অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - হাওয়ার গান
WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "হাওয়ার গান" কবিতাটির সম্পূর্ণ সমাধান।
Advertisement
কবিতা: হাওয়ার গান
কবির নাম: বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)
কবি পরিচিতি
বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বহুমুখী প্রতিভা। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সমালোচক ছিলেন। তাঁর রচনায় আধুনিক মানুষের মনের জটিলতা ও নিঃসঙ্গতা ফুটে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে 'বন্দীর বন্দনা', 'কঙ্কাবতী' ইত্যাদি। তিনি 'কবিতা' পত্রিকার একজন সফল সম্পাদক ছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে এমন বহুমুখী প্রতিভা খুব কমই দেখা যায়।
কবিতার সারসংক্ষেপ
'হাওয়ার গান' কবিতায় কবি বুদ্ধদেব বসু হাওয়াকে একটি মানবসত্তার রূপ দিয়েছেন, যার কোনো নির্দিষ্ট বাড়ি বা আশ্রয় নেই। সে চিরকাল এক অন্তহীন অনুসন্ধানে অস্থির ও উত্তাল হয়ে ফেরে। হাওয়া যেন তার কোনো প্রিয়জনকে খুঁজছে, যাকে সে হারিয়ে ফেলেছে। এই খোঁজে সে পৃথিবীর সব জল, তীর, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্য ও প্রান্তর ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পায় না। ঘরের ভেতরের শান্ত জীবন, যেমন দোলনায় ঘুমন্ত শিশু বা কুকুরের তন্দ্রা—এইসব দেখে হাওয়ার মনে হয়, সেই হারানো জনই যেন এই সব সুখের আশ্রয় থেকে বিদায় নিয়েছে। জাহাজের যাত্রীদের আমোদ-প্রমোদ বা প্রকৃতির শান্ত রূপ—কোনো কিছুই তাকে শান্ত করতে পারে না। তার এই অফুরান সন্ধান ও না পাওয়ার বেদনা এক বুক-চাপা কান্নার মতো বিশ্বের বুকে বয়ে চলে। তাই সে চিরকাল বাইরে কেঁদে মরে এবং তার গানই হলো এই অনন্ত খুঁজে চলার গান।
শব্দার্থ
পঞ্জর: পাঁজর। পারাপার: এপার-ওপার হওয়া। অফুরান: যা শেষ হয় না, অফুরন্ত।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর
১. লেখক পরিচিতি
১.১ বুদ্ধদেব বসু রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: বুদ্ধদেব বসু রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম হলো 'বন্দীর বন্দনা' এবং 'কঙ্কাবতী'।
১.২ তিনি কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?
উত্তর: তিনি 'কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি/দুটি বাক্যে উত্তর দাও:
২.১ দুর্বার ইচ্ছায় হাওয়া কী কী ছুঁয়ে গেছে?
উত্তর: দুর্বার ইচ্ছায় হাওয়া পৃথিবীর সব জল ও সব তীর ছুঁয়ে গেছে।
২.২ তার কথা হাওয়া কোথায় শুধায়?
উত্তর: হাওয়া পার্কের বেঞ্চিতে ঝরা পাতার শব্দে, শার্সির কাঁপুনিতে, চিমনির শব্দে এবং বনের কান্নায় তার কথা শুধায়।
২.৩ মাস্তুলে দীপ জ্বলে কেন?
উত্তর: অন্ধকারে সমুদ্রপথে জাহাজকে পথ দেখানোর জন্য ও তার উপস্থিতি জানানোর জন্য মাস্তুলে দীপ জ্বলে।
২.৪ পার্কের বেঞ্চিতে আর শার্সিতে কাদের উপস্থিতির চিহ্ন রয়েছে?
উত্তর: পার্কের বেঞ্চিতে ঝরা পাতার ঝর্ঝর শব্দে এবং শার্সিতে দেয়ালের পঞ্জরের কেঁপে ওঠায় হাওয়ার উপস্থিতির চিহ্ন রয়েছে।
২.৫ নিশ্বাস কেমন করে বয়ে গেছে?
উত্তর: বুক-চাপা কান্নার মতো উত্তাল ও অস্থিরভাবে নিশ্বাস বয়ে গেছে।
৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর সংক্ষেপে লেখো:
৩.১ হাওয়ার চোখে ঘরের যে ছবি পাওয়া যায়, তা কবিতা অনুসরণে লেখো।
উত্তর: হাওয়ার চোখে ঘরের ছবিটি অত্যন্ত শান্ত ও মায়াময়। সেখানে মিষ্টি ছেলে দোলনায় ঘুমায়, আবছায়া কার্পেটে কুকুর তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে এবং ঘরে ঘরে স্বপ্নের মতো মৃদু মোমবাতি জ্বলে। এই শান্ত ও নিরাপদ আশ্রয় হাওয়ার নেই, তাই সে বাইরে থেকে এই দৃশ্য দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
৩.২ সমুদ্রের জাহাজের চলার বর্ণনা দাও।
উত্তর: সমুদ্রে জাহাজ আঁধারের মধ্যে দিয়ে চলে, তার মাস্তুলে দীপ জ্বলে। জাহাজের যাত্রীরা সিনেমায় মগ্ন থাকে, কেউ বা নাচে-গানে ব্যস্ত। কিন্তু বাইরে হাওয়া তরঙ্গের বুকে অবিরাম প্রশ্ন ছুড়ে দেয় এবং মত্তের মতো ঘুরতে থাকে। অবশেষে যখন ডেক নির্জন হয়ে যায় এবং চাঁদ ঝুলে পড়ে, তখনও হাওয়ার বিশ্রাম থাকে না।
৩.৩ পৃথিবীর কোন কোন অংশে হাওয়া ঘুরে বেড়ায় লেখো।
উত্তর: হাওয়া পৃথিবীর প্রায় সমস্ত অংশে ঘুরে বেড়ায়। সে সব জল, সব তীর, গম্ভীর পাহাড়, বন্দর, নগরের ভিড়, অরণ্য, প্রান্তর এবং শূন্য তেপান্তর—সব জায়গায় তার হারানো জনের খোঁজ করে বেড়ায়।
৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর বিশদে লেখো:
৪.১ হাওয়াদের কী নেই? হাওয়ারা কোথায় কীভাবে তার খোঁজ করে?
উত্তর: হাওয়াদের নির্দিষ্ট কোনো বাড়ি, দেশ বা শেষ নেই, অর্থাৎ তাদের কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই।
হাওয়ারা তাদের হারানো আশ্রয় বা প্রিয়জনের খোঁজ করে পৃথিবীর সর্বত্র। তারা জল, স্থল, পাহাড়, বন্দর, নগর, অরণ্য, প্রান্তর—সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। পার্কের ঝরা পাতার শব্দে, কাঁচের শার্সির কাঁপুনিতে, চিমনির শব্দে এবং বনের কান্নায় তারা অবিরাম তার কথা জিজ্ঞেস করে। সমুদ্রের তরঙ্গের বুকে আছড়ে পড়েও সে তার সন্ধান করে চলে। এই খোঁজ অফুরান এবং অন্তহীন।
৪.২ 'চিরকাল উত্তাল তাই রে'- কে চিরকাল উত্তাল? কেন সে চিরকাল উত্তাল হয়ে রইল?
উত্তর: এখানে হাওয়া চিরকাল উত্তাল।
হাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট বাড়ি বা আশ্রয় নেই। সে এক অনন্ত поиска বেরিয়ে পড়েছে, কিন্তু কোথাও তার কাঙ্ক্ষিত জনকে খুঁজে পায়নি। এই না পাওয়ার বেদনা এবং খুঁজে চলার অস্থিরতা তার মধ্যে এক চিরকালীন অতৃপ্তি ও চঞ্চলতা সৃষ্টি করেছে। যতক্ষণ না সে তার হারানো আশ্রয় বা ভালোবাসার সন্ধান পাচ্ছে, ততক্ষণ তার এই উত্তাল অবস্থার শেষ নেই। তাই সে চিরকাল উত্তাল।
৪.৩ কবিতাটির নাম 'হাওয়ার গান' দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী যুক্তি কবির মনে এসেছিল বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: কবিতাটির নাম 'হাওয়ার গান' দেওয়ার পেছনে কয়েকটি যুক্তি থাকতে পারে:
ক) কেন্দ্রীয় চরিত্র: কবিতার মূল চরিত্র হলো হাওয়া। তার অনুভূতি, তার ঘুরে বেড়ানো, তার কান্না—সবকিছুই কবিতার মূল বিষয়।
খ) সুরের আবহ: হাওয়ার অবিরাম বয়ে চলাই একটি সুর বা গানের মতো। তার কান্নার শব্দ, পাতার মর্মরধ্বনি, চিমনির নিস্বন—সব মিলিয়ে একটি বিষাদের সুর তৈরি হয়, যা অনেকটা গানের মতো।
গ) মূল বার্তা: কবিতার শেষে বলা হয়েছে, "বিশ্বের বুক ফেটে বয়ে যায় এই গান"—অর্থাৎ, হাওয়ার এই অন্তহীন সন্ধান ও আর্তিই যেন প্রকৃতির এক চিরন্তন গান। তাই এই নামকরণটি অত্যন্ত सटीक ও ব্যঞ্জনাময়।
৫. নীচের পঙ্ক্তিগুলির মধ্যে ক্রিয়া কে চিহ্নিত করো এবং অন্যান্য শব্দগুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক দেখাও।
৫.১ ঘরে ঘরে জ্বলে যায় স্বপ্নের মৃদু মোম
ক্রিয়া: জ্বলে যায়।
সম্পর্ক: 'কে জ্বলে যায়?' - মোম (কর্তা)। 'কীসের মোম?' - স্বপ্নের (সম্বন্ধ পদ)। 'কেমন মোম?' - মৃদু (বিশেষণ)। 'কোথায় জ্বলে যায়?' - ঘরে ঘরে (অধিকরণ কারক)।
৫.২ আধাঁরে জাহাজ চলে
ক্রিয়া: চলে।
সম্পর্ক: 'কে চলে?' - জাহাজ (কর্তা)। 'কোথায় চলে?' - আঁধারে (অধিকরণ কারক)।
৫.৩ শার্সিতে কেঁপে-ওঠা দেয়ালের পঞ্জর
ক্রিয়া: (এখানে উহ্য ক্রিয়া) কাঁপে।
সম্পর্ক: 'কে কাঁপে?' - পঞ্জর (কর্তা)। 'কিসের পঞ্জর?' - দেয়ালের (সম্বন্ধ পদ)। 'কোথায় কাঁপে?' - শার্সিতে (অধিকরণ কারক)।
৫.৪ অকূল অন্ধকারে ফেটে পড়ে গর্জন
ক্রিয়া: ফেটে পড়ে।
সম্পর্ক: 'কে ফেটে পড়ে?' - গর্জন (কর্তা)। 'কোথায় ফেটে পড়ে?' - অকূল অন্ধকারে (অধিকরণ কারক)।
৬. 'বন্দর, বন্দর নগরের ঘন ভিড়'- পঙ্ক্তিটির প্রথমে একই শব্দ দুবার ব্যবহার করা হয়েছে। এই রকম আরো চারটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করো। কবিতার ক্ষেত্রে এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের কৌশল অবলম্বনের কারণ কী?
একই শব্দ দুবার ব্যবহৃত হয়েছে এমন আরও চারটি পঙ্ক্তি:
১) হাওয়াদের বাড়ি নেই, হাওয়াদের বাড়ি নেই
২) সে কোথায়, সে কোথায়, হায় রে
৩) সব জল, সব তীর পাহাড়ের গম্ভীর
৪) তবু নেই, সে তো নেই, নেই রে।
কারণ: কবিতায় এই ধরনের পুনরাবৃত্তি বা বীপ্সা ব্যবহারের কারণ হলো:
ক) কোনো বিশেষ ভাব বা আবেগের গভীরতা বোঝানো (যেমন, 'নেই' শব্দটি হাওয়ার চূড়ান্ত শূন্যতাকে বোঝায়)।
খ) কবিতার ছন্দে একটি বিশেষ গতি ও সুর তৈরি করা।
গ) বক্তব্যের উপর জোর দেওয়া এবং তাকে আরও জোরালো করে তোলা।
৭. ধ্বনি পরিবর্তনের দিক থেকে শূন্য অংশগুলি পূর্ণ করো:
চন্দ্র > চন্দ > চাঁদ (নাসিক্যীভবন)
রাত্রি > রাত্তির (স্বরভক্তি/বিপ্রকর্ষ)
পঞ্জর > পাঁজর (নাসিক্যীভবন)
৮. 'হাওয়ার গান' কবিতায় ব্যবহৃত পাঁচটি ইংরেজি শব্দ লেখো। এই শব্দগুলির বদলে দেশি/বাংলা শব্দ ব্যবহার করে পঙ্ক্তিগুলি আবার লেখো।
কবিতায় ব্যবহৃত ৫টি ইংরেজি শব্দ হলো - পার্ক, বেঞ্চি, শার্সি, কার্পেট, সিনেমা।
পরিবর্তিত পঙ্ক্তি:
১) পার্কের বেঞ্চিতে ঝরা পাতা ঝর্ঝর -> উদ্যানের আসনেতে ঝরা পাতা ঝর্ঝর
২) শার্সিতে কেঁপে-ওঠা দেয়ালের পঞ্জর -> কাঁচের জানালায় কেঁপে-ওঠা দেয়ালের পঞ্জর
৩) আবছায়া কার্পেট কুকুরের তন্দ্রায় -> আবছায়া গালিচায় কুকুরের তন্দ্রায়
৪) যাত্রীরা সিনেমায়, কেউ নাচে, গান গায় -> যাত্রীরা চলচ্চিত্রে, কেউ নাচে, গান গায়।
Advertisement
অষ্টম শ্রেণীর গণিত সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
অষ্টম শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test