অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - টিকিটের অ্যালবাম

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "টিকিটের অ্যালবাম" গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
বিজ্ঞাপন

গল্প: টিকিটের অ্যালবাম

লেখক: সুন্দর রামস্বামী


লেখক সম্পর্কে আলোচনা

সুন্দর রামস্বামী (১৯৩১-২০০৫): তিনি ছিলেন তামিল সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক। তিনি 'কালাচুবাড়ু' পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'ওরুপুলিয়া মারাথিন কথাই' (একটি তেঁতুলগাছের গল্প)। তিনি 'পদুবিয়া' ছদ্মনামেও লিখতেন এবং ২০০৪ সালে 'কথাচূড়ামণি' পুরস্কারে সম্মানিত হন। এই গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

Sundar Ramaswamy

গল্পের সারসংক্ষেপ

এই গল্পটি রাজাপ্পা ও নাগরাজন নামের দুই কিশোরকে নিয়ে, যারা ডাকটিকিট সংগ্রহ করতে ভালোবাসে। রাজাপ্পা অনেক কষ্ট করে, মৌমাছির মতো খেটে তার টিকিটের অ্যালবামটি তৈরি করেছে এবং সে ছিল স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। কিন্তু হঠাৎ নাগরাজনের কাকা সিঙ্গাপুর থেকে তাকে একটি সুন্দর, তৈরি করা অ্যালবাম পাঠিয়ে দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়। সব বন্ধুরা নাগরাজনের নতুন অ্যালবামের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং রাজাপ্পাকে আর পাত্তা দেয় না। ঈর্ষা ও অপমানে রাজাপ্পা একদিন সুযোগ বুঝে নাগরাজনের অ্যালবামটি চুরি করে। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে সে অ্যালবামটি বাড়ির উনুনে ফেলে পুড়িয়ে দেয়। পরে, নাগরাজনের দুঃখ দেখে তার মধ্যে তীব্র অনুশোচনা জাগে। সে নিজের সবচেয়ে প্রিয়, কষ্ট করে জমানো অ্যালবামটি নাগরাজনকে দিয়ে দিতে চায়। এই গল্পের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন যে, ঈর্ষা কীভাবে মানুষকে ভুল পথে চালিত করে এবং অনুশোচনাই সেই ভুল থেকে মুক্তির পথ দেখায়।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

১.১ সুন্দর রামস্বামী কোন ভাষার লেখক?
উত্তর: সুন্দর রামস্বামী তামিল ভাষার লেখক।

১.২ তিনি কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
উত্তর: তিনি 'পদুবিয়া' ছদ্মনামে লিখতেন।

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ 'টিকিটের অ্যালবাম' গল্পের লেখক কে?
উত্তর: 'টিকিটের অ্যালবাম' গল্পের লেখক সুন্দর রামস্বামী।

২.২ মূল গল্পটি কোন ভাষায় রচিত?
উত্তর: মূল গল্পটি তামিল ভাষায় রচিত।

২.৩ গল্পটিতে মোট কটি চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
উত্তর: গল্পটিতে রাজাপ্পা, নাগরাজন, পার্বতী, কৃষ্ণান, কামাক্ষী এবং আপ্পু—এই প্রধান চরিত্রগুলির দেখা পাওয়া যায়।

২.৪ মেয়েদের পক্ষ থেকে কে নাগরাজনের থেকে অ্যালবামটি চেয়ে নিয়ে যেত?
উত্তর: মেয়েদের পক্ষ থেকে পার্বতী নাগরাজনের কাছ থেকে অ্যালবামটি চেয়ে নিয়ে যেত।

২.৫ রাজাপ্পা কীভাবে তার অমূল্য ডাকটিকিটগুলি সংগ্রহ করত?
উত্তর: রাজাপ্পা মৌমাছির মতো কষ্ট করে ঘুরে ঘুরে এবং অন্য সংগ্রাহকদের সাথে টিকিটের বিনিময় করে তার ডাকটিকিটগুলি সংগ্রহ করত।

২.৬ নাগরাজনের অ্যালবামটি তাকে কে উপহার দিয়েছিলেন?
উত্তর: নাগরাজনের অ্যালবামটি তাকে সিঙ্গাপুরে থাকা তার কাকা উপহার দিয়েছিলেন।

২.৭ সেই অ্যালবামের প্রথম পাতায় কী লেখা ছিল?
উত্তর: সেই অ্যালবামের প্রথম পাতায় নাগরাজনের নাম লেখা ছিল এবং নীচে লেখা ছিল যে এই অ্যালবামটি তারই এবং একমাত্র তারই থাকবে।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

