অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - কী করে বুঝব

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "কী করে বুঝব" গল্পটির সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

গল্প: কী করে বুঝব

লেখিকার নাম: আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-১৯৯৫)


লেখিকা পরিচিতি

Ashapurna Devi

আশাপূর্ণা দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য লেখিকা। প্রথাগত শিক্ষা না পেলেও নিজের চেষ্টায় তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তাঁর লেখায় বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দ্বন্দ্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ত্রয়ী হলো 'প্রথম প্রতিশ্রুতি', 'সুবর্ণলতা' ও 'বকুলকথা'। তিনি জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য আকাদেমি ও রবীন্দ্র পুরস্কার সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

গল্পের সারসংক্ষেপ

'কী করে বুঝব' গল্পটি একটি শিশুর সরল মন এবং বড়দের জগতের জটিলতার মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। ছয় বছরের বুকু তার মা-বাবার কাছে শিখেছে সবসময় সত্যি কথা বলতে। একদিন তাদের বাড়িতে অসময়ে দুজন আত্মীয়া, ছেনুমাসি ও বেণুমাসি, বেড়াতে আসেন। বুকু তার শেখা 'সত্য কথা' বলার নীতি অনুসরণ করে অতিথিদের সামনে তার মা-বাবার মনের আসল কথা (যেমন, অসময়ে আসায় বিরক্তি প্রকাশ, সিনেমার টিকিট নষ্ট হওয়ার আক্ষেপ) ফাঁস করে দেয়। এতে তার মা ভীষণ অপ্রস্তুত ও রেগে যান এবং অতিথিরাও অপমানিত বোধ করেন। গল্পে আরও একটি শিশু চরিত্র ডাম্বল আছে, যে বুকুর ঠিক বিপরীত—অত্যন্ত দুরন্ত ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। বুকুর মা ডাম্বলের দুষ্টুমির প্রশংসা করলেও নিজের ছেলের সরল সত্যকথনের জন্য তাকে প্রচণ্ড মারধর করেন। শেষে মার খেতে খেতে বুকু কেঁদে জানায় যে, সে বুঝতে পারছে না আসলে তাকে কী করতে হবে, কারণ তাকেই তো সত্যি কথা বলতে শেখানো হয়েছিল। গল্পটি বড়দের আচরণের দ্বিচারিতা এবং শিশুদের সরল মনে তার কী প্রভাব পড়ে, তা তুলে ধরেছে।

শব্দার্থ

বেজায়: খুব, অতিরিক্ত। রোয়াক: বাড়ির সামনের উঁচু রক বা বারান্দা। ইত্যবসরে: এই সুযোগে। মোলায়েম: নরম, কোমল। অভ্যর্থনা: সাদর অভ্যর্থনা, আপ্যায়ন। মাথায় বজ্রাঘাত: হঠাৎ বড় বিপদ হওয়া। হাটে হাঁড়ি ভাঙা: গোপন কথা প্রকাশ করে দেওয়া। বেয়াড়া: অবাধ্য, খারাপ। হাড়কেপ্পন: অত্যন্ত কৃপণ। ধাতস্থ: শান্ত, প্রকৃতিস্থ। আক্কেল গুড়ুম: হতভম্ব হয়ে যাওয়া। অপ্রতিভ: অপ্রস্তুত। বেধড়ক: প্রচণ্ড, অপরিমিত।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. লেখিকা পরিচিতি

১.১ আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম হলো 'প্রথম প্রতিশ্রুতি' এবং 'সুবর্ণলতা'!

১.২ আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য কোন কোন বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার এবং জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।

২. একটি বাক্যে উত্তর দাও:

২.১ বুকু কোথায় বসে খেলা করছিল?
উত্তর: বুকু বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলা করছিল।

২.২ রিকশা থেকে কারা নামলেন?
উত্তর: রিকশা থেকে দুজন মোটা ভদ্রমহিলা এবং বুকুর বয়সী একটি ছেলে নামলেন।

২.৩ ডাম্বল আলমারি থেকে কার বই নামিয়েছিল?
উত্তর: ডাম্বল আলমারি থেকে বুকুর সেজোকাকার বই নামিয়েছিল।

