অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়" প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সমাধান।
প্রবন্ধ: হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
লেখক: হীরেন্দ্রনাথ দত্ত
লেখক সম্পর্কে আলোচনা
হীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০৩ – ১৯৯৫): তিনি 'ইন্দ্রজিৎ' নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমালোচক। তাঁর লেখা বইগুলির মধ্যে 'ইন্দ্রজিতের খাতা' ও 'ইন্দ্রজিতের আসর' খুব বিখ্যাত। এছাড়াও তিনি 'অচেনা রবীন্দ্রনাথ', 'সাহিত্যের আড্ডা' ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় গভীর চিন্তার ছাপ পাওয়া যায়।
প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ
এই প্রবন্ধে লেখক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত শান্তিনিকেতনের প্রথম যুগের শিক্ষক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন ও তাঁর অসামান্য কীর্তি 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' রচনার কথা তুলে ধরেছেন। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে শান্তিনিকেতনে যোগ দেন। রবীন্দ্রনাথই তাঁর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে দেখতে পেয়েছিলেন এবং তাঁকে বাংলা ভাষার একটি পূর্ণাঙ্গ অভিধান রচনার বিশাল দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে একনিষ্ঠ সাধনার পর হরিচরণ এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেন। এই প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, শান্তিনিকেতনের পরিবেশ এবং রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণা কীভাবে সাধারণ মানুষকেও অসাধারণ কাজে উদ্বুদ্ধ করত। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সাধনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই প্রবন্ধের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
১.১ হীরেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত দুটি বই-এর নাম লেখো।
উত্তর: হীরেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত দুটি বইয়ের নাম হলো 'ইন্দ্রজিতের খাতা' এবং 'ইন্দ্রজিতের আসর' ।
১.২ কোন নামে তিনি সমধিক পরিচিত?
উত্তর: তিনি 'ইন্দ্রজিৎ' নামে সমধিক পরিচিত।
২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:
২.১ শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ে প্রথম যুগে যাঁরা রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে বিদ্যালয়ের কাজে এসে যোগ দিয়েছিলেন, এমন কয়েকজনের কথা আলোচনা করো।
উত্তর: শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের প্রথম যুগে রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধুশেখর শাস্ত্রী এবং ক্ষিতিমোহন সেন। এঁরা প্রত্যেকেই রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণায় নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য কাজ করেছেন।
২.২ 'এর কৃতিত্ব অনেকাংশে শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য...'— কোন কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে? তার বহুলাংশ 'শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য' বলে লেখক মনে করেছেন কেন?
উত্তর: এখানে শান্তিনিকেতনের প্রথম যুগের কর্মীদের অসাধারণ কাজ করার কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে।
লেখক মনে করেছেন এর বহুলাংশ শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য, কারণ শান্তিনিকেতনের পরিবেশটাই ছিল এমন যা সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বড় কিছু দাবি করত। শান্তিনিকেতন শুধু বিদ্যাদান করত না, বিদ্যাচর্চা ও বিদ্যা-বিকিরণের কেন্দ্র ছিল। রবীন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি এবং তাঁর অনুপ্রেরণা কর্মীদের নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করত।
২.৩ 'আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে শান্তিনিকেতনের দান অপরিসীম।'— লেখক এ প্রসঙ্গে শান্তিনিকেতনের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ অবদানের উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: লেখক বলেছেন, শান্তিনিকেতনই দেশকে প্রথম শিখিয়েছে যে বিদ্যালয় শুধু বিদ্যাদানের স্থান নয়, এটি বিদ্যাচর্চা এবং বিদ্যা-বিকিরণেরও স্থান। অর্থাৎ, নতুন জ্ঞান তৈরি করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াও বিদ্যালয়ের কাজ। শান্তিনিকেতন বিদ্যার্জনের পথকে সহজ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিল, যা সেই সময়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভাবেনি।
২.৪ 'আপাতদৃষ্টিতে যে মানুষ সাধারণ তাঁরও প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনা রবীন্দ্রনাথের সর্বদর্শী দৃষ্টিতে এড়াতে পারেনি।'— লেখক এ প্রসঙ্গে কাদের কথা স্মরণ করেছেন? জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় তাঁদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: লেখক এ প্রসঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধুশেখর শাস্ত্রী এবং ক্ষিতিমোহন সেনের কথা স্মরণ করেছেন।
তাঁদের অবদান:
• হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি বাংলা ভাষার বৃহত্তম অভিধান 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' রচনা করেন।
• বিধুশেখর শাস্ত্রী: তিনি ইংরেজি না জানা একজন টোলের পণ্ডিত ছিলেন, কিন্তু পরে বহুভাষাবিদ পণ্ডিত হয়ে ওঠেন।
• ক্ষিতিমোহন সেন: তিনি মধ্যযুগের সাধুসন্তদের বাণী সংগ্রহ করে ভারতীয় জীবন সাধনার এক বিস্তৃত অধ্যায়কে পুনরুজ্জীবিত করেন।
২.৫ 'এঁরা প্রাণপণে সেই দাবি পূরণ করেছেন।'— কাদের কথা বলা হয়েছে? কীই বা সেই দাবি? সেই দাবিপূরণে প্রাণপণে তাঁদের নিয়োজিত হওয়ারই বা কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: এখানে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধুশেখর শাস্ত্রী, ক্ষিতিমোহন সেনের মতো শান্তিনিকেতনের প্রথম যুগের কর্মীদের কথা বলা হয়েছে।
সেই দাবি ছিল রবীন্দ্রনাথের দেওয়া নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করার দাবি।
তাঁদের প্রাণপণে নিযুক্ত হওয়ার কারণ হলো রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং শান্তিনিকেতনের সেই বিশেষ পরিবেশ, যা তাঁদেরকে বড় কাজে আত্মনিয়োগ করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
২.৬ শান্তিনিকেতনের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছিল? প্রবন্ধ অনুসরণে তাঁর সারাজীবনব্যাপী সারস্বত-সাধনার পরিচয় দাও।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি পরিদর্শনে গিয়ে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্কৃত চর্চার কথা জানতে পারেন এবং তাঁর সম্ভাবনা বুঝতে পেরে তাঁকে শান্তিনিকেতনে অধ্যাপনার জন্য ডেকে পাঠান। এভাবেই শান্তিনিকেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তাঁর সারস্বত-সাধনা হলো প্রায় চল্লিশ বছর ধরে একক চেষ্টায় 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' নামক বিশাল বাংলা অভিধানটি সংকলন করা। জীবনের চল্লিশটি বছর তিনি এক ধ্যান, এক জ্ঞান নিয়ে এই একটি কাজেই মগ্ন ছিলেন, যা এক মহাযোগীর সাধনার সমান।
২.৭ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যের পরিচয় প্রবন্ধটিতে কীভাবে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে আলোচনা করো।
উত্তর: প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ হরিচরণের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি শুধু হরিচরণকে অভিধান রচনার নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, তাঁর আর্থিক অনটনের সময় মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর কাছ থেকে বৃত্তির ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের এই বিশ্বাস ও ভরসাই হরিচরণকে এই বিশাল কাজ করতে সাহস জুগিয়েছিল, যা তাঁদের গভীর সম্পর্কের পরিচয় দেয়।
২.৮ 'একক প্রচেষ্টায় এরূপ বিরাট কাজের দৃষ্টান্ত বিরল।'— কোন কাজের কথা বলা হয়েছে? একে 'বিরাট কাজ' বলার কারণ কী?
উত্তর: এখানে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' নামক অভিধান সংকলনের কথা বলা হয়েছে।
একে 'বিরাট কাজ' বলার কারণ হলো, এই ধরনের একটি বিস্তারিত ও প্রামাণ্য অভিধান রচনা করতে সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠান বা পণ্ডিত গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু হরিচরণ প্রায় একা চল্লিশ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন। তাই এটি একটি বিরাট কাজ।
২.৯ 'হরিচরণবাবুকে দেখে তাঁর সম্পর্কিত শ্লোকটি আমার মনে পড়ে যেত'— শ্লোকটি কার লেখা? শ্লোকটি উদ্ধৃত করো।
উত্তর: শ্লোকটি দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের লেখা।
শ্লোকটি হলো:
"কোথা গো ডুব মেরে রয়েছ তলে
হরিচরণ! কোন গরতে?
বুঝেছি! শব্দ-অবধি-জলে
মুঠাচ্ছ খুব অরথে!"
২.১০ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত অভিধানটির নাম কী? গ্রন্থটির রচনা মুদ্রণ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে নানাবিধ ঘটনার প্রসঙ্গ প্রাবন্ধিক কীভাবে স্মরণ করেছেন?
উত্তর: হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত অভিধানটির নাম 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'।
প্রাবন্ধিক স্মরণ করেছেন যে, ১৩১২ সালে এই অভিধান রচনার কাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৩৩০ সালে। মাঝে আর্থিক অনটনের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। তখন রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী মাসিক পঞ্চাশ টাকার বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। পাণ্ডুলিপি তৈরি হওয়ার পরও অর্থাভাবে প্রায় দশ বছর ছাপার কাজ শুরু করা যায়নি। পরে নগেন্দ্রনাথ বসু এবং শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন ছাত্র ও অনুরাগীদের সাহায্যে এর মুদ্রণ সম্ভব হয়েছিল।
২.১১ প্রাবন্ধিকের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত স্মৃতির প্রসঙ্গ প্রবন্ধে কীরূপ অনন্যতার স্বাদ এনে দিয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: প্রাবন্ধিক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে শান্তিনিকেতনের লাইব্রেরি ঘরে নিবিষ্ট মনে কাজ করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর প্রাতঃভ্রমণ ও সান্ধ্যভ্রমণের কথা উল্লেখ করেছেন। পথে দেখা হলে হরিচরণবাবু কীভাবে সস্নেহে কুশল জিজ্ঞাসা করতেন, সেই স্মৃতিচারণা করেছেন। এই ব্যক্তিগত প্রসঙ্গগুলি প্রবন্ধটিকে শুধুমাত্র একটি নীরস আলোচনা থেকে বের করে এনে একটি আন্তরিক ও জীবন্ত রূপ দিয়েছে, যা পাঠকের মনকে স্পর্শ করে।
২.১২ 'তিনি অভিধান ছাড়াও কয়েকখানা গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন।'— হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম ও বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সংস্কৃত প্রবেশ'। এটি তিন খণ্ডে রচিত একটি গ্রন্থ। রবীন্দ্রনাথ সংস্কৃত শিক্ষার যে সহজ প্রণালী উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেছিলেন, হরিচরণ এই বইটি লিখে তা সমাপ্ত করেন। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সংস্কৃত ভাষা শেখার একটি সহায়ক গ্রন্থ।
২.১৩ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি প্রাবন্ধিক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর অনুরাগ কীভাবে ব্যক্ত করেছেন, তা বিশদভাবে আলোচনা করো।
উত্তর: প্রাবন্ধিক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিষ্ঠা ও সাধনাকে 'মহাযোগীর জীবন' বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি হরিচরণের একক প্রচেষ্টায় করা বিরাট কাজকে বাঙালি জাতির সামনে এক 'অত্যুজ্জল দৃষ্টান্ত' হিসেবে তুলে ধরেছেন। হরিচরণকে নিবিষ্ট মনে কাজ করতে দেখা, তাঁর সম্পর্কিত শ্লোক মনে করা এবং তাঁর শেষ জীবনের প্রশান্ত রূপের বর্ণনা দেওয়ার মাধ্যমে লেখক তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ ব্যক্ত করেছেন।
শব্দার্থ: হঠকারিতা – বিবেচনা না করে কাজ করা। অকিঞ্চন – নিঃস্ব/দরিদ্র। অভিনিবেশ – মনোনিবেশ। বিদ্যোৎসাহী – বিদ্যা প্রসারে উৎসাহ দানকারী। উপযাচক – বিনা আহ্বানে আসা।
অষ্টম শ্রেণীর গণিত সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
অষ্টম শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test