ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা সমাধান - কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি

WBBSE-র 'সাহিত্যমেলা' বইয়ের "কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি" প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

প্রবন্ধ: কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি

লেখক: গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য


লেখক সম্পর্কে আলোচনা

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৮৯৫ – ১৯৮২): প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সূত্রে তাঁর রচনার মূল উপাদান প্রকৃতি ও প্রাণীজগৎ। জীবজগতের খুঁটিনাটি তথ্য সহজ ভাব ও সরল ভাষায় তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। লেখক গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের অনুসন্ধিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধগুলিকে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদে পরিণত করেছে। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো – বাংলার মাকড়সা, বাংলার কীটপতঙ্গ ইত্যাদি।

Gopalchandra Bhattacharya

প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের 'কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি' প্রবন্ধে কুমোর-জাতীয় বোলতাদের জীবনযাত্রা ও বাসা তৈরির আশ্চর্য কৌশলের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে এই পোকারা ভেজা মাটি দিয়ে নিখুঁতভাবে তাদের বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরির পর তারা মাকড়সা শিকার করে সেটিকে অবশ করে বাসার মধ্যে ভরে রাখে এবং তার উপর ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে সেই মাকড়সাই হয় তাদের প্রথম খাদ্য। লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই পোকাদের শিকার ধরার কৌশল, বাসা নির্মাণ এবং সন্তান পালনের সমগ্র প্রক্রিয়াটি তুলে ধরেছেন, যা প্রকৃতির এক বিস্ময়কর দিককে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

১.১ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় কী ধরনের লেখালেখির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন?
উত্তর: গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১.২ তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম হলো 'বাংলার মাকড়সা'

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

২.১ কুমোরে-পোকার চেহারাটি কেমন?
উত্তর: কুমোরে-পোকার শরীরের গড়ন লম্বাটে ধরনের, এবং গায়ের রঙ মিশমিশে কালো। কেবল শরীরের মধ্যভাগের বোঁটার মতো সরু অংশটি হলদে রঙের।

২.২ কুমোরে-পোকা কী দিয়ে বাসা বানায়?
উত্তর: কুমোরে-পোকা ভেজা মাটি দিয়ে বাসা বানায়।

২.৩ কোনো অদৃশ্য স্থানে কুমোরে-পোকা বাসা বাঁধছে — তা কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: কোনো অদৃশ্য স্থানে কুমোরে-পোকা বাসা বাঁধলে তার একটানা গুনগুন শব্দ শুনে বোঝা যায় যে সে বাসা বানাচ্ছে।

২.৪ মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা কী করে?
উত্তর: মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা তার ঘাড়ে কামড়ে ধরে এবং হুল ফুটিয়ে তাকে প্রায় অচেতন করে ফেলে।

৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণে এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো :

  • স্থান (বিশেষ্য) → স্থানীয় (বিশেষণ)
  • নির্দেশ (বিশেষ্য) → নির্দিষ্ট (বিশেষণ)
  • নির্বাচিত (বিশেষণ) → নির্বাচন (বিশেষ্য)
  • লুন্ঠিত (বিশেষণ) → লুন্ঠন (বিশেষ্য)
  • নির্মাণ (বিশেষ্য) → নির্মিত (বিশেষণ)
  • সন্তান (বিশেষ্য) → সান্তানিক (বিশেষণ)
  • সমীপ (বিশেষ্য) → সামীপ্য (বিশেষণ)

শব্দার্থ: আনাচে-কানাচে — কোনায় কোনায়। পুনঃপুনঃ — বারবার। সংস্কারবশে — প্রচলিত ধারণা বা বিশ্বাস অনুসারে। নিয়ন্ত্রণ — আয়ত্ত, পরিচালন। অর্ধ-চন্দ্রাকার — আধখানা চাঁদের আকারবিশিষ্ট। কুঠুরি — ছোট্ট ঘর বা প্রকোষ্ঠ। গাঁথুনি — পরস্পর স্থাপিত ইট, পাথর ইত্যাদির বিন্যাস। নিঃসৃত — নির্গত। প্রলেপ — লেপন করা হয় এমন বস্তু। নির্দেশে — নীচের অংশে। পুঞ্জীভূত — আগে বলা হয়েছে এমন। সঞ্চিত — জমিয়ে রাখা হয়েছে এমন। খালাস — মুক্তি, রেহাই।

৪. নীচের বাক্যগুলি থেকে অনুসর্গ খুঁজে বের করো :

৪.১ বাসা তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজতে বের হয়।
অনুসর্গ: জন্য

৪.২ সেই স্থান থেকে নির্বাচিত স্থানে যাতায়াত করে রাস্তা চিনে নেয়।
অনুসর্গ: থেকে

৪.৩ সেই স্থানে কাদামাটি চাপা দিয়ে যায়।
অনুসর্গ: দিয়ে

৫. উপযুক্ত প্রতিশব্দ পাঠ থেকে খুঁজে লেখো :

নির্মাণ: গঠন, তৈরি

উপযোগী: উপযুক্ত

ভর্তি: পূর্ণ

সন্ধান: খোঁজ

ক্ষান্ত: বিরত

৬. তুমি প্রতিদিন পিঁপড়ে, মৌমাছি, মাকড়সা প্রভৃতি কীট-পতঙ্গ তোমার চারপাশে দেখতে পাও। তাদের মধ্যে কোনো একটিকে পর্যবেক্ষণ করো, আর তার চেহারা, স্বভাব, বাসা বানানোর কৌশল ইত্যাদি খাতায় লেখো।

(এই প্রশ্নটির উত্তর ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী লিখবে। একটি নমুনা নিচে দেওয়া হলো:)

কীট/পতঙ্গের নামপিঁপড়ে
কোথায় দেখেছবাড়ির দেওয়ালে, মেঝেতে, গাছে।
চেহারা/গায়ের রংছোট, কালো বা লাল রঙের।
কীভাবে চলেসারিবদ্ধভাবে চলে।
কী খায়মিষ্টি জিনিস, খাবারের কণা।
বিশেষ বৈশিষ্ট্যখুবই পরিশ্রমী ও দলবদ্ধ।
বাসাটি দেখতে কেমনমাটির নিচে গর্তের মতো।
কীভাবে বানায়মাটি খুঁড়ে বানায়।

৭. গঠনগতভাবে কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো :

৭.১ ইতিমধ্যে মাটি শুকিয়ে বাসা শক্ত হয়ে গেছে। — সরল বাক্য

৭.২ একবার হুল ফুটিয়ে নিরস্ত হয় না। — সরল বাক্য

৭.৩ আশ্চর্যের এ থেকে মনে হয় যে, কুমোরে পোকা ইচ্ছামতো ডিম পাড়ার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। — জটিল বাক্য

৭.৪ ভিজা মাটির উপর বসে এবং লেজ নাচাতে নাচাতে এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে দেখে। — যৌগিক বাক্য

৮. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো :

৮.১ কুমোরে-পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে কেমন?
উত্তর: কুমোরে-পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে অনেকটা লম্বাটে ধরনের এবং এর মুখটি সরু হয়। ভেতরের অংশটি কয়েকটি কুঠুরিতে বিভক্ত থাকে। সম্পূর্ণ বাসাটি মাটি দিয়ে তৈরি এবং দেখতে একটি ছোট মাটির কলসির মতো।

৮.২ কুমোরে-পোকা বাসা বানানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেয়?
উত্তর: কুমোরে-পোকা বাসা বানানোর জন্য প্রথমে উপযুক্ত স্থান খোঁজে। তারপর বারবার সেই জায়গায় যাতায়াত করে রাস্তা চিনে নেয়। এরপর কাছাকাছি কোনো পুকুর বা জলাশয় থেকে কাদা মাটি সংগ্রহ করে এবং সেই মাটি দিয়ে বাসা তৈরি শুরু করে।

৮.৩ কুমোরে-পোকার বাসা বানানোর প্রক্রিয়াটি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: কুমোরে-পোকা প্রথমে ভেজা মাটির একটি ডেলা মুখে করে নিয়ে আসে এবং নির্বাচিত স্থানে লাগায়। তারপর লেজ নাচিয়ে ও চারিদিকে ঘুরে ঘুরে সেই মাটির ডেলাকে একটি লম্বাটে আকার দেয়। ভেতরের অংশটিকে ফাঁপা করে এবং মুখটি সরু রাখে। এইভাবে একটানা পরিশ্রম করে সে তার সম্পূর্ণ বাসাটি তৈরি করে।

৮.৪ 'এসব অসুবিধার জন্য অবশ্য বাসা নির্মাণে যথেষ্ট বিলম্ব ঘটে।' — কোন অসুবিধাগুলির কথা এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
উত্তর: বাসা তৈরির সময় কুমোরে-পোকাকে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, বৃষ্টির কারণে মাটি খুব বেশি ভিজে গেলে তা দিয়ে বাসা তৈরি করা যায় না। আবার, কাছাকাছি ভালো মাটি না পেলে তাকে দূর থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হয়। এই সমস্ত কারণে বাসা নির্মাণে দেরি বা বিলম্ব ঘটে।

৮.৫ কুমোরে-পোকার শিকার ধরার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো। শিকারকে সে কীভাবে সংগ্রহ করে?
উত্তর: কুমোরে-পোকার শিকার ধরার উদ্দেশ্য হলো তার বাচ্চাদের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে রাখা। সে মাকড়সা শিকার করে তাকে হুল ফুটিয়ে অবশ করে দেয়, কিন্তু মারে না। এরপর সেই জীবন্ত কিন্তু অবশ মাকড়সাটিকে বাসার মধ্যে রেখে তার উপর ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে সেই মাকড়সাই তাদের খাদ্য হয়।

৮.৬ 'বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না।' — কখন কুমোরে-পোকা তার বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না?
উত্তর: বাসার কুঠুরিগুলি যখন শিকার দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায় এবং ডিম পাড়া সম্পূর্ণ হয়, তখন কুমোরে-পোকা বাসার মুখ বন্ধ করে দেয়। এরপর সে ইচ্ছামতো অন্য কোনো স্থানে চলে যায় এবং তার তৈরি করা বাসার আর কোনো খোঁজখবর নেয় না।