অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - পরাজয়

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "পরাজয়" গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
বিজ্ঞাপন

গল্প: পরাজয়

লেখক: শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়


লেখক সম্পর্কে আলোচনা

শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৪৫): তিনি একজন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ও লেখক। তিনি 'দৈনিক বসুমতী' ও 'যুগান্তর' পত্রিকায় ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। খেলাধুলা নিয়ে তাঁর লেখা একাধিক বই রয়েছে। তাঁর প্রথম বই একটি উপন্যাস, 'দেরারি'। ফুটবল নিয়ে তাঁর লেখা দুটি বিখ্যাত বই হলো 'ক্লাবের নাম মোহনবাগান' এবং 'ক্লাবের নাম ইস্টবেঙ্গল'।

Santipriyo Bandyopadhyay

গল্পের সারসংক্ষেপ

এই গল্পটি রঞ্জন সরকার নামের একজন বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড়কে নিয়ে লেখা। পনেরো বছর ধরে সে যে ক্লাবের হয়ে খেলেছে, সেই ক্লাবই তার খেলোয়াড়ী জীবনের শেষে এসে তাকে চরম অপমান করে। ক্লাবের বারপুজোর অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এই অবহেলা ও অপমানে রঞ্জন ঠিক করে যে সে ক্লাব ছেড়ে দেবে এবং মাঠেই প্রমাণ করবে যে সে ফুরিয়ে যায়নি। সে অন্য একটি বড় ক্লাবে যোগ দেয়। গল্পের ক্লাইম্যাক্স হলো তার পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে ম্যাচ। সেই ম্যাচে সে একটি অসাধারণ গোল করে তার নতুন দলকে জেতায়। কিন্তু জেতার পরেও তার মনে কোনো আনন্দ থাকে না। পুরনো ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণা তাকে গ্রাস করে। সাজঘরে গিয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাইরের জগতে সে জিতলেও, নিজের মনের কাছে, ভালোবাসার কাছে সে হেরে যায়। এটাই তার আসল 'পরাজয়'।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

১.১ শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বইয়ের নাম 'দেরারি'। এটি একটি উপন্যাস।

১.২ কলকাতার ফুটবল নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: কলকাতার ফুটবল নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম 'ক্লাবের নাম মোহনবাগান' এবং 'ক্লাবের নাম ইস্টবেঙ্গল'।

২. নীচের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একটি বাক্যে লেখো:

২.১ 'এত দুঃখ এত ব্যথা সে কখনও পায়নি।'— এখানে কার দুঃখ-বেদনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে ফুটবল খেলোয়াড় রঞ্জন সরকারের দুঃখ-বেদনার কথা বলা হয়েছে।

২.২ 'রঞ্জনদা তুমি কাল ক্লাবে যাওনি?'— এই প্রশ্নের উত্তরে রঞ্জন কী বলেছিল?
উত্তর: এই প্রশ্নের উত্তরে রঞ্জন মিথ্যা করে বলেছিল যে, তাকে সকালে কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছিল।

২.৩ গঙ্গার পাড়ে গিয়ে কোন দৃশ্য রঞ্জনের চোখে ভেসে উঠল?
উত্তর: গঙ্গার পাড়ে গিয়ে রঞ্জনের চোখে ছোট ছোট ঢেউ, নোঙর করা জাহাজ, যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা নৌকো এবং ফেরি স্টিমারের দৃশ্য ভেসে উঠল।

২.৪ 'সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হলো।' —এখানে রঞ্জনের কোন সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে রঞ্জনের ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।

২.৫ 'ঘোষদা একটা বড়ো খবর আছে।'— কী সেই 'বড়ো খবর'?
উত্তর: সেই 'বড়ো খবর'টি হলো রঞ্জন সরকার তাদের ক্লাবে আসতে চাইছে।

২.৬ 'রঞ্জনের দলবদল করার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টনক নড়েছিল ক্লাবকর্তাদের।' — কীভাবে ক্লাবকর্তাদের যে টনক নড়েছে, তা বোঝা গেল?
উত্তর: ক্লাবকর্তাদের টনক নড়েছে এটা বোঝা গেল যখন তাঁরা রঞ্জনের বাড়ি ছুটোছুটি শুরু করলেন এবং তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন খেলোয়াড়কে দিয়ে ফোন করাতে লাগলেন।

২.৭ 'ব্যাপারটা কী হলো বুঝতে একটু সময় লাগল সমর্থকদের।'— এখানে কোন ব্যাপারটার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে রঞ্জনের করা অসাধারণ ব্যাক-ভলি গোলের কথা বলা হয়েছে, যা এতটাই দ্রুত ঘটেছিল যে সমর্থকরা প্রথমে বুঝতেই পারেনি।

২.৮ 'দুহাতে মুখ ঢেকে শুয়ে পড়ল একটা বেঞ্চিতে।' — স্ট্রাইকার রঞ্জন সরকারের এমনভাবে শুয়ে পড়ার কারণ কী?
উত্তর: পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করে জেতার পরেও রঞ্জনের মনে কোনো আনন্দ ছিল না, বরং তীব্র কষ্ট হচ্ছিল, তাই সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এভাবে শুয়ে পড়েছিল।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও :

৩.১ 'একটু আগেও সবকটা কাগজে বারপুজোর রিপোর্ট পড়েছে।'— এখানে 'ও' বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে? সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ের রিপোর্ট পড়ল কেন?
উত্তর: এখানে 'ও' বলতে ফুটবল খেলোয়াড় রঞ্জন সরকারকে বোঝানো হয়েছে।
তার ক্লাব তাকে বারপুজোর অনুষ্ঠানে ডাকেনি। তাই সেই অনুষ্ঠানে কারা কারা উপস্থিত ছিল তা দেখার জন্যই সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ের রিপোর্ট খুঁটিয়ে পড়ছিল।

৩.২ 'ওকে নিয়ে মাতামাতিটা ঠিক আগের মতো আর নেই।'— আগে 'ওকে' নিয়ে কী ধরনের মাতামাতি হতো?
উত্তর: আগে ক্লাবের বারপুজোয় যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি থেকে শুরু করে অনেকেই তাকে বারবার ফোন করতেন, এমনকি বাড়িতেও আসতেন। পয়লা বৈশাখের দিন সকালে তাকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি এসে হাজির হতো।

৩.৩ 'ঠিক এক বছর আগের ঘটনা।'—একবছর আগে কোন ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: এক বছর আগে রঞ্জন যখন ক্লাবের কাছে তার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে অনুভব করছিল, তখন ফুটবল সেক্রেটারি আর কোচ এসে তার সঙ্গে দল গঠন নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার পরামর্শ চান। এর ফলে রঞ্জনের মন থেকে মেঘ কেটে গিয়েছিল।

৩.৪ 'রঞ্জন সারাটা দিন আর বাড়ি থেকে বেরোয়নি।' —কোন দিনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে পয়লা বৈশাখের দিনটির কথা বলা হয়েছে, যেদিন তার ক্লাব তাকে বারপুজোর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানিয়ে অপমান করেছিল।

৩.৫ 'রঞ্জন নামগুলো পড়ার চেষ্টা করে।'— রঞ্জন কোন নামগুলো পড়ার চেষ্টা করে?
উত্তর: গঙ্গার ঘাটে বসে রঞ্জন দূরে নোঙর করে থাকা ছোট-বড় জাহাজের নামগুলো পড়ার চেষ্টা করে।

৩.৬ 'রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিলো।'— কোন কথা শুনে রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিলো?
উত্তর: অন্য ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনদা যখন বললেন যে তিনি আধ ঘণ্টার মধ্যে রঞ্জনের বাড়িতে আসছেন, সেই কথা শুনে রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিয়েছিল।

৩.৭ 'সত্যি ওরা তোমার সঙ্গে উচিত কাজ করেনি!'— কোন অনুচিত কাজের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে?
উত্তর: রঞ্জন যে ক্লাবের জন্য পনেরো বছর ধরে খেলেছে, সেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ বারপুজোর অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে যে অপমান করেছে, সেই অনুচিত কাজের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে।

৩.৮ 'মন স্থির করে ফেলেছ তো?'— উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছে?
উত্তর: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, রঞ্জন সরকার, তার পনেরো বছরের পুরনো ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছে।

৩.৯ 'আপনি সব ব্যবস্থা করুন।'— কোন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে?
উত্তর: রঞ্জনের নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

৪.১ 'রাগে ফুঁসছিল রঞ্জন।'— তার এই রাগের কারণ কী?
উত্তর: রঞ্জনের রাগের কারণ ছিল তার ক্লাবের প্রতি তীব্র অভিমান ও অপমানবোধ। যে ক্লাবের জন্য সে পনেরো বছর ধরে খেলেছে, লক্ষ লক্ষ টাকার অফার ফিরিয়ে দিয়েছে, সেই ক্লাবই তাকে পয়লা বৈশাখের বারপুজোয় একবার ডাকারও প্রয়োজন মনে করেনি। এই চরম অবহেলা ও অপমানই তার দুঃখকে রাগে পরিণত করেছিল।

৪.২ 'এত দুঃখ, এত ব্যথা সে কখনও পায়নি।'— এই দুঃখ-যন্ত্রণার দিনে কীভাবে অতীতের সুন্দর দিনগুলির কথা রঞ্জনের মনে এসেছে?
উত্তর: এই দুঃখ-যন্ত্রণার দিনে রঞ্জনের মনে পড়ছিল অতীতের সেই সুন্দর দিনগুলোর কথা, যখন বারপুজোর আগে ক্লাবের কর্মকর্তারা তাকে বারবার ফোন করতেন, বাড়িতে আসতেন এবং সকালে তাকে মাঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাঠাতেন। ক্লাবের কাছে তার গুরুত্ব ও সম্মান ছিল। অতীতের এই ভালোবাসার স্মৃতি বর্তমানের অপমানকে আরও বেশি বেদনাদায়ক করে তুলেছিল।

৪.৩ রঞ্জনের ক্লাবের সঙ্গে তার পনেরো বছরের সম্পর্ক কীভাবে ছিন্ন হলো? এই বিচ্ছেদের জন্য কাকে তোমার দায়ী বলে মনে হয়?
উত্তর: ক্লাবের বারপুজোয় আমন্ত্রণ না পেয়ে অপমানিত হয়ে রঞ্জন তার পনেরো বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অন্য ক্লাবের সেক্রেটারিকে ফোন করে এবং দলবদলের প্রথম দিনেই নতুন ক্লাবে সই করে।
এই বিচ্ছেদের জন্য আমি ক্লাবের কর্মকর্তাদেরই দায়ী বলে মনে করি। একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত খেলোয়াড়কে তার খেলোয়াড়ী জীবনের শেষে এসে এইভাবে অপমান করা তাদের উচিত হয়নি। তাদের সামান্য সম্মান ও ভালোবাসা দেখালেই এই বিচ্ছেদ এড়ানো যেত।

৪.৪ 'কী করবে ও ঠিক করে ফেলেছে।'— এখানে কার কথা বলা হয়েছে? সে কী ঠিক করে ফেলেছে? তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে পরবর্তী সময়ে চলতে পারল কি?
উত্তর: এখানে রঞ্জন সরকারের কথা বলা হয়েছে। সে ঠিক করেছিল যে, আরও দুদিন অপেক্ষা করবে, এর মধ্যে ক্লাব থেকে কেউ যোগাযোগ না করলে সে ক্লাব ছেড়ে দেবে।
হ্যাঁ, তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই সে পরবর্তী সময়ে চলেছে। দুদিনেও ক্লাব থেকে কেউ যোগাযোগ না করায় সে অন্য ক্লাবে ফোন করে এবং দলবদল করে নেয়।