৩.১ নাগরাজনের অ্যালবামের প্রতি সকলে আকৃষ্ট হয়ে পড়ল কেন?
উত্তর: নাগরাজনের অ্যালবামটি সিঙ্গাপুর থেকে এসেছিল, সেটি দেখতে খুব সুন্দর ও একেবারে নতুন ছিল। তাই রাজাপ্পার পুরনো অ্যালবামের চেয়ে সেটির প্রতি সকলে বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল।

৩.২ 'কেটে পড় হিংসুটে পোকা!'— বক্তা কে? কাকে সে এমন কথা বলেছে? তুমি কি এই কথার মধ্যে কোনো যুক্তি খুঁজে পাও?
উত্তর: বক্তা হলো কৃষ্ণান। সে রাজাপ্পাকে এই কথা বলেছে।
না, এই কথার মধ্যে কোনো যুক্তি নেই। রাজাপ্পা তার পরিশ্রম করে জমানো অ্যালবামের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় দুঃখ পেয়েছিল, কিন্তু বন্ধুরা তার দুঃখ না বুঝে তাকে হিংসুটে বলে অপমান করেছিল।

৩.৩ 'এদের সঙ্গে তর্ক করে লাভ নেই।'— উপলব্ধিটি কার? কী বিষয়ে তর্কের প্রসঙ্গ এসেছে? তর্ক করে লাভ নেই কেন?
উত্তর: এই উপলব্ধিটি রাজাপ্পার।
কার অ্যালবাম বেশি ভালো—রাজাপ্পার না নাগরাজনের, এই বিষয়ে তর্কের প্রসঙ্গ এসেছে।
তর্ক করে লাভ নেই কারণ, বন্ধুরা সবাই নাগরাজনের নতুন অ্যালবামে মজেছিল এবং তারা রাজাপ্পার যুক্তিসঙ্গত কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

৪.১ 'হঠাৎ যেন ওর জনপ্রিয়তা কমে গেছে'— কার এমন মনে হয়েছে? এই 'জনপ্রিয়তা' হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: রাজাপ্পার এমন মনে হয়েছে।
এই জনপ্রিয়তা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণ হলো নাগরাজনের সিঙ্গাপুর থেকে আসা নতুন টিকিটের অ্যালবাম। নাগরাজনের কাকা তাকে একটি খুব সুন্দর অ্যালবাম উপহার দিয়েছিলেন, যা দেখার জন্য স্কুলের সব ছেলেমেয়েরা তাকে ঘিরে ধরত। ফলে, রাজাপ্পার কষ্ট করে জমানো অ্যালবামের কদর এক ধাক্কায় কমে যায়।

৪.২ 'কেউ রাজাপ্পার অ্যালবামের কথা উল্লেখও করত না, বা, তাকে পাত্তাও দিত না।'— সকলের এমন আচরণের কারণ গল্প অনুসরণে আলোচনা করো।
উত্তর: নাগরাজনের অ্যালবামটি ছিল একেবারে নতুন, সুন্দর এবং বিদেশি। এই নতুনত্বের আকর্ষণে সবাই রাজাপ্পার অ্যালবামের কথা ভুলে গিয়েছিল। শিশুরা বা কিশোর-কিশোরীরা প্রায়শই নতুন জিনিসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। নাগরাজনের অ্যালবামটি ছিল সেই নতুন আকর্ষণ। তাই তারা রাজাপ্পার অ্যালবামের গুরুত্ব বা তার পেছনের পরিশ্রমকে সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিল।

৪.৩ স্কুলের ছেলেমেয়েদের নাগরাজন কীভাবে তার নিজের অ্যালবামটি দেখতে দিত?
উত্তর: নাগরাজন খুব ধৈর্যের সাথে সবাইকে তার অ্যালবামটি দেখাত। সে নিজের কোলে অ্যালবামটি রেখে এক এক করে পাতা উল্টাতো, আর সবাই তাকে ঘিরে ধরে দেখত। তার একটাই শর্ত ছিল যে, কেউ অ্যালবামটা হাতে ধরে স্পর্শ করতে পারবে না।

৪.৪ ডাকটিকিট সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে রাজাপ্পার তীব্র আকর্ষণের যে পরিচয় গল্পে রয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: ডাকটিকিট সংগ্রহ করা রাজাপ্পার কাছে শুধু শখ ছিল না, এটা তার জীবনের একটা অংশ ছিল। সে মৌমাছির মতো পরিশ্রম করে টিকিট জোগাড় করত। ভোরবেলা উঠে অন্য সংগ্রাহকদের সাথে দেখা করত, একটি টিকিটের বিনিময়ে অন্য দুটি টিকিট নিত, এমনকি চার মাইল দূরে গিয়েও টিকিট সংগ্রহ করত। এই কাজ থেকে তার তীব্র আকর্ষণ ও ভালোবাসা বোঝা যায়।

৪.৫ 'চোরাদৃষ্টিতে অ্যালবামটা দেখত'— সেই চোরাদৃষ্টিতে দেখা অ্যালবামটির কোন বিশেষত্বের কথা গল্পে রয়েছে?
উত্তর: চোরাদৃষ্টিতে দেখা অ্যালবামটি ছিল অপরূপ সুন্দর। রাজাপ্পার অ্যালবামের মতো হয়তো অনেক টিকিট তাতে ছিল না, কিন্তু অ্যালবামটা ছিল একেবারে অদ্বিতীয়। এমন সুন্দর অ্যালবাম স্থানীয় কোনো দোকানে পাওয়া যেত না। সিঙ্গাপুর থেকে পাঠানো সেই অ্যালবামটির বাহ্যিক সৌন্দর্যই ছিল তার প্রধান বিশেষত্ব।

৪.৬ নাগরাজনের প্রতি রাজাপ্পা কীভাবে ক্রমশ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিল?
উত্তর: নাগরাজন কোনো পরিশ্রম না করেই একটি সুন্দর অ্যালবাম পেয়ে গিয়েছিল এবং তার জন্য সে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, রাজাপ্পা অনেক কষ্ট করে অ্যালবাম তৈরি করেও তার জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। বন্ধুদের অবহেলা এবং নাগরাজনের প্রতি তাদের আকর্ষণ রাজাপ্পাকে ক্রমশ ঈর্ষান্বিত করে তুলেছিল।

৪.৭ 'সন্ধ্যাবেলা রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়ি গেল।'— কোন উদ্দেশ্য নিয়ে রাজাপ্পা নাগরাজনের বাড়িতে গিয়েছিল? এর মধ্যে দিয়ে তার চরিত্রের কোন দিকটি ধরা পড়ে?
উত্তর: রাজাপ্পা নাগরাজনের অ্যালবাম থেকে ভালো টিকিটগুলো নিজের কম দামী টিকিট দিয়ে বদলে নেওয়ার বা ঠকানোর উদ্দেশ্য নিয়ে তার বাড়িতে গিয়েছিল।
এর মধ্যে দিয়ে তার চরিত্রের ঈর্ষা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া অসৎ দিকটি ধরা পড়ে।

৪.৮ 'রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে গেল।'— কোন পরিস্থিতিতে রাজাপ্পার চোখ জলে ভরে উঠল?
উত্তর: ধরা পড়ার ভয়ে রাজাপ্পা যখন নাগরাজনের চুরি করা অ্যালবামটি বাড়ির চানের ঘরের উনুনে ফেলে দেয়, তখন তার চোখের সামনে অমূল্য টিকিটগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল। নিজের ঈর্ষার ফলে এমন সুন্দর জিনিসগুলো নষ্ট হতে দেখে অনুশোচনায় তার চোখ জলে ভরে উঠেছিল।

৪.৯ 'নাগরাজন হতবুদ্ধি হয়ে গেল।'— তার হতবুদ্ধি হয়ে পড়ার কারণ কী?
উত্তর: রাজাপ্পা যে তার নিজের অ্যালবামকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসত, তা সবাই জানত। সেই রাজাপ্পা যখন নিজের অমূল্য অ্যালবামটি নাগরাজনকে দিয়ে দিতে চাইল, তখন এই অবিশ্বাস্য প্রস্তাবে নাগরাজন অবাক হয়ে হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল।

৪.১০ 'কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হয়েই 'টিকিটের অ্যালবাম' গল্পে রাজাপ্পার আত্মশুদ্ধি ঘটেছে।' - গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে উদ্ধৃতিটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।
উত্তর: উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। রাজাপ্পা ঈর্ষার বশে নাগরাজনের অ্যালবাম চুরি করে এবং পরে ভয়ে তা পুড়িয়ে ফেলে। কিন্তু নাগরাজনের কান্না দেখে তার মধ্যে তীব্র অপরাধবোধ জন্মায়। সে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়। এই অনুশোচনার আগুন থেকেই তার আত্মশুদ্ধি ঘটে। সে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস—নিজের টিকিটের অ্যালবাম—নাগরাজনকে দিয়ে তার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায়। এই ত্যাগই তার আত্মশুদ্ধির প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন