উত্তর: সর্বোচ্চ স্থান: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান হলো হিমালয় পর্বতমালার 'মাউন্ট এভারেস্ট' শৃঙ্গ। সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার।
সর্বনিম্ন স্থান: পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান হলো প্রশান্ত মহাসাগরের 'মারিয়ানা খাত'। সমুদ্র সমতল থেকে এর গভীরতা প্রায় ১০,৯১৫ মিটার।
এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থানের মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ২০ কিমি হলেও পৃথিবীর আকৃতির বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয় না। কারণ, পৃথিবীর বিশাল আকারের (গড় ব্যাসার্ধ ৬,৪০০ কিমি) তুলনায় এই বন্ধুরতা খুবই নগণ্য। তাই মহাকাশ থেকে দেখলে পৃথিবীকে পাহাড়, পর্বত, খাত সত্ত্বেও একটি মসৃণ গোলকের মতোই মনে হয়।
প্রশ্ন ৫: নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনের تفاوت হয় কেন? পৃথিবীর আকৃতির সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?
উত্তর: পৃথিবীর জিয়ড আকৃতির জন্যই নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনের পার্থক্য দেখা যায়।
(ক) মেরু অঞ্চলে ওজন বেশি: পৃথিবীর মেরু অঞ্চল দুটি কিছুটা চাপা হওয়ায় মেরুপ্রদেশ পৃথিবীর কেন্দ্রের বেশি কাছে অবস্থিত। ফলে, এখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব বেশি হয়। তাই মেরু অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।
(খ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে ওজন কম: অন্যদিকে, পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত হওয়ায় এটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে অবস্থিত। ফলে, এখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কিছুটা কম হয়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়।
সুতরাং, পৃথিবীর জিয়ড আকৃতিই বস্তুর ওজনের এই তারতম্যের প্রধান কারণ।