২.৪ বুকুর মা-র কী কেনা ছিল?
উত্তর: বুকুর মা-র সিনেমার টিকিট কেনা ছিল।

২.৫ বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্যে কী কী খাবার নিয়ে আসে?
উত্তর: বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্য চা, বড়ো বড়ো রাজভোগ, ভালো ভালো সন্দেশ, শিঙাড়া এবং নিমকি নিয়ে আসে।

২.৬ বুকু কোন স্কুলে ভরতি হয়েছিল?
উত্তর: বুকু 'আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান' নামের একটি স্কুলে ভরতি হয়েছিল।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

৩.১ বুকু খেলতে খেলতে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় কেন?
উত্তর: দুজন বেজায় মোটা ভদ্রমহিলা এবং একটি মোটাসোটা ছেলে একটি রিকশার ছোট্ট খোলের মধ্যে কীভাবে জায়গা করে নিল, তা দেখেই বুকু অবাক হয়ে গিয়েছিল।

৩.২ 'সিঁড়ি ভেঙে আর উঠতে পারব না বাবা' কারা একথা বলেছেন? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারবেন না কেন?
উত্তর: বুকুর বাড়িতে আসা ছেনুমাসি ও বেণুমাসি একথা বলেছেন।
তাঁরা অনেক দূর থেকে বাসবদল করে এবং রিকশায় চড়ে এসে ক্লান্ত ছিলেন এবং তাঁরা এমনিতে‌ও অত্যন্ত মোটা ছিলেন, তাই তিনতলায় সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারবেন না বলেছিলেন।

৩.৩ 'ও কী! কী কাণ্ড করেছ তুমি' কে, কী কাণ্ড করেছে?
উত্তর: এখানে বুকু ডাম্বলকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছে।
ডাম্বল বুকুর সেজোকাকার আলমারি খুলে বইপত্র মাটিতে ফেলে দিয়েছিল এবং ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্রও এলোমেলো করে দিয়েছিল।

৩.৪ বুকু অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কেন?
উত্তর: কিছুক্ষণ আগেই তার মা অতিথিদের আসায় বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন " শুনে গা জ্বলে গেল! অসময়ে লোক বেড়াতে আসা!", কিন্তু অতিথিদের সামনে তিনিই আবার খুব আনন্দ প্রকাশ করায়, মায়ের এই বিপরীত আচরণ দেখে বুকু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।

৩.৫ 'ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত'- ছেলের কথা শুনে বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো কেন?
উত্তর: অতিথিদের আগমনে তার মা যে মনে মনে বিরক্ত হয়েছিলেন, সেই গোপন কথাটি বুকু সরলভাবে সবার সামনে প্রকাশ করে দেয়। এই অপ্রত্যাশিত সত্যকথনে বুকুর মা অত্যন্ত অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হয়ে পড়েন, তাই তাঁর অবস্থা মাথায় বজ্রাঘাত হওয়ার মতো হয়েছিল।

৩.৬ ডাম্বলকে ইস্কুলে ভরতি করা হয়নি কেন?
উত্তর: ডাম্বলের বাবা অত্যন্ত কৃপণ (হাড়কেপ্পন) ছিলেন এবং সাত বছরের ছেলের জন্য সাত টাকা স্কুল মাইনে দিতে রাজি ছিলেন না, তাই ডাম্বলকে ইস্কুলে ভরতি করা হয়নি।

৩.৭ 'কে জানে পাগলা-টাগলা হয়ে যাবে নাকি' কার সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে? এমন সন্দেহের কারণ কী?
উত্তর: এই মন্তব্যটি বুকুর সম্পর্কে তার মা করেছেন।
বুকু অতিথিদের সামনে ক্রমাগত অপ্রিয় সত্য কথা বলে তার মাকে অপ্রস্তুত করে দিচ্ছিল। ছেলের এই অস্বাভাবিক আচরণের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে না পেয়ে এবং অতিথিদের সামনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বুকুর মা এমন মন্তব্য করেছিলেন।

৩.৮ 'দুজনে মিলে চেঁচান, 'বল, বল কেন ওসব বললি?' বুকু কেন ওসব বলেছিল?
উত্তর: বুকু ওসব বলেছিল কারণ তার মা-বাবাই তাকে শিখিয়েছিলেন যে সবসময় সত্যি কথা বলতে হয় এবং কারো কাছে কিছু লুকোতে নেই। সে বড়দের শেখানো নীতি সরলভাবে অনুসরণ করেছিল মাত্র।

৪. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর দাও:

৪.১ গল্পে বুকুর আচরণ তাঁর মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বুকুর এই আচরণ কি তুমি সমর্থন করো? বুকু কেন অমন আচরণ অতিথিদের সামনে করেছিল?
উত্তর: বুকুর আচরণকে নৈতিকভাবে সমর্থন করা গেলেও, সামাজিকতার নিরিখে সমর্থন করা কঠিন। একটি শিশুর সরলতা প্রশংসার যোগ্য, কিন্তু স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করে কথা বলাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক শিক্ষা।
বুকু অমন আচরণ করেছিল কারণ তার মা-বাবা তাকে শিখিয়েছিলেন সবসময় সত্যি কথা বলতে। সে বড়দের কথার আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করেছিল এবং তাদের আচরণের দ্বিচারিতা বা ভণ্ডামি বোঝার মতো মানসিক পরিপক্কতা তার ছিল না। সে কেবল তার শেখা নীতি অনুসরণ করে সরলভাবে সত্যি কথাগুলো বলে ফেলেছিল।

৪.২ বাড়িতে অতিথি এলে তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত সে সম্পর্কে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর:
প্রিয় [বন্ধুর নাম],

কেমন আছিস? আশা করি ভালোই আছিস। আজ তোকে একটা জরুরি বিষয় নিয়ে চিঠি লিখছি। কিছুদিন আগে আমাদের বাড়িতে কিছু অতিথি এসেছিলেন, আর সেদিন আমি বুঝতে পারলাম যে অতিথিদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়িতে অতিথি এলে সবসময় হাসিমুখে তাদের অভ্যর্থনা জানানো উচিত। তাদের বসতে বলে জল খেতে দেওয়া আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য। তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখা উচিত। বড়রা যখন কথা বলেন, তখন ছোটদের চুপ করে শোনা উচিত এবং অকারণে কথা বলা বা বিরক্ত করা ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে, অতিথিরা আমাদের বাড়িতে এসেছেন মানে তাঁরা আমাদের সম্মান দিয়েছেন। তাই আমাদেরও উচিত তাঁদের যথাসাধ্য যত্ন ও সম্মান করা।

আশা করি তুই আমার কথার গুরুত্ব বুঝবি। ভালো থাকিস।

ইতি,
তোর বন্ধু,
[তোমার নাম]

৪.৩ 'কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে'—গল্পে বুকু এই কথা বলেছিল। আসলে কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: বুকুর এই প্রশ্নটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। আমার মনে হয়, বড়দের উচিত শিশুদের কোনো নীতি শেখানোর পাশাপাশি তার প্রায়োগিক দিকটিও শেখানো। সবসময় সত্যি কথা বলা একটি মহৎ গুণ, কিন্তু কোন সত্য কখন এবং কীভাবে বলা উচিত, সেই সামাজিক জ্ঞান দেওয়াও প্রয়োজন। শিশুদের এটা বোঝানো উচিত যে, এমন কোনো সত্য বলা ঠিক নয় যা অন্যকে অপমানিত বা আঘাত করে। ভদ্রতা ও সৌজন্য বজায় রেখে অপ্রিয় সত্য এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। বড়দের নিজেদের আচরণেও সততা ও স্বচ্ছতা রাখা উচিত, যাতে শিশুরা বিভ্রান্ত না হয়।

৪.৪ গল্পে দুটি ছোটো ছেলের কথা পড়লে—বুকু আর ডাম্বল। দুজনের প্রকৃতিগত মিল বা অমিল নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: গল্পে বুকু ও ডাম্বল দুটি শিশু চরিত্র হলেও তাদের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মিল: দুজনের মধ্যেই শিশুসুলভ সারল্য এবং কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো রাখঢাক নেই।
অমিল: বুকু একজন নীতিবান, শান্ত এবং কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির ছেলে, যে বড়দের শেখানো কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। সে জিনিসপত্রের মূল্য বোঝে এবং অন্যের জিনিস নষ্ট করে না। অন্যদিকে, ডাম্বল অত্যন্ত দুরন্ত, চঞ্চল এবং তার আচরণে ধ্বংসাত্মক প্রবণতা দেখা যায়। সে অন্যের জিনিসের প্রতি যত্নশীল নয় এবং তার কথাবার্তাও অনেক বেশি লাগামছাড়া। বুকু যেখানে সত্যবাদী, ডাম্বল সেখানে কিছুটা বেপরোয়া।

৪.৫ গল্পটি পড়ে বুকুর প্রতি তোমার सहानुভূতির কথা ব্যক্ত করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর: 'কী করে বুঝব' গল্পটি পড়ার পর আমার মন বুকুর জন্য সহানুভূমিতে ভরে উঠেছে। সে মা-বাবার শেখানো "সবসময় সত্যি কথা বলবে" এই নীতিকে সরল মনে বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু সেই সত্যি কথা বলার জন্যই তাকে তার মা-বাবার কাছেই চরমভাবে অপমানিত ও প্রহৃত হতে হলো। বড়দের জগতের জটিলতা ও ভণ্ডামি বোঝার ক্ষমতা তার ছিল না। সে শুধু তার সরল বিশ্বাস থেকে কাজ করেছে। যখন তাকে মারধর করা হচ্ছিল, তখন তার কান্নায় ভরা প্রশ্ন "কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে?" আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তার প্রতি এই অবিচার আমাকে ব্যথিত করেছে এবং তার অসহায় অবস্থার জন্য আমার খুব কষ্ট হয়েছে।

৫. একই অর্থযুক্ত শব্দ গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:

সংবাদ: খবর
পুস্তক: বই
সন্তুষ্ট: প্রসন্ন
কোমল: মোলায়েম
আপ্যায়ন: অভ্যর্থনা

৬. নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো:

ইত্যবসরে: ইতি + অবসরে
বজ্রাঘাত: বজ্র + আঘাত
ব্যাকুল: বি + আকুল
নিশ্চয়: নিঃ + চয়
রান্না: রাঁধ + না
দুরন্ত: দুঃ + অন্ত
সন্দেশ: সম্ + দেশ

৭. নীচের শব্দগুলির কোনটি বিশেষ্য এবং কোনটি বিশেষণ খুঁজে নিয়ে লেখো। এরপর বিশেষ্যগুলির বিশেষণের রূপ এবং বিশেষণগুলির বিশেষ্যের রূপ লেখো:

মন (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: মানসিক
শিক্ষা (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: শিক্ষিত
অবস্থা (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: অবস্থিত
গম্ভীর (বিশেষণ) -> বিশেষ্য: গাম্ভীর্য
শাসন (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: শাসিত
শয়তান (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: শয়তানি
লাল (বিশেষণ) -> বিশেষ্য: লালিমা
সর্বনেশে (বিশেষণ) -> বিশেষ্য: সর্বনাশ
ঘর (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: ঘরোয়া
সুন্দর (বিশেষণ) -> বিশেষ্য: সৌন্দর্য
দুরন্ত (বিশেষণ) -> বিশেষ্য: দুরন্তপনা
মুখ (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: মৌখিক
কথা (বিশেষ্য) -> বিশেষণ: কথিত
হ্যাংলা (বিশেষণ) -> বিশেষ্য: হ্যাংলামি

৮. নীচের প্রতিটি উপসর্গ দিয়ে পাঁচটি করে নতুন শব্দ তৈরি করে লেখো:

অ: অচেনা, অজানা, অপছন্দ, অধর্ম, অসুর।
বি: বিজ্ঞান, বিদেশ, বিফল, বিশুদ্ধ, বিবাদ।
বে: বেয়াদব, বেআইনি, বেহিসাবি, বেকার, বেকায়দা।
আ: আগমন, আদান, আমরণ, আরক্ত, আহার।
প্র: প্রচার, প্রবেশ, প্রণাম, প্রভাব, প্রস্থান।
অব: অবকাশ, অবতরণ, অবহেলা, অবদান, অবুঝ।

৯. সমোচ্চারিত/ প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ লিখে আলাদা আলাদা বাক্য রচনা করো:

আসা (আগমন করা): তিনি কাল আমাদের বাড়ি আসবেন।
আশা (আকাঙ্ক্ষা): আমার আশা, তুমি পরীক্ষায় ভালো ফল করবে।

সোনা (স্বর্ণ): তার একটি সোনার হার আছে।
শোনা (শ্রবণ করা): আমি গান শুনতে ভালোবাসি।

হাড় (অস্থি): কুকুরটি হাড় চিবোচ্ছে।
হার (পরাজয় / গলার অলংকার): খেলায় তাদের হার হয়েছে। / মেয়েটি গলায় একটি সুন্দর হার পরেছে।

মার (প্রহার): ওকে আর মার দেবেন না।
মাড় (ভাতের ফ্যান): গরুটি ভাতের মাড় খাচ্ছে।

মাস (তিরিশ দিনের সমষ্টি): এই মাস প্রায় শেষ হয়ে এল।
মাষ (ডাল বিশেষ): মাষকলাইয়ের ডাল খেতে সুস্বাদু।

জ্বালা (যন্ত্রণা): তার কথায় আমার গা জ্বালা করে।
জালা (বড় মাটির পাত্র): ওই জালা ভর্তি জল আছে।

১০. এই গল্পে অজস্র শব্দদ্বৈত ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দগুলি গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো:

গল্পে ব্যবহৃত কয়েকটি শব্দদ্বৈত হলো: খুকখুক, তোড়জোড়, মোটাসোটা, হালকা-হালকা, খাতাপত্তর, এলোমেলো, সাজানো-গোছানো, পিটপিট, জোরগলায়, ড্যাবড্যাব, গমগম, ইটপাটকেল, হইহই, ফ্যালফেলিয়ে, চালতা-চালতা, গাদাগাদা, রুটি-টুটি, পাকা-পাকা, টেনে-টেনে, কাঁদো-কাঁদো, পাগলা-টাগলা, হ্যাঁ-হ্যাঁ, মেয়েলি-মেয়েলি, বড়ো-বড়ো, ভালো-ভালো, গাঁউ-গাঁউ, চটেমটে, হায়-হায়, লাঠিসোঁটা, গটগট, সাত-আটটা।

১১. নীচের বাক্যগুলি থেকে সংখ্যাবাচক/পূরণবাচক শব্দ খুঁজে বার করো:

১১.১ মা তো সেই তিনতলার ছাতে। -> তিন (পূরণবাচক)
১১.২ দুই বোনের দুই দু-গুণে চারটি চোখ কপালে উঠে গেছে। -> দুই, দুই, চারটি (সংখ্যাবাচক)
১১.৩ সাত বছরের ছেলের ইস্কুলের মাইনে সাত টাকা। -> সাত, সাত (সংখ্যাবাচক)
১১.৪ নিজেই তো দুপুরবেলা একশো বার করে বললে সবসময় সত্যি কথা বলবি। -> একশো (সংখ্যাবাচক)

১২. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো:

১২.১ বুকু ছুটে ওপরে চলে যায়। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: বুকু এমনভাবে যায় যেন সে ছুটে উপরে চলে যাচ্ছে।

১২.২ ছেনুমাসি আর অন্যটির নাম বেণুমাসি। (সরল বাক্যে)
উত্তর: একজনের নাম ছেনুমাসি ও অন্যজনের নাম বেণুমাসি।

১২.৩ যত বড়ো হচ্ছে তত যেন যা-তা হয়ে যাচ্ছে। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: সে বড়ো হচ্ছে এবং যা-তা হয়ে যাচ্ছে।

১২.৪ ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যখন ছেলে কথা বলল, তখনই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো।

১৩. পাকা, মাথা - এই শব্দগুলির প্রত্যেকটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্য লেখো।

পাকা:
১) (পরিপক্ক): গাছ থেকে একটি পাকা আম পড়ল।
২) (দক্ষ/অভিজ্ঞ): তিনি একজন পাকা খেলোয়াড়।

মাথা:
১) (মস্তক): তার মাথায় খুব ব্যথা করছে।
২) (বুদ্ধি): অঙ্কটা করার জন্য একটু মাথা খাটাতে হবে।