আকাশ ভরা সূর্য তারা

Aakash
Aakash

'আকাশ ভরা সূর্য তারা' অধ্যায়ে মহাবিশ্বের বিশালতা ও তার বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয় এবং ধূলিকণা ও গ্যাস থেকে নীহারিকা, ছায়াপথ, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। আমাদের সৌরজগৎ 'আকাশগঙ্গা' নামক ছায়াপথের অংশ। সূর্য আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র। মহাবিশ্বের দূরত্ব মাপার জন্য 'আলোকবর্ষ' একক ব্যবহার করা হয়। আমাদের সৌরজগতের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য এবং তাকে ঘিরে ৮টি গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে। এছাড়াও সৌরজগতে গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু ও উল্কার মতো সদস্যরাও রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি

জ্যোতিষ্ক

দিনের বেলায় সূর্য এবং রাতের আকাশে চাঁদ সহ অসংখ্য আলোকবিন্দুকে জ্যোতিষ্ক বলে। যেমন - গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র।

মহাবিশ্ব (Universe)

কোটি কোটি জ্যোতিষ্ক, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূলিকণা, গ্যাস ইত্যাদি যা কিছু অসীম শূন্যস্থানে (Space) রয়েছে, সেই সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব গঠিত।

নীহারিকা (Nebula)

মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় তৈরি হওয়া অসংখ্য ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘকে নীহারিকা বলে। নীহারিকা থেকেই নক্ষত্রের জন্ম হয়।

ছায়াপথ (Galaxy)

লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণা নিয়ে এক একটি ছায়াপথ তৈরি হয়। আমাদের সৌরজগৎ আকাশগঙ্গা ছায়াপথের অন্তর্গত।

নক্ষত্র (Star)

নক্ষত্র হল একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড যার নিজস্ব আলো ও উত্তাপ আছে। সূর্য একটি নক্ষত্র।

আলোকবর্ষ (Light Year)

আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে এক বছরে যতটা দূরত্ব পার করে, তাকে এক আলোকবর্ষ বলে। এটি মহাকাশের দূরত্ব মাপার একক।

নক্ষত্রমণ্ডল (Constellation)

আকাশে কাছাকাছি থাকা কয়েকটি तारा-কে কাল্পনিকভাবে যোগ করলে যে আকৃতি তৈরি হয়, সেই তারার ঝাঁককে নক্ষত্রমণ্ডল বলে। যেমন: সপ্তর্ষিমণ্ডল।

সৌরজগৎ (Solar System)

সূর্য এবং তার আকর্ষণে প্রদক্ষিণকারী ৮টি গ্রহ, তাদের উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু ইত্যাদি সবকিছু নিয়ে সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার গঠিত।

গ্রহ (Planet)

যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ নেই এবং যারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়ে নক্ষত্রের আকর্ষণে তার চারপাশে ঘোরে, তাদের গ্রহ বলে।

উপগ্রহ (Satellite)

যেসব জ্যোতিষ্ক গ্রহের আকর্ষণে গ্রহের চারপাশে ঘোরে, তাদের উপগ্রহ বলে। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids)

মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণকারী অসংখ্য ছোট ছোট জ্যোতিষ্ককে একসঙ্গে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।

ধূমকেতু (Comet)

ঝাঁটার মতো লেজবিশিষ্ট উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক যা সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। সূর্যের কাছাকাছি এলে এর ধুলো ও গ্যাস জ্বলে উঠে লেজ তৈরি করে।

উল্কা (Meteor)

ধূমকেতু বা গ্রহাণুর ভাঙা অংশ পৃথিবীর দিকে ছুটে আসার সময় বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে, একেই উল্কা বা তারা খসা বলে।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

১. মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় প্রায় কত বছর আগে?

সঠিক উত্তর: B. ১৪০০ কোটি

বিশ্লেষণ: আধুনিক মত অনুযায়ী, প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের প্রসারণ শুরু হয়, যা বিগ ব্যাং নামে পরিচিত।

২. নক্ষত্রের জন্ম হয় কী থেকে?

সঠিক উত্তর: A. নীহারিকা

বিশ্লেষণ: মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় তৈরি হওয়া ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ বা নীহারিকা থেকেই নক্ষত্রের জন্ম হয়।

৩. আমাদের ছায়াপথের নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. আকাশগঙ্গা

বিশ্লেষণ: আমাদের সৌরজগৎ আকাশগঙ্গা বা Milky Way নামক সর্পিল ছায়াপথের অন্তর্গত।

৪. কোন রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি?

সঠিক উত্তর: D. সাদা

বিশ্লেষণ: প্রকাণ্ড সাদা তারার উষ্ণতা এবং উজ্জ্বলতা দুটোই সবথেকে বেশি হয়।

৫. সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: B. বুধ

বিশ্লেষণ: সূর্য থেকে দূরত্বের হিসাবে গ্রহগুলি হল বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

৬. বিজ্ঞানের সবচেয়ে পুরোনো চর্চা কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. জ্যোতির্বিজ্ঞান

বিশ্লেষণ: হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ চাঁদ, সূর্য, তারা পর্যবেক্ষণ করে দিক ও সময় নির্ণয় করত।

৭. সূর্যের পরে আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র কোনটি?

সঠিক উত্তর: B. প্রক্সিমা সেন্টাউরি

বিশ্লেষণ: পৃথিবী থেকে প্রক্সিমা সেন্টাউরির দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ।

৮. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?

সঠিক উত্তর: A. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড

বিশ্লেষণ: পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার, এই দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর ওই সময় লাগে।

৯. এক আলোকবর্ষ কীসের একক?

সঠিক উত্তর: C. দূরত্ব

বিশ্লেষণ: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তুর দূরত্ব মাপার জন্য আলোকবর্ষ একক ব্যবহার করেন।

১০. উত্তর আকাশে সাতটি উজ্জ্বল তারার ঝাঁককে কী বলে?

সঠিক উত্তর: C. সপ্তর্ষিমণ্ডল

বিশ্লেষণ: এটি উত্তর গোলার্ধের আকাশে দেখা যাওয়া একটি পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডল।

১১. তারারা মিটমিট করে কেন?

সঠিক উত্তর: B. পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের জন্য

বিশ্লেষণ: পৃথিবীর চারপাশের বায়ুস্তর পেরিয়ে আসার সময় তারার আলো কেঁপে যায়, তাই মিটমিট করে।

১২. কোন তারা দেখে প্রাচীনকালে নাবিকরা উত্তর দিক ঠিক করত?

সঠিক উত্তর: D. ধ্রুবতারা

বিশ্লেষণ: ধ্রুবতারা সবসময় উত্তর আকাশে স্থির থাকে, তাই এটি দিক নির্ণয়ে সহায়ক।

১৩. সৌরজগতের কেন্দ্রে কে রয়েছে?

সঠিক উত্তর: B. সূর্য

বিশ্লেষণ: সূর্য একটি নক্ষত্র এবং এর মহাকর্ষ বলের কারণে সমস্ত গ্রহ একে প্রদক্ষিণ করে।

১৪. পৃথিবীর চেয়ে সূর্য কত গুণ বড়?

সঠিক উত্তর: C. ১৩ লক্ষ গুণ

বিশ্লেষণ: সূর্য পৃথিবীর চেয়ে আয়তনে প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় এবং ভরে প্রায় ৩ লক্ষ গুণ ভারী।

১৫. সূর্যের বাইরের দিকের উষ্ণতা কত?

সঠিক উত্তর: A. ৬০০০° সে.

বিশ্লেষণ: সূর্যের বাইরের পৃষ্ঠের বা ফটোস্ফিয়ারের গড় উষ্ণতা প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

১৬. সূর্যের গায়ে কালো দাগের মতো অংশকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. সৌরকলঙ্ক

বিশ্লেষণ: সূর্যের গায়ে যেখানে উত্তাপ একটু কম, সে জায়গাগুলো কম উজ্জ্বল দেখায়, এগুলিই সৌরকলঙ্ক।

১৭. সৌরঝড় কত বছর অন্তর শক্তিশালী হয়?

সঠিক উত্তর: B. ১১ বছর

বিশ্লেষণ: প্রতি ১১ বছর অন্তর সৌরকলঙ্কের সংখ্যা বাড়ে এবং সৌরঝড় জোরালো হয়।

১৮. সন্ধ্যাতারা আসলে কী?

সঠিক উত্তর: C. শুক্রগ্রহ

বিশ্লেষণ: সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে যে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক দেখা যায়, তা হলো শুক্রগ্রহ।

১৯. সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. শুক্র

বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডলে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকায় গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে শুক্র সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ।

২০. কোন গ্রহকে 'লাল গ্রহ' বলা হয়?

সঠিক উত্তর: C. মঙ্গল

বিশ্লেষণ: মঙ্গলের মাটিতে প্রচুর ফেরাস অক্সাইড বা লোহা থাকায় এর রং লাল দেখায়।

২১. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: D. বৃহস্পতি

বিশ্লেষণ: বৃহস্পতি এতটাই বড় যে এর মধ্যে ১৩০০ পৃথিবীকে রাখা যাবে।

২২. কোন গ্রহের বলয় দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: B. শনি

বিশ্লেষণ: ধূলিকণা, বরফ ও পাথরের টুকরো দিয়ে তৈরি উজ্জ্বল ৭টি বলয় শনিকে ঘিরে আছে।

২৩. সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. ইউরেনাস

বিশ্লেষণ: ইউরেনাসের গড় তাপমাত্রা -২১৬° সেলসিয়াস, যা এটিকে সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ বানিয়েছে।

২৪. ২০০৬ সালে কোন জ্যোতিষ্ককে 'বামন গ্রহ' আখ্যা দেওয়া হয়?

সঠিক উত্তর: C. প্লুটো

বিশ্লেষণ: প্লুটো তার কক্ষপথের অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরাতে পারে না, তাই একে বামন গ্রহ বলা হয়।

২৫. পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের নাম কী?

সঠিক উত্তর: D. চাঁদ

বিশ্লেষণ: চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ।

২৬. চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর কত ভাগ?

সঠিক উত্তর: A. ছয় ভাগের এক ভাগ

বিশ্লেষণ: কম মাধ্যাকর্ষণের জন্য চাঁদে লাফ দিলে পৃথিবীতে থেকে ছয় গুণ বেশি উঁচুতে ওঠা যায়।

২৭. শনির বৃহত্তম উপগ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: B. টাইটান

বিশ্লেষণ: টাইটান সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপগ্রহ এবং শনির বৃহত্তম।

২৮. গ্রহাণুপুঞ্জ কোন দুটি গ্রহের মাঝে দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: C. মঙ্গল ও বৃহস্পতি

বিশ্লেষণ: এই অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার গ্রহাণুপুঞ্জ একটি বলয়ের মতো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

২৯. 'তারা খসা' আসলে কী?

সঠিক উত্তর: C. উল্কাপাত

বিশ্লেষণ: মহাকাশের ছোট পাথরের টুকরো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে উঠলে তাকে উল্কাপাত বা তারা খসা বলে।

৩০. হ্যালির ধূমকেতু কত বছর অন্তর দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: B. ৭৬ বছর

বিশ্লেষণ: এটিকে শেষবার ১৯৮৬ সালে দেখা গেছে এবং আবার ২০৬১ সালে দেখা যাবে।

৩১. মহাকাশে যাওয়ার বিশেষ পোশাককে কী বলে?

সঠিক উত্তর: A. স্পেস স্যুট

বিশ্লেষণ: এই পোশাক মহাকাশচারীদের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে।

৩২. ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. আর্যভট্ট

বিশ্লেষণ: ১৯৭৫ সালে ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ আর্যভট্ট উৎক্ষেপণ করা হয়।

৩৩. ভারতের প্রথম মহাকাশচারী কে?

সঠিক উত্তর: C. রাকেশ শর্মা

বিশ্লেষণ: ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা মহাকাশে পাড়ি দিয়ে ভারতের প্রথম মহাকাশচারী হন।

৩৪. চাঁদে প্রথম পা রাখেন কে?

সঠিক উত্তর: C. নিল আর্মস্ট্রং

বিশ্লেষণ: ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অ্যাপোলো ১১ মিশনের অংশ হিসাবে নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন।

৩৫. পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারী কে?

সঠিক উত্তর: B. ইউরি গ্যাগারিন

বিশ্লেষণ: ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসাবে মহাকাশে যান।

৩৬. চাঁদে বাতাস না থাকায় আকাশ কী রঙের দেখায়?

সঠিক উত্তর: D. ঘন কালো

বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডল না থাকায় চাঁদে সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ হয় না, তাই আকাশ কালো দেখায়।

৩৭. কোন গ্রহের ঘনত্ব জলের চেয়েও কম?

সঠিক উত্তর: B. শনি

বিশ্লেষণ: শনি একটি গ্যাসীয় দানব এবং এর গড় ঘনত্ব জলের ঘনত্বের চেয়ে কম।

৩৮. সৌরজগতের কোন গ্রহের আবর্তনকাল সবচেয়ে কম?

সঠিক উত্তর: C. বৃহস্পতি

বিশ্লেষণ: বৃহস্পতি তার অক্ষের উপর একবার ঘুরতে মাত্র ৯ ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময় নেয়।

৩৯. ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: B. ISRO

বিশ্লেষণ: ISRO-র পুরো নাম Indian Space Research Organisation।

৪০. চন্দ্রযান ১ চাঁদে কবে অবতরণ করে?

সঠিক উত্তর: B. ২০০৮

বিশ্লেষণ: চন্দ্রযান ১ ছিল ভারতের প্রথম চন্দ্র অভিযান।

৪১. কোন গ্রহের মিথেন গ্যাস বেশি থাকায় রং সবুজ?

সঠিক উত্তর: C. ইউরেনাস

বিশ্লেষণ: ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাস সূর্যের লাল আলোকে শোষণ করে, তাই গ্রহটিকে সবুজ দেখায়।

৪২. পৃথিবীর সবথেকে কাছের গ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. শুক্র

বিশ্লেষণ: শুক্র পৃথিবীর 'भगिनी গ্রহ' নামেও পরিচিত এবং এটিই আমাদের সবচেয়ে কাছের গ্রহ।

৪৩. মহাকাশের প্রথম যাত্রী কে ছিল?

সঠিক উত্তর: B. কুকুর

বিশ্লেষণ: ১৯৫৭ সালে লাইকা নামের একটি কুকুর সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক ২ মহাকাশযানে চড়ে প্রথম মহাকাশে পাড়ি দেয়।

৪৪. চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?

সঠিক উত্তর: A. ১.৩ সেকেন্ড

বিশ্লেষণ: পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিমি, তাই আলো আসতে খুব কম সময় লাগে।

৪৫. একটি পূর্ণিমা থেকে পরের পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়কে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. চান্দ্রমাস

বিশ্লেষণ: এই সময়কাল প্রায় ২৯.৫ দিন।

৪৬. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহাণু কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. সেরেস

বিশ্লেষণ: সেরেসকে একটি বামন গ্রহ হিসাবেও বিবেচনা করা হয়।

৪৭. কোন গ্রহের পরিক্রমণ কাল সবচেয়ে কম?

সঠিক উত্তর: A. বুধ

বিশ্লেষণ: সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকায় বুধ মাত্র ৮৮ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে।

৪৮. কোন গ্রহের পরিক্রমণ কাল সবচেয়ে বেশি?

সঠিক উত্তর: D. নেপচুন

বিশ্লেষণ: সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকায় নেপচুনের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ১৬৫ বছর সময় লাগে।

৪৯. চাঁদের গায়ে কালো দাগগুলি আসলে কী?

সঠিক উত্তর: C. বড় বড় গর্ত ও পাহাড়

বিশ্লেষণ: চাঁদের এবড়ো-খেবড়ো জমিতে থাকা বিশাল গর্ত ও পাহাড়ের ছায়া পৃথিবী থেকে কালো দাগের মতো দেখায়।

৫০. সূর্যের ভেতরের দিকের উষ্ণতা কত?

সঠিক উত্তর: C. ১.৫ কোটি° সে.

বিশ্লেষণ: সূর্যের কেন্দ্রে প্রচণ্ড চাপে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার কারণে এই বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়।

৫১. কোন নক্ষত্রমণ্ডলকে শিকারীর মতো কল্পনা করা হয়?

সঠিক উত্তর: D. কালপুরুষ

বিশ্লেষণ: কালপুরুষ বা Orion-কে পুরাকাহিনির এক সাহসী শিকারি রূপে কল্পনা করা হয়েছে।

৫২. আলো এক সেকেন্ডে প্রায় কত দূর যায়?

সঠিক উত্তর: A. ৩ লক্ষ কিমি

বিশ্লেষণ: এটিই হল মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতিবেগ।

৫৩. কোন গ্রহের একদিন তার এক বছরের চেয়েও বড়?

সঠিক উত্তর: B. শুক্র

বিশ্লেষণ: শুক্রের আবর্তনকাল (নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরা) প্রায় ২৪৩ দিন, কিন্তু পরিক্রমণকাল (সূর্যের চারপাশে ঘোরা) প্রায় ২২৫ দিন।

৫৪. মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কী রঙের দেখায়?

সঠিক উত্তর: D. নীল

বিশ্লেষণ: পৃথিবীর প্রায় তিন ভাগ জল থাকায় মহাকাশ থেকে একে 'নীল গ্রহ' বলে মনে হয়।

৫৫. চাঁদ তার নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরতে কত সময় নেয়?

সঠিক উত্তর: C. ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা

বিশ্লেষণ: চাঁদের আবর্তনকাল ও পরিক্রমণকাল প্রায় সমান হওয়ায় আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদের একটি দিকই দেখতে পাই।

৫৬. বৃহস্পতির কটি উপগ্রহ আছে?

সঠিক উত্তর: C. ৬৭টি

বিশ্লেষণ: বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ থাকা গ্রহগুলির মধ্যে অন্যতম।

৫৭. কোন ভারতীয় মহিলা মহাকাশে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন?

সঠিক উত্তর: C. সুনীতা উইলিয়ামস

বিশ্লেষণ: সুনীতা উইলিয়ামস জন্মসূত্রে দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা মহাকাশচারী এবং তিনি মহাকাশে হাঁটার রেকর্ডও করেছেন।

৫৮. পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ ঢেকে গেলে তাকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: D. চন্দ্রগ্রহণ

বিশ্লেষণ: এটি শুধুমাত্র পূর্ণিমা তিথিতেই ঘটতে পারে।

৫৯. কোন যানটি মহাকাশে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে?

সঠিক উত্তর: B. স্পেস শাটল

বিশ্লেষণ: স্পেস শাটল বা মহাকাশ বিমান একটি বিমানের মতো রানওয়েতে অবতরণ করতে পারে।

৬০. আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে কী কাজে লাগে?

সঠিক উত্তর: B. কৃত্রিম উপগ্রহ

বিশ্লেষণ: কৃত্রিম উপগ্রহগুলি মেঘের ছবি তুলে এবং বায়ুমণ্ডলের তথ্য সংগ্রহ করে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সাহায্য করে।

৬১. যে জ্যোতিষ্ক গ্রহের চারপাশে ঘোরে তাকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: C. উপগ্রহ

বিশ্লেষণ: যেমন চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, তাই চাঁদ একটি উপগ্রহ।

৬২. সূর্যের নিকটতম প্রতিবেশী নক্ষত্রের দূরত্ব কত?

সঠিক উত্তর: A. ৪.২ আলোকবর্ষ

বিশ্লেষণ: এই নক্ষত্রটি হল প্রক্সিমা সেন্টাউরি।

৬৩. সূর্যের আকর্ষণে গ্রহগুলো সূর্যের চারিদিকে ঘোরে। একে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. পরিক্রমণ

বিশ্লেষণ: গ্রহের পরিক্রমণ গতির ফলেই ঋতু পরিবর্তন হয়।

৬৪. মঙ্গল গ্রহে পাঠানো একটি রোভারের নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. কিউরিওসিটি

বিশ্লেষণ: ২০১২ সালে নাসার পাঠানো 'কিউরিওসিটি' রোভার মঙ্গলের মাটি, জল ও আবহাওয়া নিয়ে গবেষণা করে।

৬৫. খালি চোখে রাতের আকাশে প্রায় কতগুলি তারা দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: B. ৬ হাজার

বিশ্লেষণ: টেলিস্কোপ ছাড়া পরিষ্কার আকাশে প্রায় ৬,০০০ তারা খালি চোখে দেখা সম্ভব।

৬৬. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত?

সঠিক উত্তর: A. ১৫° সে.

বিশ্লেষণ: এই মনোরম তাপমাত্রার জন্যই পৃথিবীতে জীবজগতের বিকাশ ঘটেছে।

৬৭. কোন গ্রহের উপগ্রহ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?

সঠিক উত্তর: D. বৃহস্পতি

বিশ্লেষণ: বই অনুযায়ী বৃহস্পতির ৬৭টি উপগ্রহের কথা বলা হয়েছে, যদিও বর্তমানে আরও বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।

৬৮. মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ কোনগুলি?

সঠিক উত্তর: C. ফোবোস ও ডাইমোস

বিশ্লেষণ: মঙ্গল গ্রহের দুটি ছোট ছোট উপগ্রহ আছে, যাদের নাম ফোবোস এবং ডাইমোস।

৬৯. চাঁদে কোনো শব্দ শোনা যায় না কেন?

সঠিক উত্তর: C. বায়ুশূন্য স্থান বলে

বিশ্লেষণ: শব্দ চলাচলের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় শব্দ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে না।

৭০. পৃথিবী থেকে চাঁদ ও সূর্যকে প্রায় সমান আকারের মনে হয় কেন?

সঠিক উত্তর: C. সূর্য দূরে এবং চাঁদ কাছে

বিশ্লেষণ: সূর্য চাঁদের চেয়ে বহুগুণ বড় হলেও, অনেক বেশি দূরে থাকায় এবং চাঁদ অনেক কাছে থাকায় পৃথিবী থেকে দুটিকেই প্রায় সমান আকারের দেখায়।

৭১. প্রথম মহিলা মহাকাশচারী কে?

সঠিক উত্তর: C. ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা

বিশ্লেষণ: ১৯৬৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা প্রথম মহিলা হিসেবে মহাকাশে যান।

৭২. কোন গ্রহটি ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করে?

সঠিক উত্তর: D. শুক্র

বিশ্লেষণ: শুক্র এবং ইউরেনাস বাদে সৌরপরিবারের প্রত্যেকটি গ্রহই ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে।

৭৩. নেপচুন গ্রহের রং কী?

সঠিক উত্তর: C. নীল

বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডলে মিথেন ও হিলিয়াম গ্যাস বেশি থাকায় নেপচুন গ্রহের রং নীল দেখায়।

৭৪. দিনের বেলাতেও চাঁদের আকাশে তারা দেখা যায় কেন?

সঠিক উত্তর: B. চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই

বিশ্লেষণ: পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে বিচ্ছুরিত করে আকাশকে আলোকিত করে, ফলে তারা দেখা যায় না। চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় আকাশ সবসময় কালো থাকে এবং তারা দেখা যায়।

৭৫. চাঁদে এক রাত কত দিন ধরে চলে?

সঠিক উত্তর: D. দুই সপ্তাহ

বিশ্লেষণ: চাঁদের একটি দিন (দিন ও রাত মিলিয়ে) পৃথিবীর প্রায় ২৮ দিনের সমান। তাই চাঁদে দিন ও রাত উভয়ই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলে।

৭৬. সূর্যের বয়স প্রায় কত?

সঠিক উত্তর: A. ৪৬০ কোটি বছর

বিশ্লেষণ: বিজ্ঞানীরা মনে করেন সূর্যের মতো মাঝারি হলুদ নক্ষত্রের আয়ু সাধারণত ১০০০ কোটি বছর হয়।

৭৭. অন্তঃস্থ গ্রহ কোনগুলি?

সঠিক উত্তর: B. বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল

বিশ্লেষণ: সৌর পরিবারের ভিতরের দিকের এই চারটি গ্রহকে অন্তঃস্থ গ্রহ বা পাথুরে গ্রহ বলা হয়।

৭৮. বহিঃস্থ গ্রহ কোনগুলি?

সঠিক উত্তর: A. বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন

বিশ্লেষণ: সৌর পরিবারের বাইরের দিকের এই চারটি গ্রহকে বহিঃস্থ গ্রহ বা গ্যাসীয় দানব বলা হয়।

৭৯. পৃথিবী তার অক্ষের উপর একবার ঘুরতে কত সময় নেয়?

সঠিক উত্তর: C. ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড

বিশ্লেষণ: এটি হলো পৃথিবীর প্রকৃত আবর্তনকাল বা নাক্ষত্র দিন।

৮০. শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাস প্রচুর পরিমাণে থাকে?

সঠিক উত্তর: D. কার্বন ডাইঅক্সাইড

বিশ্লেষণ: কার্বন ডাইঅক্সাইডের ঘন স্তর তাপকে ধরে রাখে, যার ফলে শুক্র সবচেয়ে উষ্ণ গ্রহে পরিণত হয়েছে।

৮১. কোন গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি?

