অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - গাঁয়ের বধু

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "গাঁয়ের বধু" গানটির সম্পূর্ণ আলোচনা।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
বিজ্ঞাপন

গান: গাঁয়ের বধু

শিল্পী: সলিল চৌধুরী


শিল্পী সম্পর্কে আলোচনা

সলিল চৌধুরী (১৯২৩-১৯৯৫): তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তী গীতিকার, সুরকার, এবং সংগীত পরিচালক। বাংলা, হিন্দি এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি 'পথের পাঁচালী' (১৯৫৫) এর মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। তাঁর গানে লোকসংগীত এবং পাশ্চাত্য সুরের এক অসাধারণ মেলবন্ধন দেখা যায়।

Salil Chowdhury

গানটির বিস্তারিত সারসংক্ষেপ

সলিল চৌধুরীর "গাঁয়ের বধু" গানটি একটি গ্রামের মেয়ের করুণ জীবনকাহিনী তুলে ধরে। এটি কোনো রূপকথার গল্প নয়, বরং জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক প্রতিচ্ছবি।

জীবনের শুরু: গানটির শুরুতে এক শ্যামল-ঘেরা কুটিরে জন্ম নেওয়া গ্রামের বধূর কথা বলা হয়েছে। তার শৈশব ছিল অত্যন্ত সাধারণ। সে আম-কাঁঠালের পিঠিতে বসে থাকত, আর তার দিদি তাকে রূপকথার গল্প শোনাত।

শহরের হাতছানি: এরপর তার জীবনে আসে শহরের হাতছানি। সে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসে। নীল শাড়িতে সেজে, রঙিন স্বপ্নে বিভোর হয়ে সে এক নতুন জীবন শুরু করে। কিন্তু শহরের জীবন তার জন্য সুখের ছিল না।

কঠিন বাস্তবতা: শহরের কঠিন বাস্তবে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। তার জীবনের আনন্দ হারিয়ে যায়। 'মায়ার কুটিরে'র মধুর জীবন শেষ হয়ে যায়। সে একাকীত্ব ও হতাশায় ডুবে যায়।

শেষ পরিণতি: গানটির শেষে দেখা যায়, সেই গ্রামের বধূ আজ হারিয়ে গেছে। তার জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। কবি বলছেন, যদি আজও কোনো গাঁয়ের কুটিরে সেই বধূর মতো কোনো মেয়েকে দেখা যায়, তবে মনে হবে যেন সে আবার ফিরে এসেছে। গানটি আসলে এক মেয়ের স্বপ্নভঙ্গের করুণ কাহিনী, যা গ্রাম থেকে শহরে আসা অনেক মেয়ের জীবনের প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞাপন