অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - ছন্নছাড়া
WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "ছন্নছাড়া" কবিতাটির সম্পূর্ণ সমাধান।
Advertisement
কবিতা: ছন্নছাড়া
কবির নাম: অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯০৩-১৯৭৬)
কবি পরিচিতি
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের জন্ম বাংলাদেশের নোয়াখালিতে। তিনি ছিলেন 'কল্লোল' যুগের একজন বিশিষ্ট লেখক ও কবি। তাঁর লেখায় সমকালীন জীবন, প্রেম ও মানুষের দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'বেদে', 'বিবাহের চেয়ে বড়ো' ইত্যাদি। 'অমাবস্যা', 'প্রিয়া ও পৃথিবী' তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। 'পরমপুরুষ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ' তাঁর একটি স্মরণীয় প্রবন্ধ গ্রন্থ।
কবিতার সারসংক্ষেপ
'ছন্নছাড়া' কবিতায় কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত সমাজের চোখে তথাকথিত 'নষ্ট' বা 'বেকার' একদল যুবকের ভেতরের আসল মনুষ্যত্বকে তুলে ধরেছেন। কবিতার শুরুতে একটি প্রাণহীন গাছের বর্ণনার মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত এই যুবকদের নিষ্প্রাণ অবস্থার প্রতীক তৈরি করা হয়েছে। ট্যাক্সিচালক এদের এড়িয়ে চলতে চায় কারণ এরা societally rejected। কবি দেখিয়েছেন যে এই যুবকদের 'নেই'-এর তালিকা কত দীর্ঘ—চাকরি, শিক্ষা, সম্মান, ভালোবাসা কিছুই তাদের জন্য নেই। কিন্তু হঠাৎ একটি গাড়িচাপা পড়া ভিখারির দুর্ঘটনায় এই 'ছন্নছাড়া' যুবকদের ভেতরের মানবতা জেগে ওঠে। তারা সমস্ত দ্বিধা ভুলে অসহায় মানুষটিকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে "প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে" ধ্বনিটি শুধু ভিখারির জন্য নয়, বরং তাদের নিজেদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মনুষ্যত্বের জয়ধ্বনি। এই মানবিকতার জাগরণের সাথে সাথেই প্রতীকীভাবে শুকনো গাছটিও সজীব হয়ে ওঠে, পাতায়-ফুলে ভরে যায়। কবিতাটির মূল বার্তা হলো, বাহ্যিক পরিস্থিতি বা সমাজের অবহেলা মানুষের ভেতরের প্রাণশক্তি বা মনুষ্যত্বকে পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে না।
শব্দার্থ
প্রেতচ্ছায়া: ভূতের ছায়া, অশরীরী ছায়া। বাকল: গাছের ছাল। ছন্নছাড়া: লক্ষ্মীছাড়া, বাউন্ডুলে। ক্ষুধাহরণ: ক্ষুধা বা খিদে দূর করা। সুধাক্ষরণ: অমৃত ঝরে পড়া। ভব্যতা: ভদ্রতা। শালীনতা: লজ্জাশীলতা। স্নেহার্দ্র: স্নেহে ভেজা বা আর্দ্র। প্রচ্ছন্ন: ঢাকা বা আবৃত। মাধুর্য: মিষ্টিভাব, সৌন্দর্য।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর
১. লেখক পরিচিতি
১.১ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি বই হলো 'বেদে' (উপন্যাস) এবং 'প্রিয়া ও পৃথিবী' (কাব্যগ্রন্থ)।
১.২ তিনি কোন পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: তিনি 'কল্লোল' পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর একটি বাক্যে লেখো:
২.১ কবি প্রথমে গাছটিকে কেমন অবস্থায় দেখেছিলেন?
উত্তর: কবি প্রথমে গাছটিকে একটি শুকনো, লতা-পাতাহীন, ছাল-বাকলহীন কাঠির কঙ্কালের মতো অবস্থায় দেখেছিলেন।
২.২ 'ড্রাইভার বললে, ওদিকে যাব না।' ওদিকে না যেতে চাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: ওদিকে কয়েকটি 'ছন্নছাড়া' বেকার ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল এবং ড্রাইভারের ভয় ছিল তারা গাড়ি থামিয়ে 'লিফট' চাইবে।
২.৩ 'তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।' -সড়কের মাঝখানে, পথে এসে দাঁড়ানোর কারণ কী?
উত্তর: সমাজে তাদের জন্য কোনো জায়গা—কলেজে সিট, অফিসে চাকরি, খেলার মাঠ—না থাকায় তারা পথে এসে সড়কের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে।
২.৪ 'আমি বললুম, না ওখান দিয়েই যাব।' -কবির 'ওখান' দিয়েই যেতে চাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: কবির ওখান দিয়েই যাওয়ার কারণ ছিল সেটি তাঁর 'শর্টকাট' বা সংক্ষিপ্ত পথ ছিল।
২.৫ 'ওই দেখতে পাচ্ছেন না ভিড়?' ওখানে কীসের ভিড়?
উত্তর: ওখানে একটি নিরীহ লোক গাড়ি চাপা পড়ায় ভিড় জমেছিল।
২.৬ 'কে সে লোক?'-'লোক' টির পরিচয় দাও।
উত্তর: লোকটি ছিল একজন বেওয়ারিশ ভিখিরি।
২.৭ 'চেঁচিয়ে উঠল সমস্বره .'-কী বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল?
উত্তর: তারা সমস্বরে "প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে" বলে চেঁচিয়ে উঠল।
২.৮ 'আমি নেমে পড়লুম তাড়াতাড়ি'- কবি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন কেন?
উত্তর: রক্তের দাগ থেকে নিজের ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচানোর জন্য কবি তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন।
২.৯ 'ফিরে আসতেই দেখি........ ফেরার পথে কবি কী দেখতে পেলেন?
উত্তর: ফেরার পথে কবি দেখলেন যে শুকনো গাছটি হাজার হাজার সোনালি কচি পাতায় ভরে গেছে এবং ফুলে-পাখিতে जीवন্ত হয়ে উঠেছে।
২.১০ 'অবিশ্বাস্য চোখে দেখলুম'- কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর কেন?
উত্তর: যে গাছটি কিছুক্ষণ আগেও প্রেতচ্ছায়ার মতো প্রাণহীন ছিল, সেটি হঠাৎ করে ফুলে-পাতায়-পাখিতে जीवন্ত হয়ে ওঠায় কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর লেগেছিল।
৩. নির্দেশ অনুসারে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৩.১ 'ওই পথ দিয়ে জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।' - কবির যাত্রাপথের অভিজ্ঞতার বিবরণ দাও।
উত্তর: কবি ট্যাক্সিতে করে একটি গলির মোড় দিয়ে যাচ্ছিলেন। ড্রাইভার রাস্তার মাঝে আড্ডা দেওয়া বেকার ছোকরাদের দেখে সেদিকে যেতে চায়নি। কিন্তু কবির জেদে ট্যাক্সিটি সেদিকেই যায় এবং কবি ছেলেগুলোকে 'লিফট' দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তারা ট্যাক্সিতে উঠে একটি গাড়ি চাপা পড়া ভিখারিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য চায়। এই মানবিক ঘটনা দেখে এবং পরে ফিরে এসে শুকনো গাছের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন দেখে কবির এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা হয়।
৩.২ 'গলির মোড়ে একটা গাছ দাঁড়িয়ে / গাছ না গাছের প্রেতচ্ছায়া' - একটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে বলেও কেন পরের পঙ্ক্তিতে তাকে 'গাছের প্রেতচ্ছায়া' বলা হয়েছে তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: গাছটি জীবিত হলেও তার মধ্যে প্রাণের কোনো লক্ষণ ছিল না। সেটি ছিল শুকনো, আঁকাবাঁকা, লতা-পাতা-ছায়াহীন এবং ছাল-বাকলহীন। প্রাণের চিহ্ন সবুজের কোনো আভাস না থাকায় জীবন্ত গাছের বদলে তাকে ভূতের ছায়ার মতোই নিষ্প্রাণ ও ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিল, তাই কবি তাকে 'গাছের প্রেতচ্ছায়া' বলেছেন।
৩.৩ 'ওই পথ দিয়ে / জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।' - এভাবে কবিতায় উত্তমপুরুষের রীতি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, অন্তত পাঁচটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: কবিতায় কবি উত্তম পুরুষ 'আমি'-র দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা কবিতাকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার রূপ দিয়েছে। যেমন:
১) "জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।"
২) "ঘেঁষবেন না ওদের কাছে।"
৩) "আমি বললুম, না ওখান দিয়েই যাব,"
৪) "ওদের কাছাকাছি হতেই মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলুম,"
৫) "আমি নেমে পড়লুম তাড়াতাড়ি।"
এই পঙ্ক্তিগুলি প্রমাণ করে যে, কবি নিজেই ঘটনার একজন সাক্ষী এবং চরিত্র।
৩.৪ 'কারা ওরা?' - কবিতা অনুসরণে ওদের পরিচয় দাও।
উত্তর: 'ওরা' হলো সমাজের অবহেলিত, 'ছন্নছাড়া' একদল বেকার যুবক। সমাজের চোখে তারা নীতিহীন, বিনয়হীন এবং অভদ্র। তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা বা ভবিষ্যৎ নেই। কলেজে, অফিসে, কারখানায়—কোথাও তাদের জায়গা হয় না। তারা এক 'নেই রাজ্যে'র বাসিন্দা, যাদের জীবনে কোনো আশা বা প্রেরণা নেই।
৩.৫ 'ঘেঁষবেন না ওদের কাছে।' - এই সাবধানবাণী কে উচ্চারণ করেছেন? 'ওদের' বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে? ওদের কাছে না ঘেঁষার পরামর্শ দেওয়া হলো কেন?
উত্তর: এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন ট্যাক্সিচালক। 'ওদের' বলতে রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেওয়া বেকার 'ছন্নছাড়া' ছোকরাদের কথা বোঝানো হয়েছে। ট্যাক্সিচালকের মতে, ওরা নীতিহীন, অভদ্র এবং বিপজ্জনক। ওদের কাছে গেলে গাড়ি থামিয়ে জোর করে 'লিফট' চাইবে বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করতে পারে, এই ভয়েই সে ওদের কাছে না ঘেঁষার পরামর্শ দিয়েছে।
৩.৬ 'তাই এখন এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।' - এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের জীবনের এমন পরিণতির কারণ কবিতায় কীভাবে ধরা পড়েছে তা নির্দেশ করো।
উত্তর: এখানে 'ছন্নছাড়া' বেকার যুবকদের কথা বলা হয়েছে।
কবিতা অনুসারে, তাদের এই পরিণতির কারণ হলো সমাজের চরম অবহেলা ও বঞ্চনা। তাদের জন্য কলেজে পড়ার সুযোগ নেই, অফিসে বা কারখানায় কাজ নেই, খেলার মাঠ নেই, এমনকি বাড়িতেও থাকার মতো ঘর নেই। কোনো প্রেরণা বা আদর্শ না থাকায় এবং সমাজের কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি না পেয়ে তারা হতাশ ও লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।
৩.৭ 'জিজ্ঞেস করলুম / তোমাদের ট্যাক্সি লাগবে?' - প্রশ্নবাক্যটিতে প্রশ্নকর্তার কোন অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে? তাঁর এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়ার পর কীরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলো?
উত্তর: প্রশ্নবাক্যটিতে প্রশ্নকর্তা অর্থাৎ কবির সহানুভূতি ও সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটেছে। তিনি ট্যাক্সিচালকের মতো তাদের ভয় না পেয়ে, বরং তাদের সাহায্য করতে চেয়েছেন।
তাঁর এই প্রশ্নের পর ছোকরারা প্রথমে অবাক হলেও পরে আনন্দে চিৎকার করে ওঠে—"আরে এই তো ট্যাক্সি, এই তো ট্যাক্সি, লে হালুয়া"। তারা খুশিতে সিটি দিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে পড়ে এবং জানায় যে তারা একজন আহত ভিখারিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিল।
৩.৮ 'প্রাণ আছে, এখনো প্রাণ আছে।' - এই দুর্মর আশাবাদের 'তপ্ত শঙ্খধ্বনি' কবিতায় কীভাবে বিঘোষিত হয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: এই 'তপ্ত শঙ্খধ্বনি' কবিতায় দু'ভাবে বিঘোষিত হয়েছে। প্রথমত, যখন 'ছন্নছাড়া' যুবকেরা গাড়ি চাপা পড়া মৃতপ্রায় ভিখারির দেহে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পায়, তখন তারা আনন্দে চিৎকার করে ওঠে। তাদের এই চিৎকার আসলে অবহেলিত মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মানবতার জয়ধ্বনি। দ্বিতীয়ত, এই মানবিকতার জাগরণের পরই শহরের সমস্ত কঠোরতাকে ছাপিয়ে এক দুর্বার উচ্চারণ বেজে ওঠে এবং নিষ্প্রাণ গাছটিও সজীব হয়ে ওঠে, যা প্রকৃতির মাধ্যমে প্রাণের শ্বাশত জয়কেই ঘোষণা করে।
৩.৯ কবিতায় নিজের ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচাতে চাওয়া মানুষটির 'ছন্নছাড়া'-দের প্রতি যে অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: কবিতায় 'ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচাতে চাওয়া' মানুষটি হলেন স্বয়ং কবি। প্রথমে তিনি ছন্নছাড়াদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। কিন্তু যখন ছেলেগুলো রক্তাক্ত ভিখারিকে ট্যাক্সিতে তোলে, তখন রক্তের দাগ থেকে নিজের ভদ্র পোশাক ও পরিশীলিত জীবনকে বাঁচাতে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। এই ঘটনাটি তাঁর ভেতরের শ্রেণি-সচেতনতা ও মধ্যবিত্ত মানসিকতার দ্বন্দ্বকে প্রকাশ করে। যদিও শেষে ছন্নছাড়াদের মানবিকতায় তিনি মুগ্ধ হন এবং তাঁর এই অনুভূতি পরিবর্তিত হয়।
৩.১০ কবিতায় 'গাছটি' কীভাবে প্রাণের প্রতীক হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: কবিতায় গাছটি একটি শক্তিশালী প্রাণের প্রতীক। কবিতার শুরুতে গাছটি শুকনো, কঙ্কালসার ও 'প্রেতচ্ছায়া'-র মতো প্রাণহীন, যা ছিল ছন্নছাড়া যুবকদের আশাহীন, নিষ্প্রাণ জীবনের প্রতীক। কিন্তু যখনই ওই যুবকদের মানবিকতা ও প্রাণশক্তি জেগে ওঠে, ঠিক তখনই গাছটিও আশ্চর্যজনকভাবে সজীব হয়ে ওঠে। শুকনো ডালে কচি পাতা, ফুল, পাখি ও ছায়া ফিরে আসে। এভাবেই গাছটির রূপান্তর আসলে মনুষ্যত্বের পুনর্জাগরণ এবং প্রাণের অবিনাশী শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
৩.১১ 'এক ক্ষয়হীন আশা / এক মৃত্যুহীন মর্যাদা।' - 'প্রাণকে' কবির এমন অভিধায় অভিহিত করার সঙ্গত কারণ নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: কবি 'প্রাণকে' 'ক্ষয়হীন আশা' বলেছেন কারণ বাহ্যিক যত অবহেলা বা প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, প্রাণের ভেতরের বেঁচে থাকার ইচ্ছা বা সম্ভাবনা কখনো পুরোপুরি শেষ হয় না। ছন্নছাড়া যুবক বা শুকনো গাছের মতো চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রাণের पुनरुत्थान ঘটে।
আবার 'মৃত্যুহীন মর্যাদা' বলার কারণ হলো, প্রাণই হলো অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। যতক্ষণ প্রাণ থাকে, ততক্ষণ সমস্ত বাধা-বিপত্তির ঊর্ধ্বে তার একটি নিজস্ব সম্মান ও অধিকার থাকে। এই প্রাণশক্তিকে কোনো সামাজিক বা বাহ্যিক চাপ পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে না, তাই এর মর্যাদা মৃত্যুহীন।
৪. নীচের প্রতিটি শব্দের দল বিভাজন করে দেখাও:
এলোমেলো: এ-লো-মে-লো (৪টি দল)
ছন্নছাড়া: ছన్-নো-ছা-ড়া (৪টি দল)
নৈরাজ্যে: নৈ-রাজ্-জে (৩টি দল)
বাসিন্দে: বা-শিন্-দে (৩টি দল)
শালীনতা: শা-লীন-তা (৩টি দল)
আত্মীয়তা: আঁৎ-তি-য়ো-তা (৪টি দল)
শঙ্খধ্বনি: শঙ্-খোধ্-ধো-নি (৪টি দল)
পত্রপুঞ্জে: পৎ-ত্রো-পুন্-জে (৪টি দল)
৫. নীচের প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করো:
বর্তমান: √বৃৎ + শানচ
ভদ্রতা: ভদ্র + তা
সম্ভাষণ: সম্ + √ভাষ্ + অন
গতি: √গম্ + ক্তি
ভিখিরি: ভিক্ষা + আরি
ভব্যতা: ভব্য + তা
রুষ্ট: √রুষ্ + ত
জিজ্ঞেস: √জ্ঞা + সন্ + অ
পিছে: পশ্চাৎ (তদ্ভব রূপ)
৬. নীচের শব্দগুলিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন কোন নিয়ম কাজ করেছে তা দেখাও:
জুতো: জুতা > জুতো (স্বরসঙ্গতি)
বাসিন্দে: বাসিন্দা > বাসিন্দে (স্বরসঙ্গতি)
ক্ষেত: ক্ষেত্র > ক্ষেত (ব্যঞ্জন লোপ ও ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন)
চোখ: চক্ষু > চক্খু > চোখ (সমীভবন ও নাসিক্যীভবন লোপ)
কদ্দুর: কত দূর > কদ্দূর (সমীভবন/ব্যঞ্জন দ্বিত্ব)
ভিখিরি: ভিক্ষাকারী > ভিখারী > ভিখিরি (স্বরসঙ্গতি ও ব্যঞ্জন লোপ)
৭. নিম্নলিখিত পদগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো:
প্রেতচ্ছায়া: প্রেতের ছায়া (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
ছাল-বাকল: ছাল ও বাকল (দ্বন্দ্ব সমাস)
ক্ষুধাহরণ: ক্ষুধার হরণ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
সোল্লাসে: উল্লাসের সহিত (সহার্থক বহুব্রীহি সমাস)
স্নেহার্দ্র: স্নেহ দ্বারা আর্দ্র (করণ তৎপুরুষ সমাস)
শঙ্খধ্বনি: শঙ্খের ধ্বনি (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
৮. কোন শব্দে কী উপসর্গ আছে আলাদা করে দেখাও:
প্রতিশ্রুতি: প্রতি
বেওয়ারিশ: বে (ফারসি উপসর্গ)
অনুসরণ: অনু
প্রচ্ছন্ন: প্র
অভ্যর্থনা: অভি
অধিকার: অধি
৯. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো:
৯.১ ওই পথ দিয়ে জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যখন আমি যাচ্ছিলাম, তখন ওই পথ দিয়ে জরুরি দরকারে ট্যাক্সি করে যাচ্ছিলাম।
৯.২ দেখছেন না ছন্নছাড়া কটা বেকার ছোকরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে- (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: ছন্নছাড়া কটা বেকার ছোকরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এবং আড্ডা দিচ্ছে, এটা কি দেখছেন না?
৯.৩ কারা ওরা? (প্রশ্ন পরিহার করো)
উত্তর: ওদের পরিচয় আমার জানা নেই।
৯.৪ ঘেঁষবেন না ওদের কাছে। (ইতিবাচক বাক্যে)
উত্তর: ওদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন।
৯.৫ একটা স্ফুলিঙ্গ-হীন ভিজে বারুদের স্তূপ। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: এটা এমন একটা ভিজে বারুদের স্তূপ যাতে কোনো স্ফুলিঙ্গ নেই।
৯.৬ জিজ্ঞেস করলুম, তোমাদের ট্যাক্সি লাগবে? (পরোক্ষ উক্তিতে)
উত্তর: আমি তাদের ট্যাক্সি লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করলাম।
৯.৭ আমরা খালি ট্যাক্সি খুঁজছি। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: আমরা এমন ট্যাক্সি খুঁজছি যা খালি।
৯.৮ দেখতে দেখতে গুচ্ছে গুচ্ছে উথলে উঠেছে ফুল (ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো)
উত্তর: পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
Advertisement
অষ্টম শ্রেণীর গণিত সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
অষ্টম শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test