অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে" গানটির সম্পূর্ণ আলোচনা।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
বিজ্ঞাপন

গান: আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে

শিল্পী: বিজয় সরকার


শিল্পী সম্পর্কে আলোচনা

বিজয় সরকার (১৯০৩-১৯৮৫): তিনি ছিলেন একজন স্বনামধন্য কবিয়াল, গীতিকার এবং সুরকার। তাঁকে 'চারণকবি' হিসেবেও অভিহিত করা হয়। তিনি মূলত বাউল- ঘরানার গানের জন্য পরিচিত। তাঁর গানে মাটির সুর ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মিশ্রণ পাওয়া যায়। তাঁর গানগুলি সহজ-সরল ভাষায় মানুষের মনের কথা বলে।

Bijoy Sarkar

গানটির বিস্তারিত সারসংক্ষেপ

বিজয় সরকারের লেখা "আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে" গানটি একটি গভীর বিরহের গান। এখানে 'দুরন্ত শ্রাবণ' বলতে প্রিয়জনের স্মৃতি বা তার ফিরে আসাকে বোঝানো হয়েছে, যা কবির মনে বারবার ফিরে আসছে।

প্রথম স্তবক: গানের শুরুতে কবি বলছেন যে, আষাঢ়ের ভেজা পথ বেয়ে তাঁর মনের গভীরে দুরন্ত শ্রাবণ নেমে এসেছে। এই শ্রাবণ তাঁর কাছে এক হারানো দিনের স্মৃতি, যা মনের কূলে এসে ভিড় করেছে।

দ্বিতীয় স্তবক: এরপর কবি চূর্ণী নদীর ঘূর্ণিপাকে ঝড়ের স্মৃতি মনে করছেন। তিনি বলছেন, অনেক দিন পর সেই ঝড় আবার ফিরে এসেছে। এই ঝড় আসলে তাঁর জীবনের কোনো এক অতীত ঘটনা বা প্রিয়জনের আগমনের প্রতীক, যা তাঁর শান্ত জীবনকে আবার নাড়িয়ে দিয়েছে।

তৃতীয় স্তবক: হিজল গাছের নিচে জলপরিদের মতো সুন্দরীদের দেখে কবির মনে শ্রাবণের কান্না জেগে ওঠে। তিনি কাঁদছেন, কিন্তু তাঁর কান্না কেউ দেখতে পাচ্ছে না। এই কান্না আসলে প্রিয়জনকে হারানোর এক নীরব যন্ত্রণা।

চতুর্থ স্তবক: মেঘের আগুনে জলের ছিটে দিয়ে শ্রাবণের মেঘ কবিকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। এই দৃশ্য কবির মনকে আরও বিষণ্ণ করে তুলছে। প্রিয়জনের স্মৃতি তাঁকে এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যে তিনি কিছুই ভাবতে পারছেন না।

শেষ স্তবক: এক বছর পর শ্রাবণ আবার ফিরে এসেছে। কিন্তু এবার তার আসার কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই, যেন এক পাগল বিজয়ীর মতো সে বিধাতার বাঁধন ছিঁড়ে চলে এসেছে। এই শ্রাবণ আসলে কবির মনের সেই অপ্রতিরোধ্য স্মৃতি, যা কোনো নিয়ম মানে না, বারবার ফিরে এসে তাঁকে ব্যথিত করে তোলে।

সামগ্রিকভাবে, গানটি প্রকৃতি এবং মানব মনের বিরহকে একসূত্রে বেঁধেছে। শ্রাবণের বর্ষণ যেন কবির মনেরই কান্না, যা প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় ঝরে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন