পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে

WBBSE-র 'পাতাবাহার' বইয়ের "পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে" পাঠের সম্পূর্ণ সমাধান।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

পাঠ: পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে

উৎস: 'পশ্চিমবঙ্গ' পত্রিকার 'জলপাইগুড়ি জেলা' সংখ্যায় 'জলপাইগুড়ি জেলার বর্ষার লোকসংস্কৃতি, নৃত্য ও গীত' নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া।


উৎস সম্পর্কে আলোচনা

প্রবন্ধটির লেখক সুনীল পাল। এই গানটির তরজমাও করেছেন তিনি। উক্ত গানটির মূল পাঠ সংগ্রহ ও শব্দার্থ চয়নে সহযোগিতা করেছেন দময়ন্তী হাঁসদা। তিনি লোকসংস্কৃতির একজন বিশিষ্ট গবেষক ও একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। লেপচাদের মধ্যে প্রচলিত গানটির তরজমা করেছেন শৈলেন্দ্র চৌধুরী।


পাঠের সংক্ষেপ আলোচনা

এই পাঠ্যাংশটি উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতি নিয়ে লেখা। হিমালয়ের পাদদেশে বসবাসকারী রাভা, টোটো, গারো, লেপচা ইত্যাদি আদি জনজাতির জীবনযাত্রা, উৎসব এবং গান-নাচের কথা বলা হয়েছে। এখানে একটি লেপচা লোকগীতি ও তার সঙ্গে জড়িত একটি লোককথা রয়েছে। লোককথাটি অনুযায়ী, একবার পৃথিবীতে খরা হলে মানুষ ও পশুপাখিরা খুব কষ্টে পড়ে। তখন একটি ব্যাঙ ভগবানের কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে যায় এবং তার প্রার্থনায় ভগবান সন্তুষ্ট হয়ে বৃষ্টি দেন। সেই থেকে বিশ্বাস করা হয় যে, যখনই ব্যাঙ ডাকে, তখনই বৃষ্টি নামে।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. নিজের ভাষায় লেখো:

১.১ পশ্চিমবঙ্গের যে-কোনো একটি পাহাড়িয়াদের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের একটি পাহাড়িয়া জাতি হল লেপচা।

১.২ পাহাড়ের কথা বললেই কোন ছবি তোমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে?
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের কল্পনা অনুযায়ী লিখবে।)

১.৩ বর্ষায় খরা নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতার কথা কিংবা মাছ ধরা নিয়ে তোমার পড়া একটি গল্প বা ছড়া লেখো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বা পড়া গল্প/ছড়া লিখবে।)

১.৪ বর্ষায় প্রকৃতির রূপ কেমন হয়? তোমার পাঠ্যাংশে বর্ষা নিয়ে আর কোন কোন লেখা রয়েছে?
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভাষায় লিখবে।)

২. বাক্য মেলাও:


চল মাছ ধরি গিয়ে
নদীর কূলে
মাছরাঙা বার বার
ঠোঁ মেরেছে পায়নি মাছ
কুবর‍্যা পাখি
উড়ে উড়ে কাঁদছে
বকেরা
উড়ছে সার বেঁধে
ঝাঁপিয়ে গিয়েছে
নতুন বছরের নতুন জলে

৩. প্রদত্ত সুর অনুসারে গানটি থেকে গল্প তৈরি করো:

এক দেশে অনেক দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল না। মাঠঘাট শুকিয়ে চৌচির, গাছপালা সব মরে যেতে বসেছে। পশুপাখিরা জলের অভাবে ছটফট করছে। তখন গ্রামের সবাই মিলে ঠিক করল, বৃষ্টির দেবতার কাছে প্রার্থনা করবে। নতুন বছরের নতুন জলে তারা স্নান করে, নতুন পোশাক পরে দেবতার মন্দিরে গেল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। শেষে, একটি ছোট্ট ব্যাঙ ঠিক করল সে নিজেই ভগবানের কাছে যাবে। ব্যাঙের দেখাদেখি মাছরাঙা, বক, কুবর‍্যা পাখি সবাই তার সঙ্গে চলল। তারা একসঙ্গে ভগবানের কাছে গিয়ে বৃষ্টির জন্য আকুতি জানাল। তাদের সম্মিলিত প্রার্থনায় ভগবান সন্তুষ্ট হলেন এবং পৃথিবীতে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টিতে মাঠঘাট, নদীনালা সব জলে থৈ থৈ করতে লাগল আর প্রকৃতি আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।

৪. কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে তুমি খুব হেঁটেছ আনন্দ করেছ আর মজা পেয়েছ। কী কী করলে সেই দিন তা দিনলিপির আকারে খাতায় লেখো।

