পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - বুনো হাঁস

WBBSE-র 'পাতাবাহার' বইয়ের "বুনো হাঁস" গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

গল্প: বুনো হাঁস

লেখিকার নাম: লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭)


লেখিকা সম্পর্কে আলোচনা

Leela Majumdar

লীলা মজুমদার কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে। ১৯২০ সাল থেকে তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। সারাজীবন সাহিত্যচর্চাই ছিল তার সঙ্গী। তার প্রথম ছোটোদের বই 'বদ্যিনাথের বড়ি'। অন্যান্য বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ—'পদিপিসির বর্মীবাক্স', 'হলদে পাখির পালক', 'টং লিং', 'মাকু'। ছোটোদের জন্য 'সন্দেশ' পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন বহুকাল। বহু পুরস্কারে সম্মানিত—যার মধ্যে রয়েছে 'রবীন্দ্র পুরস্কার', 'আনন্দ পুরস্কার', 'ভারতীয় শিশু সাহিত্য পুরস্কার'। তার লেখা 'গুপির গুপ্তধন' বই থেকে 'বুনো হাঁস' গল্পটি নেওয়া হয়েছে।


গল্পের সংক্ষেপ আলোচনা

এই গল্পটি একদল বুনো হাঁসের যাত্রাপথের কাহিনী। শীতের শুরুতে হাঁসেরা উত্তরের শীতপ্রধান দেশ থেকে উষ্ণতার খোঁজে দক্ষিণে উড়ে আসে। এমনই এক যাত্রায় একটি হাঁসের ডানা জখম হলে, সে এবং তার সঙ্গী লাডাকের এক সেনা ছাউনিতে আশ্রয় নেয়। সেখানকার জোয়ানরা তাদের পরম যত্নে সেবা করে। হাঁস দুটি পুরো শীতকাল সেখানেই কাটায়। বসন্ত এলে, তারা সুস্থ হয়ে পুনরায় তাদের নিজের দেশে ফিরে যায়। এই গল্পে মানুষ ও পশুপাখির মধ্যেকার সহানুভূতি ও ভালোবাসার এক সুন্দর চিত্র ফুটে উঠেছে।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো:

১.১ আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ মেঘ-রোদ্দুর

১.২ হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরো একটি পর্বতের নাম হলো আরাবল্লী

১.৩ এক রকমের হাঁসের নাম হলো বালি-হাঁস।

১.৪ পাখির ডানার শন শন শব্দ শোনা যায়।

শব্দার্থ:

ফালি: তীক্ষ্ণ প্রান্ত। সয় না: সহ্য হয় না। হিমালয়: পর্বতমালায় নাম। দ্বীপ: চারদিকে জলবেষ্টিত স্থান। নিরাপদ: যেখানে আপদ বা বিপদ নেই এমন। নির্জন: যেখানে লোকজন নেই। তাঁবু: কাপড়ে তৈরি/ছাওয়া অস্থায়ী বাসস্থান। জখম: আহত। বেচারি: নিরীহ/অসহায়/নিঃসহায়।

২. 'ক' এর সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:

ক স্তম্ভ
খ স্তম্ভ

বরফ
হিমানী
বুনো
বন্য
কুঁড়ি
কলি
চঞ্চল
অস্থির
আরম্ভ
শুরু

৩. সঙ্গী—(ঙ্+গ)—এমন 'ঙ্গ' রয়েছে—এরকম পাঁচটি শব্দ লেখো:

উত্তর: জঙ্গল, বঙ্গ, মঙ্গল, অঙ্গ, সঙ্গীত।

৪. ঘটনাপ্রম সাজিয়ে লেখো:

  1. হাঁসের ডানা জখম হল।
  2. আরেকটা বুনো হাঁস নেমে এসে এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে।
  3. সারা শীত কেটে গেল।
  4. বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত।
  5. দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।

৫. শূন্যস্থান পূরণ করো:

৫.১ একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে আমাদের জোয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল।

৫.২ জোয়ানদের মুরগি রাখার খালি জায়গা ছিল।

৫.৩ আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল।

৫.৪ দলে দলে তির-এর ফলার আকারে, কেবলই উত্তরের দিকে উড়ে চলেছে।

৫.৫ ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল।

৬. শব্দঝুড়ি থেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো:

বিশেষ্য: লাডাক, শীতকাল, বরফ, তাঁবু, সঙ্গী, বেচারি।

বিশেষণ: বুনো, জখম, গরম, ন্যাড়া, নির্জন, চঞ্চল।

৭. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও:

৭.১ বাড়ির জন্য ওদের মন কেমন করত

৭.২ পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল

৭.৩ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে

৭.৪ সেখানে বুনো হাঁসরা রইল

৭.৫ নিরাপদে তাদের শীত কাটে

৮. বাক্য বাড়াও:

৮.১ একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে নেমে পড়ল।

৮.২ ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে তাদের নিজেদের দেশে আবার ফিরে যাচ্ছে।

৮.৩ নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল।

৮.৪ আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল।

৮.৫ ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল।

৯. বাক্য রচনা করো:

রেডিও: আমি প্রতিদিন রেডিওতে খবর শুনি।

চিঠিপত্র: আজকাল চিঠিপত্রের ব্যবহার কমে গেছে।

থরথর: ভয়ে ছেলেটি থরথর করে কাঁপছিল।

জোয়ান: ভারতীয় জোয়ানরা খুব সাহসী।

তাঁবু: পর্বতারোহীরা পাহাড়ে তাঁবু খাটিয়ে থাকে।

১০. তোমার বইতে যে বুনো হাঁসের ছবি দেওয়া আছে, সেটি দেখে আঁকো ও রং করো।

এই প্রশ্নটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের করার জন্য। তোমরা বই দেখে ছবিটি আঁকার চেষ্টা করো।

১১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

১১.১ জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল?
উত্তর: লাডাকের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল।

১১.২ জোয়ানদের কী কাজ করে?
উত্তর: জোয়ানরা দেশের সীমান্ত পাহারা দেয় এবং শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে।

১১.৩ দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়েছিল কেন?
উত্তর: একটি বুনো হাঁসের ডানা জখম হওয়ায় সে উড়তে পারছিল না, তাই সে দল থেকে নীচে নেমে পড়েছিল। তার সঙ্গী অন্য হাঁসটিও তার সাথে থেকে গিয়েছিল, তাই তারা দলছুট হয়েছিল।

১১.৪ বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে কী খেত?
উত্তর: বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খেত।

১১.৫ হাঁসেরা আবার কোথায়, কখন ফিরে গেল?
উত্তর: শীতকাল কেটে গিয়ে যখন বসন্ত এল এবং বরফ গলতে শুরু করল, তখন হাঁসেরা নিজেদের দেশে, অর্থাৎ উত্তরের ঠান্ডা দেশে ফিরে গেল।

১১.৬ ‘এমনি করে সারা শীত দেখতে দেখতে কেটে গেল'—কেমন করে সারা শীতকাল কাটল? এরপর কী ঘটনা ঘটল?
উত্তর: জখম হাঁসটি ও তার সঙ্গী জোয়ানদের তাঁবুতে নিরাপদে ছিল। জোয়ানদের দেওয়া খাবার খেয়ে এবং তাদের তত্ত্বাবধানে থেকে হাঁস দুটির সারা শীতকাল কেটে গেল। এরপর বসন্ত এল, বরফ গলতে শুরু করল, এবং হাঁসেরা নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠল। একদিন সকালে তারা উড়ে চলে গেল।

১২. কোনো পশু বা পাখির প্রতি তোমার সহমর্মিতার একটা ছোট্ট ঘটনার কথা লেখো।

এটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা লেখার জন্য। তোমরা নিজেদের জীবনের কোনো ঘটনা এখানে লিখতে পারো।

১৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর লেখো:

১৩.১ লীলা মজুমদার জন্ম কোন শহরে?
উত্তর: লীলা মজুমদার কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৩.২ তাঁর শৈশব কোথায় কেটেছে?
উত্তর: তাঁর শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে।

১৩.৩ ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর দুটি বিখ্যাত বই হলো 'পদিপিসির বর্মীবাক্স' এবং 'হলদে পাখির পালক'।