অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - আদাব
WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "আদাব" গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান।
গল্প: আদাব
লেখক: সমরেশ বসু
লেখক সম্পর্কে আলোচনা
সমরেশ বসু (১৯২৪ – ১৯৮৮): তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছোটোগল্পকার ও ঔপন্যাসিক। জীবনের নানা পর্বে তিনি বিভিন্ন রকম কাজ করে বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর লেখায় সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা ফুটে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে 'গঙ্গা', 'জগদ্দল', 'বি টি রোডের ধারে' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি 'কালকূট' ছদ্মনামে অনেক ভ্রমণ কাহিনিও লিখেছেন।
গল্পের সারসংক্ষেপ
হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার এক ভয়ংকর রাতে, কারফিউ জারি হওয়া শহরে, একটি ডাস্টবিনের আড়ালে আশ্রয় নেয় দুটি মানুষ। একজন নারায়ণগঞ্জের সুতাকলের হিন্দু মজুর, অন্যজন বুড়িগঙ্গার ওপারের মুসলমান মাঝি। প্রথমে দুজনেই দুজনকে খুনি ভেবে ভয় পায় ও সন্দেহ করে। কিন্তু ধীরে ধীরে কথা বলার মাধ্যমে তাদের ভয় কাটে এবং তারা একে অপরের কষ্টের কথা জানতে পারে। দাঙ্গার ভয়াবহতা, নেতাদের স্বার্থপরতা এবং নিজেদের অসহায় অবস্থা নিয়ে তারা আলোচনা করে। একসময় তাদের মধ্যে একটি মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঈদ উপলক্ষে মাঝি তার সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে সে ভয় পায়। অবশেষে, পরিবারের টানে সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একাই এগিয়ে যায়। হিন্দু মজুরটি তার জন্য উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই গুলির শব্দ শোনা যায় এবং বোঝা যায় যে মাঝি পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। গল্পটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আবহে দুই ভিন্ন ধর্মের সাধারণ মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা মানবিকতা এবং তার করুণ পরিণতির এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
১.১ সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কী?
উত্তর: সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
১.২ তাঁর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম 'গঙ্গা' এবং 'জগদ্দল' ।
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও :
২.১ কোন সময়পর্বের কথা গল্পে রয়েছে?
উত্তর: গল্পে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার সময়কার কথা রয়েছে, যখন শহরে ১৪৪ ধারা এবং কারফিউ জারি ছিল।
২.২ 'ডাস্টবিনের দুই পাশে দুটি প্রাণী'— প্রাণীদুটির পরিচয় দাও।
উত্তর: প্রাণীদুটির একজন ছিল নারায়ণগঞ্জের সুতাকলের একজন হিন্দু মজুর এবং অন্যজন ছিল বুড়িগঙ্গা পারের একজন মুসলমান মাঝি।
২.৩ 'ওইটার মধ্যে কী আছে?'— বক্তা কীসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন?
উত্তর: বক্তা, অর্থাৎ সুতা-মজুর, মাঝির বগলে থাকা পুঁটলিটার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
২.৪ গল্পে কোন নদীর প্রসঙ্গ রয়েছে?
উত্তর: গল্পে বুড়িগঙ্গা নদীর প্রসঙ্গ রয়েছে।
২.৫ 'সুতা-মজুরের ঠোঁটের কোণে একটু হাসি ফুটে উঠল...'— তার এই হাসির কারণ কী?
উত্তর: মাঝি নিরাপদে বাড়ি পৌঁছালে তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা কতটা খুশি হবে, সেই সুখের দৃশ্য কল্পনা করে সুতা-মজুরের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠেছিল।
৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:
৩.১ 'শহরে ১৪৪ ধারা আর কারফিউ অর্ডার জারী হয়েছে।'— লেখকের অনুসরণে গল্পঘটনার রাতের দৃশ্য বর্ণনা করো।
উত্তর: সেই রাত ছিল ভয়ংকর। হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কারণে শহরে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি হয়েছিল। মিলিটারি গাড়ি টহল দিচ্ছিল। চতুর্দিকে গুপ্তঘাতক ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং লুঠতরাজ চলছিল। বস্তিতে আগুন জ্বলছিল এবং নারী-শিশুর কান্নার শব্দে পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে গুলি চালাচ্ছিল।
৩.২ 'হঠাৎ ডাস্টবিনটা একটু নড়ে উঠল।'— 'ডাস্টবিন নড়ে ওঠা'র অব্যবহিত পরে কী দেখা গেল?
উত্তর: ডাস্টবিন নড়ে ওঠার পর প্রথমে একটি লোক (মাঝি) ভয় পেয়ে যায় এবং ভাবে হয়তো কুকুর। সে ডাস্টবিনটা ঠেলে দেয়। এরপর ডাস্টবিনটা আবার নড়ে উঠলে সে আস্তে আস্তে মাথা তোলে। তখন দেখা যায়, ওপাশ থেকেও ঠিক তেমনি একটি মাথা (সুতা-মজুর) উঠে এসেছে। অর্থাৎ, ডাস্টবিনের দু'পাশে দুজন ভীত ও সন্দিগ্ধ মানুষ লুকিয়ে ছিল।
৩.৩ হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির আবহ গল্পে কীভাবে রচিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: দাঙ্গার ভয়াবহ পরিবেশে একজন হিন্দু মজুর এবং একজন মুসলমান মাঝি একে অপরকে প্রথমে শত্রু ভেবেছিল। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে তারা ধর্মীয় পরিচয় ভুলে গিয়ে নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলে। তারা একসঙ্গে বিড়ি খায়, দাঙ্গার কারণ নিয়ে আলোচনা করে এবং একে অপরের পরিবারের জন্য চিন্তা করে। মাঝি যখন বিপদের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যেতে চায়, তখন মজুরটি তাকে আটকানোর চেষ্টা করে এবং তার জন্য প্রার্থনা করে। এইভাবেই ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তাদের মধ্যে এক গভীর মানবিক সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
৩.৪ 'মুহূর্তগুলিও কাটে যেন মৃত্যুর প্রতীক্ষার মতো।'— সেই রুদ্ধ উত্তেজনাকর মূহূর্তগুলির ছবি গল্পে কীভাবে ধরা পড়েছে তা দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করো।
উত্তর: গল্পে মাঝি ও মজুর যখন ডাস্টবিনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল, তখন প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ভরা। প্রথমে তারা একে অপরকে খুনি ভেবে ভয়ে স্থির হয়ে ছিল। তারপর যখন মিলিটারি বুটের শব্দ শোনা গেল, তখন তারা পালানোর জন্য একসঙ্গে দৌড়ালো। পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এসে তাদের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। অবশেষে, মাঝি যখন একাই পুলিশ ফাঁড়ি পেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, তখন মজুরটির জন্য প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর প্রতীক্ষার মতো হয়ে উঠল, কারণ সে জানত যেকোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।
৩.৫ 'এমনভাবে মানুষ নির্মম নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে কী করে?'— উদ্ধৃতিটির আলোকে সেই সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি আলোচনা করো।
উত্তর: এই গল্পটি দেশভাগের সময়কার বা তার কাছাকাছি কোনো সময়ের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে লেখা। সেই সময় রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে হিন্দু ও مسلمانوں মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছিল। সাধারণ মানুষ, যারা যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিল, তারা একে অপরের রক্তপিপাসু হয়ে ওঠে। এই গল্পে মাঝি ও মজুরের কথোপকথনের মাধ্যমে সেই সময়ের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে তারা বলে যে নেতারা সাততলার উপরে বসে হুকুম দেয় আর সাধারণ গরিব মানুষ একে অপরকে মারে এবং মারা যায়।
৪. নিম্নলিখিত বাক্যগুলির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো:
৪.১ 'রাত্রির নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে মিলিটারি টহলদার গাড়িটা একবার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে একটা পাক খেয়ে গেল।'
তাৎপর্য: এই বাক্যটির মাধ্যমে গল্পের ভয়াবহ পরিবেশ এবং থমথমে পরিস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে। দাঙ্গার কারণে শহর এতটাই অশান্ত যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিলিটারিকে টহল দিতে হচ্ছে, যা রাতের নিস্তব্ধতাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।
৪.২ 'ডাস্টবিনের দুইপাশে দুটি প্রাণী, নিস্পন্দ নিশ্চল।'
তাৎপর্য: এখানে দাঙ্গার ভয়ে ভীত দুটি সাধারণ মানুষকে 'প্রাণী' বলা হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তারা শুধুমাত্র বাঁচার জন্য লড়াই করা দুটি প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। তাদের নিস্পন্দ ও নিশ্চল অবস্থা তীব্র ভয় ও সন্দেহের প্রকাশ।
৪.৩ 'স্থান-কাল ভুলে রাগে-দুঃখে মাঝি প্রায় চেঁচিয়ে ওঠে।'
তাৎপর্য: যখন সুতা-মজুর মাঝির উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, তখন মাঝি নিজের সততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে এতটাই আঘাত পায় যে, সে বিপদের কথা ভুলে গিয়ে দুঃখে ও রাগে চিৎকার করে ওঠে। এটি তার চরিত্রের সারল্য ও অসহায়তার পরিচয় দেয়।
৪.৪ 'অন্ধকারের মধ্যে দু জোড়া চোখ অবিশ্বাসে উত্তেজনায় আবার বড়ো বড়ো হয়ে উঠল।'
তাৎপর্য: দেশলাই জ্বালানোর পর যখন মাঝি 'সোহান আল্লা' বলে ওঠে, তখন সুতা-মজুর তার ধর্মীয় পরিচয় জানতে পারে। দাঙ্গার আবহে এই পরিচয় প্রকাশ পাওয়ায় দুজনের মধ্যেই অবিশ্বাস ও উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তাদের চোখ ভয়ে বড় বড় হয়ে ওঠে।
৪.৫ 'সুতো-মজুরের বুকের মধ্যে টনটন করে ওঠে।'
তাৎপর্য: মাঝি যখন তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যার জন্য ঈদের জামা নিয়ে বাড়ি যাওয়ার আকুলতা প্রকাশ করে, তখন তার কষ্ট ও ভালোবাসা দেখে হিন্দু মজুরটির মনে গভীর সহানুভূতি জাগে। ধর্মীয় বিভেদ ভুলে গিয়ে সে মাঝির জন্য কষ্ট অনুভব করে, যা তার মানবিকতার পরিচয় দেয়।
৪.৬ 'ভুলুম না ভাই এই রাত্রের কথা।'
তাৎপর্য: এই বাক্যটি বিদায় নেওয়ার সময় মাঝি ও মজুর দুজনেই বলে। দাঙ্গার মতো এক ভয়ংকর রাতে তারা যেভাবে ধর্ম ভুলে একে অপরের বন্ধু হয়ে উঠেছিল, সেই স্মৃতি তাদের কাছে অমূল্য। এই কথাটি তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর মানবিক সম্পর্কের প্রতীক।
শব্দার্থ: আন্দাইরা গলি – অন্ধকার গলি। অসবুর – অধৈর্য। সুঁই – সূঁচ। ভগবানের কিরা – ভগবানের দিব্য বা শপথ। রায়ট – দাঙ্গা। পোলামাইয়া – ছেলেমেয়ে। ছাওয়াল – ছেলে। দুশমন – শত্রু। তাগো – তাদের।
৫. নীচের বাক্যগুলি থেকে অব্যয় পদ খুঁজে নিয়ে কোনটি কোন শ্রেণির অব্যয় তা নির্দেশ করো:
৫.১ শহরে ১৪৪ ধারা আর কারফিউ অর্ডার জারি হয়েছে।
উত্তর: আর (সংযোজক অব্যয়)।
৫.২ তারা গুলি ছুঁড়ছে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে।
উত্তর: ও (সংযোজক অব্যয়)।
৫.৩ উভয়েই একটা আক্রমণের প্রতীক্ষা করতে থাকে, কিন্তু খানিকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো পক্ষ থেকেই আক্রমণ এল না।
উত্তর: কিন্তু (সঙ্কোচক অব্যয়)।
৫.৪ তোমার মতলবডা তো ভালো মনে হইতেছে না।
উত্তর: তো (আলঙ্কারিক অব্যয়)।
৫.৫ মাঝি এমনভাবে কথা বলে যেন সে তার কোনো আত্মীয়বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছে।
উত্তর: যেন (সাদৃশ্যবাচক অব্যয়)।
৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবদ্ধ পদ খুঁজে নিয়ে তাদের সন্ধিবিচ্ছেদ করো:
৬.১ তা ছাড়া চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে গুপ্তঘাতকের দল।
উত্তর: চতুর্দিকে = চতুঃ + দিকে।
৬.২ মৃত্যু-বিভীষিকাময় এই অন্ধকার রাত্রি তাদের উল্লাসকে তীব্রতর করে তুলেছে।
উত্তর: উল্লাস = উৎ + লাস।
৬.৩ নির্জীবের মতো পড়ে রইল খানিকক্ষণ।
উত্তর: নির্জীব = निः + জীব।
৬.৪ দাঁতে দাঁত চেপে হাত পা-গুলোকে কঠিন করে লোকটা প্রতীক্ষা করে রইল একটা ভীষণ কিছুর জন্য।
উত্তর: প্রতীক্ষা = প্রতি + ঈক্ষা।
৬.৫ সমস্ত অঞ্চলটার নৈশ নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দুবার গর্জে উঠল অফিসারের আগ্নেয়াস্ত্র।
উত্তর: নৈশ = নিশা + অ, আগ্নেয়াস্ত্র = আগ্নেয় + অস্ত্র।
৭. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো:
- চোরাগোপ্তা: চোরা ও গোপ্তা (দ্বন্দ্ব সমাস) অথবা, চোরার ন্যায় গোপ্তা (উপমান কর্মধারয়)।
- পথনির্দেশ: পথের নির্দেশ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।
- নির্জীব: নেই জীব যার (নঞ বহুব্রীহি সমাস)।
- দীর্ঘনিশ্বাস: দীর্ঘ যে নিশ্বাস (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
- পোলামাইয়া: পোলা ও মাইয়া (দ্বন্দ্ব সমাস)।
৮. নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো:
৮.১ দুদিক থেকে দুটো গলি এসে মিশেছে এ জায়গায়।
উত্তর: অপাদান কারকে 'থেকে' অনুসর্গ।
৮.২ সন্দেহের দোলায় তাদের মন দুলছে।
উত্তর: করণ কারকে 'য়' বিভক্তি।
৮.৩ নিষ্ফল ক্রোধে মাঝি দু হাত দিয়ে হাঁটু দুটোকে জড়িয়ে ধরে।
উত্তর: করণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
৮.৪ আমাগো কথা ভাবে কেডা?
উত্তর: কর্ম কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
৮.৫ মুহূর্তগুলি কাটে রুদ্ধ নিশ্বাসে।
উত্তর: করণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
৯. নীচের শব্দগুলিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন কোন নিয়ম কাজ করেছে লেখো:
- হেইপারে: ঐপারে > হেইপারে (সামীভবন/স্বরসংগতি)।
- নারাইনগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ > নারাইনগঞ্জ (স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ)।
- ডাইকা: ডাকিয়া > ডাইকা (অভিশ্রুতি)।
- আঙুল: অঙ্গুলি > আঙুল (নাসিক্যীভবন)।
- চান্দ: চন্দ্র > চান্দ (নাসিক্যীভবন ও ধ্বনিলোপ)।
১০. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো :
১০.১ রাত্রির নিস্তব্ধতাকে কাঁপিয়ে দিয়ে মিলিটারি টহলদার গাড়িটা একবার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে একটা পাক খেয়ে গেল। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যখন মিলিটারি টহলদার গাড়িটা ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশ দিয়ে একটা পাক খেয়ে গেল, তখন রাত্রির নিস্তব্ধতা কেঁপে উঠল।
১০.২ খানিকক্ষণ চুপচাপ। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: খানিকক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।
১০.৩ পরিচয়কে স্বীকার করতে উভয়েই নারাজ। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)
উত্তর: পরিচয়কে স্বীকার করতে কি উভয়েই রাজি ছিল?
১০.৪ শোরগোলটা মিলিয়ে গেল দূরে। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: শোরগোলটা উঠল এবং দূরে মিলিয়ে গেল।
১০.৫ মাঝি বলল, চল যেদিক হউক। (পরোক্ষ উক্তিতে)
উত্তর: মাঝি যেদিকে হোক চলার প্রস্তাব দিল।
১১. ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো:
১১.১ কান পেতে রইল দূরের অপরিস্ফুট কলরবের দিকে।
উত্তর: সাধারণ অতীত কাল।
১১.২ সন্দেহের দোলায় তাদের মন দুলছে।
উত্তর: ঘটমান বর্তমান কাল।
১১.৩ ধারে-কাছেই য্যান লাগছে।
উত্তর: ঘটমান বর্তমান কাল।
১১.৪ অশান্ত চঞ্চল ঘোড়া কেবলি পা ঠুকছে মাটিতে।
উত্তর: ঘটমান বর্তমান কাল।
১১.৫ বাদামতলির ঘাটে কোন অতলে ডুবাইয়া দিছে তারে।
উত্তর: পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
১২. নীচের শব্দগুলির শ্রেণিবিভাগ করো:
- মজুর: ফারসি শব্দ (বিশেষ্য)।
- লীগওয়ালো: ইংরেজি 'League' + হিন্দি 'ওয়ালা' (বিশেষ্য, সংকর শব্দ)।
- পুলিশ: ইংরেজি শব্দ (বিশেষ্য)।
- নসিব: আরবি শব্দ (বিশেষ্য)।
- রাত্রি: তৎসম শব্দ (বিশেষ্য)।
অষ্টম শ্রেণীর গণিত সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
অষ্টম শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test