অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - পল্লীসমাজ

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "পল্লীসমাজ" পাঠ্যাংশের সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

পাঠ্যাংশ: পল্লীসমাজ

লেখকের নাম: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬-১৯৩৮)


লেখক পরিচিতি

Saratchandra Chattopadhyay

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক। তাঁর লেখায় বাংলার গ্রামজীবন, সমাজব্যবস্থা এবং মধ্যবিত্ত মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত বাস্তব ও মর্মস্পর্শী রূপে ফুটে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে 'বড়দিদি', 'পল্লীসমাজ', 'দেবদাস', 'চরিত্রহীন', 'গৃহদাহ', 'শ্রীকান্ত' ইত্যাদি। 'মহেশ', 'অভাগীর স্বর্গ' প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটোগল্প। পাঠ্য রচনাটি তাঁর বিখ্যাত 'পল্লীসমাজ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

গল্পের সারসংক্ষেপ

অবিরাম বৃষ্টির ফলে গ্রামের একশো বিঘার মাঠ জলে ডুবে গেছে, যা গ্রামের চাষিদের একমাত্র সম্বল। জলনিকাশির একমাত্র পথটি গ্রামের জমিদার বেণী ঘোষাল ও রমা মুখোপাধ্যায়ের যৌথ মালিকানাধীন একটি বাঁধ দিয়ে আটকানো। বছরে মাত্র দুশো টাকার মাছের লোভে তারা বাঁধটি কাটার অনুমতি দিচ্ছে না, যা হাজার হাজার টাকার ধান নষ্টের কারণ হতে চলেছে। গ্রামের যুবক জমিদার রমেশ কৃষকদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে। সে প্রথমে তার জ্ঞাতি বড়দা বেণীর কাছে যায়, কিন্তু বেণী অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও স্বার্থপর মনোভাব দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয়। এরপর রমেশ রমার কাছে যায়, এই ভেবে যে একজন নারী হিসেবে রমা নিশ্চয়ই দয়াবতী হবে। কিন্তু রমাও আর্থিক ক্ষতির অজুহাতে বাঁধ কাটতে অস্বীকার করে এবং রমেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। এতে রমেশ অত্যন্ত অপমানিত ও ক্রুদ্ধ হয় এবং রমাকে 'নীচ' বলে ভর্ৎসনা করে। সে জোর করে বাঁধ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। রমা তাকে আটকাতে গ্রামের কুখ্যাত লাঠিয়াল আকবর আলিকে পাঠায়। কিন্তু রমেশের অসাধারণ সাহসিকতা ও লাঠির আঘাতে আকবর ও তার ছেলেরা পরাস্ত হয়। পরে আহত আকবর রমেশের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ করতে অস্বীকার করে কারণ সে রমেশের বীরত্ব ও ন্যায্যতার প্রতি মুগ্ধ হয়েছিল। এই ঘটনায় রমা একই সাথে পরাজিত ও লজ্জিত হলেও, রমেশের তেজ ও মায়ার পরিচয় পেয়ে তার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধ অনুভব করে।

শব্দার্থ

সংবরণ: নিয়ন্ত্রণ। কোপালেও: কোদাল দিয়ে মাটি কাটলেও। খুড়ো: কাকা। তদাবস্থায়: সেই অবস্থায়। বিহ্বল: হতভম্ভ। অগোচর: যা দেখা যায় না, চোখের আড়ালে। বাগবিতণ্ডা: তর্কাতর্কি। আল্লার কিরে: আল্লাহর নামে দিব্যি বা শপথ। ফৈরিদি (ফরিয়াদি): যে নালিশ করে। পাষাণ: পাথর।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. লেখক পরিচিতি

১.১ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উপন্যাসের নাম হলো 'শ্রীকান্ত' ও 'গৃহদাহ'।

১.২ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি ছোটো গল্পের নাম লেখো।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দুটি ছোটো গল্পের নাম হলো 'মহেশ' ও 'অভাগীর স্বর্গ'।

২. নীচের প্রশ্নগুলির দু-একটি বাক্যে উত্তর লেখো:

২.১ গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ কী করছিল?
উত্তর: গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ জমিদারির হিসাবপত্র দেখছিল।

২.২ গ্রামের একমাত্র ভরসা কী ছিল?
উত্তর: একশো বিঘার মাঠটাই গ্রামের একমাত্র ভরসা ছিল।

২.৩ 'বোধ করি এই কথাই হইতেছিল'- কোন কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে?
উত্তর: কৃষকদের জলনিকাশির জন্য বাঁধ কাটার অনুরোধ এবং সেই সংক্রান্ত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

২.৪ রমা আকবরকে কোথায় পাহারা দেবার জন্য পাঠিয়েছিল?
উত্তর: রমা আকবরকে জলার বাঁধটি পাহারা দেবার জন্য পাঠিয়েছিল যাতে রমেশ তা কেটে দিতে না পারে।

২.৫ 'পারবি নে কেন?' উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন কাজটি করতে পারবে না?
উত্তর: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি আকবর আলি থানায় গিয়ে রমেশের বিরুদ্ধে মারপিটের মিথ্যা নালিশ জানাতে পারবে না।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর লেখো:

৩.১ কুড়িজন কৃষক রমেশের কাছে এসে কেঁদে পড়ল কেন?
উত্তর: অবিরাম বৃষ্টিতে গ্রামের একশো বিঘার মাঠ জলে ডুবে গিয়েছিল। জল বার করার জন্য বাঁধ কেটে না দিলে তাদের সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে, এই আশঙ্কায় কুড়িজন কৃষক রমেশের কাছে এসে কেঁদে পড়েছিল।

৩.২ রমেশ বেণীর কাছে জল বার করে দেবার হুকুম দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল কেন?
উত্তর: জলার বাঁধটির মালিক ছিল ঘোষাল ও মুখোপাধ্যায় পরিবার। রমেশের জ্ঞাতি-বড়দা বেণী ঘোষাল পরিবারের কর্তা হওয়ায়, বাঁধ কেটে জল বার করে দেওয়ার হুকুম দেওয়ার জন্য রমেশ তার কাছে অনুরোধ করেছিল।

৩.৩ বেণী জল বার করতে চায়নি কেন?
উত্তর: বাঁধের গায়ে যে জলাটি ছিল, সেখান থেকে বছরে দুশো টাকার মাছ বিক্রি হতো। বাঁধ কেটে দিলে সেই মাছ বেরিয়ে যাবে, অর্থাৎ আর্থিক ক্ষতি হবে, এই কারণে বেণী জল বার করতে চায়নি।

৩.৪ 'ঘৃণায়, লজ্জায়, ক্রোধে, ক্ষোভে রমেশের চোখমুখ উত্তপ্ত হইয়া উঠিল' রমেশের এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?
উত্তর: গরিব চাষিদের সর্বনাশ করে নিজের সামান্য লাভের কথা ভেবে বেণী যখন নিষ্ঠুরভাবে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিল এবং তাদের বিপদে টাকা ধার দিয়ে আরও লাভ করার কথা বলছিল, তখন তার এই অমানবিকতায় রমেশের ঘৃণায়, লজ্জায়, ক্রোধে ও ক্ষোভে চোখমুখ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

৩.৫ 'রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল'- রমেশের বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?
উত্তর: রমেশ ভেবেছিল রমা নারী হিসেবে দয়াবতী হবে এবং গরিব চাষিদের দুঃখ বুঝবে। কিন্তু রমাও যখন সামান্য টাকার ক্ষতির জন্য বাঁধ কাটতে অস্বীকার করল, তখন তার এই অপ্রত্যাশিত উত্তরে রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল।

৩.৬ রমা রমেশের অনুরোধে রাজি হয়নি কেন?
উত্তর: রমা দুটি কারণে রমেশের অনুরোধে রাজি হয়নি। প্রথমত, সে মাছের ক্ষতির জন্য দুশো টাকা লোকসান করতে চায়নি। দ্বিতীয়ত, সে নিজেকে তার নাবালক ভাইয়ের সম্পত্তির অভিভাবক মাত্র বলে দাবি করেছিল।

৩.৭ 'মানুষ খাঁটি কি না, চেনা যায় শুধু টাকার সম্পর্কে' কে, কার সম্পর্কে একথা বলেছিল? সে কেন একথা বলেছিল?
উত্তর: এই কথাটি রমেশ রমার সম্পর্কে বলেছিল। রমা যখন চাষিদের বিপদের চেয়ে নিজের আর্থিক লাভকে বড় করে দেখল এবং রমেশের দয়ার সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলল, তখন তার এই স্বার্থপরতায় আঘাত পেয়ে রমেশ একথা বলেছিল।

৩.৮ 'রমা বিহ্বল হতবুদ্ধির ন্যায় ফ্যালফ্যাল করিয়া চাহিয়া রহিল' রমার এমন অবস্থা হয়েছিল কেন?
উত্তর: রমেশ যখন ক্রোধে রমাকে অত্যন্ত হীন, নীচ ও নিষ্ঠুর বলে তীব্র অপমান করল, তখন অপ্রত্যাশিত এই কঠোর আক্রমণে রমা বিহ্বল ও হতবুদ্ধি হয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল।

৩.৯ রমা আকবরকে ডেকে এনেছিল কেন?
উত্তর: রমেশ জোর করে বাঁধ কেটে দেবে ঘোষণা করার পর, তাকে বাধা দেওয়ার জন্য এবং তার শক্তি পরীক্ষা করার জন্য রমা তার বিশ্বস্ত ও দুর্ধর্ষ লাঠিয়াল আকবরকে ডেকে এনেছিল।

৩.১০ 'মোরা নালিশ করতি পারব না'—কে একথা বলেছে? সে নালিশ করতে পারবে না কেন?
উত্তর: এই কথাটি লাঠিয়াল আকবর আলি বলেছে। তার মতে, রমেশ একজন সত্যিকারের বীর, যে একাই তিন বাপ-বেটাকে হারিয়ে দিয়েছে। এমন বীরের বিরুদ্ধে মিথ্যা নালিশ করা তার কাছে লজ্জার ও অসম্মানের। তাছাড়া, পাঁচটা গ্রামের সর্দার হয়ে সে ফরিয়াদি হতে পারবে না।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

৪.১ 'নইলে আর ব্যাটাদের ছোটোলোক বলেচে কেন'? বক্তা কে? এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বক্তার চরিত্রের কী পরিচয় পাও?
উত্তর: এই উক্তিটির বক্তা হলেন বেণী ঘোষাল।
এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বক্তার চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা হলো:
ক) শ্রেণিবিদ্বেষী ও অহংকারী: তিনি গরিব চাষিদের 'ছোটোলোক' বলে অভিহিত করে তাদের প্রতি তাঁর চরম ঘৃণা ও তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেছেন।
খ) নিষ্ঠুর ও শোষণকারী: চাষিদের সর্বনাশ হলেও তার কিছু যায় আসে না। বরং তাদের বিপদে টাকা ধার দিয়ে সুদ আদায় করার এক কুৎসিত মানসিকতা তার মধ্যে রয়েছে।
গ) স্বার্থপর ও অমানবিক: সামান্য আর্থিক লাভের জন্য তিনি গ্রামের অগণিত মানুষের অন্নের সংস্থান নষ্ট করে দিতেও কুণ্ঠিত নন। তার মধ্যে কোনো মানবিকতা বা দয়ামায়া নেই।

৪.২ বেণী, রমা ও রমেশ - চরিত্র তিনটির তুলনামূলক আলোচনা করো। সেইসঙ্গে এই তিনটি চরিত্রের মধ্যে কোন চরিত্রটি তোমার সবথেকে ভালো লেগেছে এবং কেন তা জানাও।
উত্তর: 'পল্লীসমাজ' পাঠ্যাংশে তিনটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী।
বেণী: বেণী চরিত্রটি পুরোপুরি নেতিবাচক। সে চরম স্বার্থপর, নিষ্ঠুর, লোভী এবং অহংকারী। গরিব প্রজাদের প্রতি তার কোনো সহানুভূতি নেই, বরং তাদের শোষণ করতেই সে আনন্দ পায়।
রমা: রমা একটি জটিল চরিত্র। সে একদিকে বিষয়-সম্পত্তি রক্ষার ব্যাপারে কঠোর ও হিসাবি, যা তাকে স্বার্থপর মনে হতে সাহায্য করে। কিন্তু তার অন্তরের গভীরে অনুশোচনা, দ্বন্দ্ব এবং রমেশের প্রতি এক ধরনের দুর্বলতাও রয়েছে। তার চরিত্রটি ভালো-মন্দের মিশ্রণ।
রমেশ: রমেশ এই গল্পের নায়ক। সে শিক্ষিত, বিবেকবান, দয়ালু এবং ন্যায়ের প্রতীক। গরিবদের দুঃখ দূর করার জন্য সে জমিদারদের বিরুদ্ধে একা দাঁড়াতেও ভয় পায় না। তার চরিত্রে তেজ ও মায়া—দুয়েরই অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

এই তিনটি চরিত্রের মধ্যে আমার রমেশ চরিত্রটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ, সে अन्याय ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। নিজের ক্ষতি স্বীকার করেও সে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছে। তার নির্ভীকতা, পরোপকার এবং মানবিক মূল্যবোধ তাকে একজন আদর্শ চরিত্রে পরিণত করেছে।

৪.৩ উপন্যাসের নামে পাঠ্যাংশটির নামকরণও 'পল্লীসমাজ' রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে নামকরণটি সুপ্রযুক্ত কিনা সে সম্পর্কে মতামত জানাও।
উত্তর: আমার মতে, পাঠ্যাংশটির 'পল্লীসমাজ' নামকরণটি অত্যন্ত সুপ্রযুক্ত। এই গল্পে তৎকালীন বাংলার গ্রামীণ সমাজের একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে একদিকে রয়েছে বেণীর মতো স্বার্থপর ও শোষণকারী জমিদার, অন্যদিকে রমেশের মতো শিক্ষিত ও পরোপকারী যুবক। আবার রমার মতো দ্বন্দ্বে ভোগা চরিত্রও রয়েছে। চাষিদের অসহায়তা, জমিদারি ব্যবস্থার শোষণ এবং ব্যক্তিস্বার্থের সঙ্গে সমষ্টির স্বার্থের সংঘাত—এই সবকিছু মিলিয়ে গল্পটি একটি সম্পূর্ণ 'পল্লীসমাজ'-এর প্রতিচ্ছবি। তাই এই নামকরণটি যথার্থ।

৪.৪ পল্লীসমাজ পাঠ্যাংশে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনো নিদর্শন পেয়ে থাকলে সে সম্পর্কে আলোচনা করো। এ ধরনের ব্যবস্থার সুফল ও কুফল সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: হ্যাঁ, পাঠ্যাংশে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। বেণী ঘোষালের মতো জমিদাররা প্রজাদের মঙ্গলের কথা না ভেবে নিজেদের সামান্য লাভের জন্য তাদের সর্বনাশ করতেও দ্বিধা করে না। প্রজারা তাদের কাছে শুধুমাত্র শোষণের বস্তু। অন্যদিকে, আকবর আলির মতো লাঠিয়ালরা জমিদারের অনুগত হয়ে কাজ করে, যা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থারই একটি অঙ্গ।
কুফল: এই ব্যবস্থার প্রধান কুফল হলো শোষণ। জমিদার বা ভূস্বামীরা সাধারণ প্রজাদের ওপর অত্যাচার চালায় এবং তাদের উন্নতিতে বাধা দেয়। এর ফলে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য বাড়ে এবং দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হতে থাকে।
সুফল: প্রাচীনকালে কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার সুফলও ছিল। কিছু দয়ালু জমিদার বা রাজা তাদের প্রজাদের অভিভাবকের মতো রক্ষা করতেন এবং তাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতেন, যা সমাজে একধরণের স্থিতিশীলতা আনত। তবে পাঠ্যাংশে এই ব্যবস্থার কুফলই প্রকট হয়ে উঠেছে।

৫. সন্ধি করো:

বৃষ্টি: বৃষ্ + তি
অত্যন্ত: অতি + অন্ত
সংবরণ: সম্ + বরণ
কান্না: কাঁদ্ + না
অনায়াসে (এখানে পাঠ্যাংশে নেই, সম্ভবত অনাত্মীয় হবে): অন্ + আত্মীয় = অনাত্মীয়
একান্ত: এক + অন্ত

৬. নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো:

নিরুত্তর: নিঃ + উত্তর
নমস্কার: নমঃ + কার
তারকেশ্বর: তারক + ঈশ্বর
যথার্থ: যথা + অর্থ
প্রত্যাখ্যান: প্রতি + আখ্যান
আশ্চর্য: আঃ + চর্য
তদবস্থা: তৎ + অবস্থা

৭. নীচে দেওয়া শব্দগুলির দলবিশ্লেষণ করো:

অপরাহ্ণ: অ-প-রান্‌-হ (৪টি দল)
অকস্মাৎ: অ-কস্‌-সাঁৎ (৩টি দল)
আহ্বান: আও-ভান (২টি দল)
দক্ষিণ: দক্‌-খিন্‌ (২টি দল)
উচ্ছিষ্ট: উচ্‌-ছিষ-টো (৩টি দল)
উত্তপ্ত: উৎ-তপ্‌-তো (৩টি দল)
বিস্ফারিত: বিস্‌-ফা-রি-তো (৪টি দল)
দীর্ঘশ্বাস: দির-ঘোস্‌-সাস্‌ (৩টি দল)
অশ্রুপ্লাবিত: ওস-স্রু-প্‌লা-বি-তো (৫টি দল)
হিন্দুস্থানি: হিন-দুস-থা-নি (৪টি দল)
অস্বচ্ছ: অസ്‌-সচ্‌-ছো (৩টি দল)

৮. নীচে দেওয়া ব্যাসবাক্যগুলিকে সমাসবদ্ধ পদে পরিণত করো কোনটি কী ধরনের সমাস তা নির্ণয় করো:

৮.১ জল ও কাদা = জলকাদা (দ্বন্দ্ব সমাস)
৮.২ নয় আহত = অনাহত (নঞ তৎপুরুষ সমাস)
৮.৩ ত্রি অধিক দশ = ত্রয়োদশ (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বা কর্মধারয় সমাস)
৮.৪ বেগের সহিত বর্তমান = সবেগে (সহার্থক বহুব্রীহি সমাস)
৮.৫ মড়ার জন্য কান্না = মড়াকান্না (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
৮.৬ চণ্ডী পুজোর জন্য তৈরি যে মণ্ডপ = চণ্ডীমণ্ডপ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)

৯. নীচে বাক্যগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন করো:

৯.১ কথাটা রমেশ বুঝিতে পারিল না। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: একটি কথা ছিল কিন্তু রমেশ তাহা বুঝিতে পারিল না।

৯.২ এ বাড়িতে আসিয়া যখন প্রবেশ করিল তখন সন্ধ্যা হয় হয়। (সরল বাক্যে)
উত্তর: এ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় সন্ধ্যা হয় হয়।

৯.৩ ওরা খাবে কী? (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তর: ওদের খাওয়ার কিছু নেই।

৯.৪ বেণীর এই অত্যন্ত অপমানকর প্রশ্নের উত্তর দিবারও তাহার প্রবৃত্তি হইল না। (হ্যাঁ বাচক বাক্যে)
উত্তর: বেণীর এই অত্যন্ত অপমানকর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হইতে সে বিরত রহিল।

৯.৫ তুমি নীচ, অতি ছোটো। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: তুমি নীচ এবং অতি ছোটো।

৯.৬ পথে আর এতটুকু কাদা পাবার জো নেই দিদিমা। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)
উত্তর: পথে কি আর এতটুকু কাদা পাবার জো আছে দিদিমা?

৯.৭ মাসি উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ থাকায় এ সকলের কিছুই জানিতে পারেন নাই। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যেহেতু মাসি উপরে ঠাকুরঘরে আবদ্ধ ছিলেন, সেহেতু তিনি এ সকলের কিছুই জানিতে পারেন নাই।

১০. নীচে দেওয়া শব্দদুটিকে দুটি আলাদা আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্যরচনা করো:

যাত্রা:
১) (গমন): তারকেশ্বর যাত্রার জন্য আমরা প্রস্তুত হলাম।
২) (পালাগান/নাটক): গ্রামের মেলায় আজ যাত্রার আসর বসেছে।

বাঁধ:
১) (জলাধার): নদীর ওপর একটি বড় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
২) (বাধা): কোনো বাঁধ না মেনে সে এগিয়ে চলল।