৪.৫ 'তৃতীয় দিন রাত্তিরে টেলিফোন করল অন্য বড়ো ক্লাবের সেক্রেটারিকে।'— কোন দিন থেকে 'তৃতীয় দিন'-এর কথা বলা হয়েছে? এই দিন তিনেক সময় তার কীভাবে কেটেছে? টেলিফোনটি করায় কোন পরিস্থিতি তৈরি হলো?
উত্তর: পয়লা বৈশাখের দিন, অর্থাৎ বারপুজোর দিন থেকে 'তৃতীয় দিন'-এর কথা বলা হয়েছে।
এই তিন দিন সময় তার প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা ও ছটফটানির মধ্যে কেটেছে। সে ক্লাবের ফোনের অপেক্ষায় ছিল এবং অফিস ছাড়া আর কোথাও যায়নি।
টেলিফোনটি করার ফলে অন্য ক্লাবের সেক্রেটারি স্বপনদা তার বাড়ি চলে আসেন এবং তার দলবদলের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়, যা বাংলার ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

৪.৬ 'দুই প্রধানের লড়াইকে কেন্দ্র করে অনেক বছর পরে কলকাতা আবার মেতে উঠেছে।'— গল্প অনুসরণে সেই লড়াইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচের বিবরণ দাও।
উত্তর: সল্ট লেক স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক দর্শকের সামনে রঞ্জনের নতুন ও পুরনো দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রঞ্জন। প্রথমার্ধে রঞ্জনের পুরনো দল রক্ষণাত্মক খেলে তাকে আটকে রাখে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তারা আক্রমণে গেলে খেলা জমে ওঠে। খেলার প্রায় শেষ মুহূর্তে রঞ্জন একটি অবিশ্বাস্য ব্যাক-ভলি করে গোল দিয়ে তার নতুন দলকে জিতিয়ে দেয়। এই গোল এবং ম্যাচের ফলাফল কলকাতাকে উত্তেজনায় মাতিয়ে তুলেছিল।

৪.৭ 'বলটা বুলেটের মতো ছুটে গিয়ে ঢুকে গেল গোলে।'— এরপর সমর্থক আর সহ-খেলোয়াড়দের উল্লাসের বিপ্রতীপে রঞ্জনের বিষণ্ণতার কোন রূপ গল্পে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: গোল করার পর যখন সমর্থক ও খেলোয়াড়রা আনন্দে ফেটে পড়ছে, তখন রঞ্জন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছিল। তার মনে কোনো আনন্দ ছিল না। সাজঘরে ফিরে সে এক কোণে চুপ করে বসেছিল এবং পরে পাশের ঘরে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। এই বিষণ্ণতা প্রমাণ করে যে, সে তার পুরনো ক্লাবকে কতটা ভালোবাসত এবং এই জয় তার কাছে অপমানের বদলা হলেও, মনের দিক থেকে এটি ছিল এক গভীর পরাজয়।

৪.৮ গল্পের ঘটনা বিশ্লেষণ করে 'পরাজয়' গল্পের নামকরণের সার্থকতা প্রতিপন্ন করো।
উত্তর: 'পরাজয়' গল্পের নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক। আপাতদৃষ্টিতে গল্পটি রঞ্জনের জয়কে কেন্দ্র করে—সে অপমানের বদলা নিয়েছে এবং মাঠে নিজেকে প্রমাণ করেছে। কিন্তু গল্পের শেষে দেখা যায়, এই জয়ের পর সে আনন্দিত নয়, বরং দুঃখে ভারাক্রান্ত। সে তার ভালোবাসার ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করে জিতেছে, কিন্তু নিজের আবেগের কাছে, ভালোবাসার কাছে সে হেরে গেছে। এই মানসিক পরাজয়ই গল্পের মূল উপজীব্য। তাই বাহ্যিক জয়ের আড়ালে থাকা এই গভীর পরাজয়কে কেন্দ্র করে গল্পের নামকরণটি যথার্থ হয়েছে।

শব্দার্থ: অবাঞ্ছিত – অকাম্য/চাওয়া হয়নি এমন। জল্পনা-কল্পনা – অনুমান/আলোচনা। অভিনন্দন – আনন্দের সঙ্গে গৌরবের স্বীকৃতি জানানো।

৫. নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো:

  • চরকি: চরকা > চরকি (স্বরসংগতি)।
  • সক্কাল: সকাল > সক্কাল (ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা দ্বিত্বব্যঞ্জন)।
  • নেমন্তন্ন: নিমন্ত্রণ > নেমন্তন্ন (স্বরসংগতি ও সমীভবন)।
  • নম্বর: Number (ইংরেজি) > নম্বর (borrowing)।
  • ছুটোছুটি: ছোট > ছুট্ (বিশেষ্য থেকে ক্রিয়া), ছুটোছুটি (দ্বিরুক্ত শব্দ)।

৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবদ্ধপদ খুঁজে নিয়ে সন্ধিবিচ্ছেদ করো :

৬.১ ওর মনের মধ্যে জমে ওঠা দুঃখ আর অভিমান রূপান্তরিত হয়েছিল রাগে।
উত্তর: রূপান্তরিত = রূপ + অন্তরিত।

৬.২ ক্লাবের কর্তাদের হাবভাব দেখে সে পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে।
উত্তর: পরিষ্কার = পরিঃ + কার।

৬.৩ কেউ একটা টেলিফোন পর্যন্ত করল না।
উত্তর: টেলিফোন = টেলি + ফোন (ইংরেজি শব্দের সন্ধি)।

৬.৪ তার পুরস্কার এতদিনে পেলাম স্বপনদা।
উত্তর: পুরস্কার = পুরঃ + কার।

৬.৫ ওরা যা দিয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট ছিলাম।
উত্তর: সন্তুষ্ট = सम् + তুষ্ট।

৭. নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক বিভক্তি নির্দেশ করো:

৭.১ রঞ্জন ঘরের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে।
উত্তর: সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।

৭.২ গাড়ি পাঠানো তো দূরের কথা।
উত্তর: কর্ম কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।

৭.৩ সারাটা সকাল ও ছটফট করে বেড়িয়েছিল।
উত্তর: কালাধিকরণে 'শূন্য' বিভক্তি।

৭.৪ কানে ভেসে আসে পাখির ডাক।
উত্তর: অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।

৭.৫ রঞ্জন টেলিফোনটা রেখে দিল।
উত্তর: কর্ম কারকে 'টা' নির্দেশক।

৮. নীচের বাক্যগুলির ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো:

৮.১ গুরুত্ব দেয়নি
উত্তর: সাধারণ অতীত কাল।

৮.২ তুই চলে আয়
উত্তর: অনুজ্ঞা ভাব (বর্তমান কাল)।

৮.৩ কাল সকালে আমায় কলকাতার বাইরে যেতে হয়েছিল
উত্তর: পুরাঘটিত অতীত কাল।

৮.৪ আমি রঞ্জন সরকার বলছি
উত্তর: ঘটমান বর্তমান কাল।

৮.৫ রঞ্জনের মুখে খেলে গেল ম্লান হাসি।
উত্তর: সাধারণ অতীত কাল।

৯. নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো:

৯.১ এত দুঃখ, এত ব্যথা সে কখনও পায়নি। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর: এই প্রথমবার সে এত দুঃখ ও ব্যথা পেল।

৯.২ সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হলো। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যখন সে সিদ্ধান্তটা নিল, তখন তার মন অনেকটা শান্ত হলো।

৯.৩ সেই মুহূর্তে কলিংবেলটা বেজে উঠল। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: মুহূর্তটি এল এবং কলিংবেলটা বেজে উঠল।

৯.৪ রঞ্জনের গলাটা একটু কেঁপে উঠল। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: রঞ্জনের গলাটা স্থির রইল না।

৯.৫ যারা এতক্ষণ দেয়াল পিঠ দিয়ে লড়ছিল তারাই এখন রুখে দাঁড়াল। (সরল বাক্যে)
উত্তর: এতক্ষণ দেয়াল পিঠ দিয়ে লড়া খেলোয়াড়েরাই এখন রুখে দাঁড়াল।

বিজ্ঞাপন