সঠিক উত্তর: C. বৃহস্পতি

বিশ্লেষণ: সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ হওয়ায় বৃহস্পতির মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও সবচেয়ে বেশি।

৮২. চাঁদে দিনের বেলায় তাপমাত্রা কত থাকে?

সঠিক উত্তর: A. ১১৭° সে.

বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডল না থাকায় দিনের বেলায় সূর্যের তাপে পাথর অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে।

৮৩. চাঁদে রাতের বেলায় তাপমাত্রা কত থাকে?

সঠিক উত্তর: C. -১৫০° সে.

বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখতে পারে না বলে রাতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নেমে যায়।

৮৪. মহাকাশযান অ্যাপোলো ১১ কবে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়?

সঠিক উত্তর: B. ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই

বিশ্লেষণ: আমেরিকার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে অ্যাপোলো ১১ যাত্রা শুরু করে এবং ২০ জুলাই চাঁদে অবতরণ করে।

৮৫. কোন দুটি গ্যাসীয় পদার্থ জমাট বেঁধে নক্ষত্রের জন্ম দেয়?

সঠিক উত্তর: B. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম

বিশ্লেষণ: মহাকর্ষের কারণে এই গ্যাসীয় মেঘ সংকুচিত হয়ে নক্ষত্র তৈরি হয়।

৮৬. সূর্য কোন ধরনের নক্ষত্র?

সঠিক উত্তর: D. মাঝারি হলুদ তারা

বিশ্লেষণ: সূর্য একটি মাঝারি আকারের এবং মাঝারি উষ্ণতার নক্ষত্র।

৮৭. ইংরাজি 'M' অক্ষরের মতো দেখতে নক্ষত্রমণ্ডল কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. ক্যাসিওপিয়া

বিশ্লেষণ: এটি উত্তর আকাশের একটি পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডল।

৮৮. পৃথিবী থেকে সূর্যের দিকে তাকাতে নেই কেন?

সঠিক উত্তর: B. রেটিনা পুড়ে যেতে পারে

বিশ্লেষণ: সূর্যের তীব্র রশ্মি চোখের রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে অন্ধত্বও হতে পারে।

৮৯. সৌরজগতের কোন গ্রহের বলয় সবচেয়ে উজ্জ্বল?

সঠিক উত্তর: B. শনি

বিশ্লেষণ: শনির বলয় বরফ ও পাথর দিয়ে তৈরি হওয়ায় সেগুলি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ও স্পষ্ট।

৯০. কোন গ্রহে একসময় জল ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে?

সঠিক উত্তর: C. মঙ্গল

বিশ্লেষণ: মঙ্গলের পৃষ্ঠে শুকিয়ে যাওয়া নদীর উপত্যকা ও অন্যান্য ভূমিরূপ দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করেন সেখানে একসময় তরল জল ছিল।

৯১. মহাবিশ্বের সবকিছুই কীরূপ অবস্থায় আছে?

সঠিক উত্তর: B. চলমান

বিশ্লেষণ: মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে ছায়াপথগুলি ক্রমাগত একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

৯২. আমাদের সৌরজগৎ আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কোন অংশে অবস্থিত?

সঠিক উত্তর: B. প্রান্তভাগে

বিশ্লেষণ: আমাদের সৌরজগৎ আকাশগঙ্গার কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে একটি সর্পিল বাহুতে অবস্থিত।

৯৩. শুক্র গ্রহের গড় তাপমাত্রা কত?

সঠিক উত্তর: B. ৪৬৫° সে.

বিশ্লেষণ: এটি শুক্রকে সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তুলেছে।

৯৪. কোন গ্রহের একটি দিন পৃথিবীর প্রায় ৫৮ দিনের সমান?

সঠিক উত্তর: C. বুধ

বিশ্লেষণ: বুধের আবর্তনকাল প্রায় ৫৮ দিন ১৭ ঘণ্টা।

৯৫. পৃথিবীর যমজ গ্রহ কাকে বলা হয়?

সঠিক উত্তর: B. শুক্র

বিশ্লেষণ: আকার ও আয়তনে পৃথিবীর প্রায় সমান হওয়ায় শুক্রকে পৃথিবীর 'যমজ গ্রহ' গ্রহ বলা হয়।

৯৬. প্লুটো সূর্যকে পরিক্রমণ করে কত বছরে?

সঠিক উত্তর: C. ২৪৮ বছরে

বিশ্লেষণ: সূর্য থেকে অনেক দূরে থাকায় প্লুটোর পরিক্রমণকাল এত দীর্ঘ।

৯৭. নেপচুনের বৃহত্তম উপগ্রহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: D. ট্রাইটন

বিশ্লেষণ: ট্রাইটন নেপচুনের ১৩টি উপগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

৯৮. চাঁদ পৃথিবীর আয়তনের কত ভাগের সমান?

সঠিক উত্তর: A. চার ভাগের এক ভাগ

বিশ্লেষণ: আয়তনে ছোট হলেও এটি পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ।

৯৯. ঝাঁটার মতো লেজবিশিষ্ট উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ককে কী বলে?

সঠিক উত্তর: C. ধূমকেতু

বিশ্লেষণ: সূর্যের কাছাকাছি এলে ধূমকেতুর ধুলো ও গ্যাস জ্বলে উঠে লেজের মতো আকৃতি তৈরি করে।

১০০. প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি মহাশূন্যে পাড়ি দেন, তার নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. কল্পনা চাওলা

বিশ্লেষণ: ১৯৯৭ সালে কল্পনা চাওলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা হিসাবে মহাকাশে যান।

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

প্রশ্ন ১: জ্যোতিষ্ক কাকে বলে?

উত্তর: রাতের আকাশে চাঁদ সহ সমস্ত আলোকবিন্দু এবং দিনের আকাশে সূর্যকে জ্যোতিষ্ক বলে। গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র সকলেই জ্যোতিষ্ক।

প্রশ্ন ২: মহাবিশ্ব কী?

উত্তর: কোটি কোটি জ্যোতিষ্ক অর্থাৎ গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূলিকণা, গ্যাস প্রভৃতি যা কিছু অসীম শূন্যস্থানে রয়েছে, সেই সমস্ত কিছু নিয়েই মহাবিশ্ব গঠিত।

প্রশ্ন ৩: নীহারিকা কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় যে অসংখ্য ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ তৈরি হয়, তাই হলো নীহারিকা।

প্রশ্ন ৪: জ্যোতির্বিজ্ঞান কী?

উত্তর: চাঁদ, সূর্য, তারা, ছায়াপথ ইত্যাদি মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ করে তাদের সম্পর্কে জানার চর্চাকে জ্যোতির্বিজ্ঞান বলে। এটি বিজ্ঞানের সবচেয়ে পুরোনো শাখা।

প্রশ্ন ৫: ছায়াপথ কাকে বলে?

উত্তর: লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণা নিয়ে এক একটি ছায়াপথ তৈরি হয়।

প্রশ্ন ৬: তারার রং দেখে কী বোঝা যায়?

উত্তর: তারার রং দেখে বোঝা যায় কোনো তারা কতটা উত্তপ্ত। যেমন, লাল তারার উষ্ণতা সবচেয়ে কম এবং সাদা তারার উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি।

প্রশ্ন ৭: পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?

উত্তর: পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।

প্রশ্ন ৮: আলোকবর্ষ কাকে বলে?

উত্তর: বায়ুশূন্য অবস্থায় আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিমি বেগে এক বছরে যতটা দূরত্ব পার হয়, তাকে এক আলোকবর্ষ বলে।

প্রশ্ন ৯: একটি বিখ্যাত নক্ষত্রমণ্ডলের নাম লেখো।

উত্তর: একটি বিখ্যাত নক্ষত্রমণ্ডল হলো সপ্তর্ষিমণ্ডল।

প্রশ্ন ১০: ধ্রুবতারাকে কোন আকাশে দেখা যায়?

উত্তর: ধ্রুবতারাকে উত্তর আকাশে দেখা যায়।

প্রশ্ন ১১: টেলিস্কোপ কী?

উত্তর: টেলিস্কোপ বা দূরবিন হলো কাচ লাগানো একটি বিশাল চোঙ যার সাহায্যে মহাকাশের দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

প্রশ্ন ১২: দিনের বেলা তারা দেখা যায় না কেন?

উত্তর: দিনের বেলায় সূর্যের তীব্র আলোর বিচ্ছুরণের কারণে আকাশের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়, তাই অপেক্ষাকৃত কম উজ্জ্বল তারাগুলিকে দেখা যায় না।

প্রশ্ন ১৩: সূর্য কী?

উত্তর: সূর্য আকাশগঙ্গা ছায়াপথের অন্তর্গত একটি মাঝারি হলুদ নক্ষত্র।

প্রশ্ন ১৪: সৌরকলঙ্ক কী?

উত্তর: সূর্যের গায়ে যেখানে উত্তাপ একটু কম, সেই জায়গাগুলো কম উজ্জ্বল দেখায় এবং কালো দাগের মতো মনে হয়। এগুলিই সৌরকলঙ্ক।

প্রশ্ন ১৫: গ্রহ কাদের বলে?

উত্তর: যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ নেই এবং যারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়ে তাকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে, তাদের গ্রহ বলে।

প্রশ্ন ১৬: 'নীল গ্রহ' কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' বলা হয় কারণ মহাকাশ থেকে এর জলভাগের জন্য একে নীল দেখায়।

প্রশ্ন ১৭: বামন গ্রহ কী?

উত্তর: যে সকল জ্যোতিষ্ক গ্রহের মতো গোলাকার হলেও নিজের কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরাতে পারে না, তাদের বামন গ্রহ বলে। যেমন - প্লুটো।

প্রশ্ন ১৮: উপগ্রহ কাকে বলে?

উত্তর: যে জ্যোতিষ্কগুলো গ্রহের আকর্ষণে গ্রহের চারিদিকে ঘোরে তাদের উপগ্রহ বলে। যেমন - চাঁদ।

প্রশ্ন ১৯: চন্দ্রকলা কী?

উত্তর: অমাবস্যা থেকে পূর্ণিমা এবং পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত চাঁদের আলোকিত অংশের বাড়া-কমাকে চন্দ্রকলা বলে।

প্রশ্ন ২০: গ্রহাণুপুঞ্জ কী?

উত্তর: মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে সূর্যকে প্রদক্ষিণকারী অসংখ্য ছোট ছোট জ্যোতিষ্ককে একসঙ্গে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।

প্রশ্ন ২১: ধূমকেতু কী?

উত্তর: ঝাঁটার মতো লেজবিশিষ্ট উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে যা সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে।

প্রশ্ন ২২: উল্কা কী?

উত্তর: ধূমকেতু বা গ্রহাণুর ভাঙা টুকরো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে উঠলে তাকে উল্কা বা 'তারা খসা' বলে।

প্রশ্ন ২৩: রকেট কী?

উত্তর: রকেট হলো এমন একটি যান যা জ্বালানি পুড়িয়ে তৈরি হওয়া গ্যাসের প্রবল ধাক্কায় পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ কাটিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিতে পারে।

প্রশ্ন ২৪: কৃত্রিম উপগ্রহ কেন পাঠানো হয়?

উত্তর: আবহাওয়ার পূর্বাভাস, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সমুদ্র পরিবহণ এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো হয়।

প্রশ্ন ২৫: চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়?

উত্তর: কোনো কোনো পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য এক সরলরেখায় এলে পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ ঢেকে যায়, একেই চন্দ্রগ্রহণ বলে।

প্রশ্ন ২৬: সূর্যগ্রহণ কেন বিপজ্জনক?

উত্তর: সূর্যগ্রহণের সময়ও খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে তার তীব্র রশ্মি চোখের রেটিনা পুড়িয়ে দিয়ে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

প্রশ্ন ২৭: চাঁদে লাফ দিলে বেশি উঁচুতে ওঠা যায় কেন?

উত্তর: চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ। তাই একই শক্তি প্রয়োগ করে চাঁদে পৃথিবীর চেয়ে ছয় গুণ বেশি উঁচুতে লাফানো যায়।

প্রশ্ন ২৮: পৃথিবী থেকে চাঁদের একটা দিকই কেন দেখা যায়?

উত্তর: চাঁদ তার নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরতে (আবর্তন) এবং পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে (পরিক্রমণ) প্রায় একই সময় নেয়। তাই পৃথিবী থেকে আমরা সবসময় চাঁদের একটি দিকই দেখতে পাই।

প্রশ্ন ২৯: কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলের আকৃতি কেমন?

উত্তর: কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলকে পুরাকাহিনির এক সাহসী শিকারির মতো কল্পনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৩০: সূর্যরশ্মির কত ভাগ পৃথিবীতে পৌঁছায়?

উত্তর: সূর্যরশ্মির ২০০ কোটি ভাগের মাত্র একভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।

প্রশ্ন ৩১: শুক্র গ্রহকে কখন দেখা যায়?

উত্তর: শুক্রকে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে 'সন্ধ্যাতারা' রূপে এবং সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব আকাশে 'শুকতারা' রূপে দেখা যায়।

প্রশ্ন ৩২: সৌরজগতের কোন কোন গ্রহকে গ্যাসীয় দানব বলা হয়?

উত্তর: বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুনকে গ্যাসীয় দানব বলা হয় কারণ এগুলি মূলত গ্যাস দিয়েই তৈরি।

প্রশ্ন ৩৩: মঙ্গলের মাটিতে কী বেশি থাকায় এর রং লাল?

উত্তর: মঙ্গলের মাটিতে প্রচুর ফেরাস অক্সাইড বা লোহা থাকায় এর রং লাল দেখায়।

প্রশ্ন ৩৪: সৌরজগতের কোন কোন গ্রহের বলয় আছে?

উত্তর: শনি ছাড়াও বৃহস্পতি, ইউরেনাস এবং নেপচুনেরও হালকা বলয় আছে।

প্রশ্ন ৩৫: চাঁদের জন্ম কীভাবে হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বহু কোটি বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে কোনো ছোট জ্যোতিষ্কের ধাক্কা লেগে ছিটকে যাওয়া অংশ থেকেই চাঁদের জন্ম হয়েছে।

প্রশ্ন ৩৬: চান্দ্রমাস কাকে বলে?

উত্তর: একটি পূর্ণিমা থেকে পরের পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়কে চান্দ্রমাস বলে। এর সময়কাল প্রায় ২৯.৫ দিন।

প্রশ্ন ৩৭: সেরেস্ কী?

উত্তর: 'সেরেস্' হলো সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহাণু, যা মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে অবস্থিত।

প্রশ্ন ৩৮: হ্যালির ধূমকেতুকে শেষ কবে দেখা গেছে?

উত্তর: হ্যালির ধূমকেতুকে শেষবার ১৯৮৬ সালে দেখা গেছে।

প্রশ্ন ৩৯: আমাদের ঠিকানা অনুযায়ী আমরা কোন ছায়াপথে বাস করি?

উত্তর: আমাদের ঠিকানা অনুযায়ী আমরা আকাশগঙ্গা ছায়াপথে বাস করি।

প্রশ্ন ৪০: প্লুটোকে কেন বামন গ্রহ বলা হয়?

উত্তর: প্লুটো নিজের কক্ষপথে কোনো মহাজাগতিক বস্তু এলে তা সরিয়ে দিতে পারে না, তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে বামন গ্রহের আখ্যা দিয়েছেন।

প্রশ্ন ৪১: মানমন্দির কাকে বলে?

উত্তর: মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য যেখানে শক্তিশালী টেলিস্কোপ রাখা হয় এবং যা সাধারণত একটি বিরাট গোলাকার গম্বুজের মতো দেখতে হয়, তাকে মানমন্দির (Observatory) বলে।

প্রশ্ন ৪২: সূর্য ছাড়া অন্য তারাগুলিকে বিন্দুর মতো দেখায় কেন?

উত্তর: তারাগুলি সূর্য থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এই 엄청난 দূরত্বের কারণেই তাদের আলোর বিন্দুর মতো দেখায়।

প্রশ্ন ৪৩: পৃথিবীর আবর্তনকাল কত?

উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনকাল অর্থাৎ নিজের অক্ষের উপর একবার ঘুরতে সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।

প্রশ্ন ৪৪: পৃথিবীর পরিক্রমণকাল কত?

উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণকাল অর্থাৎ সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।

প্রশ্ন ৪৫: সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধের পরিক্রমণকাল কত?

উত্তর: বুধের পরিক্রমণকাল ৮৮ দিন।

প্রশ্ন ৪৬: নক্ষত্রের রং কী কী হতে পারে?

উত্তর: নক্ষত্রের রং তাদের উষ্ণতার উপর নির্ভর করে লাল, হলুদ, নীল বা সাদা হতে পারে।

প্রশ্ন ৪৭: আকাশগঙ্গা ছায়াপথে কতগুলি নক্ষত্র আছে?

উত্তর: আকাশগঙ্গা ছায়াপথে প্রায় ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে।

প্রশ্ন ৪৮: চাঁদের তাপমাত্রা দিনে ও রাতে এত চরম ভাবাপন্ন কেন?

উত্তর: চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় এটি তাপ ধরে রাখতে পারে না। তাই দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম (১১৭°সে.) এবং রাতের বেলায় প্রচণ্ড ঠান্ডা (-১৫০°সে.) হয়।

প্রশ্ন ৪৯: ISRO-র পুরো নাম কী?

উত্তর: ISRO-র পুরো নাম হলো Indian Space Research Organisation (ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা)।

প্রশ্ন ৫০: মহাকাশে যাওয়া প্রথম প্রাণীর নাম কী?

উত্তর: মহাকাশে যাওয়া প্রথম প্রাণী হলো লাইকা নামের একটি কুকুর।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য আলোচনা করো।

উত্তর: গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো - (১) নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ আছে, কিন্তু গ্রহের নেই। গ্রহ নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়। (২) নক্ষত্র আকারে গ্রহের চেয়ে অনেক বড় হয় এবং এগুলি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। (৩) গ্রহ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে, কিন্তু নক্ষত্র সাধারণত ছায়াপথের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে।

প্রশ্ন ২: সৌরঝড় কী? এর ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তর: সূর্যের বাইরের অংশে (করোনা) ছোট ছোট বিস্ফোরণ হলে প্রচুর পরিমাণে আয়নিত কণা, গ্যাস ও রশ্মি তীব্র গতিতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একে সৌরঝড় (Solar Storm) বলে। প্রতি ১১ বছর অন্তর এই ঝড় জোরালো হয়। এর ফলে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা (যেমন মোবাইল নেটওয়ার্ক, জিপিএস) এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে গোলযোগ দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন ৩: পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' বলা হয় কেন? পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের কারণগুলি লেখো।

উত্তর: মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায় কারণ এর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জলভাগ। এই কারণেই পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' বলে। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের কারণগুলি হলো - (ক) সূর্য থেকে উপযুক্ত দূরত্বে অবস্থান করায় अनुकूल তাপমাত্রা, (খ) তরল জলের উপস্থিতি, (গ) জীবনদায়ী অক্সিজেনযুক্ত বায়ুমণ্ডল এবং (ঘ) সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষাকারী ওজোন স্তরের উপস্থিতি।

প্রশ্ন ৪: ধূমকেতু ও উল্কার মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ধূমকেতু ও উল্কার মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
গঠন: ধূমকেতু মূলত ধুলো, বরফ ও গ্যাস দিয়ে তৈরি, আর উল্কা হলো গ্রহাণু বা ধূমকেতুর ভাঙা পাথরের টুকরো।
আকৃতি: ধূমকেতুর ঝাঁটার মতো লেজ থাকে, কিন্তু উল্কার নির্দিষ্ট আকৃতি নেই।
কক্ষপথ: ধূমকেতু নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, কিন্তু উল্কার নির্দিষ্ট কক্ষপথ নেই।
দৃশ্যমানতা: ধূমকেতু আকাশে বেশ কিছুদিন ধরে দেখা যায়, কিন্তু উল্কা মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখা যায়।

প্রশ্ন ৫: সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার বলতে কী বোঝো? এর সদস্যদের একটি তালিকা দাও।

উত্তর: সূর্য এবং তার মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে প্রদক্ষিণকারী ৮টি গ্রহ, তাদের উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু ইত্যাদি সবকিছু নিয়ে যে পরিবার গঠিত হয়, তাকে সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার বলে।
সদস্যরা হলো: সূর্য (কেন্দ্রীয় নক্ষত্র), বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন (গ্রহ), উপগ্রহ (যেমন চাঁদ), বামন গ্রহ (যেমন প্লুটো), গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু এবং উল্কা।

প্রশ্ন ৬: মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে আধুনিক মতবাদটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: আধুনিক মত অনুযায়ী, প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ একটি বালির কণার থেকেও ছোটো অবস্থায় ছিল। প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এর প্রসারণ শুরু হয়, যা 'বিগ ব্যাং' নামে পরিচিত। এই প্রসারণের ফলে অকল্পনীয় শক্তি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচুর ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ (নীহারিকা) সৃষ্টি হয়। কোটি কোটি বছর ধরে এই মেঘ থেকেই ছায়াপথ, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়েছে এবং আজও মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হয়ে চলেছে।

প্রশ্ন ৭: নক্ষত্রমণ্ডলী কাকে বলে? উত্তর আকাশের কয়েকটি পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডলীর নাম ও আকৃতি উল্লেখ করো।

উত্তর: আকাশে কাছাকাছি থাকা তারাগুলিকে কাল্পনিকভাবে যোগ করলে যে বিভিন্ন আকৃতি তৈরি হয়, সেই এক একটি তারার ঝাঁককে নক্ষত্রমণ্ডল বলে।
উত্তর আকাশের কয়েকটি পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডল:
(ক) সপ্তর্ষিমণ্ডল: সাতটি উজ্জ্বল তারা নিয়ে গঠিত, যা দেখতে অনেকটা প্রশ্নচিহ্নের মতো।
(খ) ক্যাসিওপিয়া: এটি দেখতে ইংরেজি 'M' অক্ষরের মতো।
(গ) ধ্রুবতারা: এটি একটি একক উজ্জ্বল নক্ষত্র যা সর্বদা উত্তর দিকে স্থির থাকে।

প্রশ্ন ৮: চাঁদের পরিবেশ সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর: চাঁদের পরিবেশ পৃথিবীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
(ক) বায়ুমণ্ডল: চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, তাই আকাশ ঘন কালো দেখায় এবং কোনো শব্দ শোনা যায় না।
(খ) ভূপ্রকৃতি: চাঁদের মাটি এবড়ো-খেবড়ো এবং ধূসর ধুলোয় ভরা। এখানে প্রচুর বিশালাকার গর্ত ও পাহাড় আছে।
(গ) তাপমাত্রা: বায়ুমণ্ডল না থাকায় দিনের বেলায় তাপমাত্রা খুব বেশি (প্রায় ১১৭°সে.) এবং রাতের বেলায় খুব কম (প্রায় -১৫০°সে.) হয়।
(ঘ) মাধ্যাকর্ষণ: চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ, তাই সেখানে সবকিছু খুব হালকা মনে হয়।

প্রশ্ন ৯: অন্তঃস্থ গ্রহ ও বহিঃস্থ গ্রহের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: অন্তঃস্থ ও বহিঃস্থ গ্রহের মধ্যে পার্থক্য হলো:
(ক) অবস্থান: বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহাণুপুঞ্জ বলয়ের ভিতরের দিকে থাকায় এরা অন্তঃস্থ গ্রহ। বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন বলয়ের বাইরের দিকে থাকায় এরা বহিঃস্থ গ্রহ।
(খ) গঠন: অন্তঃস্থ গ্রহগুলি মূলত পাথর ও ধাতু দিয়ে গঠিত (পাথুরে গ্রহ)। বহিঃস্থ গ্রহগুলি মূলত গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত (গ্যাসীয় দানব)।
(গ) আকার: অন্তঃস্থ গ্রহগুলি আকারে ছোট, কিন্তু বহিঃস্থ গ্রহগুলি আকারে অনেক বড়।

প্রশ্ন ১০: মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ISRO (ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা) এই গবেষণার কাজ পরিচালনা করে।
(ক) কৃত্রিম উপগ্রহ: ১৯৭৫ সালে ভারত তার প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ 'আর্যভট্ট' উৎক্ষেপণ করে। এরপর ভাস্কর, ইনস্যাট সিরিজের মতো অনেক উপগ্রহ যোগাযোগ, আবহাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।
(খ) মহাকাশচারী: ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা ভারতের প্রথম মহাকাশচারী হন।
(গ) চন্দ্র অভিযান: ২০০৮ সালে ভারত 'চন্দ্রযান-১' নামক চন্দ্রযান সফলভাবে চাঁদে পাঠায়, যা চাঁদে জলের অণুর সন্ধান দিয়েছিল। পরবর্তীকালে মঙ্গল অভিযানও (মঙ্গলায়ন) ভারত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।