কষে দেখি ২০ - সমাধান

অধ্যায় ২০: বৃত্ত (Circle & Geometry)

Hisamuddin Sk
Hisamuddin Sk
Updated: March 19, 2026
বৃত্ত সম্পর্কে মনে রাখার বিষয়:
  • ব্যাস (Diameter): বৃত্তের কেন্দ্রগামী জ্যা-কে ব্যাস বলে। এটি বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা। এর দৈর্ঘ্য ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ।
  • ব্যাসার্ধ (Radius): কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত দূরত্ব।
  • বৃত্তকলা ও বৃত্তাংশ: দুটি ব্যাসার্ধ ও একটি বৃত্তচাপ দ্বারা আবদ্ধ ক্ষেত্র হলো বৃত্তকলা (Sector)। আর একটি জ্যা ও বৃত্তচাপ দ্বারা আবদ্ধ অংশ হলো বৃত্তাংশ (Segment)।
1
বৃত্তের ছবি দেখি ও নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজি:
O P Q M N S R
a) O বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র
b) OQ সরলরেখাংশ হলো বৃত্তের ব্যাসার্ধ
c) PQ সরলরেখাংশ হলো বৃত্তের ব্যাস
d) OP সরলরেখাংশ হলো বৃত্তের ব্যাসার্ধ
e) MN সরলরেখাংশ হলো বৃত্তের জ্যা
f) M ও N বিন্দু দুটি বৃত্তকে দুটি বৃত্তচাপে ভাগ করেছে।
g) SR বৃত্তচাপ, SO ও RO ব্যাসার্ধ দ্বারা সীমাবদ্ধ বৃত্তাকার ক্ষেত্রের অংশ হলো বৃত্তকলা
h) PQ ব্যাসের প্রান্তবিন্দু দুটি বৃত্তকে যে দুটি সমান অংশে ভাগ করে তাকে বলে অর্ধবৃত্ত
2
ঠিক বাক্যের পাশে () ও ভুল বাক্যের পাশে () চিহ্ন বসাই:
a) বৃত্তের সব ব্যাসই জ্যা।
ঠিক (ব্যাস হলো বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা)
b) বৃত্তের সব জ্যা বৃত্তের ব্যাস।
ভুল (শুধুমাত্র কেন্দ্রগামী জ্যা-ই ব্যাস)
c) বৃত্তের ব্যাসের দৈর্ঘ্য বৃত্তের ব্যাসার্ধের দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ।
ঠিক
d) বৃত্তকলা বৃত্তাকারক্ষেত্রের অংশ।
ঠিক
e) বৃত্তচাপ বৃত্তের অংশ।
ঠিক
f) বৃত্তের কেন্দ্র বৃত্তাকারক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট বিন্দু।
ঠিক
g) একই বৃত্তের যেকোনো দুটি ব্যাস অবশ্যই পরস্পরছেদী।
ঠিক (যেকোনো ব্যাস অবশ্যই কেন্দ্র দিয়ে যাবে, তাই কেন্দ্রে ছেদ করবেই)
3
একটি 3 সেমি. দৈর্ঘ্যের ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট বৃত্ত অঙ্কন করি (স্কেল ও পেনসিল-কম্পাসের সাহায্যে)। ওই বৃত্তে কেন্দ্র, ব্যাসার্ধ, ব্যাস, জ্যা, বৃত্তচাপ নাম দিয়ে চিহ্নিত করি।
সমাধান ও অঙ্কন পদ্ধতি:
  • ১ম ধাপ: স্কেলের সাহায্যে 3 সেমি. দৈর্ঘ্যের একটি সরলরেখাংশ আঁকি।
  • ২য় ধাপ: খাতায় একটি বিন্দু (ধরি, O) নিই। পেনসিল-কম্পাসের কাঁটাটি O বিন্দুতে বসিয়ে এবং 3 সেমি. মাপ নিয়ে একটি বৃত্ত আঁকি।
  • ৩য় ধাপ: এবার বৃত্তটিতে বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করি (নীচের ছবির মতো)।
O (কেন্দ্র) A ব্যাসার্ধ (3 সেমি) B C ব্যাস (BC) D E জ্যা (DE) বৃত্তচাপ
চিহ্নিত অংশসমূহ:
কেন্দ্র = O, ব্যাসার্ধ = OA (3 সেমি.), ব্যাস = BC, জ্যা = DE, বৃত্তচাপ = DE (হলুদ অংশ)
4
পাশের বৃত্তের অধিবৃত্তাংশে হলুদ রং ও উপবৃত্তাংশে সবুজ রং দিই।
সমাধান ও অঙ্কন:

জ্যা দ্বারা বৃত্তাকার ক্ষেত্র দুটি অংশে বিভক্ত হয়। বৃহত্তর অংশটিকে অধিবৃত্তাংশ (Major Segment) এবং ক্ষুদ্রতর অংশটিকে উপবৃত্তাংশ (Minor Segment) বলে।

A B অধিবৃত্তাংশ উপবৃত্তাংশ
5
কোনো দুটি বৃত্তের ব্যাসার্ধের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে 2 সেমি. ও 4 সেমি. হলে বৃত্ত দুটির ব্যাসের দৈর্ঘ্য না মেপে হিসাব করে লিখি।
সমাধান:

আমরা জানি, বৃত্তের ব্যাস = 2 $\times$ ব্যাসার্ধ

প্রথম বৃত্তের ক্ষেত্রে: ব্যাসার্ধ = 2 সেমি.
ব্যাস = $2 \times 2$ = 4 সেমি.
দ্বিতীয় বৃত্তের ক্ষেত্রে: ব্যাসার্ধ = 4 সেমি.
ব্যাস = $2 \times 4$ = 8 সেমি.

উত্তর: বৃত্ত দুটির ব্যাসের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে 4 সেমি. ও 8 সেমি. হবে।

6
কোনো বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা-এর দৈর্ঘ্য 10 সেমি. হলে, বৃত্তের ব্যাসার্ধের দৈর্ঘ্য কী হবে হিসাব করে লিখি।
সমাধান:

আমরা জানি, বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা হলো সেই বৃত্তের ব্যাস

অতএব, বৃত্তটির ব্যাস = 10 সেমি.

আবার, ব্যাসার্ধ = ব্যাস $\div$ 2

ব্যাসার্ধ = 10 $\div$ 2
= 5 সেমি.

উত্তর: বৃত্তটির ব্যাসার্ধের দৈর্ঘ্য হবে 5 সেমি.

Frequently Asked Questions

কষে দেখি 20 হলো ষষ্ঠ শ্রেণীর গণিত বইয়ের বিংশ অধ্যায়, যার নাম 'বৃত্ত'। এখানে বৃত্তের বিভিন্ন অংশ যেমন কেন্দ্র, ব্যাসার্ধ, ব্যাস, জ্যা, বৃত্তচাপ, বৃত্তকলা, উপবৃত্তাংশ এবং অধিবৃত্তাংশের জ্যামিতিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।

বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা হলো বৃত্তের ব্যাস, যা সর্বদা বৃত্তের কেন্দ্র দিয়ে যায়। ব্যাসের দৈর্ঘ্য সর্বদা ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ হয়।