আজ পৌষ সংক্রান্তি। আমি সকালে বাবা-মায়ের সাথে শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় গিয়েছিলাম। কী বিশাল মেলা! চারিদিকে কত লোক, কত দোকান। আমি মেলায় ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু দেখলাম। বাউল গান শুনলাম, আদিবাসীদের নাচ দেখলাম। একটা দোকানে মাটির পুতুল আর মুখোশ বিক্রি হচ্ছিল, সেখান থেকে আমি একটা সুন্দর মুখোশ কিনলাম। তারপর আমরা সবাই মিলে গরম গরম পাটিসাপটা আর জিলিপি খেলাম। সারাদিন খুব হাঁটাহাঁটি করেছি, তাই পা ব্যথা করছিল, কিন্তু মনে খুব আনন্দ। বাড়ি ফেরার সময়ও মেলার আলো আর গানের সুর কানে বাজছিল। আজকের দিনটা সত্যি খুব মজার ছিল।

৫. মূল লেখাটা অন্য ভাষায়, কিন্তু নিজের ভাষায় তুমি পড়েছ আর দারুণ লেগেছে এমন দুটি লেখার নাম করো:

মূল লেখাটি অন্য ভাষায় ছিল কিন্তু আমি বাংলায় পড়েছি এবং আমার খুব ভালো লেগেছে, এমন দুটি লেখা হলো:
১. ঈশপের গল্প (মূল গ্রিক ভাষায় লেখা)
২. হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের রূপকথা (মূল ড্যানিশ ভাষায় লেখা)

৬. একটি বৃষ্টির দিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখো।

প্রিয় [বন্ধুর নাম],
কেমন আছিস? আশা করি ভালো আছিস। আজ আমাদের এখানে সকাল থেকে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আকাশ কালো মেঘে ঢাকা আর ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। আজ আর স্কুলে যেতে হয়নি। আমি সারাদিন জানলার ধারে বসে বৃষ্টি দেখলাম। মা গরম গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা রান্না করেছিলেন। বিকেলে বৃষ্টি একটু থামলে আমি আর দাদা মিলে উঠোনের জমা জলে কাগজের নৌকা ভাসিয়েছি। খুব মজা হয়েছে। তোর ওদিকে কি বৃষ্টি হচ্ছে? ছুটির পর দেখা হলে আরও গল্প হবে। ভালো থাকিস।
ইতি,
তোর বন্ধু,
[তোমার নাম]

৭. এমন একটি ছবি আঁকো, যার মধ্যে কবিতার এই জিনিসগুলো থাকবে: নদীর কূল, জল থৈ থৈ মাঠ, বকের সারি, মাছরাঙা, ছেলেমেয়ের দল।

(ছাত্রছাত্রীরা তাদের কল্পনা অনুযায়ী ছবি আঁকবে।)

শব্দার্থ:

ধরা: অনাবৃষ্টি। প্রাসাদ: বড় বাড়ি। সাক্ষাৎ: দেখা। দানা: শস্যের কণা। গাফিলতি: উদাসীনতা। তিরস্কার: বকা। উলসিত: খুব খুশি। যে: আসা। লীঙ্গী: সঙ্গী বা সহপাঠী। না: মাছ। না লীঙ্গিয়া/লীয়েয়া: মাছ ধরতে যাওয়া। পিলদান: নতুন/নব। টিকা পিলদানায়: মাঠে ভরতি জলে। হাসাম নীকচা টিকা: থৈ থৈ জল। কীজাহাঁতা: ডাকছে বা কাঁদছে। পুঁইমান: উড়ে উড়ে যাওয়া। সানি লামাইতারে: খাবার ইচ্ছে প্রকাশ করা। ইয়ার: এদিকে। হায়াইই: ওদিকে। মানা: সমর্থ। মাঞ্জা: অসমর্থ।

৮. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

৮.১ বৃষ্টি কীভাবে প্রকৃতিকে বাঁচায়?
উত্তর: বৃষ্টি প্রকৃতিকে জল দিয়ে বাঁচায়। বৃষ্টির জলে গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ সবাই প্রাণ ফিরে পায়।

৮.২ ‘খরা’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘খরা’ বলতে অনাবৃষ্টি বা দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়াকে বোঝায়।

৮.৩ অনাবৃষ্টির ফলে মানুষ, পশুপাখি, গাছপালার অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: অনাবৃষ্টির ফলে মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা সবাই জলের অভাবে কষ্ট পাচ্ছিল এবং মারা যাচ্ছিল।

৮.৪ ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাঙ কী দেখল?
উত্তর: ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাঙ দেখল সেখানে সবাই ভোজ ও আনন্দ-উৎসবে মত্ত।

৮.৫ প্রাসাদের দৃশ্য দেখে ব্যাঙ রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন?
উত্তর: প্রাসাদের সবাই যখন আনন্দ-উৎসবে ব্যস্ত, তখন পৃথিবীর মানুষ ও জীবজন্তুরা জলের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে দেখে ব্যাঙ রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ল।

৮.৬ ভগবান ও তার মন্ত্রীরা মৌমাছি, বাঘ, মোরগের হাতে কীভাবে নাকাল হলো?
উত্তর: ব্যাঙের সঙ্গীরা - মৌমাছি, বাঘ, এবং মোরগ - ভগবানের মন্ত্রীদের আক্রমণ করে তাদের নাকাল করে দিয়েছিল।

৮.৭ শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে ‘বৃষ্টি’ নিয়ে প্রচলিত দুটি ছড়া ও দুটি গল্প সংগ্রহ করো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে এটি সংগ্রহ করবে।)